📘 কিতাবুল ঈমান > 📄 রিসালাতে মুহাম্মাদীয়ার বৈশিষ্ট্যসমূহ

📄 রিসালাতে মুহাম্মাদীয়ার বৈশিষ্ট্যসমূহ


ছ। রিসালাতে মুহাম্মাদীয়ার বৈশিষ্ট্যসমূহ: পূর্বের রিসালাতসমূহের তুলনায় রিসালাতে মুহাম্মাদীয়ার বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। পাঠকের সুবিধার্থে তার কিছু আমরা নিচে তুলে ধরছি:
১। রিসালাতে মুহাম্মাদীয়া পূর্বের রিসালাতগুলির সমাপ্তি টেনেছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
مَا كَانَ مُحَمَدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا [الأحزاب : ٤٠]
মুহাম্মাদ তোমাদের কোন ব্যক্তির পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রসূল এবং শেষ নাবী। আল্লাহ্ সব বিষয়ে জ্ঞাত। সূরা আল্ আহযাব ৩৩:৪০।
২। রিসালাতে মুহাম্মাদীয়া পূর্বের রিসালাত সমুহের নাসিখ বা রহিতকারী। তাই আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনুগত্য ব্যতীত কোন দীন কুবুল করবেন না। তার পথ ব্যতীত কেউ জান্নাতে পৌঁছাতে পারবে না। সঙ্গত কারনেই তিনি হলেন সবচেয়ে মর্যাদাবান রসূল, তার উম্মাত শ্রেষ্ঠ উম্মাত এবং তার শরী'আত হলো পরিপূর্ণ শরী'আত। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দীন তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখিরাতে সে ক্ষতিগ্রস্ত। সূরা আল্ ইমরান ৩:৮৫।
রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَدٍ بِيَدِهِ لَا يَسْمَعُ بِي أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ يَهُودِي وَلَا نَصْرَانِي ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ إِلَّا كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ) (صحيح مسلم -١٥٣)
সেই সত্বার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আত্মা, এ উম্মাতের যে কোন ব্যক্তি চাই সে ইয়াহূদী বা খ্রিষ্টান হোক আমার কথা শুনার পর আমি যা সহকারে প্রেরিত হয়েছি তার প্রতি ঈমান না এনে মারা গেলে সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। ২১
৩। রিসালাতে মুহাম্মাদীয়াহ মানুষ ও জ্বিন উভয় জাতির জন্য। আল্লাহ তা'আলা জ্বিনদের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ وَآمِنُوا بِهِ يَغْفِرْ لَكُمْ مِنْ ذُنُوبِكُمْ وَيُجِرْكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ [الأحقاف : ۳۱]
হে আমাদের সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর কথা মান্য কর এবং তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তিনি তোমাদের গোনাহ মার্জনা করবেন। সূরা আল্ আহক্বাফ ৪৬:৩১।
অপর আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ [سبأ : ۲۸]
আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্যে সুসংবাদাতা ও সতর্ককারী রুপে পাঠিয়েছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। সূরা সাবা ৩৪:২৮।
রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, فُضَلْتُ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ بِسِيِّ : أُعْطِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَأُحِلَّتْ لِيَ الْغَنَائِمُ وَجُعِلَتْ لِيَ الْأَرْضُ طَهُورًا وَمَسْجِدًا وَأُرْسِلْتُ إِلَى الْخَلْقِ كَافَّةً وَخُتِمَ بِيَ النَّبِيُّونَ (صحیح مسلم - ١٥٣ )
ছয়টি জিনিসের মাধ্যমে আমাকে অন্যান্য নাবীর উপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে: ১। আমাকে অল্প কথায় ব্যপক অর্থ প্রকাশের যোগ্যতা দেওয়া হয়েছে। ২। শত্রুর হৃদয়ে ভয়ের মাধ্যমে আমাকে সহযোগীতা করা হয়েছে। ৩। আমার জন্য গণিমতের মাল হালাল করা হয়েছে।

টিকাঃ
২১. দ্বহীহ মুসলিম হা/১৫৩।

📘 কিতাবুল ঈমান > 📄 রাসূলগণের উপর ঈমান আনার প্রকার

📄 রাসূলগণের উপর ঈমান আনার প্রকার


৪। পবিত্র যমীনকে আমার জন্য পবিত্রকারী ও মাসজিদ করা হয়েছে।
৫। সকল সৃষ্টজীবের নিকটে আমাকে রসূল হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে।
৬। আমার মাধ্যমে নবুয়ত সমাপ্ত করা হয়েছে। ২২

জ। রসূলগণের উপর ঈমান আনার প্রভাব: রসূলদের প্রতি ঈমান আনার বড় প্রভাব রয়েছে। তন্মধ্যে কিছু নিচে উল্লেখ করা হলো:
১। বান্দার প্রতি আল্লাহর বিশেষ দয়া ও গুরুত্ব সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন। কেননা তিনি মানুষদের প্রতি রসূল প্রেরণ করেছেন, যাতে তাঁরা তাদেরকে সঠিক পথের দিশা দেন এবং তাদের নিকটে ইবাদতের পদ্ধতি বর্ণনা করেন। কারণ মানুষের জ্ঞান এসব জানার জন্য যথেষ্ট নয়।
আমাদের নাবী মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ﴾ [الأنبياء : ۱۰۷]
আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি (সূরা আল্ আম্বিয়া ২১:১০৭)।
২। এই বড় নিয়ামতের দরুন মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।
৩। রসূলগণকে (আলাইহিমুস্ সলাতু ওয়াস্ সালাম) ভালোবাসা, তাঁদেরকে সম্মান করা এবং তাঁদের উপযুক্ত প্রশংসা করা। কেননা, তাঁরা আল্লাহর ইবাদত করেছেন, রিসালাত পৌঁছানো এবং বান্দাদেরকে নসিহতের খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন।
৪। রসূলগণ আলাইহিমুস্ সালাম আল্লাহর পক্ষ থেকে যে রিসালাত নিয়ে এসেছেন তার অনুসরণ করত সে অনুযায়ী আমল করা। এর মাধ্যমে মুমিনগণ তাদের জীবনে কল্যাণ ও হিদায়াত লাভ করবেন এবং উভয় জগতে সৌভাগ্যবান হবেন।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
۞ فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَى * وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى [ طه : ١٢٣-١٢٤]
(এরপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে হেদায়েত আসে), তখন যে আমার বর্ণিত পথ অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং কষ্টে পতিত হবে না। যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব (সূরা ত্বহা ২০:১২৩-১২৪)।

টিকাঃ
২২. জ্বহীহ মুসলিম হা/১৫৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00