📄 প্রকৃত হিজড়ার মীরাছ
খুনছা মুশকিল বা প্রকৃত হিজড়া: এমন ব্যক্তি, যার পুরুষ লিঙ্গ ও স্ত্রী লিঙ্গ উভয়টি বিদ্যমান অথবা যার উভয় লিঙ্গের কোনোটিই নেই।
ওয়ারিছ হওয়ার যে সকল ক্ষেত্রে হিজড়া বিদ্যমান থাকার সম্ভাবনা থাকে:
চারটি ক্ষেত্রে হিজড়া ওয়ারিছ বিদ্যমান থাকার সম্ভাবনা আছে: পুত্র সন্তানগণ... ভাইগণ... চাচাগণ... ওয়ালা এর অধিকারী ওয়ারিছ। এদের প্রত্যেকেরই পুরুষ অথবা নারী হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
প্রকৃত হিজড়ার অবস্থাসমূহ:
খুনছা মুশকিল বা প্রকৃত হিজড়ার দুইটি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: এমন হিজড়া, যার পুরুষ হওয়া বা নারী হওয়ার বিষয়টা স্পষ্ট হওয়ার ব্যাপারে আশা করা যায়।
দ্বিতীয় অবস্থা: এমন হিজড়া, যার পুরুষ হওয়া বা নারী হওয়ার বিষয়টা স্পষ্ট হওয়ার ব্যাপারে আশা করা যায় না। কারণ হয়ত সে ছোট বেলায় মৃত্যুবরণ করেছে, অথবা সে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরেও তার প্রকৃত অবস্থা জানা যায় না।
হিজড়ার প্রকৃত অবস্থা নির্ণয় করার লক্ষণসমূহ:
হিজড়ার প্রকৃত অবস্থা কয়েকটি বিষয় দ্বারা স্পষ্ট হবে:
১. পেশাব করা: যদি হিজড়া পুরুষাঙ্গ দ্বারা পেশাব করে, তাহলে সে পুরুষ বলে বিবেচিত হবে। আর যদি সে মহিলাগুপ্তাঙ্গ দ্বারা পেশাব করে, তাহলে সে নারী বলে বিবেচিত হবে। আর যদি সে উভয় অঙ্গ দ্বারাই পেশাব করে, তাহলে প্রথম যে অঙ্গটি দ্বারা সে পেশাব করবে, সেটাই তার আসল অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হবে (আর অপর অঙ্গ থেকে পেশাব হওয়াটা তার শারিরীক ত্রুটি হিসেবে বিবেচিত হবে)। আর যদি উভয় অঙ্গ দ্বারাই একত্রে পেশাব হয়, কোনো অঙ্গ থেকে পেশাব আগে নির্গত না হয়, তাহলে যেই অঙ্গ থেকে দীর্ঘ সময় যাবৎ পেশাব নির্গত হয়, সেই অঙ্গকেই আসল অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
২. বীর্যপাত: যদি সে পুরুষাঙ্গ দ্বারা বীর্যপাত করে, তাহলে সে পুরুষ বলে বিবেচিত হবে। কিন্তু যদি মহিলাগুপ্তাঙ্গ দ্বারা বীর্যপাত করে, তাহলে সে নারী বলে বিবেচিত হবে। আর যদি উভয় লিঙ্গ দ্বারাই বীর্যপাত করে, তাহলে যেই অঙ্গ দ্বারা প্রথমে বীর্যপাত করে, সেই অঙ্গই আসল বলে বিবেচিত হবে।
৩. যৌন আকর্ষণ অনুভব করা: যদি সে নারীদের প্রতি টান অনুভব করে, তাহলে সে পুরুষ বলে বিবেচিত হবে। কিন্তু যদি সে পুরুষদের প্রতি টান অনুভব করে, তাহলে সে নারী বলে বিবেচিত হবে। আর যদি সে উভয় লিঙ্গের প্রতিই আকর্ষণ অনুভব করে, তাহলে সে খুনছা মুশকিল বা প্রকৃত হিজড়া।
৪. দাড়ি ও গোফ বের হওয়া। এটাও পুরুষ হওয়ার একটি অন্যতম দলীল।
৫. ঋতুস্রাব নির্গত হওয়া, গর্ভধারণ করা, উভয় স্তন ফুলে যাওয়া, উভয় স্তন থেকে দুধ নির্গত হওয়া- এগুলো সবই হলো তার নারী হওয়ার প্রমাণ।
প্রকৃত হিজড়ার মীরাছ:
১. প্রকৃত হিজড়ার অবস্থা যদি স্পষ্ট না হয় অথবা সে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করে, তাহলে এই হিজড়া ওয়ারিছ পুরুষ হিসেবে পুরুষের অর্ধাংশ, আবার নারী হিসেবে নারীর অর্ধাংশ মীরাছের ভাগ পাবে, যদি সে নারী ও পুরুষ উভয় বিবেচনাতেই ওয়ারিছ হয় এবং পুরুষ বিবেচনায় বেশি পরিমাণ আর নারী বিবেচনায় কম পরিমাণ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়। আর যদি সে শুধুমাত্র পুরুষ হওয়ার বিবেচনায় উত্তরাধিকারী হয়, তাহলে পুরুষের অর্ধেক ভাগের সমপরিমাণ ভাগ পাবে, আর যদি সে শুধুমাত্র নারী হওয়ার বিবেচনায় উত্তরাধিকারী হয়, তাহলে সে নারীর অর্ধাংশের ভাগ পাবে।
২. যদি প্রকৃত হিজড়ার আসল অবস্থা জানা যাবে এই আশা থাকে, তাহলে ওয়ারিছগণ তার আসল অবস্থা স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। যদি কারোর কোনো ক্ষতি না হয়, আর যদি তারা অপেক্ষা না করে, বরং সম্পত্তির বণ্টনকে ত্বরান্বিত করে, তাহলে তাকে আর তার অংশীদারদেরকে সর্বনিম্ন ভাগ প্রদান করা হবে এবং অবশিষ্ট সম্পত্তির বণ্টন স্থগিত রাখা হবে তার প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত।
সুতরাং একবার মাসআলা গঠন করা হবে তাকে পুরুষ বিবেচনা করে, আর একবার মাসআলা গঠন করা হবে তাকে নারী বিবেচনা করে। আর হিজড়া ওয়ারিছকে দুইটি প্রাপ্য অংশের মধ্যে পরিমাণে সবচেয়ে কম প্রাপ্য অংশটি দেওয়া হবে এবং অবশিষ্ট সম্পত্তির বণ্টন তার প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হবে। এরপরে বণ্টন স্থগিতকৃত সম্পত্তিটুকু পৃথক করে অবশিষ্ট সম্পদ বণ্টন করতে হবে এই নিয়মানুযায়ী।
উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি একজন পুত্র, একজন কন্যা ও ছোট একজন হিজড়া সন্তানকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টনের মাসআলা হবে নিম্নরূপ:
পুরুষ বিবেচনায় মাসআলা গঠিত হবে ৫ দ্বারা: পুত্র পাবে ২ ভাগ, কন্যা পাবে ১ ভাগ, আর হিজড়া সন্তান পাবে ২ ভাগ।
নারী বিবেচনায় মাসআলা গঠিত হবে ৪ দ্বারা: পুত্র পাবে ২ ভাগ, কন্যা পাবে ১ ভাগ, হিজড়া সন্তান পাবে ১ ভাগ।
সুতরাং এখানে কন্যা ও পুত্রকে সর্বনিম্ন পরিমাণ অংশ দেওয়ায় তাদের ভাগে ঘাটতি হয়েছে, এই ঘাটতির কারণ হলো; হিজড়াকে পুরুষ বিবেচনা করে তাকে পুরুষের সমপরিমাণ ভাগ দেওয়া হয়েছে। অপরদিক হিজড়ার ভাগে ঘাটতি দেওয়া হয়েছে, এই ঘাটতির কারণ হলো; তাকে নারী বিবেচনা করে নারীর সমপরিমাণ ভাগ দেওয়া হয়েছে, এরপরে অবশিষ্ট সম্পত্তির বণ্টন স্থগিত রাখা হয়েছে তার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত।
📄 পানিতে নিমজ্জিত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিদের মীরাছ
এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য হলো: এমন ব্যক্তিবর্গ, যারা একে অপরের ওয়ারিছ, যারা কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। যেমন- পানিতে নিমজ্জিত হওয়া অথবা আগুনে পুড়ে যাওয়া অথবা কোনো দালান বা এ জাতীয় কোনো কিছুর নিচে চাপা পড়ে ধ্বংস হওয়া অথবা যুদ্ধে নিহত হওয়া অথবা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া অথবা কোনো গাড়ি অথবা বিমান অথবা রেল ইত্যাদি যেকোনো দুর্ঘটনায় পতিত হওয়া।
পানিতে নিমজ্জিত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি ও এই ধরনের মানুষের মীরাছ:
পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ও দালান বা এ জাতীয় বস্তুর নিচে চাপা পড়ে বিধ্বস্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের পাচটি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: এমন দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারীর ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জানতে পারা, তাহলে সে তার পূর্বসূরীর মীরাছ থেকে ভাগ পাবে।
দ্বিতীয় অবস্থা: যদি জানা যায় যে, তারা সকলেই একত্রে একই সময় মৃত্যুবরণ করেছে, তাহলে তাদের মাঝে কোনো উত্তরাধিকারিত্বের সম্পর্ক থাকবে না।
তৃতীয় অবস্থা: যদি তাদের মৃত্যুর অবস্থা সম্পর্কে জানা না যায়, তাহলেও তাদের মাঝে উত্তরাধিকারিত্বের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।
চতুর্থ অবস্থা: তাদের মৃত্যুর ব্যাপারে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, তাদের মৃত্যু ধারাবাহিকভাবেই হয়েছে, কিন্তু তাদের মধ্যে কে সর্বশেষে মৃত্যুবরণকারী, সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়, তাহলে এই অবস্থাতেও তাদের মধ্যে কোনো উত্তরাধিকারিত্বের সম্পর্ক নেই।
পঞ্চম অবস্থা: তাদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানা গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু পরবর্তীতে তা আর স্মরণে নেই, তাহলে এই ক্ষেত্রেও তাদের মধ্যে উত্তরাধিকারিত্বের কোনো সম্পর্ক নেই।
শেষের এই চারটি মাসআলায় তাদের মধ্যে কোনো উত্তরাধিকারিত্বের সম্পর্ক নেই। সুতরাং তাদের প্রত্যেকের সম্পত্তি শুধুমাত্র তাদের জীবিত ওয়ারিছদের জন্য, যারা তাদের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের জন্য নয়।
উদাহরণ: কোনো ব্যক্তির দুই ভাই ও মাতা গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করল। প্রথম ভাই একজন স্ত্রী, একজন কন্যা ও একজন পুত্রকে রেখে গেল। আর দ্বিতীয় ভাই একজন স্ত্রী ও একজন পুত্রকে রেখে গেল। আর মাতা একজন কন্যা, একজন পুত্রের কন্যা ও একজন চাচাকে রেখে গেল। তাহলে প্রত্যেকের সম্পদ শুধুমাত্র তাদের জীবিত ওয়ারিছদের মধ্যেই বণ্টন করা হবে।
সুতরাং প্রথম মাসআলা গঠিত হবে ৮ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ, যার পরিমাণ ১, আর কন্যা ও পুত্র অবশিষ্ট সম্পত্তি পাবে আছাবা হিসেবে "পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পাবে” এই নীতিতে।
দ্বিতীয় মাসআলা গঠিত হবে ৮ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ, যার পরিমাণ ১, আর অবশিষ্ট ৭ ভাগ সম্পত্তি পাবে পুত্র আছাবা হিসেবে।
আর তৃতীয় মাসআলা গঠিত হবে ৬ দ্বারা: কন্যা পাবে অর্ধেক, যার পরিমাণ ৩, আর পুত্রের কন্যা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ এক, আর অবশিষ্ট ২ ভাগ সম্পত্তি চাচা পাবে আছাবা হিসেবে।
এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য হলো: এমন ব্যক্তিবর্গ, যারা একে অপরের ওয়ারিছ, যারা কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। যেমন- পানিতে নিমজ্জিত হওয়া অথবা আগুনে পুড়ে যাওয়া অথবা কোনো দালান বা এ জাতীয় কোনো কিছুর নিচে চাপা পড়ে ধ্বংস হওয়া অথবা যুদ্ধে নিহত হওয়া অথবা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া অথবা কোনো গাড়ি অথবা বিমান অথবা রেল ইত্যাদি যেকোনো দুর্ঘটনায় পতিত হওয়া।
পানিতে নিমজ্জিত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি ও এই ধরনের মানুষের মীরাছ:
পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ও দালান বা এ জাতীয় বস্তুর নিচে চাপা পড়ে বিধ্বস্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের পাচটি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: এমন দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারীর ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জানতে পারা, তাহলে সে তার পূর্বসূরীর মীরাছ থেকে ভাগ পাবে।
দ্বিতীয় অবস্থা: যদি জানা যায় যে, তারা সকলেই একত্রে একই সময় মৃত্যুবরণ করেছে, তাহলে তাদের মাঝে কোনো উত্তরাধিকারিত্বের সম্পর্ক থাকবে না।
তৃতীয় অবস্থা: যদি তাদের মৃত্যুর অবস্থা সম্পর্কে জানা না যায়, তাহলেও তাদের মাঝে উত্তরাধিকারিত্বের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।
চতুর্থ অবস্থা: তাদের মৃত্যুর ব্যাপারে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, তাদের মৃত্যু ধারাবাহিকভাবেই হয়েছে, কিন্তু তাদের মধ্যে কে সর্বশেষে মৃত্যুবরণকারী, সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়, তাহলে এই অবস্থাতেও তাদের মধ্যে কোনো উত্তরাধিকারিত্বের সম্পর্ক নেই।
পঞ্চম অবস্থা: তাদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানা গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু পরবর্তীতে তা আর স্মরণে নেই, তাহলে এই ক্ষেত্রেও তাদের মধ্যে উত্তরাধিকারিত্বের কোনো সম্পর্ক নেই।
শেষের এই চারটি মাসআলায় তাদের মধ্যে কোনো উত্তরাধিকারিত্বের সম্পর্ক নেই। সুতরাং তাদের প্রত্যেকের সম্পত্তি শুধুমাত্র তাদের জীবিত ওয়ারিছদের জন্য, যারা তাদের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের জন্য নয়।
উদাহরণ: কোনো ব্যক্তির দুই ভাই ও মাতা গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করল। প্রথম ভাই একজন স্ত্রী, একজন কন্যা ও একজন পুত্রকে রেখে গেল। আর দ্বিতীয় ভাই একজন স্ত্রী ও একজন পুত্রকে রেখে গেল। আর মাতা একজন কন্যা, একজন পুত্রের কন্যা ও একজন চাচাকে রেখে গেল। তাহলে প্রত্যেকের সম্পদ শুধুমাত্র তাদের জীবিত ওয়ারিছদের মধ্যেই বণ্টন করা হবে।
সুতরাং প্রথম মাসআলা গঠিত হবে ৮ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ, যার পরিমাণ ১, আর কন্যা ও পুত্র অবশিষ্ট সম্পত্তি পাবে আছাবা হিসেবে "পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পাবে” এই নীতিতে।
দ্বিতীয় মাসআলা গঠিত হবে ৮ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ, যার পরিমাণ ১, আর অবশিষ্ট ৭ ভাগ সম্পত্তি পাবে পুত্র আছাবা হিসেবে।
আর তৃতীয় মাসআলা গঠিত হবে ৬ দ্বারা: কন্যা পাবে অর্ধেক, যার পরিমাণ ৩, আর পুত্রের কন্যা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ এক, আর অবশিষ্ট ২ ভাগ সম্পত্তি চাচা পাবে আছাবা হিসেবে।
📄 অন্যান্য ধর্মানুসারীর মীরাছ
অন্যান্য ধর্মানুসারী সম্প্রদায়:
কাফেররা বিভিন্ন সম্প্রদায়ে বিভক্ত: ইয়াহুদীরা এক সম্প্রদায়... খ্রিষ্টানরা ভিন্ন একটি সম্প্রদায়... অগ্নিপূজকরা ভিন্ন আরেকটি সম্প্রদায়... অন্যান্য সম্প্রদায়ের কাফেরদের অবস্থাও একই।
অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের মীরাছের বিধান:
কোনো মুসলিম কোনো কাফেরের ওয়ারিছ হবে না। অনুরূপভাবে কোনো কাফেরও কোনো মুসলিমের ওয়ারিছ হতে পারবে না। কারণ উভয়ের ধর্ম ভিন্ন। তবে কাফেররা একে অপরের ওয়ারিছ হতে পারবে যদি তারা একই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়, অন্যথায় তারা ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায়ের সদস্য হলে একে অপরের ওয়ারিছ হতে পারবে না।
বিধায় ইয়াহুদীরা তাদের সম্প্রদায়ের আত্মীয়দের ওয়ারিছ হতে পারবে। খ্রিষ্টানরাও তাদের সম্প্রদায়ের আত্মীয়দের ওয়ারিছ হতে পারবে। এমনিভাবে অগিপূজকরাও তাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে একে অপরের ওয়ারিছ হতে পারবে। অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের নিজেদের মধ্যে একে অপরের ওয়ারিছ হতে পারবে। কিন্তু কোনো ইয়াহুদী ব্যক্তি কোনো খ্রিষ্টান ব্যক্তির ওয়ারিছ হতে পারবে না। কারণ তাদের ধর্ম ভিন্ন। অন্যান্য সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য।
উসামা ইবনে যায়েদ – রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা – থেকে বর্ণিত, নাবী – ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – বলেছেন:
«لَا يَرِثُ المُسْلِمُ الكَافِرَ وَلَا الكَافِرُ المُسْلِمَ»
"মুসলিম কাফেরের ওয়ারিছ হবে না, কাফের মুসলিমের ওয়ারিছ হতে পারবে না”। [মুত্তাফাকুন আলাইহি]
মুরতাদের (দীন পরিত্যাগকারী) মীরাছ:
ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগকারী ব্যক্তি অন্য কারো ওয়ারিছ হতে পারবে না, কোনো মুসলিম ব্যক্তিও তার ওয়ারিছ হতে পারবে না। সুতরাং মুরতাদ ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার সম্পদ মুসলিমদের রাষ্ট্রীয় কোষাগার বায়তুল মালে জমা হয়ে যাবে।
পিতার পরিচয় জানা নেই এমন ব্যক্তির মীরাছের বিধান:
ব্যভিচারে জন্ম নেয়া পুত্র, "স্বামীর অভিযোগ মিথ্যা" মর্মে সাক্ষ্য প্রদানকারিনী নারীর গর্ভের ঐ সন্তান যাকে স্বামী কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অবৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে আর স্ত্রী কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যাকে বৈধ বলেছে, এই উভয় প্রকার সন্তানের সাথে তাদের পিতৃকুলের কারো উত্তরাধিকারিত্বের সম্পর্ক থাকবে না। কারণ এমন সন্তান ও তার পিতার মধ্যে কোনো প্রকার শারঈ সম্পর্ক তৈরি হয়নি; বরং তাদের সাথে উত্তরাধিকারিত্বের সম্পর্ক শুধুমাত্র তাদের মাতার ও মাতৃকুলের আত্মীয়দের সাথেই হবে। কারণ পিতৃকুলের সাথে তাদের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ফলে এমন সন্তান তার পিতার মাধ্যমে ওয়ারিছ হতে পারবে না। তবে মাতার দিক থেকে তার বংশ ও সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত আছে। তাই সে তার মাতার সন্তান বলে বিবেচিত হবে।
বিধায় ব্যভিচারে জন্ম নেওয়া সন্তান তার মাতার ও মাতৃকুলের আত্মীয়দের ওয়ারিছ হবে। আর তার ওয়ারিছ হবে তার মাতা ও তার বৈপিত্রেয় ভাইগণ, "স্বামীর অভিযোগ মিথ্যা" মর্মে সাক্ষ্য প্রদানকারিনী নারীর সন্তানের বিধানও একই।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - لاعَنَ بَيْنَ رَجُلٍ وَامْرَأَتِهِ، فَانْتَفَى مِنْ وَلَدِهَا ، فَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا، وَالحَقَ الوَلَدَ بالمرأة. متفق عليه.
ইবনু উমার - রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- একবার এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রীকে লি'আন করার আদেশ দিলেন, যেখানে উক্ত ব্যক্তি তার স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেওয়া সন্তানকে নিজের বলে স্বীকার করছিলেন না। তখন তিনি উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলেন, আর সন্তানের সম্পর্ক তার মাতার সঙ্গে জুড়ে দিলেন। [মুত্তাফাকুন আলাইহি]
উদাহরণ:
১. এক ব্যক্তি মা ও অবৈধ একটি ছেলে রেখে মারা যায়। পরিত্যক্ত সম্পত্তি ফরয ও ফেরত হিসাবে (রদ্দের ভিত্তিতে) শুধু মা পাবে। ছেলে কিছুই পাবে না।
২. ব্যভিচারে জন্ম নেয়া পুত্র অথবা "স্বামীর অভিযোগ মিথ্যা” মর্মে সাক্ষ্য প্রদানকারিনী নারীর গর্ভের ঐ সন্তান যাকে স্বামী কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অবৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে আর স্ত্রী কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যাকে বৈধ বলেছে, এ জাতীয় সন্তান, তার মা, বাবা ও ভাই রেখে এক ব্যক্তি মারা যায়। সব সম্পত্তি মা পাবে। বাবা ও ভাই কিছুই পাবে না, কারণ তারা সাধারণ আত্মীয় মাত্র।
কুড়িয়ে পাওয়া শিশুর মীরাছ:
কুড়িয়ে পাওয়া শিশুর যদি কোন ওয়ারিছ-উত্তরাধিকারী না থাকে, তবে তার সমস্ত সম্পদ মুসলিমদের বাইতুল মালে জমা হবে।
**টিকাঃ**
৪৪. ছুহীহ বুখারী, হা/৬৭৬৪, ছুহীহ মুসলিম, হা/১৬১৪।
৪৫. ছুহীহ বুখারী হা/৫৩১৫, হাদীছটি ছুহীহ বুখারীর শব্দেই হুবহু উদ্ধৃত করা হয়েছে, ছুহীহ মুসলিম হা/১৪৯৪।
অন্যান্য ধর্মানুসারী সম্প্রদায়:
কাফেররা বিভিন্ন সম্প্রদায়ে বিভক্ত: ইয়াহুদীরা এক সম্প্রদায়... খ্রিষ্টানরা ভিন্ন একটি সম্প্রদায়... অগ্নিপূজকরা ভিন্ন আরেকটি সম্প্রদায়... অন্যান্য সম্প্রদায়ের কাফেরদের অবস্থাও একই।
অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের মীরাছের বিধান:
কোনো মুসলিম কোনো কাফেরের ওয়ারিছ হবে না। অনুরূপভাবে কোনো কাফেরও কোনো মুসলিমের ওয়ারিছ হতে পারবে না। কারণ উভয়ের ধর্ম ভিন্ন। তবে কাফেররা একে অপরের ওয়ারিছ হতে পারবে যদি তারা একই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়, অন্যথায় তারা ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায়ের সদস্য হলে একে অপরের ওয়ারিছ হতে পারবে না।
বিধায় ইয়াহুদীরা তাদের সম্প্রদায়ের আত্মীয়দের ওয়ারিছ হতে পারবে। খ্রিষ্টানরাও তাদের সম্প্রদায়ের আত্মীয়দের ওয়ারিছ হতে পারবে। এমনিভাবে অগিপূজকরাও তাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে একে অপরের ওয়ারিছ হতে পারবে। অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের নিজেদের মধ্যে একে অপরের ওয়ারিছ হতে পারবে। কিন্তু কোনো ইয়াহুদী ব্যক্তি কোনো খ্রিষ্টান ব্যক্তির ওয়ারিছ হতে পারবে না। কারণ তাদের ধর্ম ভিন্ন। অন্যান্য সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য।
উসামা ইবনে যায়েদ – রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা – থেকে বর্ণিত, নাবী – ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – বলেছেন:
«لَا يَرِثُ المُسْلِمُ الكَافِرَ وَلَا الكَافِرُ المُسْلِمَ»
"মুসলিম কাফেরের ওয়ারিছ হবে না, কাফের মুসলিমের ওয়ারিছ হতে পারবে না”। [মুত্তাফাকুন আলাইহি]
মুরতাদের (দীন পরিত্যাগকারী) মীরাছ:
ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগকারী ব্যক্তি অন্য কারো ওয়ারিছ হতে পারবে না, কোনো মুসলিম ব্যক্তিও তার ওয়ারিছ হতে পারবে না। সুতরাং মুরতাদ ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার সম্পদ মুসলিমদের রাষ্ট্রীয় কোষাগার বায়তুল মালে জমা হয়ে যাবে।
পিতার পরিচয় জানা নেই এমন ব্যক্তির মীরাছের বিধান:
ব্যভিচারে জন্ম নেয়া পুত্র, "স্বামীর অভিযোগ মিথ্যা" মর্মে সাক্ষ্য প্রদানকারিনী নারীর গর্ভের ঐ সন্তান যাকে স্বামী কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অবৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে আর স্ত্রী কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যাকে বৈধ বলেছে, এই উভয় প্রকার সন্তানের সাথে তাদের পিতৃকুলের কারো উত্তরাধিকারিত্বের সম্পর্ক থাকবে না। কারণ এমন সন্তান ও তার পিতার মধ্যে কোনো প্রকার শারঈ সম্পর্ক তৈরি হয়নি; বরং তাদের সাথে উত্তরাধিকারিত্বের সম্পর্ক শুধুমাত্র তাদের মাতার ও মাতৃকুলের আত্মীয়দের সাথেই হবে। কারণ পিতৃকুলের সাথে তাদের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ফলে এমন সন্তান তার পিতার মাধ্যমে ওয়ারিছ হতে পারবে না। তবে মাতার দিক থেকে তার বংশ ও সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত আছে। তাই সে তার মাতার সন্তান বলে বিবেচিত হবে।
বিধায় ব্যভিচারে জন্ম নেওয়া সন্তান তার মাতার ও মাতৃকুলের আত্মীয়দের ওয়ারিছ হবে। আর তার ওয়ারিছ হবে তার মাতা ও তার বৈপিত্রেয় ভাইগণ, "স্বামীর অভিযোগ মিথ্যা" মর্মে সাক্ষ্য প্রদানকারিনী নারীর সন্তানের বিধানও একই।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - لاعَنَ بَيْنَ رَجُلٍ وَامْرَأَتِهِ، فَانْتَفَى مِنْ وَلَدِهَا ، فَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا، وَالحَقَ الوَلَدَ بالمرأة. متفق عليه.
ইবনু উমার - রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- একবার এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রীকে লি'আন করার আদেশ দিলেন, যেখানে উক্ত ব্যক্তি তার স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেওয়া সন্তানকে নিজের বলে স্বীকার করছিলেন না। তখন তিনি উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলেন, আর সন্তানের সম্পর্ক তার মাতার সঙ্গে জুড়ে দিলেন। [মুত্তাফাকুন আলাইহি]
উদাহরণ:
১. এক ব্যক্তি মা ও অবৈধ একটি ছেলে রেখে মারা যায়। পরিত্যক্ত সম্পত্তি ফরয ও ফেরত হিসাবে (রদ্দের ভিত্তিতে) শুধু মা পাবে। ছেলে কিছুই পাবে না।
২. ব্যভিচারে জন্ম নেয়া পুত্র অথবা "স্বামীর অভিযোগ মিথ্যা” মর্মে সাক্ষ্য প্রদানকারিনী নারীর গর্ভের ঐ সন্তান যাকে স্বামী কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অবৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে আর স্ত্রী কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যাকে বৈধ বলেছে, এ জাতীয় সন্তান, তার মা, বাবা ও ভাই রেখে এক ব্যক্তি মারা যায়। সব সম্পত্তি মা পাবে। বাবা ও ভাই কিছুই পাবে না, কারণ তারা সাধারণ আত্মীয় মাত্র।
কুড়িয়ে পাওয়া শিশুর মীরাছ:
কুড়িয়ে পাওয়া শিশুর যদি কোন ওয়ারিছ-উত্তরাধিকারী না থাকে, তবে তার সমস্ত সম্পদ মুসলিমদের বাইতুল মালে জমা হবে।
**টিকাঃ**
৪৪. ছুহীহ বুখারী, হা/৬৭৬৪, ছুহীহ মুসলিম, হা/১৬১৪।
৪৫. ছুহীহ বুখারী হা/৫৩১৫, হাদীছটি ছুহীহ বুখারীর শব্দেই হুবহু উদ্ধৃত করা হয়েছে, ছুহীহ মুসলিম হা/১৪৯৪।
📄 হত্যাকারীর মীরাছ
হত্যাকারীর মীরাছের বিধান:
হত্যাকারীর দুইটি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: যেই হত্যাকারী তার পূর্বসূরীকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে, সে তার ওয়ারিছ হতে পারবে না।
অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করার বিধান:
অন্যায়ভাবে হত্যাকারী ব্যক্তি হলো এমন হত্যাকারী, যাকে কিছু অথবা রক্তমূল্য অথবা কাফফারার দণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। যেমন ইচ্ছাকৃত হত্যা, ইচ্ছাকৃত হত্যার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হত্যা, ভুলক্রমে হত্যা অথবা ভুলক্রমে করা হত্যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এমন কোনো হত্যা। যেমন- অস্ত্র ছাড়া এবং তাৎক্ষণিক হত্যা না করে অন্যকোনো উপায়ে হত্যা করা (যেমন- গর্ত খুঁড়ে রাখা, সূচালো কোন কাষ্ঠখণ্ড বা বিদ্যুতায়িত কোনো বস্তু বা এই জাতীয় কোনো বস্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়ির আশে পাশে রেখে দেওয়া), শিশুকে হত্যা করা, ঘুমন্ত ব্যক্তিকে হত্যা করা ও পাগল ব্যক্তিকে হত্যা করা।
ইচ্ছাকৃত হত্যাকারী ওয়ারিছ হবে না। কারণ সে দ্রুত মীরাছের অংশীদার হতে চেয়েছে, আর যে ব্যক্তি কোনো বস্তু সংঘটিত হওয়ার সময় আসার আগেই তা ঘটানোর চেষ্টা করে, তাকে শাস্তি স্বরূপ উক্ত বস্তু থেকে বঞ্চিত করা হয়। আর যদি হত্যা অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়, তাহলে এই ক্ষেত্রেও হত্যাকারীকে মীরাছ থেকে বঞ্চিত করা হবে হত্যার সমূহ পথ বন্ধ করার লক্ষ্যে, মানুষের জীবনের নিরাপত্তার লক্ষ্যে; যাতে করে মীরাছের প্রতি লালসা রক্ত প্রবাহ ও জীবন ধ্বংসের কারণ না হতে পারে।
দ্বিতীয় অবস্থা: যখন হত্যাকারী নিজের আত্মরক্ষার তাগিদে অথবা কিছু প্রয়োগের লক্ষ্যে অথবা দণ্ডবিধি প্রয়োগের লক্ষ্যে বা এই জাতীয় কোনো বৈধ কারণে হত্যা করবে, তখন হত্যাকারী মীরাছ থেকে বঞ্চিত হবে না।
হত্যাকারীর মীরাছের বিধান:
হত্যাকারীর দুইটি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: যেই হত্যাকারী তার পূর্বসূরীকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে, সে তার ওয়ারিছ হতে পারবে না।
অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করার বিধান:
অন্যায়ভাবে হত্যাকারী ব্যক্তি হলো এমন হত্যাকারী, যাকে কিছু অথবা রক্তমূল্য অথবা কাফফারার দণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। যেমন ইচ্ছাকৃত হত্যা, ইচ্ছাকৃত হত্যার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হত্যা, ভুলক্রমে হত্যা অথবা ভুলক্রমে করা হত্যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এমন কোনো হত্যা। যেমন- অস্ত্র ছাড়া এবং তাৎক্ষণিক হত্যা না করে অন্যকোনো উপায়ে হত্যা করা (যেমন- গর্ত খুঁড়ে রাখা, সূচালো কোন কাষ্ঠখণ্ড বা বিদ্যুতায়িত কোনো বস্তু বা এই জাতীয় কোনো বস্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়ির আশে পাশে রেখে দেওয়া), শিশুকে হত্যা করা, ঘুমন্ত ব্যক্তিকে হত্যা করা ও পাগল ব্যক্তিকে হত্যা করা।
ইচ্ছাকৃত হত্যাকারী ওয়ারিছ হবে না। কারণ সে দ্রুত মীরাছের অংশীদার হতে চেয়েছে, আর যে ব্যক্তি কোনো বস্তু সংঘটিত হওয়ার সময় আসার আগেই তা ঘটানোর চেষ্টা করে, তাকে শাস্তি স্বরূপ উক্ত বস্তু থেকে বঞ্চিত করা হয়। আর যদি হত্যা অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়, তাহলে এই ক্ষেত্রেও হত্যাকারীকে মীরাছ থেকে বঞ্চিত করা হবে হত্যার সমূহ পথ বন্ধ করার লক্ষ্যে, মানুষের জীবনের নিরাপত্তার লক্ষ্যে; যাতে করে মীরাছের প্রতি লালসা রক্ত প্রবাহ ও জীবন ধ্বংসের কারণ না হতে পারে।
দ্বিতীয় অবস্থা: যখন হত্যাকারী নিজের আত্মরক্ষার তাগিদে অথবা কিছু প্রয়োগের লক্ষ্যে অথবা দণ্ডবিধি প্রয়োগের লক্ষ্যে বা এই জাতীয় কোনো বৈধ কারণে হত্যা করবে, তখন হত্যাকারী মীরাছ থেকে বঞ্চিত হবে না।