📘 কিতাবুল ইলম > 📄 তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইলম অর্জনে আনুষঙ্গিক বিষয়াবলী

📄 তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইলম অর্জনে আনুষঙ্গিক বিষয়াবলী


প্রথম আনুষঙ্গিক বিষয়: ১. ইলম অর্জনে কতিপয় বিষয় শিক্ষার্থীর খেয়াল রাখা আবশ্যক।
প্রথম: ইলমুন নাহু (ব্যাকরণ) বিষয়ে জ্ঞানার্জন করতে হলে সংক্ষিপ্ত মূল পাঠ মুখস্থ করতে হবে। আমি মনে করি, এ বিষয়ের প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য متن الأجرومية সবচেয়ে ভাল। কেননা, এটা স্পষ্ট, পরিপূরক ও সংক্ষিপ্ত পুস্তক। তাতে বরকত রয়েছে। অতঃপর متن ألفية ابن مالك নামক ব্যাকরণের পুস্তকটি ভাল। কেননা, এটা ইলমুন নাহুর সারসংক্ষেপ। যেমন তিনি বলেন, أحصي من الكفاية الخلاصه ... كما اقتضى غنى بلا خصاصه
ফিক্বহ বিষয়ের কিতাবসমূহের মধ্যে زاد المستنقع ভাল। কেননা, কিতাবটি ব্যাখা, টিকা-টিপ্পনী সম্বলিত ও পাঠদানের জন্য উপযুক্ত। যদিও কিছু কিতাবের মূলপাঠ এর চেয়ে ভাল। তবে এ কিতাবটিতে অনেক মাসআলা সন্নিবেশ করা হয়েছে। এ জন্য এটিই ভাল কিতাব হিসাবে গণ্য।
অপর দিকে হাদীছের কিতাবের মধ্যে উমদাতুল আহকাম عمدة الأحكام অন্যতম। তারপর এর চেয়ে 'বুলগুল মারাম' بلوغ المرام আরো ভাল। দু'টির মধ্যে কোনটি ভাল এ কথার জবাবে বলা হবে, বুলুগুল মারামই উত্তম। কেননা, এখানে অনেক হাদীছের সন্নিবেশ করা হয়েছে। এ কিতাবে ইবনে হাজার আসক্বালানী (رحمة الله) হাদীছের স্তর বর্ণনা করেছেন।
আর তাওহীদের কিতাবের মধ্যে শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব এর 'কিতাবুত তাওহীদ كتاب التوحيد নামক বইটি উত্তম যা আমরা পড়ি।
আর তাওহীদ আল-আসমা ওয়াছ ছিফাত সম্পর্কিত বইয়ের মধ্যে ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রচিত 'আল-আক্বীদা ওয়াল ওয়াসিত্বীয়া' বইটি উত্তম। এটি একটি পরিপূরক, উপকারী বরকতপূর্ণ বই। বইটিতে আক্বীদার প্রত্যেক বিষয় যা গ্রহণীয় তা সংক্ষিপ্ত পাঠে বর্ণনা করা হয়েছে।

দ্বিতীয়: খুব দীর্ঘ আলোচনায় নিমগ্ন না হওয়া।
শিক্ষার্থীর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই প্রথমত সংক্ষিপ্ত পাঠ গ্রহণ করা শিক্ষার্থীর জন্য আবশ্যক। যাতে স্মৃতিপটে তা ধারণ করে রাখতে পারে। তারপর দীর্ঘ আলোচনার দিকে ধাবিত হবে। কিন্তু কতিপয় শিক্ষার্থীকে দেখা যায়, তারা গভীর অধ্যয়নে নিমগ্ন থাকে। আর কোন সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তথ্য সূত্র উপস্থাপন করে তারা বলে: মুগনি প্রণেতা বলেন, মাজমূ'উ প্রণেতা বলেন, আল-ইনছাফ প্রণেতা বলেন ও আল হাবী-প্রণেতা বলেন ইত্যাদি। এভাবে বলার মাধ্যমে তারা তাদের অধ্যয়নের গভীরতা প্রকাশ করতে চায়। কিন্তু এটা ভুল। এ ব্যাপারে আমরা শিক্ষার্থীদেরকে বলবো, আগে তোমরা সংক্ষিপ্ত পাঠ শিখো যাতে তা তোমাদের স্মৃতিপটে গেথে যায়। অতঃপর আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ হলে তোমরা দীর্ঘ আলোচনায় নিমগ্ন হতে পারো। বোধগম্যতার বিষয় হচ্ছে এটাই, যে ব্যক্তি সাঁতার কাটতে জানে না, গভীর সমুদ্রে সাঁতার কাটতে যাওয়া তার উচিত নয়। কেননা, সমুদ্রে ডুবে যাওয়া থেকে তার বিশ্বাস তাকে রক্ষা করতে সক্ষম নয়।

তৃতীয়: বিনা কারণে সংক্ষিপ্ত পাঠ গ্রহণ করা ছেড়ে দিয়ে অন্য পাঠের দিকে ধাবিত হওয়াতে বিরক্তিবোধ হতে পারে।
এটা শিক্ষার্থীর বিদ্যার্জনে বিচ্ছিন্নতার সমস্যা সৃষ্টি করে এবং একই সাথে সময় বিনষ্ট হয়। তাই প্রত্যেক দিন একটি করে কিতাব পড়া ভুল; যা বিদ্যার্জন পদ্ধতি বিরোধী বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। কোন বিষয়ের কিতাব পড়লে ঐ বিষয়ে লেগে থাকা ভাল। আর এটা ধারণা করা ঠিক নয় যে, আমি একটা কিতাব পড়ে শেষ করবো অথবা কিতাবের একটা পরিচ্ছেদ পড়বো। অতঃপর দেখা গেল, সে অন্যমনস্ক হয়েছে। এভাবে (এলোমেলো) পাঠ করার কারণেই সময় বিনষ্ট হয়।

চতুর্থ: কোন কিছুর উপকারীতা গ্রহণ করা এবং জ্ঞানগত বিষয় মনে রাখা।
এখানে ঐসব অজ্ঞাত বিষয়ের উপকারীতা সম্পর্কে বলা হচ্ছে যা এমনিতেই স্মৃতিপটে আসে না অথবা যার আলোচনা উপস্থান বিরল অথবা যে বিষয় নিয়ে নতুনভাবে আলোচনা করা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে জেনে তার উপকারীতা গ্রহণ
করতে হবে। আর এটা লিখনীর সাথে সম্পর্কিত। তাই এ ব্যাপারে বলা ঠিক নয় যে, এসব আমার জানা আছে। এসবে সীমাবদ্ধ থাকার দরকার নেই। কারণ তা তাড়াতাড়ি ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর এটাও বলবে না, অনেক মানুষ এসবের উপকারীতা গ্রহণ করে এবং বলে এটাতো সহজ সাধ্য বিষয়; এর আলোচনার দরকার নেই। অতঃপর সে অন্তবর্তীকালীন বা কিছু সময় পর তা আর স্মরণ করতে পারে না।
এ কারণে শিক্ষার্থীকে বলি, দুষ্প্রাপ্য কিতাব বা নতুন কোন বিষয়ের উপকারীতা গ্রহণে উৎসাহী হও। এ বিষয়ে আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) রচিত بدائع الفوائد নামক কিতাবটি উত্তম। এতে ইলম অর্জনের মৌলিক বিষয়গুলো সন্নিবেশ করা হয়েছে। এ কিতাবটির মত আলোচনা অন্য কিতাবে পাওয়া দুষ্কর। তাই এটি প্রত্যেক বিষয় সম্বলিত কিতাব। কেননা, যখনই কোন বিষয়ের মাসআলা লেখকের দৃষ্টি গোচর হয়েছে অথবা তিনি কোন উপকারীতার কথা শুনেছেন তখন তা এ কিতাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। আর এ কিতাবে আছে আক্বীদা, ফিক্বহ, হাদীছ, তাফসীর, ইলমুন নাহু এবং বালাগাত ইত্যাদি বিষয়। আর ইলম অর্জনের নিয়ম-নীতির উপর গুরুত্ব আরোপ করত উৎসাহও দেয়া হয়েছে।
আর আহকাম (বিধানবলী) সম্পর্কে আলিমগণ যেসব ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন তা হচ্ছে এর নিয়ম-নীতি। কারণ ফিক্বহী বিধি-বিধান সম্পর্কিত সকল ব্যাখ্যাই হচ্ছে নীতিমালা হিসেবে গণ্য। কেননা, এ ব্যাখ্যাই হচ্ছে বিধি-বিধানের ভিত্তি। তাই শিক্ষার্থীকে এসব ব্যাখ্যা আয়ত্ব করতে হবে। আমি শুনেছি কতিপয় ভাই এ নিয়ম-নীতিকে চার মাযহাবের সাথে সমন্বিত করে অনুসরণ করে। আমি বলবো, এভাবে কোন দল প্রতিষ্ঠা করা ভাল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোন সঠিক ব্যাখ্যা পেলে তা শর্তযুক্ত করে মূলত সব মাযহাবেরই অনুসরণ করা হয়। কেননা, প্রত্যেক ব্যাখ্যার উপর অনেক মাসআলা ভিত্তি করে। তাই ইলম অর্জনের জন্য রয়েছে নিয়ম-নীতি। আর প্রত্যেক নিয়ম অনেক আংশিক বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়। উদাহরণ স্বরূপ পানির পবিত্র হওয়া অথবা না হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহের সৃষ্টি হলে বিষয়টি বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে। তাই বিষয়ে হুকুম অথবা পদ্ধতিগত কারণ রয়েছে। এব্যাপারে এটাও ব্যাখ্যা করা হয় যে, মূল সব সময় মূলই থাকে। তাই পবিত্রতার মাঝে অপবিত্রতার সন্দেহ সৃষ্টি হলে তা পবিত্র বলেই গণ্য হয় অথবা অপবিত্র কোন জিনিসে পবিত্রতার সন্দেহ হলে তা অপবিত্রই ধরে নেয়া হয়। কেননা, মূল সব সময় একই রকম হয়।
আর শিক্ষার্থী উৎসাহিত হয়ে এ বিষয়ে সকল ব্যাখ্যা সংকলন করত সমন্বয় সাধন করে তা সুবিন্যস্ত করবে। অতঃপর ভবিষ্যতে এর উপর ভিত্তি করে আংশিক মাসআলা বের করার প্রচেষ্টা চালাবে। এতে তার নিজের ও অন্যের জন্য বৃহৎ উপকার লাভ হবে।

পঞ্চম: নিজে নিজেই ইলমের সন্ধান করা।
ইলম অর্জনে ডানে বামে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে না। তুমি নিজেই ইলম অর্জন করবে যতক্ষণ পরিতুষ্ট থাকবে। কেননা, এটাই তোমার জন্য হবে পদ্ধতি ও পন্থা। আর ইলম অর্জনে তুমি অগ্রগতি লাভ করলেও তাতে নিরব থাকবে না। মাসআলা ও দলীলাদীর ব্যাপারে তোমার অর্জিত জ্ঞান সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করবে। যাতে তুমি ধারাবাহিকভাবে আরো অগ্রসর হতে পারো। কোন মাসআলার ব্যাপারে সাহায্যের প্রয়োজন হলে তোমার বন্ধু ও ভাইদের মধ্যে যারা ঐ মাসআলার সমাধানে বিশস্ত তুমি তাদের শরণাপন্ন হবে। আর এ কথা বলতে লজ্জাবোধ করবে না যে, 'হে অমুক! কিতাব পর্যালোচনা করে এ মাসআলা বিশ্লেষণে তুমি আমাকে সাহায্যে করো'। কেননা, লজ্জাশীলতার কারণে কেউ ইলম অর্জন করতে পারে না। তাই লজ্জাশীল ও অহংকারী ব্যক্তি ইলম অর্জন করতে পারে না।

প্রথম আনুষঙ্গিক বিষয়: ১. ইলম অর্জনে কতিপয় বিষয় শিক্ষার্থীর খেয়াল রাখা আবশ্যক।
প্রথম: ইলমুন নাহু (ব্যাকরণ) বিষয়ে জ্ঞানার্জন করতে হলে সংক্ষিপ্ত মূল পাঠ মুখস্থ করতে হবে। আমি মনে করি, এ বিষয়ের প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য متن الأجرومية সবচেয়ে ভাল। কেননা, এটা স্পষ্ট, পরিপূরক ও সংক্ষিপ্ত পুস্তক। তাতে বরকত রয়েছে। অতঃপর متن ألفية ابن مالك নামক ব্যাকরণের পুস্তকটি ভাল। কেননা, এটা ইলমুন নাহুর সারসংক্ষেপ। যেমন তিনি বলেন, أحصي من الكفاية الخلاصه ... كما اقتضى غنى بلا خصاصه
ফিক্বহ বিষয়ের কিতাবসমূহের মধ্যে زاد المستنقع ভাল। কেননা, কিতাবটি ব্যাখা, টিকা-টিপ্পনী সম্বলিত ও পাঠদানের জন্য উপযুক্ত। যদিও কিছু কিতাবের মূলপাঠ এর চেয়ে ভাল। তবে এ কিতাবটিতে অনেক মাসআলা সন্নিবেশ করা হয়েছে। এ জন্য এটিই ভাল কিতাব হিসাবে গণ্য।
অপর দিকে হাদীছের কিতাবের মধ্যে উমদাতুল আহকাম عمدة الأحكام অন্যতম। তারপর এর চেয়ে 'বুলগুল মারাম' بلوغ المرام আরো ভাল। দু'টির মধ্যে কোনটি ভাল এ কথার জবাবে বলা হবে, বুলুগুল মারামই উত্তম। কেননা, এখানে অনেক হাদীছের সন্নিবেশ করা হয়েছে। এ কিতাবে ইবনে হাজার আসক্বালানী (رحمة الله) হাদীছের স্তর বর্ণনা করেছেন।
আর তাওহীদের কিতাবের মধ্যে শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব এর 'কিতাবুত তাওহীদ كتاب التوحيد নামক বইটি উত্তম যা আমরা পড়ি।
আর তাওহীদ আল-আসমা ওয়াছ ছিফাত সম্পর্কিত বইয়ের মধ্যে ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রচিত 'আল-আক্বীদা ওয়াল ওয়াসিত্বীয়া' বইটি উত্তম। এটি একটি পরিপূরক, উপকারী বরকতপূর্ণ বই। বইটিতে আক্বীদার প্রত্যেক বিষয় যা গ্রহণীয় তা সংক্ষিপ্ত পাঠে বর্ণনা করা হয়েছে।

দ্বিতীয়: খুব দীর্ঘ আলোচনায় নিমগ্ন না হওয়া।
শিক্ষার্থীর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই প্রথমত সংক্ষিপ্ত পাঠ গ্রহণ করা শিক্ষার্থীর জন্য আবশ্যক। যাতে স্মৃতিপটে তা ধারণ করে রাখতে পারে। তারপর দীর্ঘ আলোচনার দিকে ধাবিত হবে। কিন্তু কতিপয় শিক্ষার্থীকে দেখা যায়, তারা গভীর অধ্যয়নে নিমগ্ন থাকে। আর কোন সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তথ্য সূত্র উপস্থাপন করে তারা বলে: মুগনি প্রণেতা বলেন, মাজমূ'উ প্রণেতা বলেন, আল-ইনছাফ প্রণেতা বলেন ও আল হাবী-প্রণেতা বলেন ইত্যাদি। এভাবে বলার মাধ্যমে তারা তাদের অধ্যয়নের গভীরতা প্রকাশ করতে চায়। কিন্তু এটা ভুল। এ ব্যাপারে আমরা শিক্ষার্থীদেরকে বলবো, আগে তোমরা সংক্ষিপ্ত পাঠ শিখো যাতে তা তোমাদের স্মৃতিপটে গেথে যায়। অতঃপর আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ হলে তোমরা দীর্ঘ আলোচনায় নিমগ্ন হতে পারো। বোধগম্যতার বিষয় হচ্ছে এটাই, যে ব্যক্তি সাঁতার কাটতে জানে না, গভীর সমুদ্রে সাঁতার কাটতে যাওয়া তার উচিত নয়। কেননা, সমুদ্রে ডুবে যাওয়া থেকে তার বিশ্বাস তাকে রক্ষা করতে সক্ষম নয়।

তৃতীয়: বিনা কারণে সংক্ষিপ্ত পাঠ গ্রহণ করা ছেড়ে দিয়ে অন্য পাঠের দিকে ধাবিত হওয়াতে বিরক্তিবোধ হতে পারে।
এটা শিক্ষার্থীর বিদ্যার্জনে বিচ্ছিন্নতার সমস্যা সৃষ্টি করে এবং একই সাথে সময় বিনষ্ট হয়। তাই প্রত্যেক দিন একটি করে কিতাব পড়া ভুল; যা বিদ্যার্জন পদ্ধতি বিরোধী বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। কোন বিষয়ের কিতাব পড়লে ঐ বিষয়ে লেগে থাকা ভাল। আর এটা ধারণা করা ঠিক নয় যে, আমি একটা কিতাব পড়ে শেষ করবো অথবা কিতাবের একটা পরিচ্ছেদ পড়বো। অতঃপর দেখা গেল, সে অন্যমনস্ক হয়েছে। এভাবে (এলোমেলো) পাঠ করার কারণেই সময় বিনষ্ট হয়।

চতুর্থ: কোন কিছুর উপকারীতা গ্রহণ করা এবং জ্ঞানগত বিষয় মনে রাখা।
এখানে ঐসব অজ্ঞাত বিষয়ের উপকারীতা সম্পর্কে বলা হচ্ছে যা এমনিতেই স্মৃতিপটে আসে না অথবা যার আলোচনা উপস্থান বিরল অথবা যে বিষয় নিয়ে নতুনভাবে আলোচনা করা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে জেনে তার উপকারীতা গ্রহণ
করতে হবে। আর এটা লিখনীর সাথে সম্পর্কিত। তাই এ ব্যাপারে বলা ঠিক নয় যে, এসব আমার জানা আছে। এসবে সীমাবদ্ধ থাকার দরকার নেই। কারণ তা তাড়াতাড়ি ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর এটাও বলবে না, অনেক মানুষ এসবের উপকারীতা গ্রহণ করে এবং বলে এটাতো সহজ সাধ্য বিষয়; এর আলোচনার দরকার নেই। অতঃপর সে অন্তবর্তীকালীন বা কিছু সময় পর তা আর স্মরণ করতে পারে না।
এ কারণে শিক্ষার্থীকে বলি, দুষ্প্রাপ্য কিতাব বা নতুন কোন বিষয়ের উপকারীতা গ্রহণে উৎসাহী হও। এ বিষয়ে আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) রচিত بدائع الفوائد নামক কিতাবটি উত্তম। এতে ইলম অর্জনের মৌলিক বিষয়গুলো সন্নিবেশ করা হয়েছে। এ কিতাবটির মত আলোচনা অন্য কিতাবে পাওয়া দুষ্কর। তাই এটি প্রত্যেক বিষয় সম্বলিত কিতাব। কেননা, যখনই কোন বিষয়ের মাসআলা লেখকের দৃষ্টি গোচর হয়েছে অথবা তিনি কোন উপকারীতার কথা শুনেছেন তখন তা এ কিতাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। আর এ কিতাবে আছে আক্বীদা, ফিক্বহ, হাদীছ, তাফসীর, ইলমুন নাহু এবং বালাগাত ইত্যাদি বিষয়। আর ইলম অর্জনের নিয়ম-নীতির উপর গুরুত্ব আরোপ করত উৎসাহও দেয়া হয়েছে।
আর আহকাম (বিধানবলী) সম্পর্কে আলিমগণ যেসব ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন তা হচ্ছে এর নিয়ম-নীতি। কারণ ফিক্বহী বিধি-বিধান সম্পর্কিত সকল ব্যাখ্যাই হচ্ছে নীতিমালা হিসেবে গণ্য। কেননা, এ ব্যাখ্যাই হচ্ছে বিধি-বিধানের ভিত্তি। তাই শিক্ষার্থীকে এসব ব্যাখ্যা আয়ত্ব করতে হবে। আমি শুনেছি কতিপয় ভাই এ নিয়ম-নীতিকে চার মাযহাবের সাথে সমন্বিত করে অনুসরণ করে। আমি বলবো, এভাবে কোন দল প্রতিষ্ঠা করা ভাল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোন সঠিক ব্যাখ্যা পেলে তা শর্তযুক্ত করে মূলত সব মাযহাবেরই অনুসরণ করা হয়। কেননা, প্রত্যেক ব্যাখ্যার উপর অনেক মাসআলা ভিত্তি করে। তাই ইলম অর্জনের জন্য রয়েছে নিয়ম-নীতি। আর প্রত্যেক নিয়ম অনেক আংশিক বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়। উদাহরণ স্বরূপ পানির পবিত্র হওয়া অথবা না হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহের সৃষ্টি হলে বিষয়টি বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে। তাই বিষয়ে হুকুম অথবা পদ্ধতিগত কারণ রয়েছে। এব্যাপারে এটাও ব্যাখ্যা করা হয় যে, মূল সব সময় মূলই থাকে। তাই পবিত্রতার মাঝে অপবিত্রতার সন্দেহ সৃষ্টি হলে তা পবিত্র বলেই গণ্য হয় অথবা অপবিত্র কোন জিনিসে পবিত্রতার সন্দেহ হলে তা অপবিত্রই ধরে নেয়া হয়। কেননা, মূল সব সময় একই রকম হয়।
আর শিক্ষার্থী উৎসাহিত হয়ে এ বিষয়ে সকল ব্যাখ্যা সংকলন করত সমন্বয় সাধন করে তা সুবিন্যস্ত করবে। অতঃপর ভবিষ্যতে এর উপর ভিত্তি করে আংশিক মাসআলা বের করার প্রচেষ্টা চালাবে। এতে তার নিজের ও অন্যের জন্য বৃহৎ উপকার লাভ হবে।

পঞ্চম: নিজে নিজেই ইলমের সন্ধান করা।
ইলম অর্জনে ডানে বামে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে না। তুমি নিজেই ইলম অর্জন করবে যতক্ষণ পরিতুষ্ট থাকবে। কেননা, এটাই তোমার জন্য হবে পদ্ধতি ও পন্থা। আর ইলম অর্জনে তুমি অগ্রগতি লাভ করলেও তাতে নিরব থাকবে না। মাসআলা ও দলীলাদীর ব্যাপারে তোমার অর্জিত জ্ঞান সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করবে। যাতে তুমি ধারাবাহিকভাবে আরো অগ্রসর হতে পারো। কোন মাসআলার ব্যাপারে সাহায্যের প্রয়োজন হলে তোমার বন্ধু ও ভাইদের মধ্যে যারা ঐ মাসআলার সমাধানে বিশস্ত তুমি তাদের শরণাপন্ন হবে। আর এ কথা বলতে লজ্জাবোধ করবে না যে, 'হে অমুক! কিতাব পর্যালোচনা করে এ মাসআলা বিশ্লেষণে তুমি আমাকে সাহায্যে করো'। কেননা, লজ্জাশীলতার কারণে কেউ ইলম অর্জন করতে পারে না। তাই লজ্জাশীল ও অহংকারী ব্যক্তি ইলম অর্জন করতে পারে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00