📘 কিতাবুল ঈমান > 📄 রাসূল পাঠানোর উদ্দেশ্য

📄 রাসূল পাঠানোর উদ্দেশ্য


ঙ। রসূল পাঠানোর উদ্দেশ্য:
১। রসূল পাঠানোর উদ্দেশ্য হলো মানুষ যাতে তাদের একমাত্র সত্য মা'বুদকে চিনতে পারে এবং রসূলগণ তাদেরকে এক-অদ্বিতীয় লা-শারীক আল্লাহর ইবাদতের প্রতি আহ্বান করেন। তারা পৃথিবীতে আল্লাহর দীন (ইসলাম) প্রতিষ্ঠা করত তাতে ফাটল সৃষ্টি হতে নিষেধ করেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ ﴾ [الشورى : ١٣]
তিনি তোমাদের জন্যে দীনের ক্ষেত্রে সে পথই নির্ধারিত করেছেন, যার আদেশ দিয়েছিলেন নূহকে, যা আমি প্রত্যাদেশ করেছি আপনার প্রতি এবং যার আদেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে এই মর্মে যে, তোমরা দীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না। সূরা আশ্ শুরা ৪২:১৩।
২। আল্লাহ্ রসূল প্রেরণ করেছেন সুসংবাদ ও ভয় প্রদর্শনের জন্য। তিনি বলেন:
﴿وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ﴾ [الكهف : ٥٦]
আমি রসূলগণকে সুসংবাদ দাতা ও ভয় প্রদর্শন কারীরূপেই প্রেরণ করি। সূরা আল কাহাফ ১৮:৫৬।
রসূলগণের (আলাইহিমুস্ সালাতু ওয়াস্ সালাম) সুসংবাদ দেওয়া ও ভয় প্রদর্শন করা উভয় জাগতিক। অনুগতদেরকে তারা দুনিয়াতে সুন্দর জীবনের সুসংবাদ দেন। আল্লাহ তা'আলার ঘোষণা,
﴿مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً﴾ [النحل: ٩٧]
যে সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং সে ঈমানদার, পুরুষ হোক কিংবা নারী আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব সূরা আন্ নাহল ১৬:৯৭।
৩। রসূলগণ অনুগতদের দুনিয়ার শান্তি এবং ধ্বংসের ভয় প্রদর্শন করেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿فَإِنْ أَعْرَضُوا فَقُلْ أَنْذَرْتُكُمْ صَاعِقَةً مِثْلَ صَاعِقَةِ عَادٍ وَثَمُودَ﴾
অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলুন: আমি তোমাদেরকে সতর্ক করলাম এক কঠোর আযাব সম্পর্কে আদ ও সামুদের আযাবের মত। সূরা (ফুসিলাত) হা-মীম আস-সাজদা ৪১:১৩।
৪। রসূলগণ অনুগতদেরকে পরকালীন জান্নাত ও তার নিয়ামতের সুসংবাদ দেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ [النساء : ١٣]
যে কেউ আল্লাহ ও রাসূলের আদেশমত চলে, তিনি তাকে জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন। যেগুলোর তলদেশ দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ হল বিরাট সাফল্য। সূরা আন্ নিসা ৪:১৩।
৫। রসূলগণ পাপী ও অবাধ্যদেরকে পরকালে শাস্তির ভয় প্রদর্শন করেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ [النساء : ١٤]
যে কেউ আল্লাহ্ ও রাসূলের অবাধ্যতা করে এবং তাঁর সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে। তার জন্যে রয়েছে অপমানজনক শান্তি। সূরা আন্ নিসা ৪:১৪।
৬। সঠিক ও উন্নত চরিত্র এবং বিশুদ্ধ ইবাদতের উত্তম আদর্শ-নমুনা স্থাপনের জন্যেও আল্লাহ তা'আলা রসূলগণকে প্রেরণ করেছেন।
যেমন আল্লাহ তা'আলা আমাদের প্রিয় নাবী মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ক্ষেত্রে বলেছেন,
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا [الأحزاب : ۲۱]
যারা আল্লাহ্ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে। সূরা আল আহ্যাব ৩৩:২১।

📘 কিতাবুল ঈমান > 📄 নাবী ও রসূল হিসাবে মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি ঈমান আনা

📄 নাবী ও রসূল হিসাবে মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি ঈমান আনা


চ। নাবী ও রসূল হিসাবে মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি ঈমান আনা।
১। আমরা বিশ্বাস করি যে মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা এবং রসূল। তিনি পূর্বের এবং পরের সকল নবী-রসূল ও মানুষদের সর্দার বা নেতা। তিনি সর্বশেষ নাবী, তার পরে আর কোন নাবী আসবেন না।
২। তিনি তার উপর অর্পিত রিসালাতের দায়িত্ব উম্মতের নিকটে সঠিকভাবে পৌঁছিয়েছেন। আমানত আদায় করেছেন, উম্মাতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর রাস্তায় সত্য জিহাদ করেছেন।
৩। তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন তা সত্যায়ন করা, তার আদেশকৃত কাজে তার আনুগত্য করা, নিষেধ ও সতর্ককৃত কাজ হতে দূরে থাকা, তাঁর সুন্নাত মোতাবেক আল্লাহর ইবাদত করা এবং অন্যকে বাদ দিয়ে কেবল তার আনুগত্য করা আমাদের জন্য ওয়াজিব।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا [الأحزاب : ٢١]
যারা আল্লাহ্ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে। সূরা আল আহযাব ৩৩:২১।
৪। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য নিজের পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততী, সকল মানুষ এবং নিজের আত্মার চেয়ে মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বেশী ভালোবাসা ওয়াজিব।
রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ
আমি তোমাদের কারও নিকটে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততী এবং সকল মানুষ থেকে প্রিয় ও অধিক ভালোবাসার পাত্র না হওয়া পর্যন্ত সে মুমিন হতে পারবে না। ২০
৫। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভালোবাসার সত্যিকার প্রমাণ হলো তাঁর অনুসরণ ও অনুকরণ করা। তাঁর আনুগত্য ব্যতীত বাস্তব সৌভাগ্য এবং পূর্ণ হেদায়াত সম্ভব নয়।
আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ
তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য কর, তবে সৎ পথ পাবে। রসূলের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টরূপে পৌঁছে দেয়া (সূরা আন্-নূর ২৪:৫৪)।
৬। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করা, তাঁর সুন্নাতের আনুগত্য করা এবং তাঁর পথ নির্দেশকে সম্মান করা আমাদের জন্য ওয়াজিব বা আবশ্যক। যেমন- আল্লাহ তা'আলা বলেন, فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا [النساء : ٦٥]
অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হৃষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে। সূরা আন্-নিসা ৪:৬৫।
৭। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরোধিতা করা থেকে সতর্ক থাকা আমাদের জন্য আবশ্যক। কেননা, তাঁর বিরোধিতা করা ফিতনা, পথ ভ্রষ্টতা এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কারণ। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ}

টিকাঃ
২০. জ্বহীহ বুখারী ১৫, দ্বহীহ মুসলিম ৪৪, ইবনে মাজাহ ৬৭, নাসাঈ ৫০১৩।

📘 কিতাবুল ঈমান > 📄 রিসালাতে মুহাম্মাদীয়ার বৈশিষ্ট্যসমূহ

📄 রিসালাতে মুহাম্মাদীয়ার বৈশিষ্ট্যসমূহ


ছ। রিসালাতে মুহাম্মাদীয়ার বৈশিষ্ট্যসমূহ: পূর্বের রিসালাতসমূহের তুলনায় রিসালাতে মুহাম্মাদীয়ার বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। পাঠকের সুবিধার্থে তার কিছু আমরা নিচে তুলে ধরছি:
১। রিসালাতে মুহাম্মাদীয়া পূর্বের রিসালাতগুলির সমাপ্তি টেনেছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
مَا كَانَ مُحَمَدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا [الأحزاب : ٤٠]
মুহাম্মাদ তোমাদের কোন ব্যক্তির পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রসূল এবং শেষ নাবী। আল্লাহ্ সব বিষয়ে জ্ঞাত। সূরা আল্ আহযাব ৩৩:৪০।
২। রিসালাতে মুহাম্মাদীয়া পূর্বের রিসালাত সমুহের নাসিখ বা রহিতকারী। তাই আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনুগত্য ব্যতীত কোন দীন কুবুল করবেন না। তার পথ ব্যতীত কেউ জান্নাতে পৌঁছাতে পারবে না। সঙ্গত কারনেই তিনি হলেন সবচেয়ে মর্যাদাবান রসূল, তার উম্মাত শ্রেষ্ঠ উম্মাত এবং তার শরী'আত হলো পরিপূর্ণ শরী'আত। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দীন তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখিরাতে সে ক্ষতিগ্রস্ত। সূরা আল্ ইমরান ৩:৮৫।
রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَدٍ بِيَدِهِ لَا يَسْمَعُ بِي أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ يَهُودِي وَلَا نَصْرَانِي ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ إِلَّا كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ) (صحيح مسلم -١٥٣)
সেই সত্বার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আত্মা, এ উম্মাতের যে কোন ব্যক্তি চাই সে ইয়াহূদী বা খ্রিষ্টান হোক আমার কথা শুনার পর আমি যা সহকারে প্রেরিত হয়েছি তার প্রতি ঈমান না এনে মারা গেলে সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। ২১
৩। রিসালাতে মুহাম্মাদীয়াহ মানুষ ও জ্বিন উভয় জাতির জন্য। আল্লাহ তা'আলা জ্বিনদের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ وَآمِنُوا بِهِ يَغْفِرْ لَكُمْ مِنْ ذُنُوبِكُمْ وَيُجِرْكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ [الأحقاف : ۳۱]
হে আমাদের সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর কথা মান্য কর এবং তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তিনি তোমাদের গোনাহ মার্জনা করবেন। সূরা আল্ আহক্বাফ ৪৬:৩১।
অপর আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ [سبأ : ۲۸]
আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্যে সুসংবাদাতা ও সতর্ককারী রুপে পাঠিয়েছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। সূরা সাবা ৩৪:২৮।
রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, فُضَلْتُ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ بِسِيِّ : أُعْطِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَأُحِلَّتْ لِيَ الْغَنَائِمُ وَجُعِلَتْ لِيَ الْأَرْضُ طَهُورًا وَمَسْجِدًا وَأُرْسِلْتُ إِلَى الْخَلْقِ كَافَّةً وَخُتِمَ بِيَ النَّبِيُّونَ (صحیح مسلم - ١٥٣ )
ছয়টি জিনিসের মাধ্যমে আমাকে অন্যান্য নাবীর উপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে: ১। আমাকে অল্প কথায় ব্যপক অর্থ প্রকাশের যোগ্যতা দেওয়া হয়েছে। ২। শত্রুর হৃদয়ে ভয়ের মাধ্যমে আমাকে সহযোগীতা করা হয়েছে। ৩। আমার জন্য গণিমতের মাল হালাল করা হয়েছে।

টিকাঃ
২১. দ্বহীহ মুসলিম হা/১৫৩।

📘 কিতাবুল ঈমান > 📄 রাসূলগণের উপর ঈমান আনার প্রকার

📄 রাসূলগণের উপর ঈমান আনার প্রকার


৪। পবিত্র যমীনকে আমার জন্য পবিত্রকারী ও মাসজিদ করা হয়েছে।
৫। সকল সৃষ্টজীবের নিকটে আমাকে রসূল হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে।
৬। আমার মাধ্যমে নবুয়ত সমাপ্ত করা হয়েছে। ২২

জ। রসূলগণের উপর ঈমান আনার প্রভাব: রসূলদের প্রতি ঈমান আনার বড় প্রভাব রয়েছে। তন্মধ্যে কিছু নিচে উল্লেখ করা হলো:
১। বান্দার প্রতি আল্লাহর বিশেষ দয়া ও গুরুত্ব সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন। কেননা তিনি মানুষদের প্রতি রসূল প্রেরণ করেছেন, যাতে তাঁরা তাদেরকে সঠিক পথের দিশা দেন এবং তাদের নিকটে ইবাদতের পদ্ধতি বর্ণনা করেন। কারণ মানুষের জ্ঞান এসব জানার জন্য যথেষ্ট নয়।
আমাদের নাবী মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ﴾ [الأنبياء : ۱۰۷]
আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি (সূরা আল্ আম্বিয়া ২১:১০৭)।
২। এই বড় নিয়ামতের দরুন মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।
৩। রসূলগণকে (আলাইহিমুস্ সলাতু ওয়াস্ সালাম) ভালোবাসা, তাঁদেরকে সম্মান করা এবং তাঁদের উপযুক্ত প্রশংসা করা। কেননা, তাঁরা আল্লাহর ইবাদত করেছেন, রিসালাত পৌঁছানো এবং বান্দাদেরকে নসিহতের খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন।
৪। রসূলগণ আলাইহিমুস্ সালাম আল্লাহর পক্ষ থেকে যে রিসালাত নিয়ে এসেছেন তার অনুসরণ করত সে অনুযায়ী আমল করা। এর মাধ্যমে মুমিনগণ তাদের জীবনে কল্যাণ ও হিদায়াত লাভ করবেন এবং উভয় জগতে সৌভাগ্যবান হবেন।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
۞ فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَى * وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى [ طه : ١٢٣-١٢٤]
(এরপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে হেদায়েত আসে), তখন যে আমার বর্ণিত পথ অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং কষ্টে পতিত হবে না। যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব (সূরা ত্বহা ২০:১২৩-১২৪)।

টিকাঃ
২২. জ্বহীহ মুসলিম হা/১৫৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00