📄 ফেরেশতাগণের প্রকার ও কাজ
গ। ফেরেস্তাগণের প্রকার ও কাজ: এ পৃথিবীতে ফেরেস্তাগণ (আল্লাহর আদেশে) বিভিন্ন কাজ আঞ্জাম দিচ্ছেন। তারা বিভিন্ন প্রকার এবং প্রত্যেক প্রকারের আলাদা আলাদা কাজ রয়েছে। তাদের অন্যতম হলেন:
১। জিব্রীল আলাইহিস সালাম আল্লাহর পক্ষ হতে তার রসূলগণের নিকটে ওহী নিয়ে আসার দায়িত্ব প্রাপ্ত।
২। বৃষ্টি ও তা পরিচালনার দায়িত্বশীল ফেরেশতা হলেন মীকাঈল আলাইহিস সালাম।
৩। সিঙ্গায় ফুৎকারের দায়িত্ব প্রাপ্ত ফেরেস্তা হলেন ইসরাফীল আলাইহিস সালাম।
৪। আত্মসমূহ কবজের দায়িত্বশীল ফেরেশতা হলেন মালাকুল মাওত ও তাঁর সহযোগী বৃন্দ।
৫। বান্দার ভালো মন্দ আমলের হেফাযতে নিয়োজিত ফেরেস্তাগণ। তারা হলেন কিরামান কাতিবীন (সম্মানীত লেখকদ্বয়)।
৬। মুক্বীম, সফর, নিদ্রা অনিদ্রা এবং সর্বাবস্থায় বান্দাদের হিফাযতে নিয়োজিত ফেরেশতাগণ। তারা হলেন, পর্যবেক্ষণকারীগণ।
৭। আরো রয়েছেন: জান্নাত জাহান্নামের প্রহরীগণ, ভ্রাম্যমান ফেরেস্তাগণ: তারা কল্যাণ ও ইলমের মজলিসের অনুসন্ধানে নিয়োজিত, পাহাড়ের দায়িত্বশীল ফেরেশতাগণ, একদল ফেরেস্তা রয়েছেন যারা সর্বদা সারিবদ্ধভাবে আল্লাহর ইবাদতে ব্যস্ত রয়েছেন, এতে তারা কোন সময় ক্লান্ত হন না। আল্লাহ তা'আলার সৈন্য সংখ্যা তিনি ব্যতীত কেউ জানে না।
📄 ফেরেশতাগণের প্রতি ঈমান আনার প্রভাব
ঘ। ফেরেস্তাগণের প্রতি ঈমান আনার প্রভাব (آثار الإيمان بالملائكة):
মু'মিনের জীবনে ফেরেস্তাগণের প্রতি ঈমান আনার বড় প্রভাব রয়েছে। তার মধ্যে নিম্নে কিছু উল্লেখ করা হলো:
১। আল্লাহর বড়ত্ব, শক্তি এবং পরিপূর্ণ ক্ষমতা সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা। কেননা, সৃষ্টির বড়ত্ব স্রষ্টার বড়ত্বের উপর প্রমাণ বহন করে। ফলে মু'মিন আল্লাহকে আরো বেশী সম্মান ও মর্যাদা দান করে। কারণ আল্লাহ তা'আলা আলো থেকে বহু সংখ্যক পাখা বিশিষ্ট ফেরেস্তাগণকে সৃষ্টি করেছেন।
২। আল্লাহর আনুগত্যে অটল থাকা, যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে ফেরেস্তাগণ তার সকল আমল লিপিবদ্ধ করেন সে অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করবে, ফলে সে প্রকাশ্য বা গোপনে আল্লাহর অবাধ্য হবে না।
৩। আল্লাহর আনুগত্যে ধৈর্য্য ধারণ করা। মু’মিন ব্যক্তি যখন এ বিশ্বাস রাখবে যে বিশাল পৃথিবীতে হাজারও ফেরেস্তা তার সাথে আল্লাহর আনুগত্য করছে তখন সে প্রফুল্লতা এবং আত্মতৃপ্তি অনুভব করবে।
৪। আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক আদম সন্তানকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার দরুন তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। কেননা, তিনি এমন কিছু ফেরেস্তা নিযুক্ত করেছেন যারা তাদের হেফাযতে সদা প্রস্তুত রয়েছেন।
৫। যখন কেউ মালাকুল মাওতের কথা স্মরণ করবে তখন সতর্ক হবে যে, এই দুনিয়া ধ্বংসশীল, চিরস্থায়ী নয়। ফলে সে ঈমান ও সৎকর্মের মাধ্যমে পরকালের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করবে।