📘 কিতাবুল ঈমান 📄 পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের বিকৃতি হওয়া

📄 পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের বিকৃতি হওয়া


ঘ। পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের বিকৃতি হওয়া: আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে কুরআনে সংবাদ দিয়েছেন যে আসমানী কিতাব প্রাপ্ত ইয়াহূদী-খ্রিষ্টানরা তাদের কিতাবগুলোকে পরিবর্তন করেছে। ফলে পরবর্তীতে আল্লাহর নাযিলকৃত আকৃতিতে আর ফিরে আসেনি।
ইয়াহুদীরা তাওরাতকে পরিবর্তন-পরিবর্ধন করত তার বিধিবিধান নিয়ে খেল-তামাশায় লিপ্ত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, مِنَ الَّذِينَ هَادُوا يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ [النساء : ٤٦]
কোন কোন ইয়াহূদী তাওরাতের শব্দাবলীকে তার লক্ষ্য থেকে মোড় ঘুড়িয়ে নেয় (এবং মনগড়া অর্থ করে) সূরা আন নিসা ৪:৪৬। এমনিভাবে খ্রিষ্টানেরা তাদের প্রতি অবতীর্ণ আসমানী কিতাব ইন্জীলের বিকৃতি করত তার বিধিবিধানকে পরিবর্তন করেছে। আল্লাহ তা'আলা খ্রিষ্টানদের সম্পর্কে বলেছেন, وَإِنَّ مِنْهُمْ لَفَرِيقًا يَلْوُونَ أَلْسِنَتَهُمْ بِالْكِتَابِ لِتَحْسَبُوهُ مِنَ الْكِتَابِ وَمَا هُوَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَقُولُونَ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَمَا هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَيَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ [آل عمران : ۷۸]
আর তাদের মধ্যে একদল রয়েছে, যারা বিকৃত উচ্চারণে মুখ বাঁকিয়ে কিতাব পাঠ করে। যাতে তোমরা মনে কর যে, তারা কিতাব থেকেই পাঠ করছে। অথচ তারা যা আবৃত্তি করছে তা আদৌ কিতাব নয়। এবং তারা বলে যে, এসব কথা আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত। অথচ এসব আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত নয়। তারা বলে যে, এটি আল্লাহর কথা অথচ এসব আল্লাহর কথা নয়। আর তারা জেনে শুনে আল্লাহরই প্রতি মিথ্যারোপ করে। সূরা আলি ইমরান ৩:৭৮।
অতএব, বর্তমান বাজারে ইয়াহূদী-খ্রিষ্টানদের নিকটে যে তাওরাত ও ইন্জীল পাওয়া যায় তা মূসা এবং ঈসা আলাইহিমাস্ সালামের উপর নাযিলকৃত তাওরাত ও ইনজীল নয়।
বর্তমানে আহলে কিতাবদের (ইয়াহূদী-খ্রিষ্টান) নিকটে বিদ্যমান তাওরাত ও ইন্জীল বিকৃত আক্বীদাহ (বিশ্বাস), বাতিল সংবাদাদি এবং মিথ্যা ঘটনাবলীতে পরিপূর্ণ।
তাই কুরআন ও সহীহ হাদীছ এ কিতাবদ্বয়ের যা কিছু সত্যায়ন করেছে আমরা তা সত্যায়ন করি। আর কুরআন ও সুন্নাহ্ যা মিথ্যা বলে প্রমাণ করেছে তাকে মিথ্যা হিসাবে জানি।

📘 কিতাবুল ঈমান 📄 আসমানী কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনার প্রভাব

📄 আসমানী কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনার প্রভাব


ঙ। আসমানী কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনার প্রভাব: আসমানী কিতাবসমূহের উপর ঈমান আনার বেশ কিছু প্রভাব রয়েছে। নিচে কিছু প্রভাব উল্লেখ করা হলো:
১। বান্দার প্রতি আল্লাহর বিশেষ মনোযোগ, অনুগ্রহ ও পূর্ণ রহমাত সম্পর্কে জ্ঞানলাভ। কেননা, আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক ক্বওম বা জাতির জন্য একটি করে কিতাব নাযিল করেছেন। যার মাধ্যমে তিনি তাদেরকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং এই কিতাবের দ্বারাই তাদের উভয় জাগতিক কল্যাণ অর্জিত হবে।
২। শরী'আত প্রবর্তনে আল্লাহর হিকমাত সম্পর্কে জ্ঞানার্জন। কেননা, আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক জাতির জন্য তাদের অবস্থা ও ব্যক্তি চরিত্রের উপযোগী শরী'আত প্রবর্তন করেছেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, لِكُلِّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا [المائدة : ٤٨] আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি আইন ও পথ দিয়েছি। সূরা আল মায়িদা ৫:৪৮।
৩। আসমানী কিতাব নাযিলের ক্ষেত্রে আল্লাহ তা'আলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। কেননা, এ সকল কিতাব দুনিয়া ও আখিরাতে আলো এবং পথ নির্দেশক। সঙ্গত কারণেই এ বড় নিয়ামতের জন্য আল্লাহ তা'আলার শুকরিয়া আদায় করতে হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px