📄 প্রথম পরিচ্ছেদ: ‘ইলম (জ্ঞান) -এর পরিচয়
'ইল্ম (জ্ঞান) -এর পরিচয়: শাব্দিক অর্থ: 'ইল্ম (জ্ঞান) হচ্ছে জাহল (অজ্ঞতা) এর বিপরীত। আর 'ইল্ম এর অর্থ হলো: "কোন কিছুকে তার বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে দৃঢ়ভাবে জানতে পারা"। পারিভাষিক সংজ্ঞা: কিছু বিদ্বান বলেছেন, 'ইল্ম হলো (কোন কিছুর) প্রকৃত অবস্থা জানা। আর এটি অজানা ও অজ্ঞতার বিপরীত”। অন্যান্য আলিম বলেছেন, "নিশ্চয় 'ইল্ম (কোন কিছুর) প্রকৃত অবস্থা জানার চেয়েও অধিকতর সুস্পষ্ট"। আর এখানে 'ইল্ম (জ্ঞান) দ্বারা আমাদের যেটি উদ্দেশ্য সেটি হলো 'ইল্মে শারঈ (ইসলামী জ্ঞান)। আর 'ইল্মে শারঈ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: "আল্লাহ তা'আলা তার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর যেসব সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণ অবতীর্ণ করেছেন, সেগুলোর 'ইল্যু (জ্ঞান)।"
সুতরাং যে 'ইল্মের মাঝে গুণকীর্তন ও প্রশংসা রয়েছে, সেটিই (অহীর জ্ঞান) এবং শুধুমাত্র আল্লাহ প্রদত্ত 'ইল্ম (জ্ঞান)। নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ "আল্লাহ যার কল্যান চান, তাকে দীনের সঠিক 'ইল্ম (জ্ঞান) দান করেন"।[১]
নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন,
إِنَّ الْأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا - إِنَّمَا وَرَّثُوا الْعِلْمَ - فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ "নিশ্চয় নাবীগণ (ﷺ) কাউকে দিনার ও দিরহামের (দুনিয়াবী কোন জিনিসের) উত্তরাধিকারী বানাননি। প্রকৃতপক্ষে, তারা (মানুষকে) 'ইল্ম (জ্ঞান) এর উত্তরাধিকারী বানিয়েছেন। যদি কোন ব্যক্তি 'ইল্ম অর্জন করে, তাহলে সে ব্যক্তি অবশ্যই নাবীগণ (ﷺ) এর উত্তরাধিকার থেকে পূর্ণ অংশ অর্জন করতে পারবে”।[২
টিকাঃ
[১] মুত্তাফাকুন আলাইহি বুখারী হা/৭১, মুসলিম, হা/১৩৩৭।
[২] দ্বহীহ তিরমিযী হা/২৬৮২, আবু দাউদ হা/৩৬৪১, ইবনু মাজাহ, হা/২২৩।
📄 তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ‘ইলম (জ্ঞান) অন্বেষণের বিধান
শারঈ 'ইল্ম অন্বেষণ করা ফরযে কিফায়াহ। যখন কোন ব্যক্তি শারঈ 'ইল্ম অর্জনের দায়িত্ব গ্রহণ করবে, তা সংরক্ষণ করবে; তখন অন্যদের জন্য তা অন্বেষণ করা "সুন্নাহ” হয়ে যাবে। আর কখনো কখনো শারঈ 'ইল্ম অন্বেষণ করা "ফরযে 'আইন" (ব্যক্তিগতভাবে পালনীয় ফরয) হয়ে যায়।
আর এর মূলনীতি হলো: "মানুষ যে 'ইবাদত করার ইচ্ছা করে এবং যে লেনদেন সম্পন্ন করার ইচ্ছা করে, সে বিষয়ে জ্ঞানার্জন মানুষের উপর নির্ভর করে"। কেননা এ অবস্থায় তার উপর জানা আবশ্যক কিভাবে সে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) জন্য এ 'ইবাদতটি করবে এবং কিভাবে এ লেনদেনটি সম্পন্ন করবে। এছাড়া অন্যান্য 'ইল্ম (অন্বেষণ করা) "ফরযে কেফায়া"। আর 'ইল্ম অন্বেষণকারীর জন্য স্বয়ং নিজে উপলব্ধি করা উচিত যে, 'ইল্ম অর্জনের সাথে সাথে "ফরযে কেফায়া" আদায়কারীর যে ছাওয়াব, সে ছাওয়াব তার অর্জিত হওয়ার জন্য সে 'ইল্ম অন্বেষণের মুহূর্তেই "ফরযে কেফাহ" আদায় করছে।
কোন সন্দেহ নেই যে, 'ইল্ম অন্বেষণ করা সর্বশ্রেষ্ঠ আমলের অন্তর্ভুক্ত। বরং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে আমাদের এ যুগে ইসলামী সমাজে প্রকাশিত হয় ও অধিক হারে ছড়িয়ে পড়ে এমন বিদ'আতসমূহ যখন আরম্ভ হলো, 'ইল্ম ছাড়া ফাতাওয়া প্রদানের জন্য প্রত্যাশী লোকদের দ্বারা অধিক মূর্খতা আরম্ভ হলো এবং অধিকাংশ লোকের মাঝে বিতর্ক আরম্ভ হলো; তখন এ তিনটি বিষয়ই 'ইল্ম অন্বেষণের ব্যাপারে তরুণ সমাজকে বাধ্য করল।
সুতরাং এ কারণেই প্রয়োজনের ক্ষেত্রে আমরা এমন জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গের (আলিমগণের) নিকটে যাব, যাদের পর্যাপ্ত গবেষণার যোগ্যতা রয়েছে, আল্লাহ তা'আলার দীনের ব্যাপারে (সঠিক) বুঝ/জ্ঞান রয়েছে, আল্লাহর বান্দাদেরকে দিক-নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা রয়েছে। কেননা সম্প্রতিকালে অধিকাংশ লোক বিভিন্ন বিষয়ের মধ্য থেকে কোন এক বিষয়ে তত্ত্বগত জ্ঞান অর্জন করে, অথচ সে তত্ত্ব মানুষকে সংশোধন করার জন্য, শিক্ষাদানের জন্য তাদেরকে চিন্তিত করে না। আর তারা এমন এমন ফাতওয়া দেয়, যা সবচেয়ে বড় ক্ষতির জন্য মাধ্যম হয়ে যায়। যে ক্ষতির সীমারেখা আল্লাহ ব্যতিত কেউ জানেন না।