📘 কিতাবুল ইলম > 📄 ‘ইলম (জ্ঞান) এর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফযীলতসমূহ নিম্নরূপ

📄 ‘ইলম (জ্ঞান) এর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফযীলতসমূহ নিম্নরূপ


১. 'ইল্‌ম নবীগণ (সা) এর উত্তরাধিকার (أنه إرث الأنبياء): নবীগণ (সা) (কাউকে) দিরহাম এবং দিনারের (দুনিয়াবী কোন জিনিসের) উত্তরাধিকারী বানাননি। কেবলমাত্র তারা (মানুষকে) 'ইলমের উত্তরাধিকারী বানিয়েছেন। যদি কোন ব্যক্তি 'ইলম অর্জন করে, তাহলে সে ব্যক্তি নবীগণ (সা) এর উত্তরাধিকার থেকে পূর্ণ অংশ অর্জন করতে পারবে।
অতএব এ পঞ্চদশ শতাব্দীতে যখন তুমি জ্ঞানবানদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তখন তুমি মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উত্তরাধিকারী হবে। আর এটি ('ইলম অর্জনের) সবচেয়ে বড় ফযীলত।
২. 'ইল্‌ম স্থায়ী হয়, আর সম্পদ ফুরিয়ে যায় (أنه يبقى والمال يفنى): আবু হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দরিদ্র ছাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এমনকি তিনি ক্ষুধার কারণে অজ্ঞান হয়ে (মাটিতে) পড়ে যেতেন। আমি আল্লাহর কসম করে তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করতে চাই, আমাদের যুগে মানুষের মাঝে আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীছ চলে, নাকি চলে না? হ্যাঁ! তার বর্ণিত হাদীছ অনেক চলে। সুতরাং আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর ঐ ব্যক্তির সমপরিমাণ ছাওয়াব হয়, যে ব্যক্তি তার বর্ণিত হাদীছগুলো দ্বারা উপকৃত হয়। তাহলে বুঝা গেল যে, 'ইলম টিকে থাকে, আর সম্পদ ফুরিয়ে যায়। অতএব, হে 'ইল্ম অন্বেষণকারী! 'ইল্মকে আঁকড়ে ধরা তোমার উপর অপরিহার্য।
হাদীছে প্রমাণিত আছে যে, নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, إِذَا مَاتَ الإِنسان انقطع عنه عمله إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ "যখন মানুষ মারা যায়, তখন তিনটি আমল ছাড়া তার সকল আমল (সকল আমলের ছাওয়াব তার থেকে) ছিন্ন হয়ে যায়। ছদাক্বায়ে জারিয়াহ, এমন 'ইলম (জ্ঞান), যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় এবং এমন সৎ সন্তান, যে সন্তান (তার মৃত্যুর পর) তার জন্য দু'আ করে"।[৪]
৩. 'ইল্ম অর্জনকারী (জ্ঞানবান ব্যক্তি) 'ইল্ম (সংরক্ষণের ক্ষেত্রে) কোন কষ্ট অনুভব করে না ( : أنه لا يتعب صاحبه في الحراسة )।
কেননা যখন আল্লাহ তোমাকে কোন 'ইল্ম দান করেন, তখন তিনি তা (তোমার) অন্তরে সংরক্ষণ করেন। 'ইল্ম (সংরক্ষণের ক্ষেত্রে) কোন সিন্দুক বা চাবিকাঠি অথবা অন্যান্য কোন জিনিসের প্রয়োজন অনুভব করেন না। এটি (মানুষের) অন্তরে ও হৃদয়ে সংরক্ষিত থাকে। আর যথাসময়ে 'ইল্মই (জ্ঞানই) তোমার অভিভাবক হয়ে যায়। কেননা এটি আল্লাহর অনুমতিক্রমে তোমাকে বিপদ থেকে রক্ষা করে। অতএব, 'ইল্মই তোমাকে রক্ষা করে। পক্ষান্তরে সম্পদকে তুমি নিজেই বড় দরজার অন্তরালে সিন্দুকের মধ্যে রেখে সংরক্ষণ কর। আর তা সত্ত্বেও তুমি সম্পদের ব্যাপারে আস্থাশীল হও না।
৪. মানুষ সত্যের সাক্ষ্যপ্রদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য 'ইল্মকে মাধ্যম বানায় ( : أن الإنسان يتوصل به إلى أن يكون من الشهداء على الحق )।
এর দলীল (প্রমাণ) হচ্ছে আল্লাহর এই বাণী,
شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْط
"ন্যায়নীতিতে প্রতিষ্ঠিত আল্লাহ নিজে সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ব্যতিত অন্য কোন (সত্য) উপাস্য নেই। ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানী ব্যক্তিগণও সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ব্যতিত অন্য কোন (সত্য) উপাস্য নেই"। সূরা আলে ইমরান; ৩:১৮।
(এখানে) আল্লাহ কি "ধনী ব্যক্তিগণ” (أُولُو الْمَالِ) বলেছেন? না! বরং তিনি বলেছেন, জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ (أُولُو الْعلم)। সুতরাং হে 'ইল্ম অন্বেষণকারী! আল্লাহর একত্বের উপর সাক্ষ্যদানকারী ফেরেশতাগণের সাথে যে ব্যক্তি আল্লাহর ব্যাপারে এ সাক্ষ্যদান করে যে, তিনি ছাড়া অন্য কোন (সত্য) উপাস্য নেই, সে ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত হওয়া তোমার সম্মানের জন্য যথেষ্ট।
৫. "উলাতুল আম্র” (কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিবর্গ) এর দু'শ্রেণীর মধ্যে প্রথম শ্রেণী হলেন আহলুল ইলম (আলিমগণ) :(أن أهل العلم هو أحد صنفي ولاة الأمر
আল্লাহ তা'আলা যাদের আনুগত্য করার আদেশ দিয়েছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে أُولُو الأمر "উলুল আম্র” (কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিবর্গ) এর (আনুগত্য করো)"। সূরা আন-নিসা ৪:৫৯।
অতএব, এখানে "উলাতুল উম্বর" (পদটি) “শাসকবর্গ ও বিচারকবর্গ” এবং "জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ (উলামায়ে কিরাম) ও 'ইল্ম অন্বেষণকারী (শিক্ষার্থীবৃন্দ)" শব্দগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং জ্ঞানী ব্যক্তিগণের (আলিমগণের) কর্তৃত্ব হবে আল্লাহর বিধি-বিধান (শরী'আত) বর্ণনা করার ক্ষেত্রে এবং জনগণকে তার দিকে আহ্বান করার ক্ষেত্রে। আর শাসকবর্গের কর্তৃত্ব হবে আল্লাহর বিধি-বিধান (রাষ্ট্রে) বাস্তবায়িত করা এবং সে বিধি-বিধান পালনের জন্য জনগণকে বাধ্য করা।
৬. আহলুল ইলম (আলিমগণ) কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলার আদেশের উপর অটল থাকবেন (أن أهل العلم هو القائمون على أمر الله تعالى حتى تقوم الساعة:) আর এর পক্ষে দলীল (প্রমাণ) গ্রহণ করা হয় মু'আবিয়াহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর (বর্ণিত) হাদীছ দ্বারা। তিনি বলেন, আমি নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি,
مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ
"আল্লাহ যার কল্যান চান, তাকে দীনের সঠিক 'ইল্ম (জ্ঞান) দান করেন"।[৫]
প্রকৃতপক্ষে আমি (আল্লাহর আদেশক্রমে তোমাদের সকলের মাঝে ওহীর জ্ঞান) বন্টন করি এবং আল্লাহ (তার ইচ্ছানুযায়ী তোমাদের সকলকে দীনের 'ইল্ম) দান করেন। আর এ উম্মাহ (আলিম জাতি) আল্লাহর সত্য দীনের উপর অটল থাকবেন। যারা তাদের বিরোধিতা করে, তারা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। এমনকি আল্লাহর আদেশ (কিয়ামত) সংঘটিত হবে, (অথচ তারা এমনই থাকবে)। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল এ দল সম্পর্কে বলেন,
إِنْ لَمْ يَكُونُوا أَهْلَ الْحَدِيثِ فَلَا أَدْرِي مَنْ هُمْ
"যদি তারা 'আহলুল হাদীছ' না হন, তাহলে আমি জানি না তারা কারা"।[৬] আর ক্বাযী 'ইয়াছ (রহঃ) বলেন,
أَرَادَ أَحْمَدُ أَهْلَ السُّنَّةِ وَ مَنْ يَعْتَقِدُ مَذْهَبَ أَهْلِ الْحَدِيث
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল (রহঃ) "আহলুস সুন্নাহ"কে এবং যারা আহলুল হাদীছ মতাদর্শকে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, তাদেরকে উদ্দেশ্য করেছেন।[৭]
৭. আল্লাহ (তার বান্দাগণকে) যেগুলো নি'আমত দান করেছেন, সেগুলোর মধ্য থেকে কোন নি'আমতের ব্যাপারে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাউকে কারও প্রতি ঈর্ষা করতে উৎসাহ দেননি। তবে দু'টি নি'আমতের ব্যাপারে (একে অপরের প্রতি ঈর্ষা করতে উৎসাহ দিয়েছেন)।
ক. 'ইল্ম (জ্ঞান) অন্বেষণ করা এবং তা অনুযায়ী আমল করা।
খ. এমন ব্যবসায়ী, যে তার সম্পদ ইসলামের কাজে প্রদান করে।
নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
لا حَسَدَ إِلَّا فِي اثْنَتَيْنِ: رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ مَالًا فَسُلِّطَ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الحَقِّ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ الحكمة فهو يقضي بها ويعلمها
"(শুধুমাত্র) দু'টি ক্ষেত্রে ছাড়া (অন্য কোন ক্ষেত্রে) ঈর্ষা করা বৈধ নয়। এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে, আল্লাহ যাকে সম্পদ দিয়েছেন, অতঃপর তিনি তাকে মহৎ কাজগুলোর ক্ষেত্রে তা খরচ করার ব্যাপারে ক্ষমতা দিয়েছেন। আর এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে, আল্লাহ যাকে প্রজ্ঞা দান করেছেন, অতঃপর সে ব্যক্তি তা অনুযায়ী আমল করে এবং তা মানুষকে (ছাওয়াবের আশায়) শিক্ষা দেয়”।[৮]
৮. ইমাম বুখারী (রহঃ) বর্ণিত হাদীছে ('ইল্ম সম্পর্কে বর্ণনা) এসেছে: আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَثَلُ مَا بَعَثَنِي اللهُ بِه مِنَ الْهُدَى وَالْعِلْم كَمَثَلِ الغَيْثِ الكَثيرِ أَصَابَ أَرْضًا، فَكَانَ منْهَا نَقِيَّةٌ، قَبلَت الماء، فَأَنْبَتَتِ الكَلأَ وَالعُشْبَ الكَثير، وَكَانَتْ مِنْهَا أَجَادِبُ، أَمْسَكَت المَاءَ، فَنَفَعَ اللَّهُ بِهَا النَّاسَ، فَشَرِبُوا وَسَقَوْا وَزَرَعُوا ، وَأَصَابَتْ مِنْهَا طَائِفَةً أُخْرَى، إِنَّمَا هِيَ قيعان لا تمسك ماء ولا تُنْبِتُ كَلَا، فَذَلِكَ مَثَلُ مَنْ فَقَهُ فِي دِينِ اللَّهِ، وَنَفَعَهُ مَا بَعَثَنِي اللَّهُ به فَعَلَمَ وَعَلَّمَ، وَمَثَلُ مَنْ لَمْ يَرْفَع بذلك رَأْسًا ، وَلَمْ يَقْبَلْ هُدَى اللَّهِ الَّذِي أُرْسِلْتُ به
"আল্লাহ যে দিক-নির্দেশনা এবং (শারঈ দলীলসমূহের) 'ইল্মসহ আমাকে (দুনিয়াতে) পাঠিয়েছেন, তা (অর্জনকারীর) দৃষ্টান্ত হচ্ছে জমিনের (এক অংশে) পতিত পর্যাপ্ত বৃষ্টির মত। (প্রথম প্রকার জমিন) ভাল উর্বর কিছু ভূমি রয়েছে, যেগুলো ভূমি পানি শুষে নেয়, অতঃপর প্রচুর তাজা ও শুকনা তৃণলতা এবং তাজা ঘাস উৎপন্ন করে। (দ্বিতীয় প্রকার জমিন) আর শক্ত কিছু ভূমি রয়েছে, যেগুলো ভূমি পানি আটকে রাখে। অতঃপর আল্লাহ ঐ পানির দ্বারা সকল মানুষের উপকার করেন। ফলে তারা (নিজেরা তা) পান করে, (তাদের পশুপাখিকে) পান করায় এবং (তা দ্বারা) চাষাবাদ করে। (তৃতীয় প্রকার জমিন:) জমিনের অপর কিছু অংশে বৃষ্টি পতিত হয়, যে অংশগুলো কেবলমাত্র সমতল। সেগুলো ভূমি পানি আটকে রাখে না এবং তাজা ও শুকনা তৃণলতাও উৎপন্ন করে না"। [৯]
সুতরাং ঐ (প্রথম ও দ্বিতীয় প্রকার) জমিন হলো এমন ব্যক্তির দৃষ্টান্ত, যে ব্যক্তি আল্লাহর দীনের ব্যাপারে 'ইল্ম অর্জন করে এবং আল্লাহ আমাকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন, তা তার উপকারে আসে। ফলে সে 'ইল্ম অর্জন করে এবং তা শিক্ষা দেয়। আর ঐ (তৃতীয় প্রকার) জমিন হলো এমন ব্যক্তির দৃষ্টান্ত, যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে মাথা তুলে দেখে না এবং আল্লাহর যে দিক-নির্দেশনা দিয়ে আমাকে পাঠানো হয়েছে, সেটিও গ্রহণ করে না"।[১০]
৯. 'ইল্ম (অন্বেষণের পথ) জান্নাতের পথ )أنه طريق الجنة :
আবূ হুরাইরাহ () এর বর্ণিত হাদীছ তার প্রমাণ। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا ، سَهْلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ
আর যদি কোন ব্যক্তি 'ইল্ম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে রাস্তায় বের হয়, তাহলে আল্লাহ তার বিনিময়ে ঐ ব্যক্তির জন্য জান্নাতের দিকে রাস্তা সহজ করে দেন। [১১]
১০. মু'আবিয়াহ (এর হাদীছে 'ইল্ম সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
من يرد الله به خيرا يفقهه في الدين
"আল্লাহ যার কল্যান চান, তাকে দীনের ব্যাপারে জ্ঞান দান করেন"।[১২]
অর্থাৎ আল্লাহ তার দীনের ব্যাপারে তাকে ফকীহ/বিশেষজ্ঞ বানিয়ে দেন। ফিকাহশাস্ত্রে পারদর্শীদের নিকটে الفقه في الدين )দীনের ব্যাপারে জ্ঞান) দ্বারা শুধুفَقَهُ الْأَحْكَامِ الْعَمَلِيةِ الْمَخصوصة (বিশেষ আমল সংক্রান্ত বিধি-বিধানের জ্ঞান) উদ্দেশ্য নয়। বরং এর দ্বারা علم التوحيد )আল্লাহর একত্বের জ্ঞান(, علم أصول الدين )দীনের মূলনীতিসমূহের জ্ঞান) এবং আল্লাহর শরী'আতের সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্য বিষয়াদির জ্ঞান উদ্দেশ্য। আর যদি 'ইল্ম অর্জনের ফযীলতের ক্ষেত্রে এ হাদীছটি ব্যতিত কুরআন এবং হাদীছের কোন দলীল না থাকে, তবুও অবশ্যই এ হাদীছটি শরী'আতের 'ইল্ম অন্বেষণ ও অর্জনের ব্যাপারে উৎসাহ প্রদানের ক্ষেত্রে যথেষ্ট হবে।
১১. 'ইল্ম হচ্ছে আলো, যার দ্বারা বান্দা আলোকিত হয়:
বান্দা জানে সে কিভাবে তার প্রতিপালকের 'ইবাদত করবে এবং সে কিভাবে তার বান্দাদের সাথে পারস্পারিক লেনদেন করবে। অতএব, এসব ব্যাপারে 'ইল্ম এবং (কুরআন ও হাদীছের) সুস্পষ্ট দলীল অনুযায়ী তার চলার পথ হয়।
১২. নিশ্চয় আলিম (জ্ঞানী) ব্যক্তি হলেন আলো, যার দ্বারা লোকেরা তাদের দীন ও দুনিয়ার বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সঠিক পথ পায়:
আর বানী ইসরাঈলের (১০০ জন মানুষকে হত্যাকারী) লোকটির ঘটনা আমাদের অধিকাংশের নিকটে গোপনীয় নয়। যখন ঐ লোকটি ৯৯ জন মানুষকে হত্যা করল, তখন সে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় একজন আলিম সম্পর্কে (মানুষকে) জিজ্ঞেস করল। অতঃপর তাকে একজন ধার্মিক লোকের ব্যাপারে বলা হলো। তারপর সে (তার নিকটে গিয়ে) তাকে জিজ্ঞেস করল: তার জন্য কি কোন তাওবাহ রয়েছে? তখন ধার্মিক লোকটি যেন বিষয়টিকে বড় মনে করলেন। তারপর তিনি বললেন: না! (কোন তাওবা নেই)। ফলে সে তাকে হত্যা করে তার দ্বারা (হত্যাকৃত ব্যক্তির সংখ্যা) ১০০ জন পূর্ণ করল। অতঃপর সে একজন আলিমের নিকটে গেল। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করল: (তার জন্য কি কোন তাওবাহ রয়েছে?) তখন তিনি তাকে সংবাদ দিলেন যে, তার জন্য তাওবাহ রয়েছে। (তিনি তাকে আরও সংবাদ দিলেন যে,) এমন কিছু নেই, যা তার মাঝে এবং তার তাওবাহ্'র মাঝে প্রতিবন্ধক হবে। অতঃপর তিনি তাকে এক দেশের ব্যাপারে বললেন, সে দেশের উদ্দেশ্যে তার বের হওয়ার জন্য, যার অধিবাসীগণ সৎ। ফলে সে বের হলো। অতঃপর রাস্তার মাঝে তার মৃত্যু সংঘটিত হলো। ঘটনাটি প্রসিদ্ধ। [১৩] সুতরাং তুমি 'আলিম (জ্ঞানী) এবং জাহিল (মূর্খ) এর মাঝে পার্থক্য লক্ষ্য করো।
১৩. নিশ্চয় আল্লাহ ইহকালে ও পরকালে জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গকে (আলিমগণকে) উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেন: তারা আল্লাহর দিকে দাওয়াত দানের যে দায়িত্ব পালন করেন, তার ভিত্তিতে এবং তারা যা জানেন তা অনুযায়ী আমল করার ভিত্তিতে, দুনিয়াতে আল্লাহ তাদেরকে তার সমস্ত বান্দাদের মাঝে উচ্চ মর্যাদা দান করেন। পক্ষান্তরে, পরকালেও তিনি তাদেরকে এসবের ভিত্তিতে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করবেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتِ
"তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে (ইহকালে সম্মান ও পরকালে ছাওয়াব দানের মধ্যমে) বহু মর্যাদায় উন্নীত করবেন"। সূরা আল-মুজাদালাহ ৫৮:১১।

টিকাঃ
[৪] জ্বহীহ মুসলিম হা/১৬৩১, সুনান আবূ দাউদ হা/২৮৮০, সুনান আত-তিরমিযী হা/১৩৭৬।
[৫] জ্বহীহ বুখারী হা/৭১, ছহীহ মুসলিম হা/১০৩৭, জ্বহীহ ইবনু হিব্বান হা/৮৯
[৬] ফাতহুল বারী ১/১৬৪, শারহুন নাওয়াবী; ১৩/৬৭।
[৭] প্রাগুক্ত।
[৮] জ্বহীহ বুখারী হা/৭৩, জ্বহীহ মুসলিম হা/৮১৬, জ্বহীহ ইবনু হিব্বান হা/৯০, সুনান ইবনু মাজাহ হা/৪২০৮, আস-সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী হা/২০১৬৪।
[৯] জ্বহীহ বুখারী হা/৭৯, শা'হুস সুন্নাহ হা/১৩৫।
[১০] জ্বহীহ মুসলিম হা/২৬৯৯, তিরমিযী হা/২৮৬৫, ইবনু মাজাহ হা/২২৫।
[১১] জ্বহীহ মুসলিম হা/২৬৯৯, তিরমিযী হা/২৬৪৬, ইবনে মাজাহ হা/২২৫।
[১২] জ্বহীহ বুখারী হা/৭১, জ্বহীহ মুসলিম হা/১৩৩৭।
[১৩] ঘটনাটি জ্বহীহ বুখারী ও ছহীহ মুসলিম এ বর্ণিত হয়েছে। ছহীহ মুসলিম হা/২৭৬৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00