📄 হত্যাকারীর মীরাছ
হত্যাকারীর মীরাছের বিধান:
হত্যাকারীর দুইটি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: যেই হত্যাকারী তার পূর্বসূরীকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে, সে তার ওয়ারিছ হতে পারবে না।
অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করার বিধান:
অন্যায়ভাবে হত্যাকারী ব্যক্তি হলো এমন হত্যাকারী, যাকে কিছু অথবা রক্তমূল্য অথবা কাফফারার দণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। যেমন ইচ্ছাকৃত হত্যা, ইচ্ছাকৃত হত্যার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হত্যা, ভুলক্রমে হত্যা অথবা ভুলক্রমে করা হত্যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এমন কোনো হত্যা। যেমন- অস্ত্র ছাড়া এবং তাৎক্ষণিক হত্যা না করে অন্যকোনো উপায়ে হত্যা করা (যেমন- গর্ত খুঁড়ে রাখা, সূচালো কোন কাষ্ঠখণ্ড বা বিদ্যুতায়িত কোনো বস্তু বা এই জাতীয় কোনো বস্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়ির আশে পাশে রেখে দেওয়া), শিশুকে হত্যা করা, ঘুমন্ত ব্যক্তিকে হত্যা করা ও পাগল ব্যক্তিকে হত্যা করা।
ইচ্ছাকৃত হত্যাকারী ওয়ারিছ হবে না। কারণ সে দ্রুত মীরাছের অংশীদার হতে চেয়েছে, আর যে ব্যক্তি কোনো বস্তু সংঘটিত হওয়ার সময় আসার আগেই তা ঘটানোর চেষ্টা করে, তাকে শাস্তি স্বরূপ উক্ত বস্তু থেকে বঞ্চিত করা হয়। আর যদি হত্যা অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়, তাহলে এই ক্ষেত্রেও হত্যাকারীকে মীরাছ থেকে বঞ্চিত করা হবে হত্যার সমূহ পথ বন্ধ করার লক্ষ্যে, মানুষের জীবনের নিরাপত্তার লক্ষ্যে; যাতে করে মীরাছের প্রতি লালসা রক্ত প্রবাহ ও জীবন ধ্বংসের কারণ না হতে পারে।
দ্বিতীয় অবস্থা: যখন হত্যাকারী নিজের আত্মরক্ষার তাগিদে অথবা কিছু প্রয়োগের লক্ষ্যে অথবা দণ্ডবিধি প্রয়োগের লক্ষ্যে বা এই জাতীয় কোনো বৈধ কারণে হত্যা করবে, তখন হত্যাকারী মীরাছ থেকে বঞ্চিত হবে না।
হত্যাকারীর মীরাছের বিধান:
হত্যাকারীর দুইটি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: যেই হত্যাকারী তার পূর্বসূরীকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে, সে তার ওয়ারিছ হতে পারবে না।
অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করার বিধান:
অন্যায়ভাবে হত্যাকারী ব্যক্তি হলো এমন হত্যাকারী, যাকে কিছু অথবা রক্তমূল্য অথবা কাফফারার দণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। যেমন ইচ্ছাকৃত হত্যা, ইচ্ছাকৃত হত্যার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হত্যা, ভুলক্রমে হত্যা অথবা ভুলক্রমে করা হত্যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এমন কোনো হত্যা। যেমন- অস্ত্র ছাড়া এবং তাৎক্ষণিক হত্যা না করে অন্যকোনো উপায়ে হত্যা করা (যেমন- গর্ত খুঁড়ে রাখা, সূচালো কোন কাষ্ঠখণ্ড বা বিদ্যুতায়িত কোনো বস্তু বা এই জাতীয় কোনো বস্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়ির আশে পাশে রেখে দেওয়া), শিশুকে হত্যা করা, ঘুমন্ত ব্যক্তিকে হত্যা করা ও পাগল ব্যক্তিকে হত্যা করা।
ইচ্ছাকৃত হত্যাকারী ওয়ারিছ হবে না। কারণ সে দ্রুত মীরাছের অংশীদার হতে চেয়েছে, আর যে ব্যক্তি কোনো বস্তু সংঘটিত হওয়ার সময় আসার আগেই তা ঘটানোর চেষ্টা করে, তাকে শাস্তি স্বরূপ উক্ত বস্তু থেকে বঞ্চিত করা হয়। আর যদি হত্যা অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়, তাহলে এই ক্ষেত্রেও হত্যাকারীকে মীরাছ থেকে বঞ্চিত করা হবে হত্যার সমূহ পথ বন্ধ করার লক্ষ্যে, মানুষের জীবনের নিরাপত্তার লক্ষ্যে; যাতে করে মীরাছের প্রতি লালসা রক্ত প্রবাহ ও জীবন ধ্বংসের কারণ না হতে পারে।
দ্বিতীয় অবস্থা: যখন হত্যাকারী নিজের আত্মরক্ষার তাগিদে অথবা কিছু প্রয়োগের লক্ষ্যে অথবা দণ্ডবিধি প্রয়োগের লক্ষ্যে বা এই জাতীয় কোনো বৈধ কারণে হত্যা করবে, তখন হত্যাকারী মীরাছ থেকে বঞ্চিত হবে না।
📄 নারীর মীরাছ
মহিলাদের মীরাছের অবস্থা:
ইসলাম নারীকে অনেক উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছে। তাকে তার উপযুক্ত উত্তরাধিকার প্রদান করেছে, যেমনটি নিয়ে বর্ণনা করা হলো:
১. কখনো কখনো নারী পুরুষের সমান ভাগ পাবে। যেমন- বৈপিত্রেয় ভাই ও বৈপিত্রেয় বোনদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, যখন তারা সকলে ওয়ারিছ হয়, তখন বৈপিত্রেয় ভাই ও বোন সমানভাগে অংশীদার হয়।
২. কখনো কখনো নারীর প্রাপ্য অংশ পুরুষের সমান বা তার চেয়ে কম হয়। যেমন- কোনো ব্যক্তি যদি পুরুষ সন্তান অথবা পুরুষ ও নারী সন্তান, মাতা ও পিতাকে রেখে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে পিতা-মাতার প্রত্যেকেই এক ষষ্ঠাংশ করে ভাগ পাবে। আর যদি মাতা-পিতার সঙ্গে শুধুমাত্র কন্যা সন্তান থাকে, তাহলে মাতা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, আর পিতা পাবে এক ষষ্ঠাংশ ও অবশিষ্ট ভাগ, যদি অন্য কোনো আছাবা না থাকে।
৩. কখনো কখনো নারী পুরুষের অর্ধেক ভাগ পাবে, আর এটাই অধিক ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। নারী পাঁচটি ক্ষেত্রে পুরুষের অর্ধেক অধিকার পেয়ে থাকে: মীরাছ, সাক্ষ্য, দিয়াত বা রক্তমূল্য, 'আক্বীক্বাহ, দাসমুক্তি।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيبًا مَفْرُوضًا}
"পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের ভাগ আছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও ভাগ আছে, হোক সেই ভাগ অল্প কিংবা বেশি। এই ভাগ সম্পূর্ণরূপে নির্ধারিত। [সূরা আন-নিসা ৪:৭]।
মীরাছের ভাগ পুরুষকে নারীর চেয়ে বেশি প্রদান করার তাৎপর্য:
ইসলাম পুরুষের কাধে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক দায়ভার ও ভরণপোষণমূলক ব্যয়ভারের দায়িত্ব অর্পণ করেছে, যা কোনো নারীর কাধে ন্যস্ত করেনি। যেমন- মোহরানা দেওয়া, বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, স্ত্রী ও সন্তানাদির জন্য যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করা, পিতৃকুলের আত্মীয়-স্বজনদের উপর রক্তমূল্য পরিশোধ করা ইত্যাদি। তবে মহিলার উপর এমন কোনো দায়ভার ন্যস্ত করা হয়নি, না তার নিজের ভরণপোষণের দায়ভার ন্যস্ত করা হয়েছে, না তার স্বামীর ভরণপোষণের দায়ভার ন্যস্ত করা হয়েছে, আর না তার সন্তানাদির ভরণপোষণের দায়ভার তার উপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
এভাবেই ইসলাম নারীকে মর্যাদার আসনে আসীন করেছে। তাকে সর্ব প্রকারের দায়ভার থেকে মুক্তি দিয়ে তা পুরুষের কাধে ন্যস্ত করেছে। এরপরেও তাকে পুরুষের অর্ধেক ভাগ প্রদান করেছে। সুতরাং তার সম্পত্তির ভাগ সম্পূর্ণরূপে তার জন্য অতিরিক্ত একটি সম্পদ, যা বর্ধনশীল। আর পুরুষের সম্পদ তার নিজের ব্যয়ভার, স্ত্রীর ব্যয়ভার ও সন্তানাদির ব্যয়ভারের কারণে দিন দিন হ্রাস পেতে থাকে। এটাই হলো উভয় শ্রেণির মধ্যে প্রকৃত ইনছাফ ও নিরপেক্ষ বিচার। আপনার রব কখনোই তার বান্দাদের প্রতি অন্যায় করেন না, নিশ্চয় আল্লাহ মহা বিজ্ঞ, মহা প্রজ্ঞার অধিকারী। আর আল্লাহ যা জানেন তা তোমরা জান না।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ﴾
"পুরুষগণ নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল। কারণ আল্লাহ একের উপর অন্যের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আর এ জন্য যে, তারা ভরণপোষণের ক্ষেত্রে স্বীয় অর্থ ব্যয় করে। [সূরা আন-নিসা ৪:৩৪]।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ﴾
নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দিচ্ছেন আর অশ্লীল ও নিষিদ্ধ কাজ এবং সীমালঙ্ঘন করা থেকে নিষেধ করছেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন, যাতে তোমরা স্মরণ রাখো”। [সূরা আন-নাহল, ১৬: ৯০]।
মহিলাদের মীরাছের অবস্থা:
ইসলাম নারীকে অনেক উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছে। তাকে তার উপযুক্ত উত্তরাধিকার প্রদান করেছে, যেমনটি নিয়ে বর্ণনা করা হলো:
১. কখনো কখনো নারী পুরুষের সমান ভাগ পাবে। যেমন- বৈপিত্রেয় ভাই ও বৈপিত্রেয় বোনদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, যখন তারা সকলে ওয়ারিছ হয়, তখন বৈপিত্রেয় ভাই ও বোন সমানভাগে অংশীদার হয়।
২. কখনো কখনো নারীর প্রাপ্য অংশ পুরুষের সমান বা তার চেয়ে কম হয়। যেমন- কোনো ব্যক্তি যদি পুরুষ সন্তান অথবা পুরুষ ও নারী সন্তান, মাতা ও পিতাকে রেখে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে পিতা-মাতার প্রত্যেকেই এক ষষ্ঠাংশ করে ভাগ পাবে। আর যদি মাতা-পিতার সঙ্গে শুধুমাত্র কন্যা সন্তান থাকে, তাহলে মাতা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, আর পিতা পাবে এক ষষ্ঠাংশ ও অবশিষ্ট ভাগ, যদি অন্য কোনো আছাবা না থাকে।
৩. কখনো কখনো নারী পুরুষের অর্ধেক ভাগ পাবে, আর এটাই অধিক ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। নারী পাঁচটি ক্ষেত্রে পুরুষের অর্ধেক অধিকার পেয়ে থাকে: মীরাছ, সাক্ষ্য, দিয়াত বা রক্তমূল্য, 'আক্বীক্বাহ, দাসমুক্তি।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيبًا مَفْرُوضًا}
"পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের ভাগ আছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও ভাগ আছে, হোক সেই ভাগ অল্প কিংবা বেশি। এই ভাগ সম্পূর্ণরূপে নির্ধারিত। [সূরা আন-নিসা ৪:৭]।
মীরাছের ভাগ পুরুষকে নারীর চেয়ে বেশি প্রদান করার তাৎপর্য:
ইসলাম পুরুষের কাধে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক দায়ভার ও ভরণপোষণমূলক ব্যয়ভারের দায়িত্ব অর্পণ করেছে, যা কোনো নারীর কাধে ন্যস্ত করেনি। যেমন- মোহরানা দেওয়া, বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, স্ত্রী ও সন্তানাদির জন্য যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করা, পিতৃকুলের আত্মীয়-স্বজনদের উপর রক্তমূল্য পরিশোধ করা ইত্যাদি। তবে মহিলার উপর এমন কোনো দায়ভার ন্যস্ত করা হয়নি, না তার নিজের ভরণপোষণের দায়ভার ন্যস্ত করা হয়েছে, না তার স্বামীর ভরণপোষণের দায়ভার ন্যস্ত করা হয়েছে, আর না তার সন্তানাদির ভরণপোষণের দায়ভার তার উপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
এভাবেই ইসলাম নারীকে মর্যাদার আসনে আসীন করেছে। তাকে সর্ব প্রকারের দায়ভার থেকে মুক্তি দিয়ে তা পুরুষের কাধে ন্যস্ত করেছে। এরপরেও তাকে পুরুষের অর্ধেক ভাগ প্রদান করেছে। সুতরাং তার সম্পত্তির ভাগ সম্পূর্ণরূপে তার জন্য অতিরিক্ত একটি সম্পদ, যা বর্ধনশীল। আর পুরুষের সম্পদ তার নিজের ব্যয়ভার, স্ত্রীর ব্যয়ভার ও সন্তানাদির ব্যয়ভারের কারণে দিন দিন হ্রাস পেতে থাকে। এটাই হলো উভয় শ্রেণির মধ্যে প্রকৃত ইনছাফ ও নিরপেক্ষ বিচার। আপনার রব কখনোই তার বান্দাদের প্রতি অন্যায় করেন না, নিশ্চয় আল্লাহ মহা বিজ্ঞ, মহা প্রজ্ঞার অধিকারী। আর আল্লাহ যা জানেন তা তোমরা জান না।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ﴾
"পুরুষগণ নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল। কারণ আল্লাহ একের উপর অন্যের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আর এ জন্য যে, তারা ভরণপোষণের ক্ষেত্রে স্বীয় অর্থ ব্যয় করে। [সূরা আন-নিসা ৪:৩৪]।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ﴾
নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দিচ্ছেন আর অশ্লীল ও নিষিদ্ধ কাজ এবং সীমালঙ্ঘন করা থেকে নিষেধ করছেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন, যাতে তোমরা স্মরণ রাখো”। [সূরা আন-নাহল, ১৬: ৯০]।
📄 তাখারুজ মিনাল মীরাছ
তাখারুজ (التخارج) হলো: ওয়ারিছগণ পরস্পরে মিলিত হয়ে মীমাংসার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ পরিত্যক্ত সম্পত্তি বা অন্যকোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে একজনকে মীরাছ থেকে বাদ দেওয়া। এই ধরনের কার্যক্রম বৈধ হবে যদি ওয়ারিছগণ সকলেই সন্তুষ্ট থাকে।
তাখারুজের ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টনের পদ্ধতি:
তাখারুজের ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টনের অনেকগুলো পদ্ধতি আছে, যেমনটি নিম্নে বর্ণিত হলো:
১. কোনো একজন ওয়ারিছ স্বীয় প্রাপ্য অংশ অন্যজনকে দিয়ে মীরাছ থেকে বের হয়ে আসা সংশ্লিষ্ট ওয়ারিছের ব্যক্তিগত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে। ফলে বিনিময়ের অর্থ পরিত্যক্ত সম্পত্তির প্রাপ্য অংশের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যাবে।
উদাহরণ: কোনো মহিলা স্বামী ও দুইজন আপন ভাইকে রেখে মৃত্যুবরণ করল। এখন কোনো একজন আপন ভাই নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যক্তিগত অর্থের বিনিময়ে উক্ত স্বামীকে মীরাছের ভাগ থেকে বাদ দিয়ে দিল। তাহলে মাসআলা গঠিত হবে ৪ দ্বারা: স্বামী পাবে অর্ধেক, যার পরিমাণ ২, আর অবশিষ্ট সম্পত্তি দুই ভাই পাবে, যার পরিমাণ ২। এখন স্বামীর ২ ভাগ সম্পত্তি চুক্তিকারী ভাইয়ের প্রাপ্য অংশ ১ ভাগের সাথে মিলিত হয়ে তার মোট প্রাপ্য অংশ হবে ৩ ভাগ।
২. কোনো একজন ওয়ারিছ স্বীয় প্রাপ্য অংশের ভাগ অন্যান্য ওয়ারিছদের জন্য ছেড়ে দিয়ে আসা পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যতীত অন্য কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে, যেই অর্থ অন্যান্য ওয়ারিছগণ তাকে পরিশোধ করেছে তাদের প্রাপ্য অংশের আনুপাতিক হারে। ফলে পরিত্যক্ত সম্পত্তি অন্যান্য ওয়ারিছদের জন্য ধার্য হয়ে যাবে, আর মাসআলা গঠিত হবে উক্ত ব্যক্তিকে ওয়ারিছদের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে।
৩. কোনো একজন ওয়ারিছের স্বীয় প্রাপ্য অংশের ভাগ থেকে বের হয়ে আসা ঐ সম্পত্তির বিনিময়ে, যা তাকে অন্যান্য সকল ওয়ারিছ সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করে পরিশোধ করেছে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ছাড়া অন্যকোনো অর্থ দ্বারা, তাহলে পরিত্যক্ত সম্পত্তির যেই পরিমাণ অংশের ব্যাপারে চুক্তি হয়েছে, ঐ নির্দিষ্ট পরিমাণ অংশ সকল ওয়ারিছের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হবে।
উদাহরণ: কোনো মহিলা স্বামী, একজন পুত্র ও একজন কন্যাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল। এখন কন্যা ও পুত্র উভয়েই স্বামীকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সমান দুই ভাগে অর্ধেক অর্ধেক করে পরিশোধ করে দিল, তাহলে স্বামীর এক চতুর্থাংশ পুত্র ও কন্যা উভয়েই সমান দুই ভাগে অর্ধেক অর্ধেক করে পাবে।
৪. কোনো একজন ওয়ারিছের স্বীয় প্রাপ্য অংশ অন্যান্য ওয়ারিছের জন্য রেখে বের হয়ে আসা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে, যেই অর্থ অন্য ওয়ারিছগণ তাকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে পরিশোধ করেছে, তাহলে বের হয়ে যাওয়া ব্যক্তির ভাগ অন্য ওয়ারিছদের মধ্যে তাদের প্রাপ্য অংশের আনুপাতিক হারে বণ্টিত হবে।
তাখারুজ (التخارج) হলো: ওয়ারিছগণ পরস্পরে মিলিত হয়ে মীমাংসার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ পরিত্যক্ত সম্পত্তি বা অন্যকোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে একজনকে মীরাছ থেকে বাদ দেওয়া। এই ধরনের কার্যক্রম বৈধ হবে যদি ওয়ারিছগণ সকলেই সন্তুষ্ট থাকে।
তাখারুজের ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টনের পদ্ধতি:
তাখারুজের ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টনের অনেকগুলো পদ্ধতি আছে, যেমনটি নিম্নে বর্ণিত হলো:
১. কোনো একজন ওয়ারিছ স্বীয় প্রাপ্য অংশ অন্যজনকে দিয়ে মীরাছ থেকে বের হয়ে আসা সংশ্লিষ্ট ওয়ারিছের ব্যক্তিগত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে। ফলে বিনিময়ের অর্থ পরিত্যক্ত সম্পত্তির প্রাপ্য অংশের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যাবে।
উদাহরণ: কোনো মহিলা স্বামী ও দুইজন আপন ভাইকে রেখে মৃত্যুবরণ করল। এখন কোনো একজন আপন ভাই নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যক্তিগত অর্থের বিনিময়ে উক্ত স্বামীকে মীরাছের ভাগ থেকে বাদ দিয়ে দিল। তাহলে মাসআলা গঠিত হবে ৪ দ্বারা: স্বামী পাবে অর্ধেক, যার পরিমাণ ২, আর অবশিষ্ট সম্পত্তি দুই ভাই পাবে, যার পরিমাণ ২। এখন স্বামীর ২ ভাগ সম্পত্তি চুক্তিকারী ভাইয়ের প্রাপ্য অংশ ১ ভাগের সাথে মিলিত হয়ে তার মোট প্রাপ্য অংশ হবে ৩ ভাগ।
২. কোনো একজন ওয়ারিছ স্বীয় প্রাপ্য অংশের ভাগ অন্যান্য ওয়ারিছদের জন্য ছেড়ে দিয়ে আসা পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যতীত অন্য কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে, যেই অর্থ অন্যান্য ওয়ারিছগণ তাকে পরিশোধ করেছে তাদের প্রাপ্য অংশের আনুপাতিক হারে। ফলে পরিত্যক্ত সম্পত্তি অন্যান্য ওয়ারিছদের জন্য ধার্য হয়ে যাবে, আর মাসআলা গঠিত হবে উক্ত ব্যক্তিকে ওয়ারিছদের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে।
৩. কোনো একজন ওয়ারিছের স্বীয় প্রাপ্য অংশের ভাগ থেকে বের হয়ে আসা ঐ সম্পত্তির বিনিময়ে, যা তাকে অন্যান্য সকল ওয়ারিছ সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করে পরিশোধ করেছে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ছাড়া অন্যকোনো অর্থ দ্বারা, তাহলে পরিত্যক্ত সম্পত্তির যেই পরিমাণ অংশের ব্যাপারে চুক্তি হয়েছে, ঐ নির্দিষ্ট পরিমাণ অংশ সকল ওয়ারিছের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হবে।
উদাহরণ: কোনো মহিলা স্বামী, একজন পুত্র ও একজন কন্যাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল। এখন কন্যা ও পুত্র উভয়েই স্বামীকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সমান দুই ভাগে অর্ধেক অর্ধেক করে পরিশোধ করে দিল, তাহলে স্বামীর এক চতুর্থাংশ পুত্র ও কন্যা উভয়েই সমান দুই ভাগে অর্ধেক অর্ধেক করে পাবে।
৪. কোনো একজন ওয়ারিছের স্বীয় প্রাপ্য অংশ অন্যান্য ওয়ারিছের জন্য রেখে বের হয়ে আসা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে, যেই অর্থ অন্য ওয়ারিছগণ তাকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে পরিশোধ করেছে, তাহলে বের হয়ে যাওয়া ব্যক্তির ভাগ অন্য ওয়ারিছদের মধ্যে তাদের প্রাপ্য অংশের আনুপাতিক হারে বণ্টিত হবে।