📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 গর্ভের সন্তানের মীরাছ

📄 গর্ভের সন্তানের মীরাছ


গর্ভের সন্তানের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ করে ও সাবধানতা অবলম্বন করে উত্তরাধিকার হওয়া:
কোনো কোনো ওয়ারিছের অবস্থা সংশয়পূর্ণ হয়ে থাকে তার ওয়ারিছ হিসেবে উপস্থিত থাকা ও অনুপস্থিত থাকার মাঝে অথবা তার পুরুষ হওয়া ও নারী হওয়ার মাঝে। যেসকল ওয়ারিছের অবস্থা ওয়ারিছ হিসেবে উপস্থিত থাকা না থাকার মাঝে সংশয়পূর্ণ হয়ে থাকে, তারা হলো: গর্ভের সন্তান, হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি, পানিতে ডুবে যাওয়া ব্যক্তি ও এ জাতীয় অন্যান্য ব্যক্তি। আর যাদের অবস্থা পুরুষ হওয়া ও নারী হওয়ার মাঝে সংশয়পূর্ণ হয়ে থাকে, তারা হলো: গর্ভের সন্তান ও সম্পূর্ণরূপে হিজড়া। আর এই সংশয়পূর্ণ পরিস্থিতির কারণেই সর্বক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী হওয়ার বিধানও পরিবর্তিত হতে থাকে। এখন এই বিষয়ের উপরেই আলোচনা করা হবে।

হামল: হামল হলো মায়ের গর্ভস্থ সন্তান।

গর্ভের সন্তান ওয়ারিছ হওয়ার শর্তসমূহ:
গর্ভের সন্তান ওয়ারিছ হবে দুইটি শর্তে:
প্রথম শর্ত: গর্ভের সন্তানকে – যদিও উপস্থিতিটা শুক্রাণুর আকারেও হয় – তার মায়ের গর্ভে বিদ্যমান থাকতে হবে ওয়ারিছকারী ব্যক্তির মৃত্যুর সময়।
দ্বিতীয় শর্ত: উক্ত গর্ভের সন্তানের জন্ম হতে হবে স্থিতিশীলভাবে জীবন্ত অবস্থায়। আর উক্ত সন্তানের স্থিতিশীল জীবন্ত অবস্থা জানা যাবে তার উঁচু আওয়াজ, হাঁচি ও স্তনের দুধ পান করা ও এ জাতীয় কাজের মাধ্যমে।
আবূ হুরায়রা – রদ্বিয়াল্লাহু আনহু – থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল – ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – কে বলতে শুনেছি:
«مَا مِنْ بَنِي آدَمَ مَوْلُودٌ إِلا يَمَسُّهُ الشَّيْطَانُ حِينَ يُولَدُ، فَيَسْتَهِلُ صَارِحاً مِنْ مَسِ الشَّيْطَانِ، غَيْرَ مَرْيَمَ وَابْنِهَا».
“মারিয়াম ও তাঁর পুত্র ব্যতীত যেকোনো আদম সন্তান যখন জন্ম গ্রহণ করে, তখন শয়তান তাকে স্পর্শ করে। অতঃপর শয়তানের স্পর্শে সে উঁচু স্বরে চিৎকার করে ওঠে”। [মুত্তাফাকুন আলাইহি]

গর্ভের সন্তানের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণের ধাপসমূহ:
গর্ভের সন্তানের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণের ছয়টি ধাপ:
হয়ত গর্ভের সন্তান মৃত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করবে। এই অবস্থায় সে ওয়ারিছ বলে বিবেচিত হবে না। অথবা সে স্থিতিশীলভাবে জন্মগ্রহণ করবে। এমন অবস্থায় হয়ত সে একজন পুরুষ সন্তান হবে অথবা একজন নারী সন্তান হবে অথবা যমজ দুই পুরুষ সন্তান হবে অথবা যমজ দুই নারী সন্তান হবে অথবা একজন পুরুষ ও নারী সন্তান (হিজড়া সন্তান) হবে।
জন্মগ্রহণের পূর্বে সম্পত্তি বণ্টনের সময় গর্ভস্থ সন্তানের জন্য দুইজন পুরুষ, অথবা দুইজন নারী ওয়ারিছের মধ্যে অধিক পরিমাণ প্রাপ্য অংশের অধিকারীর সমপরিমাণ ভাগ ধার্য করে রাখা হবে। কারণ এতেই গর্ভস্থ সন্তানের জন্য রয়েছে সাবধানতা। আর যদি গর্ভস্থ সন্তান পুরুষ বা নারী হওয়ার কারণে তার মীরাছের ভাগের পরিমাণ পরিবর্তন হবে না এমন ধরণের ওয়ারিছ হয়ে থাকে, যেমন- মৃতব্যক্তির মাতার সন্তানগণ (বৈপিত্রেয় ভাই-বোনগণ), তাহলে তার জন্য দুইজন বৈপিত্রেয় সন্তানের সমান ভাগ ধার্য করে রাখা হবে। কারণ বৈপিত্রেয় ভাইগণ বোনদের সমান ভাগ পাবে, বেশি পাবে না।

গর্ভস্থ সন্তানের সাথে অংশীদার ওয়ারিছদের অবস্থাসমূহ:
গর্ভস্থ সন্তানের সাথে অংশীদার ওয়ারিছদের তিনটি অবস্থা:
১. এমন ওয়ারিছগণ, যাদেরকে গর্ভস্থ সন্তান সামান্যতম বঞ্চিত করতে পারবে না, বরং তাকে তার পূর্ণ ভাগ দিয়ে দেওয়া হবে। যেমন- দাদী-নানী।
২. এমন ওয়ারিছগণ, যাদেরকে গর্ভস্থ সন্তান তাদের সম্পূর্ণ ভাগ থেকে বঞ্চিত করবে, তাদেরকে সামান্যতম ভাগও দেওয়া হবে না। যেমন- ভাই ও চাচা।
৩. এমন ওয়ারিছগণ, যাদেরকে গর্ভস্থ সন্তান তাদের আংশিক ভাগ হতে বঞ্চিত করবে, ফলে তাদেরকে তাদের সর্বনিম্ন ভাগ দেওয়া হবে। যেমন- স্ত্রী ও মাতা।

উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি একজন গর্ভবতী স্ত্রী, একজন দাদী/নানী ও একজন চাচাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মাসআলা গঠিত হবে ২৪ দ্বারা: এখানে গর্ভের সন্তান স্ত্রীকে তার ভাগ হতে আংশিক পরিমাণ বঞ্চিত করবে, যার ফলে স্ত্রীকে তার সুনিশ্চিত প্রাপ্য তথা এক অষ্টমাংশ ভাগ দেওয়া হবে। আর দাদী বা নানীর ভাগে গর্ভের সন্তান যেহেতু কোনো প্রকার হ্রাস করতে পারে না, তাই তাকে পূর্ণ এক ষষ্ঠাংশ ভাগ দেওয়া হবে। আর চাচাকে গর্ভের সন্তান তার পূর্ণ ভাগ থেকেই বঞ্চিত করতে পারে, ফলে সে কিছুই পাবে না।

গর্ভের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্বেই সম্পত্তি বণ্টনের তাগাদা দেওয়ার বিধান:
যে সকল পূর্বসূরী স্বীয় ওয়ারিছদের মধ্যে কোনো গর্ভের সন্তান রেখে গেছে, তাদের দুইটি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: হয়ত ওয়ারিছগণ গর্ভের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া ও তার প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, এরপরে সম্পত্তি বণ্টন করা হবে। আর এটাই উত্তম, যদি ওয়ারিছগণ এর ফলে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।
দ্বিতীয় অবস্থা: ওয়ারিছগণ সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্বেই সম্পত্তি বণ্টনের তাগাদা দিবে, যেহেতু তাদের জন্য মীরাছ বণ্টন করা বৈধ। কারণ এটা তাদেরই অধিকার। তবে এই ক্ষেত্রে গর্ভের সন্তানের জন্য দুইজন পুরুষ ও দুইজন নারী ওয়ারিছের মধ্যে যারা অধিক পরিমাণ সম্পত্তির অংশীদার হবে, তাদের সমপরিমাণ ভাগ ধার্য করে রাখা হবে। যখন সে জন্ম নিবে, সে তার ভাগ নিবে, আর উদ্ধৃত অংশটুকু উপযুক্ত পাওনাদারকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সুতরাং গর্ভের সন্তানের জন্য অধিক পরিমাণ ভাগ ধার্য করে রাখা হবে, আর ওয়ারিছ এবং গর্ভের সন্তান উভয়ের প্রত্যেককে যতটুকু পরিমাণ দেওয়া সম্ভব, তার সর্বনিম্ন পরিমাণ ভাগ ওয়ারিছকে দেওয়া হবে এবং অবশিষ্ট সম্পত্তি সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখা হবে।

উদাহরণ:
কোনো একজন ব্যক্তি একজন গর্ভবতী স্ত্রী ও একজন চাচাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে গর্ভের সন্তানকে মৃত ধরে নিলে মাসআলা গঠিত হবে ৪ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক চতুর্থাংশ- যার পরিমাণ ১, আর অবশিষ্ট সম্পত্তি পাবে চাচা।
আর গর্ভের সন্তানকে জীবিত এবং পুরুষ ধরে নিলে মাসআলা গঠিত হবে ৮ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ- যার পরিমাণ ১, আর অবশিষ্ট সম্পত্তি পাবে গর্ভের সন্তান, আর চাচা কিছুই পাবে না।
আর গর্ভের সন্তানকে জীবিত এবং নারী ধরে নিলে মাসআলা গঠিত হবে ২৪ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ- যার পরিমাণ ৩, আর গর্ভের দুই কন্যা সন্তান দুই তৃতীয়াংশ পাবে- যার পরিমাণ ১৬, আর অবশিষ্ট সম্পত্তি চাচা পাবে।

**টিকাঃ**
৪২. ছুহীহ বুখারী, হা/৩৪৩১, ছুহীহ বুখারীর শব্দেই এখানে হাদীছটি উদ্ধৃত করা হয়েছে; ছুহীহ মুসলিম, হা/২৩৬৬।

📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির মীরাছ

📄 হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির মীরাছ


মাফকূদ বা হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি হলো: এমন ওয়ারিছ, যার কোনো খবর পাওয়া যায় না। ফলে এটা জানা যায় না যে, সে জীবিত না মৃত।

হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির বিধান:
হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির দুইটি অবস্থা: জীবন অথবা মৃত্যু... আর উভয় অবস্থারই কিছু বিশেষ বিধান আছে: কিছু বিধান তার স্ত্রীর সাথে সম্পর্কিত... কিছু বিধান তার উত্তরাধিকারী হওয়া বা না হওয়ার সাথে সম্পর্কিত... কিছু বিধান অন্যদের তার উত্তরাধিকারী হওয়ার সাথে সম্পর্কিত... কিছু বিধান অন্যান্য ব্যক্তির তার সঙ্গে ওয়ারিছ হওয়ার সাথে সম্পর্কিত। সুতরাং যখন দুই সম্ভাবনার (মৃত অথবা জীবিত থাকা) একটিকে অন্যটির উপরে প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব হয় না, তখন এমন একটি সময়সীমা বা মেয়াদ নির্ধারণ করতে হবে, যেই মেয়াদের মধ্যে তার প্রকৃত অবস্থার ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় এবং তাকে অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হয়।

হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির আশায় অপেক্ষার সময়সীমা:
হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির জন্য অপেক্ষার সময়সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিচারকের ইজতিহাদ (সিদ্ধান্ত) ও হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি ও অন্যান্য ওয়ারিছের ক্ষতির বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে, আর এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি ব্যক্তি, পরিস্থিতি ও স্থান-কালভেদে বিভিন্ন রকম হতে পারে। সুতরাং বিচারক তাকে অনুসন্ধানের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ধার্য করে দিবেন, এরপরে উক্ত অনুসন্ধানের সময়সীমা অতিবাহিত হয়ে গেলে তার মৃত্যুর সিদ্ধান্ত ঘোষণা দিবেন।

হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির অবস্থাসমূহ:
হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি হয় অন্যকে ওয়ারিছ করবে অথবা নিজে ওয়ারিছ হবে।
১. যদি সে অন্যকে ওয়ারিছ করে, তাহলে যখন বিচারকের নির্ধারিত অপেক্ষার সময়সীমা অতিবাহিত হয়ে যাবে, আর তার বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কিছুই জানা না যাবে, তখন তার মৃত্যুর ঘোষণা দিয়ে দেওয়া হবে, তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি বণ্টন করে দেওয়া হবে এবং তার পূর্বসূরীর মীরাছ থেকে তার জন্য যেই পরিমাণ ভাগ ধার্য করা হয়েছিল, সেই ভাগও "তার মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়ার সময় বিদ্যমান ওয়ারিছদের" মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হবে, তবে যারা অপেক্ষার মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেছে, তারা তার সম্পত্তির ভাগ পাবে না।
২. যদি হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি ওয়ারিছ হয়, আর তার সঙ্গে আর কোনো ওয়ারিছ বিদ্যমান না থাকে, তাহলে সম্পূর্ণ সম্পত্তি তার জন্য ধার্য করে রাখা হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তার বিষয়টি স্পষ্ট না হয় অথবা তার জন্য অপেক্ষার মেয়াদ উত্তীর্ণ না হয়। আর যদি তার সঙ্গে আরো ওয়ারিছ বিদ্যমান থাকে, আর তারা মীরাছ বণ্টনের দাবি করে, তাহলে সাবধানতাবশত তার (হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি) জন্য তার পূর্ণ প্রাপ্য অংশ ধার্য করে রাখা হবে, আর ওয়ারিছদেরকে সর্বনিম্ন প্রাপ্য অংশটুকু দেওয়া হবে। তার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত এই নিয়মটি কার্যকর থাকবে। যদি সে জীবিত থাকে, তাহলে সে তার নির্ধারিত অংশের ভাগ গ্রহণ করবে, এরপরে যদি কিছু ভাগ উদ্বৃত্ত থেকে যায়, তাহলে সেই উদ্বৃত্ত অংশটুকু উপযুক্ত দাবীদারকে দিয়ে দেওয়া হবে।

সুতরাং এই ক্ষেত্রে দুইবার মাসআলা গঠন করতে হবে। প্রথমে একবার তাকে জীবিত ধরে নিয়ে (এই ক্ষেত্রে সে ওয়ারিছ হিসেবে বিবেচিত হবে) মাসআলা গঠন করে সেই অনুসারে সম্পত্তি বণ্টনের হিসাব করতে হবে। আর পরবর্তীতে তাকে মৃত ধরে নিয়ে (এই ক্ষেত্রে সে ওয়ারিছ নয়, বরং অন্যকে ওয়ারিছকারী বলে বিবেচিত হবে) পুনরায় সম্পত্তি বণ্টনের হিসাব করতে হবে। এখন যেই ওয়ারিছ উভয় মাসআলায় কম-বেশি করে ভাগ পাবে (অর্থাৎ একটি মাসআলায় কম ভাগ পাবে আরেকটি মাসআলায় বেশি ভাগ পাবে), তাকে কম ভাগ এর সমপরিমাণ অংশ দেওয়া হবে। আর যে ওয়ারিছ উভয় মাসআলায় সমান ভাগ পাবে, তাকে সমান ভাগই দেওয়া হবে (তার ক্ষেত্রে কোনো কম-বেশি করা হবে না)। কিন্তু যে এক মাসআলায় ওয়ারিছ হবে এবং অন্য মাসআলায় ওয়ারিছ হবে না, তাকে কিছুই দেওয়া হবে না। আর অবশিষ্ট সম্পত্তির বণ্টন স্থগিত রাখা হবে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত।

সুতরাং যখন কোনো ব্যক্তি একজন স্ত্রী, একজন দাদী বা নানী, একজন চাচা ও হারিয়ে যাওয়া একজন পুত্রকে রেখে মৃত্যুবরণ করবে, তখন ২৪ দ্বারা মাসআলা গঠন করা হবে: স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ, যার পরিমাণ ৩। কারণ এটাই হলো সর্বনিম্ন ভাগ। দাদী বা নানী পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ ৪; হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি দাদী বা নানীকে বঞ্চিত করতে পারে না। আর আমরা চাচাকে কিছুই দিবে না, যেহেতু হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি তাকে বঞ্চিত করতে পারে। আর অবশিষ্ট ১৭ ভাগ সম্পত্তির বণ্টন আমরা স্থগিত রাখব, যতদিন পর্যন্ত তার বিষয়টি স্পষ্ট না হয়। যদি সে জীবিত থাকে, তাহলে অবশিষ্ট সম্পত্তি সে গ্রহণ করবে। আর যদি সে তার পূর্বসূরীর আগেই মৃত্যুবরণ করে, তাহলে অবশিষ্ট সম্পত্তি হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির ওয়ারিছদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হবে। আর যদি সে তার পূর্বসূরীর আগেই মৃত্যুবরণ করে, তাহলে সে কিছুই পাবে না, বরং অবশিষ্ট সম্পত্তিটুকু অন্যান্য ওয়ারিছের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হবে।

**টিকাঃ**
৪৩. অর্থাৎ জীবিত ধরে নিয়ে গঠিত মাসআলা ও মৃত ধরে নিয়ে গঠিত মাসআলা।

📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 প্রকৃত হিজড়ার মীরাছ

📄 প্রকৃত হিজড়ার মীরাছ


খুনছা মুশকিল বা প্রকৃত হিজড়া: এমন ব্যক্তি, যার পুরুষ লিঙ্গ ও স্ত্রী লিঙ্গ উভয়টি বিদ্যমান অথবা যার উভয় লিঙ্গের কোনোটিই নেই।

ওয়ারিছ হওয়ার যে সকল ক্ষেত্রে হিজড়া বিদ্যমান থাকার সম্ভাবনা থাকে:
চারটি ক্ষেত্রে হিজড়া ওয়ারিছ বিদ্যমান থাকার সম্ভাবনা আছে: পুত্র সন্তানগণ... ভাইগণ... চাচাগণ... ওয়ালা এর অধিকারী ওয়ারিছ। এদের প্রত্যেকেরই পুরুষ অথবা নারী হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

প্রকৃত হিজড়ার অবস্থাসমূহ:
খুনছা মুশকিল বা প্রকৃত হিজড়ার দুইটি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: এমন হিজড়া, যার পুরুষ হওয়া বা নারী হওয়ার বিষয়টা স্পষ্ট হওয়ার ব্যাপারে আশা করা যায়।
দ্বিতীয় অবস্থা: এমন হিজড়া, যার পুরুষ হওয়া বা নারী হওয়ার বিষয়টা স্পষ্ট হওয়ার ব্যাপারে আশা করা যায় না। কারণ হয়ত সে ছোট বেলায় মৃত্যুবরণ করেছে, অথবা সে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরেও তার প্রকৃত অবস্থা জানা যায় না।

হিজড়ার প্রকৃত অবস্থা নির্ণয় করার লক্ষণসমূহ:
হিজড়ার প্রকৃত অবস্থা কয়েকটি বিষয় দ্বারা স্পষ্ট হবে:
১. পেশাব করা: যদি হিজড়া পুরুষাঙ্গ দ্বারা পেশাব করে, তাহলে সে পুরুষ বলে বিবেচিত হবে। আর যদি সে মহিলাগুপ্তাঙ্গ দ্বারা পেশাব করে, তাহলে সে নারী বলে বিবেচিত হবে। আর যদি সে উভয় অঙ্গ দ্বারাই পেশাব করে, তাহলে প্রথম যে অঙ্গটি দ্বারা সে পেশাব করবে, সেটাই তার আসল অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হবে (আর অপর অঙ্গ থেকে পেশাব হওয়াটা তার শারিরীক ত্রুটি হিসেবে বিবেচিত হবে)। আর যদি উভয় অঙ্গ দ্বারাই একত্রে পেশাব হয়, কোনো অঙ্গ থেকে পেশাব আগে নির্গত না হয়, তাহলে যেই অঙ্গ থেকে দীর্ঘ সময় যাবৎ পেশাব নির্গত হয়, সেই অঙ্গকেই আসল অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
২. বীর্যপাত: যদি সে পুরুষাঙ্গ দ্বারা বীর্যপাত করে, তাহলে সে পুরুষ বলে বিবেচিত হবে। কিন্তু যদি মহিলাগুপ্তাঙ্গ দ্বারা বীর্যপাত করে, তাহলে সে নারী বলে বিবেচিত হবে। আর যদি উভয় লিঙ্গ দ্বারাই বীর্যপাত করে, তাহলে যেই অঙ্গ দ্বারা প্রথমে বীর্যপাত করে, সেই অঙ্গই আসল বলে বিবেচিত হবে।
৩. যৌন আকর্ষণ অনুভব করা: যদি সে নারীদের প্রতি টান অনুভব করে, তাহলে সে পুরুষ বলে বিবেচিত হবে। কিন্তু যদি সে পুরুষদের প্রতি টান অনুভব করে, তাহলে সে নারী বলে বিবেচিত হবে। আর যদি সে উভয় লিঙ্গের প্রতিই আকর্ষণ অনুভব করে, তাহলে সে খুনছা মুশকিল বা প্রকৃত হিজড়া।
৪. দাড়ি ও গোফ বের হওয়া। এটাও পুরুষ হওয়ার একটি অন্যতম দলীল।
৫. ঋতুস্রাব নির্গত হওয়া, গর্ভধারণ করা, উভয় স্তন ফুলে যাওয়া, উভয় স্তন থেকে দুধ নির্গত হওয়া- এগুলো সবই হলো তার নারী হওয়ার প্রমাণ।

প্রকৃত হিজড়ার মীরাছ:
১. প্রকৃত হিজড়ার অবস্থা যদি স্পষ্ট না হয় অথবা সে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করে, তাহলে এই হিজড়া ওয়ারিছ পুরুষ হিসেবে পুরুষের অর্ধাংশ, আবার নারী হিসেবে নারীর অর্ধাংশ মীরাছের ভাগ পাবে, যদি সে নারী ও পুরুষ উভয় বিবেচনাতেই ওয়ারিছ হয় এবং পুরুষ বিবেচনায় বেশি পরিমাণ আর নারী বিবেচনায় কম পরিমাণ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়। আর যদি সে শুধুমাত্র পুরুষ হওয়ার বিবেচনায় উত্তরাধিকারী হয়, তাহলে পুরুষের অর্ধেক ভাগের সমপরিমাণ ভাগ পাবে, আর যদি সে শুধুমাত্র নারী হওয়ার বিবেচনায় উত্তরাধিকারী হয়, তাহলে সে নারীর অর্ধাংশের ভাগ পাবে।
২. যদি প্রকৃত হিজড়ার আসল অবস্থা জানা যাবে এই আশা থাকে, তাহলে ওয়ারিছগণ তার আসল অবস্থা স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। যদি কারোর কোনো ক্ষতি না হয়, আর যদি তারা অপেক্ষা না করে, বরং সম্পত্তির বণ্টনকে ত্বরান্বিত করে, তাহলে তাকে আর তার অংশীদারদেরকে সর্বনিম্ন ভাগ প্রদান করা হবে এবং অবশিষ্ট সম্পত্তির বণ্টন স্থগিত রাখা হবে তার প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত।

সুতরাং একবার মাসআলা গঠন করা হবে তাকে পুরুষ বিবেচনা করে, আর একবার মাসআলা গঠন করা হবে তাকে নারী বিবেচনা করে। আর হিজড়া ওয়ারিছকে দুইটি প্রাপ্য অংশের মধ্যে পরিমাণে সবচেয়ে কম প্রাপ্য অংশটি দেওয়া হবে এবং অবশিষ্ট সম্পত্তির বণ্টন তার প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হবে। এরপরে বণ্টন স্থগিতকৃত সম্পত্তিটুকু পৃথক করে অবশিষ্ট সম্পদ বণ্টন করতে হবে এই নিয়মানুযায়ী।

উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি একজন পুত্র, একজন কন্যা ও ছোট একজন হিজড়া সন্তানকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টনের মাসআলা হবে নিম্নরূপ:
পুরুষ বিবেচনায় মাসআলা গঠিত হবে ৫ দ্বারা: পুত্র পাবে ২ ভাগ, কন্যা পাবে ১ ভাগ, আর হিজড়া সন্তান পাবে ২ ভাগ।
নারী বিবেচনায় মাসআলা গঠিত হবে ৪ দ্বারা: পুত্র পাবে ২ ভাগ, কন্যা পাবে ১ ভাগ, হিজড়া সন্তান পাবে ১ ভাগ।
সুতরাং এখানে কন্যা ও পুত্রকে সর্বনিম্ন পরিমাণ অংশ দেওয়ায় তাদের ভাগে ঘাটতি হয়েছে, এই ঘাটতির কারণ হলো; হিজড়াকে পুরুষ বিবেচনা করে তাকে পুরুষের সমপরিমাণ ভাগ দেওয়া হয়েছে। অপরদিক হিজড়ার ভাগে ঘাটতি দেওয়া হয়েছে, এই ঘাটতির কারণ হলো; তাকে নারী বিবেচনা করে নারীর সমপরিমাণ ভাগ দেওয়া হয়েছে, এরপরে অবশিষ্ট সম্পত্তির বণ্টন স্থগিত রাখা হয়েছে তার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত।

📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 পানিতে নিমজ্জিত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিদের মীরাছ

📄 পানিতে নিমজ্জিত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিদের মীরাছ


এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য হলো: এমন ব্যক্তিবর্গ, যারা একে অপরের ওয়ারিছ, যারা কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। যেমন- পানিতে নিমজ্জিত হওয়া অথবা আগুনে পুড়ে যাওয়া অথবা কোনো দালান বা এ জাতীয় কোনো কিছুর নিচে চাপা পড়ে ধ্বংস হওয়া অথবা যুদ্ধে নিহত হওয়া অথবা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া অথবা কোনো গাড়ি অথবা বিমান অথবা রেল ইত্যাদি যেকোনো দুর্ঘটনায় পতিত হওয়া।

পানিতে নিমজ্জিত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি ও এই ধরনের মানুষের মীরাছ:
পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ও দালান বা এ জাতীয় বস্তুর নিচে চাপা পড়ে বিধ্বস্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের পাচটি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: এমন দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারীর ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জানতে পারা, তাহলে সে তার পূর্বসূরীর মীরাছ থেকে ভাগ পাবে।
দ্বিতীয় অবস্থা: যদি জানা যায় যে, তারা সকলেই একত্রে একই সময় মৃত্যুবরণ করেছে, তাহলে তাদের মাঝে কোনো উত্তরাধিকারিত্বের সম্পর্ক থাকবে না।
তৃতীয় অবস্থা: যদি তাদের মৃত্যুর অবস্থা সম্পর্কে জানা না যায়, তাহলেও তাদের মাঝে উত্তরাধিকারিত্বের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।
চতুর্থ অবস্থা: তাদের মৃত্যুর ব্যাপারে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, তাদের মৃত্যু ধারাবাহিকভাবেই হয়েছে, কিন্তু তাদের মধ্যে কে সর্বশেষে মৃত্যুবরণকারী, সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়, তাহলে এই অবস্থাতেও তাদের মধ্যে কোনো উত্তরাধিকারিত্বের সম্পর্ক নেই।
পঞ্চম অবস্থা: তাদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানা গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু পরবর্তীতে তা আর স্মরণে নেই, তাহলে এই ক্ষেত্রেও তাদের মধ্যে উত্তরাধিকারিত্বের কোনো সম্পর্ক নেই।

শেষের এই চারটি মাসআলায় তাদের মধ্যে কোনো উত্তরাধিকারিত্বের সম্পর্ক নেই। সুতরাং তাদের প্রত্যেকের সম্পত্তি শুধুমাত্র তাদের জীবিত ওয়ারিছদের জন্য, যারা তাদের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের জন্য নয়।

উদাহরণ: কোনো ব্যক্তির দুই ভাই ও মাতা গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করল। প্রথম ভাই একজন স্ত্রী, একজন কন্যা ও একজন পুত্রকে রেখে গেল। আর দ্বিতীয় ভাই একজন স্ত্রী ও একজন পুত্রকে রেখে গেল। আর মাতা একজন কন্যা, একজন পুত্রের কন্যা ও একজন চাচাকে রেখে গেল। তাহলে প্রত্যেকের সম্পদ শুধুমাত্র তাদের জীবিত ওয়ারিছদের মধ্যেই বণ্টন করা হবে।
সুতরাং প্রথম মাসআলা গঠিত হবে ৮ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ, যার পরিমাণ ১, আর কন্যা ও পুত্র অবশিষ্ট সম্পত্তি পাবে আছাবা হিসেবে "পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পাবে” এই নীতিতে।
দ্বিতীয় মাসআলা গঠিত হবে ৮ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ, যার পরিমাণ ১, আর অবশিষ্ট ৭ ভাগ সম্পত্তি পাবে পুত্র আছাবা হিসেবে।
আর তৃতীয় মাসআলা গঠিত হবে ৬ দ্বারা: কন্যা পাবে অর্ধেক, যার পরিমাণ ৩, আর পুত্রের কন্যা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ এক, আর অবশিষ্ট ২ ভাগ সম্পত্তি চাচা পাবে আছাবা হিসেবে।

এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য হলো: এমন ব্যক্তিবর্গ, যারা একে অপরের ওয়ারিছ, যারা কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। যেমন- পানিতে নিমজ্জিত হওয়া অথবা আগুনে পুড়ে যাওয়া অথবা কোনো দালান বা এ জাতীয় কোনো কিছুর নিচে চাপা পড়ে ধ্বংস হওয়া অথবা যুদ্ধে নিহত হওয়া অথবা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া অথবা কোনো গাড়ি অথবা বিমান অথবা রেল ইত্যাদি যেকোনো দুর্ঘটনায় পতিত হওয়া।

পানিতে নিমজ্জিত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি ও এই ধরনের মানুষের মীরাছ:
পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ও দালান বা এ জাতীয় বস্তুর নিচে চাপা পড়ে বিধ্বস্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের পাচটি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: এমন দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারীর ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জানতে পারা, তাহলে সে তার পূর্বসূরীর মীরাছ থেকে ভাগ পাবে।
দ্বিতীয় অবস্থা: যদি জানা যায় যে, তারা সকলেই একত্রে একই সময় মৃত্যুবরণ করেছে, তাহলে তাদের মাঝে কোনো উত্তরাধিকারিত্বের সম্পর্ক থাকবে না।
তৃতীয় অবস্থা: যদি তাদের মৃত্যুর অবস্থা সম্পর্কে জানা না যায়, তাহলেও তাদের মাঝে উত্তরাধিকারিত্বের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।
চতুর্থ অবস্থা: তাদের মৃত্যুর ব্যাপারে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, তাদের মৃত্যু ধারাবাহিকভাবেই হয়েছে, কিন্তু তাদের মধ্যে কে সর্বশেষে মৃত্যুবরণকারী, সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়, তাহলে এই অবস্থাতেও তাদের মধ্যে কোনো উত্তরাধিকারিত্বের সম্পর্ক নেই।
পঞ্চম অবস্থা: তাদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানা গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু পরবর্তীতে তা আর স্মরণে নেই, তাহলে এই ক্ষেত্রেও তাদের মধ্যে উত্তরাধিকারিত্বের কোনো সম্পর্ক নেই।

শেষের এই চারটি মাসআলায় তাদের মধ্যে কোনো উত্তরাধিকারিত্বের সম্পর্ক নেই। সুতরাং তাদের প্রত্যেকের সম্পত্তি শুধুমাত্র তাদের জীবিত ওয়ারিছদের জন্য, যারা তাদের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের জন্য নয়।

উদাহরণ: কোনো ব্যক্তির দুই ভাই ও মাতা গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করল। প্রথম ভাই একজন স্ত্রী, একজন কন্যা ও একজন পুত্রকে রেখে গেল। আর দ্বিতীয় ভাই একজন স্ত্রী ও একজন পুত্রকে রেখে গেল। আর মাতা একজন কন্যা, একজন পুত্রের কন্যা ও একজন চাচাকে রেখে গেল। তাহলে প্রত্যেকের সম্পদ শুধুমাত্র তাদের জীবিত ওয়ারিছদের মধ্যেই বণ্টন করা হবে।
সুতরাং প্রথম মাসআলা গঠিত হবে ৮ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ, যার পরিমাণ ১, আর কন্যা ও পুত্র অবশিষ্ট সম্পত্তি পাবে আছাবা হিসেবে "পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পাবে” এই নীতিতে।
দ্বিতীয় মাসআলা গঠিত হবে ৮ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ, যার পরিমাণ ১, আর অবশিষ্ট ৭ ভাগ সম্পত্তি পাবে পুত্র আছাবা হিসেবে।
আর তৃতীয় মাসআলা গঠিত হবে ৬ দ্বারা: কন্যা পাবে অর্ধেক, যার পরিমাণ ৩, আর পুত্রের কন্যা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ এক, আর অবশিষ্ট ২ ভাগ সম্পত্তি চাচা পাবে আছাবা হিসেবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00