📘 কিতাবুল ঈমান > 📄 লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর শর্তাবলী

📄 লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর শর্তাবলী


যারা গোমরাহকারী ত্বগুতদেরকে মানবে না এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল। সূরা আল বাক্বারা ২:২৫৬।
এখানে আল্লাহর বাণী: فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ (যারা গোমরাহকারী ত্বগুতদেরকে মানবে না) হলো প্রথম রুকন লা-ইলাহার অর্থ। وَيُؤْمِنْ بِاللهِ (আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবে) দ্বিতীয় রুকনের তথা ইল্লাল্লাহর অর্থ।

**লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর শর্তাবলী**

লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর সাতটি শর্ত রয়েছে যা একসাথে পাওয়া আবশ্যক। একসাথে সাতটি শর্ত পাওয়া না গেলে তা পাঠকারীর কোন উপকারে আসবে না। শর্তগুলো নিম্নরূপ:

১। আল ইলম (العلم): لَا إلهَ إِلَّا اللهُ (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্) এর অর্থ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা। আল্লাহ তা'আলা বলেন, فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إلهَ إِلَّا اللهُ (سورة محمد (۱۹) জেনে রাখুন, আল্লাহ ব্যতীত (সত্য) কোন উপাস্য নেই। সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:১৯

২। আল ইয়াকীন-দৃঢ় বিশ্বাস (اليقين): এ কালিমা যে সকল বিষয়ের উপর প্রমাণ বহন করে তাতে দৃঢ় বিশ্বাসী হওয়া। যদি তাতে সন্দিহান ও দোদুল্যমান হয় তবে এ কালিমা তার উপকারে আসবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন, إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا
তারাই মুমিন, যারা আল্লাহ্ ও তার রসূলের প্রতি ঈমান আনার পর সন্দেহ পোষণ করে না। সূরা আল্ হুজরাত ৪৯:১৫।

৩। আল কুবুল-গ্রহণ করা (القبول): এ কালিমা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার যে সকল ইবাদত করা এবং তিনি ব্যতীত অন্যের ইবাদত পরিত্যাগ করার প্রমাণ বহন করে তা গ্রহণ করা। কিন্তু কোন ব্যক্তি যদি এ কালিমা পাঠ করত
এক আল্লাহর ইবাদত গ্রহণ না করে, তাহলে সে ঐ সকল লোকদের অন্তর্ভুক্ত হবে যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
﴿إِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ (٣٥) وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُو آلِهِتِنَا لِشَاعِرٍ مَجْنُونٍ (٣٦)﴾ [الصافات]
তাদের যখন বলা হত, আল্লাহ্ ব্যতীত সত্য কোন উপাস্য নেই, তখন তারা ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করত এবং বলত, আমরা কি এক উন্মাদ কবির কথায় আমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব। সূরা আস্ সাফ্ফাত ৩৭:৩৫-৩৬।

৪। আল ইনকিয়াদ-বশ্যতা স্বীকার করা (الإنقياد): এ কালিমা যে সকল বিষয়ের উপর প্রমাণ বহন করে তা স্বীকার করা: আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿وَمَنْ يُسْلِمْ وَجْهَهُ إِلَى اللَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى وَإِلَى اللَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ﴾ [لقمان : ٢٢]
যে ব্যক্তি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে স্বীয় মুখমণ্ডলকে আল্লাহ্ অভিমুখী করে, সে এক মজবুত হাতল ধারণ করে, সকল কর্মের পরিণাম আল্লাহর দিকে। সূরা লুকুমান ৩১:২২।
يُسْلِمْ وَجْهَهُ এর অর্থ: স্বীকার করা ও বিনয়ী হওয়া।
الْعُرْوَةِ الْوُثْقَى হলো: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ যার অর্থ: আল্লাহ্ ছাড়া সত্য কোন মা'বুদ নেই।

৫। আস সিদক্ব-সত্যবাদীতা (الصدق): তা হলো এ কালিমা সত্যিকার অর্থে অন্তর থেকে পাঠ করা। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
﴿مَا مِنْ عَبْدٍ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ إِلَّا حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ﴾
যে ব্যক্তিই সত্যিকার অর্থে অন্তর থেকে সাক্ষ্য দিবে আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মা'বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রসূল, আল্লাহ্ তাকে জাহান্নামের উপর হারাম করে দিবেন।¹⁰

৬। আল ইখলাস-খাঁটি একনিষ্ঠতা (الإخلاص): তা হলো আমলকে সকল প্রকার শিরক থেকে মুক্ত করা। ফলে মুখলেস ব্যক্তি এ কালিমা পাঠের মাধ্যমে দুনিয়ার কোন লোভ লালসা করবে না। রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَ عَلَى النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَبْتَغِي بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ
নিশ্চয় যে ব্যক্তি কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ পাঠ করে আল্লাহ্ তা'আলা তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেন।¹¹

৭। আল মাহাব্বা- ভালোবাসা (المحبة): এ কালিমা ও যে সকল বিষয়ের উপর তা প্রমাণ বহন করে এবং এর প্রতি আমলকারীগণের প্রতি ভালোবাসা থাকা। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لله [البقرة : ١٦٥]
আর কোন লোক এমনও রয়েছে যারা অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালোবাসা পোষণ করে, যেমন আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা হয়ে থাকে। কিন্তু যারা আল্লাহর প্রতি ঈমানদার তাদের ভালোবাসা ওদের তুলনায় বহুগুণ বেশী। সূরা আল বাকারা ২:১৬৫।
অতএব, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ পাঠকারী মুমিনগণ আল্লাহকে খালেসভাবে ভালোবাসেন। আর মুশরিকরা আল্লাহর সাথে তিনি ব্যতীত অন্য মা'বুদদেরকেও ভালোবাসে। আর এটা (আল্লাহর সাথে অন্য মা'বুদকে ভালোবাসা) লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ এর পরিপন্থী ও তা ভঙ্গকারী বিষয়।

টিকাঃ
১০. ছহীহ বুখারী হা/১২৮ ও ছহীহ মুসলিম হা/৩২।
১১. সহীহ বুখারী ৪২৫, ১১৮৬ ও সহীহ মুসলিম ৩৩।

📘 কিতাবুল ঈমান > 📄 ইবাদতের রুকুন বা ভিত্তিসমূহ

📄 ইবাদতের রুকুন বা ভিত্তিসমূহ


জ। ইবাদতের রুকন বা ভিত্তিসমূহ [أركان العبادة]:

আল্লাহ তা'আলা যে ইবাদতের আদেশ দিয়েছেন তা দু'টি গুরুত্বপূর্ণ রুকনের উপর প্রতিষ্ঠিত:

১। পরিপূর্ণ বিনয়-নম্রতা এবং ভয় (كمال الذل والخوف)।
২। পরিপূর্ণ ভালোবাসা (كمال الحب)।

অতএব, বান্দার প্রতি আল্লাহ তা'আলা যে ইবাদত ফরয করেছেন তাতে তার প্রতি পূর্ণ বিনয়-নম্রতা, ভয়, ভালোবাসা, আগ্রহ এবং আশা থাকা আবশ্যক। ভয় ও বিনয়-নম্রতা ব্যতীত শুধু ভালোবাসা (যেমন, খাদ্য ও সম্পদের ভালোবাসা) ইবাদত হতে পারে না।

তেমনি মহব্বত বা ভালোবাসাবিহীন ভয় ইবাদত নয়, যেমন- হিংস্র জন্তুকে ভয়করা ইবাদত হিসেবে গণ্য নয়। তাই আমলে যখন ভয় ও ভালোবাসা একত্রিত হবে তখনি তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে। আর ইবাদত আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কারও জন্য করা জায়েয নয়।

**তাওহীদ ইবাদত কুবুলের কারণ**

ঝ। তাওহীদ তথা একত্ব ইবাদত কবুলের কারণ: আল্লাহ তা'আলা যে ইবাদতের আদেশ দিয়েছেন তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ব ব্যতীত তা ইবাদত বলে গৃহিত হবে না। শির্ক মিশ্রিত ইবাদত সঠিক নয়। তাওহীদের বাস্তবায়ন এবং ইবাদতে আল্লাহর একত্ব ছাড়া কেউ আল্লাহর ইবাদত করেছে বলা যাবে না। অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করতে গিয়ে তার সাথে অন্যকে শরীক করে সে আল্লাহর ইবাদত করে না।

আল্লাহর নিকটে ইবাদত কুবুলের শর্ত হলো, আল্লাহর একত্ব, ইবাদতে আল্লাহর জন্য ইখলাস থাকা, শির্ক না করা। সাথে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দেখানো পদ্ধতি অনুযায়ী আমল করতে হবে। অতএব, যেকোন ইবাদত ও আমল আল্লাহর নিকটে গ্রহণীয় হতে হলে দু'টি শর্ত থাকা আবশ্যক:

১। কেবলমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা (এটাই হলো তাওহীদ)
২। আল্লাহ যে সকল আদেশ করেছেন তার মাধ্যমে ইবাদত করা। (আর সেটাই হলো রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনুগত্য)। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
بَلَى مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُ أَجْرُهُ عِنْدَ رَبِّهِ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ [البقرة - ١١٢]
হাঁ, যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সমর্পন করেছে এবং সে সৎকর্মশীলও বটে তার জন্য তার পালন কর্তার কাছে পুরস্কার রয়েছে। তাদের ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না [সূরা আল বাক্বারা ২:১১২]।

أَسْلَمَ وَجْهَهُ এর অর্থ: তাওহীদের বাস্তবায়ন করত বান্দা তার ইবাদতকে আল্লাহর জন্যই একনিষ্টভাবে করে।
وَهُوَ مُحْسِنٌ এর অর্থ: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনুগত্যকারী।

📘 কিতাবুল ঈমান > 📄 শিরকের প্রকারভেদ

📄 শিরকের প্রকারভেদ


১। শিরক [ الشرك ] : ঈমান ও তাওহীদ পরিপন্থী বিষয়।
কেবলমাত্র এক আল্লাহর উপাস্যে ঈমান আনা এবং সকল ইবাদতে তাঁকে একক হিসাবে গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব। অপর দিকে আল্লাহর নিকটে শির্ক হলো সবচেয়ে বড় অবাধ্যতা ও মারাত্মক পাপ যা আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করেন না। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ [النساء : ٤٨]
নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তাঁকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তার সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। সূরা আন নিসা ৪:৪৮। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ ﴾ [لقمان: ۱۳]
নিশ্চয় আল্লাহ্র সাথে শরীক করা মহা অন্যায়। সূরা লুকুমান ৩১:১৩।
রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সবচেয়ে বড় গুনাহের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,
أَنْ تَجْعَلَ لِلَّهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ
সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো, তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।¹²
শিরক সকল ভালো আমল নষ্ট ও বাতিল করে দেয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَلَوْ أَشْرَكُوا حَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
যদি তারা শিরক করত, তবে তাদের কাজ কর্ম তাদের জন্যে ব্যর্থ হয়ে যেত। সূরা আল আন'আম ৬: ৮৮। শিরক তাতে নিমজ্জিত ব্যক্তিকে চিরস্থায়ী জাহান্নামী করে দেয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارِ
নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ্ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী নেই। সূরা আল্ মায়িদা ৫:৭২।

শিরকের প্রকারভেদ:
শিরক দু'প্রকার:
১) বড় শিরক (الشرك الأكبر)
২) ছোট শিরক (الشرك الأصغر)
নিম্নে উভয় প্রকার শিরকের আলোচনা পেশ করা হলো:
১। শিরকে আকবার বা বড় শিক: যে কোন আমল আল্লাহ তা'আলা ছাড়া অন্য কারো জন্য করাই হলো শিরকে আকবার বা বড় শির্ক। অতএব, প্রত্যেক কথা ও কাজ যা আল্লাহ তা'আলা পছন্দ করেন তা তার জন্য করাই হলো তাওহীদ (একত্ব) ও ঈমান। আর তিনি ভিন্ন অন্য কারও জন্য করাই হলো শির্ক ও কুফরী।
এ প্রকার শিরকের উদাহরণ: আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্যের নিকটে কোন রিযিকু বা সুস্থতা কামনা করা, তিনি ভিন্ন অন্যের উপর ভরসা রাখা, আল্লাহ তা'আলা ছাড়া অন্যের জন্য সিজদাহ্ করা ইত্যাদী। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ [غافر : ٦٠]
এবং তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। সূরা গাফির/মুমিন ৪০: ৬০ অন্য স্থানে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ﴾ [المائدة : ٢٣]
আর আল্লাহর উপর ভরসা কর যদি তোমরা বিশ্বাসী হও সূরা আল মায়িদা ৫:২৩।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
فَاسْجُدُوا لِلَّهِ وَاعْبُدُوا [النجم: ٦٢]
অতএব আল্লাহকে সিজদাহ্ কর এবং তার ইবাদত কর। সূরা আন্ নাজম ৫৩: ৬২।
দু'আ, ভরসা রাখা এবং সিজদাহ্ করা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত, যার আদেশ আল্লাহ তা'আলা দিয়েছেন। অতএব, যে ব্যক্তি এসকল ইবাদত আল্লাহর জন্য করবেন তিনি মুমিন ও তাওহীদপন্থী (আস্তিক), আর যে তা গাইরুল্লাহর জন্য করবে সে মুশরিক ও কাফির (নাস্তিক)।

২। শিরকে আসগার বা ছোট শিরক: শিরকে আসগার ঐ সকল কথা বা কাজ যা শিকে আকবারের (বড় শিরকের) কারণ এবং তাতে পতিত হওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। যেমন: কবরকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা। তা কবরের নিকটে জ্বলাত আদায় করা অথবা কোন কবরের উপরে মসজিদ তৈরী করার মাধ্যমে হতে পারে। এ কাজ সম্পূর্ণ হারাম, তা যে করবে তার জন্য রয়েছে অভিশাপ ও আল্লাহর রহমাত থেকে বিতাড়িত হওয়ার ওয়াদা। রসূল জ্বলাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ
ইহুদী এবং নাসারাদের (খ্রিষ্টানদের) উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হউক, কারণ তারা তাদের নাবীদের কবরগুলোকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করেছে।¹³
অতএব, কবরকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা হারাম ও নাজায়েয কাজ। এটা মৃত ব্যক্তির নিকটে চাওয়া ও প্রার্থনার পথ খুলে দেয়। আর মৃত ব্যক্তির নিকটে চাওয়া শিকে আকবার বা বড় শিরক।

টিকাঃ
১২. জ্বহীহ বুখারী হা/৪৪৭৭, জ্বহীহ মুসলিম হা/৮৬
১৩. ছহীহ বুখারী হা/৪৩৫, ছহীহ মুসলিম হা/৫৩১।

📘 কিতাবুল ঈমান > 📄 আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর প্রতি বিশ্বাস

📄 আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর প্রতি বিশ্বাস


ক। এ প্রকার তাওহীদ হলো, আল্লাহ তা'আলা স্বীয় কিতাবে অথবা রাসূলের হাদীছে যে সকল নাম ও গুণাবলী নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন তা তার সাথে সামঞ্জস্য ও সঙ্গতি রেখে সত্যায়ন করা। আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে তার কোন সাদৃশ্য বা দৃষ্টান্ত নেই। তিনি বলেন,
فَاطِرُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ جَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَمِنَ الْأَنْعَامِ أَزْوَاجًا يَذْرَؤُكُمْ فِيهِ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ [الشورى : ۱۱]
তিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের স্রষ্টা। তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং চতুষ্পদ জন্তুদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এভাবে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন। কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। তিনি সব শুনেন, সব দেখেন। সূরা আশ শুরা ৪২:১১।
অতএব, আল্লাহ তা'আলা তার সকল নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে স্বীয় কোন সৃষ্টিজীবের সাদৃশ্য হওয়া থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।
আল্লাহ তা'আলার নাম অনেক, তার মধ্যে রয়েছে: আর্ রহমান (পরম দয়ালু), আল বাসীর (সর্বদ্রষ্টা), আল আযীয (মহা পরাক্রমশালী) ইত্যাদি। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
তিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। সূরা আল্ ফাতিহা ১: ৩। অন্য আয়াতে এসেছে,
وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ
তিনি সব শুনেন, সব দেখেন। সূরা আশ-শুরা ৪২: ১১। তিনি বলেন,
وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় সূরা লুকুমান ৩১: ৯।
খ। আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর প্রতি ঈমান আনার উপকারীতা: আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর প্রতি ঈমান আনার কিছু উপকারীতা নিচে উল্লেখ করা হলো:

১। আল্লাহর পরিচয় জানা। যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর প্রতি ঈমান আনবে, আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে তার জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে। ফলে তার সম্পর্কে ঐ ব্যক্তির ঈমানের দৃঢ়তা ও স্রষ্টার ক্ষেত্রে তার তাওহীদ (একত্ব) বৃদ্ধি পাবে।

২। আল্লাহর সুন্দর নাম সমূহ দ্বারা তাঁর প্রশংসা করা। আর এটা উত্তম যিকিরের অন্যতম প্রকার। আল্লাহ তা'আলা বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا [الأহ্যাব : ৪১] হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর। সূরা আল্ আহ্যাব ৩৩: ৪১।

৩। আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর মাধ্যমে তাকে ডাকা ও প্রার্থনা করা। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا [الأعরাফ : ১৮০] আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম। কাজেই সে নাম ধরেই তাঁকে ডাক। সূরা আল আ'রাফ ৭:১৮০।
যেমন এমন বলা: হে, আল্লাহ্ নিশ্চয় আমি তোমার নিকটে প্রার্থনা করছি, তুমি রায্যাক্ব (রিযিকদাতা) সেহেতু তুমি আমাকে রিযিক দাও ইত্যাদি।

৪। দুনিয়াতে সৌভাগ্য ও সুন্দর জীবন। আর পরকালে জান্নাতের নিয়ামত অর্জন করা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00