📘 কিতাবুল ঈমান > 📄 ইসলামী আক্বীদাহ বা বিশ্বাসের ভিত্তি

📄 ইসলামী আক্বীদাহ বা বিশ্বাসের ভিত্তি


ইসলামী আক্বীদাহ/বিশ্বাসের ভিত্তি ৬টি: যথা-
১। আল্লাহ তা'আলার প্রতি বিশ্বাস (الإيمان بالله)
২। মালাইকা বা ফেরেস্তাগণের প্রতি বিশ্বাস (الإيمان بالملائكة)
৩। কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস (الإيمان بالكتب)
৪। রসূলগণের প্রতি বিশ্বাস (الإيمان بالرسل)
৫। আখিরাত দিবসের প্রতি বিশ্বাস (الإيمان باليوم الآخر)
৬। তাক্বদীরের ভালো মন্দের প্রতি বিশ্বাস (الإيمانِ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّه)⁵
আল্লাহ তা'আলার বাণী,
﴿لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ﴾ [البقرة : ١٧٧]
সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে। বরং বড় সৎ কাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর, কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নাবী-রসূলগণের উপর [সূরা আল বাক্বারা ২:১৭৭]।
ক্বদরের দলীল হলো আল্লাহর বাণী,
﴿إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ وَمَا أَمْرُنَا إِلَّا وَاحِدَةٌ كَلَمْحِ بِالْبَصَرِ﴾ [القمر : ٤٩-٥০]
আমি প্রত্যেক বস্তুকে পরিমিতরূপে সৃষ্টি করেছি। আমার কাজ তো এক মুহূর্তে চোখের পলকের মত [সূরা আল ক্বামার ৫৪:৪৯-৫০।।]
রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
﴿قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنْ الْإِيمَانِ قَالَ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ﴾ [ صحيح مسلم -۸ ]
জিবরীল আলাইহিস সালাম রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকটে ঈমান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন: ঈমান হলো তুমি আল্লাহ, তার ফেরেশতাগণ, তার কিতাবসমূহ, তার রসূলগণ, আখিরাত দিবস এবং তাক্বদীরের ভালো মন্দের প্রতি বিশ্বাস রাখবে।⁶

টিকাঃ
৫. জ্বহীহ মুসলিম হা/৮
৬. ছহীহ মুসলিম হা/৮

📘 কিতাবুল ঈমান > 📄 ইসলামী আক্বীদার গুরুত্ব

📄 ইসলামী আক্বীদার গুরুত্ব


অনেকগুলো বিষয়ের মাধ্যমে ইসলামী আক্বীদাহর গুরুত্ব প্রকাশ পায়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১। আমাদের জীবনে সর্বাধিক প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আক্বীদাহ। কেননা, অন্তর যদি তার সৃষ্টিকর্তা মহান রব্বুল আলামীনের ইবাদত না করে তবে তা সুখ, শান্তি ও নিয়ামত পাবে না।
২। ইসলামী আক্বীদাহ সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ফরয। এ জন্য কেউ ইসলাম গ্রহণ করতে চাইলে তার নিকটে সর্বপ্রথম ইসলামী আক্বীদাহর স্বীকারোক্তি চাওয়া হয়। যেমন-
আল্লাহর রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله মানুষ যতক্ষণ "আল্লাহ্ ছাড়া সত্য কোন মা'বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রসূল" এ কথার সাক্ষ্য না দিবে, আমি ততক্ষন তাদের সাথে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি।⁷
৩। ইসলামী আক্বীদাহই একমাত্র আক্বীদাহ যা নিরাপত্তা, শান্তি, সুখ এবং আনন্দ কায়েম করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন: بَلَى مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُ أَجْرُهُ عِنْدَ رَبِّهِ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ হাঁ, যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সমর্পণ করেছে এবং সে সৎকর্মশীলও বটে তার জন্য তার পালনকর্তার কাছে পুরস্কার রয়েছে। তাদের ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। সূরা আল বাক্বারা ২:১১২।
ইসলামী আক্বীদাহই কেবল সুস্থতা ও সুখ-সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ
আর যদি সে জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাক্বওয়া (পরহেযগারী) অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের প্রতি আসমানী ও পার্থিব নিয়ামতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম। সূরা আল 'আরাফ ৭: ৯৬।
৪। ইসলামী আক্বীদাহই পৃথিবীতে ক্ষমতা লাভ এবং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যম। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِي الزَّبُورِ مِنْ بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ [الأنبياء : ١٠٥]
আমি উপদেশের পর যাবুরে লিখে দিয়েছি যে, আমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাগণ অবশেষে পৃথিবীর অধিকারী হবে। সূরা আল আম্বিয়া ২১: ১০৫।

টিকাঃ
৭. জ্বহীহ বুখারী হা/২৫, জ্বহীহ মুসলিম হা/২২, আবু দাউদ হা/২৬৪১, তিরমিযী হা/২৬০৮, নাসাঈ হা/৩৯৬৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00