📄 রদের মাসআলার সমাধান
রদ্দ হলো: আছহাবুল ফুরূযের মাঝে সম্পত্তি বণ্টন শেষে অবশিষ্ট সম্পত্তি তাদের মধ্যে উপযুক্ত ওয়ারিছদের মাঝে তাদের নির্ধারিত অংশের আনুপাতিক হারে পুনর্বণ্টন করা।
রদ্দের কারণ: নির্ধারিত অংশের পরিমাণ হ্রাস পাওয়া ও ওয়ারিছদের প্রাপ্য অংশের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া। সুতরাং রদ্দটা মূলত 'আওলের বিপরীত।
রদ্দের শর্তসমূহ: রদ্দ তিনটি শর্ত ব্যতীত বাস্তবায়িত হতে পারে না। শর্তগুলো হলো: (ক) নির্ধারিত অংশের ওয়ারিছ বিদ্যমান থাকা, (খ) পরিত্যক্ত সম্পত্তির কিছু অতিরিক্ত অংশ (বণ্টনের পরেও) অবশিষ্ট থাকা ও (গ) কোনো আছাবা ওয়ারিছ না থাকা।
যে ওয়ারিছদেরকে অবশিষ্ট সম্পত্তি ফেরত দেওয়া হয় না: পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টনের পরে অবশিষ্ট সম্পত্তি সকল আছহাবুল ফুরূযকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় শুধুমাত্র চারজন ব্যতীত। তারা হলো: স্বামী, স্ত্রী, পিতা ও দাদা। কারণ পিতা ও দাদা উভয়েই আছাবা। ফলে তারা আছাবার ভিত্তিতে অবশিষ্ট সম্পত্তির পুরো ভাগ পাবে; রদ্দের ভিত্তিতে নয়। আর স্বামী-স্ত্রীকে সম্পত্তি একবার বণ্টনের পরে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। কারণ রদ্দের উপযুক্ততার ভিত্তিই হলো রক্তের আত্মীয়তার সম্পর্ক, কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক রক্তসম্পর্কীয় নয়।
যে ওয়ারিছদেরকে অবশিষ্ট সম্পত্তি ফেরত দেওয়া হবে: যে সকল নির্ধারিত অংশের ওয়ারিছদের মাঝে পুনর্বার সম্পদ বণ্টিত হবে, তারা ৮ প্রকার ওয়ারিছ:
কন্যা, পুত্রের কন্যা, সহোদরা বোন, বৈমাত্রেয় বোন, মা, দাদী বা নানী, বৈপিত্রেয় ভাই ও বৈপিত্রেয় বোন।
এক মাসআলায় কখনো তিনশ্রেনীর অধিক সংখ্যক রদ্দের সম্পত্তির অংশীদার জড়ো হতে পারে না।
ছিনফ বা শ্রেণি হলো: ঐ সকল ওয়ারিছ, যারা একটি নির্দিষ্ট ভাগের অংশীদার হয়।
আহলুর রাদ্দ বা রদ্দের সম্পত্তির অংশীদারদের নির্ধারিত অংশের পরিমাণ চারটি: এক ষষ্ঠাংশ, এক তৃতীয়াংশ, অর্ধাংশ ও দুই তৃতীয়াংশ।
রদ্দের সম্পত্তির অংশীদারদের সকল ওয়ারিছীস্বত্বের নির্ধারিত অংশ পূর্ণ সংখ্যা ৬ থেকে নির্ধারিত হবে।
রদ্দের মাসআলাসমূহের কার্যপ্রণালী: রদ্দের সম্পত্তির অংশীদারদের দুইটি অবস্থা:
হয়তবা রদ্দের অংশীদারদের সাথে স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের কোনো একজন থাকবে... অথবা তাদের সাথে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের কেউই থাকবে না।
প্রথম অবস্থা: যখন রদ্দের অংশীদারদের সাথে স্বামী অথবা স্ত্রী থাকবে, তখন উপস্থিত স্বামী বা স্ত্রীকে তার নির্ধারিত অংশ যেমন- অর্ধাংশ, অথবা এক চতুর্থাংশ, অথবা এক অষ্টমাংশ এর পূর্ণ সংখ্যা থেকে ভাগ দেওয়া হবে, আর স্বামী-স্ত্রীর কোনো একজনের নির্ধারিত অংশ প্রদান করার পরে অবশিষ্ট সম্পত্তির পরিমাণ হবে এক, অথবা তিন, অথবা সাত, যেই ভাগগুলো নির্ধারিত অংশের অংশীদার ওয়ারিছদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। যদি রদ্দের উপযুক্ত মাত্র একজন ওয়ারিছ থাকে, তাহলে সেই একজন ওয়ারিছই অবশিষ্ট সম্পত্তি নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে ও রদ্দের ভিত্তিতে গ্রহণ করবে।
এর উদাহরণ হলো:
কোনো মহিলা স্বামী ও একজন কন্যাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মাসআলা গঠিত হবে ৪ দ্বারা: স্বামী পাবে এক চতুর্থাংশ, যার পরিমাণ ১, আর অবশিষ্ট ৩ ভাগ সম্পত্তি কন্যা পাবে নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে ও রদ্দের ভিত্তিতে।
আর যদি অবশিষ্ট সম্পত্তি রদ্দের ভিত্তিতে পাওয়ার উপযুক্ত অংশীদারগণ একাধিক হয় এবং তারা একই শ্রেণির হয়, তাহলে স্বামী বা স্ত্রীর সম্পত্তি বণ্টনের পরে অবশিষ্ট সম্পত্তি রদ্দের উপযুক্ত অংশীদারদের মধ্যে তাদের মাথাপিছু হারে বণ্টন করা হবে, যেমনটি করা হয়ে থাকে আছাবাদের ক্ষেত্রে। এর উদাহরণ হলো: কেউ মারা গেলো একজন স্ত্রী ও সাতজন কন্যা রেখে, তাহলে এই ক্ষেত্রে মাসআলা গঠিত হবে ৮ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ, যার পরিমাণ ১, আর অবশিষ্ট সম্পত্তি তথা ৭ ভাগ পাবে সাতজন কন্যা তাদের মাথাপিছু হারে।
আর যদি অবশিষ্ট সম্পত্তি রদ্দের উপযুক্ত অংশীদারদের মধ্যে সমানভাগে বিভাজিত না হয়, তাহলে তাদের মাথাপিছু সংখ্যা দ্বারা আমরা মূল মাসআলাকে গুণ করব, যদি মূল মাসআলা আর মাথাপিছু সংখ্যার মধ্যে মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক থাকে, অথবা মাথাপিছু সংখ্যার উৎপাদক দ্বারা মূল মাসআলাকে গুণ করব, যদি উভয়টির মধ্যে মুওয়াফাক্বাহ এর সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে। আর নির্ণীত গুণফলই হলো সংশোধিত মাসআলা।
উদাহরণ:
কোনো মহিলা স্বামী ও পাচঁজন কন্যাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মাসআলা গঠিত হবে ৪ দ্বারা: স্বামী পাবে এক চতুর্থাংশ, যার পরিমাণ ১। আর অবশিষ্ট সম্পত্তি ৩ পাঁচ কন্যার মধ্যে সমানভাগে বিভাজিত হয় না। আর তাদের সংখ্যা ৫ ও মূল মাসআলা ৪ এর মধ্যে মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক আছে, তাই আমরা ৫ দ্বারা মূল মাসআলাকে গুণ করলাম। এখন নির্ণীত গুণফল ২০ হলো সংশোধিত মাসআলা। স্বামী পাবে ১x৫= ৫। আর কন্যাগণ পাবে অবশিষ্ট ৩x৫ = ১৫ ভাগ। প্রত্যেক কন্যা পাবে ৩ ভাগ করে।
আর যদি রদ্দের উপযুক্ত ওয়ারিছগণ একাধিক শ্রেণির হয়। যেমন- কন্যা, বোন ও স্ত্রীগণ একত্রে রদ্দের ওয়ারিছ হয়, তাহলে কার্যপ্রণালী নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি অনুসারে হবে:
১. স্বামী বা স্ত্রীর যেকোনো একজনের নির্ধারিত অংশের পূর্ণ সংখ্যা দ্বারা মাসআলা গঠন করে স্বামী বা স্ত্রীকে তার অংশ দিয়ে দেওয়া হবে, আর অবশিষ্ট অংশ রদ্দের উপযুক্ত ওয়ারিছদের জন্য। আর যদি মাসআলার তাছুহীহ বা সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহলে মাসআলা সংশোধন করতে হবে।
২. ছয় দ্বারা মূল মাসআলা গঠন করতে হবে রদ্দের উপযুক্ত ওয়ারিছদের জন্য যেমনটি ইতোপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে, আর মাসআলা সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দিলে সংশোধন করতে হবে।
৩. রদ্দের মাসআলার মধ্যে আর স্বামী বা স্ত্রীর অংশের (পূর্ণ সংখ্যা দ্বারা গঠিত) মাসআলায় স্বামী বা স্ত্রীর নির্ধারিত অংশ বণ্টনের পরে অবশিষ্ট সম্পত্তির মধ্যে লক্ষ্য করে দেখতে হবে, যদি অবশিষ্ট সম্পত্তি রদ্দের মাসআলার মধ্যে সমানভাগে বিভক্ত করা যায়, তাহলে স্বামী বা স্ত্রীর নির্ধারিত অংশের মাসআলায় অবশিষ্ট সম্পত্তি দ্বারাই রদ্দের মাসআলা গঠন করা ছুহীহ হবে।
এর উদাহরণ হলো:
কেউ একজন স্ত্রী, একজন মাতা ও বৈপিত্রেয় দুই ভাইকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মাসআলা গঠিত হবে ৪ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক চতুর্থাংশ, যার পরিমাণ ১, অবশিষ্ট ৩ ভাগ পাবে মাতা ও বৈপিত্রেয় দুই ভাই।
আর রদ্দের মূল মাসআলা গঠিত হবে ৬ দ্বারা: মাতা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ এক, আর বৈপিত্রেয় দুই ভাই পাবে এক তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ দুই, স্বামী বা স্ত্রীর অংশ দ্বারা গঠিত মাসআলার অবশিষ্ট সম্পত্তি রদ্দের উপযুক্ত ওয়ারিছদের মাসআলার মধ্যে সমানভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে, এর পরে রদ্দের মাসআলার মাধ্যমে অবশিষ্ট সম্পত্তি উক্ত তিনজনের (মাতা ও বৈপিত্রেয় দুই ভাই) মধ্যে সমানভাগে বণ্টন করে দেওয়া হবে।
আর যদি এই অবশিষ্ট সম্পত্তি রদ্দের মাসআলার মধ্যে সমানভাগে বিভক্ত করা না যায়, তাহলে আমরা স্বামী বা স্ত্রীর মাসআলা দ্বারা রদ্দের পূর্ণ মাসআলাকে গুণ করব যদি স্বামী বা স্ত্রীর মাসআলার সংখ্যা আর রদ্দের মাসআলার সংখ্যার মধ্যে মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক থাকে। আর যদি স্বামী বা স্ত্রীর মাসআলার সংখ্যা আর রদ্দের মাসআলার সংখ্যার মধ্যে মুওয়াফাক্বাহ এর সম্পর্ক থাকে, তাহলে স্বামী বা স্ত্রীর মাসআলার উৎপাদক দ্বারা রদ্দের পূর্ণ মাসআলাকে গুণ করব, আর নির্ণীত গুণফল হবে উভয় মাসআলার সমন্বয়ক বা সম্পূরক। সুতরাং যে স্বামী বা স্ত্রীর মাসআলা থেকে কোনো আংশিক ভাগ পাবে, সে উক্ত অংশ দ্বারা রদ্দের পূর্ণ মাসআলাকে গুণ করবে, যদি তার অংশ আর রদ্দের মাসআলার মধ্যে মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক থাকে। আর যদি উক্ত ওয়ারিছের অংশ আর রদ্দের মাসআলার মধ্যে মুওয়াফাক্বাহ এর সম্পর্ক থাকে, তাহলে তার অংশের উৎপাদক দ্বারা রদ্দের পূর্ণ মাসআলাকে গুণ করবে, এখন নির্ণীত গুণফলই হলো সংশ্লিষ্ট ওয়ারিছের প্রাপ্য অংশ।
আর যে ওয়ারিছ রদ্দের মাসআলা থেকে ভাগ পাবে, সে তার অংশ দ্বারা স্বামী বা স্ত্রীর অবশিষ্ট পূর্ণ সম্পত্তিকে গুণ করবে যদি তার রদ্দের মাসআলার ভাগের মধ্যে আর অবশিষ্ট সম্পত্তির মধ্যে মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক থাকে। আর যদি তার রদ্দের মাসআলার ভাগের মধ্যে আর অবশিষ্ট সম্পত্তির মধ্যে মুওয়াফাক্বাহ এর সম্পর্ক থাকে, তাহলে তার রদ্দের মাসআলার অংশের উৎপাদক দ্বারা অবশিষ্ট পূর্ণ সম্পত্তিকে গুণ করবে যদি অবশিষ্ট পূর্ণ সম্পত্তির মধ্যে আর রদ্দের মাসআলার মধ্যে মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক থাকে। আর যদি উভয়টির মধ্যে মুওয়াফাক্বাহ এর সম্পর্ক থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ওয়ারিছের রদ্দের মাসআলার অংশের উৎপাদক দ্বারা অবশিষ্ট পূর্ণ সম্পত্তিকে গুণ করবে, আর নির্ণীত গুণফলই হলো তার প্রাপ্য অংশ।
৪ x ৪ = ১৬
১ স্বামী = ১ x ৪ = ৪
৩ কন্যা = ৩ x ৩ = ৯
১ পুত্রের কন্যা = ১ x ৩ = ৩
১. প্রথম চিত্রে স্বামী-স্ত্রীর মাসআলা ৪ দ্বারা গঠিত হয়েছে: স্বামী পাবে এক চতুর্থাংশ, যার পরিমাণ ১, আর অবশিষ্ট তিনভাগ হলো রদ্দের ওয়ারিছদের জন্য। এখন নতুনভাবে রদ্দের মাসআলা গঠিত হবে ৬ দ্বারা: কন্যা পাবে অর্ধেক, যার পরিমাণ ৩, আর পুত্রের কন্যা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ ১, উভয়ের ভাগের সম্মিলিত পরিমাণ হলো ৪, তাই ৬ কে পরিবর্তন করে ৪ এ রূপান্তর করা হবে। এখন স্বামী-স্ত্রীর মাসআলার অবশিষ্ট ভাগ ৩ রদ্দের মাসআলা ৪ এর মধ্যে সমানভাগে বিভাজিত হয় না, তাই আমরা স্বামী- স্ত্রীর মাসআলা ৪ দ্বারা রদ্দের মাসআলা ৪ কে গুণ করলাম, গুণফল ১৬ হলো সমন্বয়কারী মাসআলা।
৪ x ২ = ৮
১ স্ত্রী = ১ x ২ = ২
৩ (দাদী-নানী ও বৈপিত্রেয় ভাই) =
১ দাদী-নানী = ১ x ২ = ২
২ বৈপিত্রেয় ভাই = ২ x ২ = ৪
২. দ্বিতীয় চিত্রে স্বামী-স্ত্রীর মাসআলা গঠিত হয়েছে ৪ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক চতুর্থাংশ, যার পরিমাণ ১, আর অবশিষ্ট তিনভাগ রদ্দের ওয়ারিছদের জন্য, রদ্দের আসল মাসআলা গঠিত হবে ৬ দ্বারা, দুইজন দাদী-নানী পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ ১, আর বৈপিত্রেয় দুই ভাই পাবে এক তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ ২, এখন রদ্দের মূল মাসআলা ৬ কে পরিবর্তন করে ৩ এ রূপান্তরিত করা হবে। আর যেহেতু স্বামী-স্ত্রীর মাসআলার ৩ ভাগ অবশিষ্ট সম্পত্তি রদ্দের মাসআলা ৬ দ্বারা সমানভাগে বিভাজিত হয় না (বরং আরো কিছু ভাগ অবশিষ্ট থেকে যায়), বরং ৩ এর সাথে ৬ এর মুওয়াফাক্বাহ এর সম্পর্ক, তাই আমরা ৬ এর উৎপাদক ২ দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর পূর্ণ মাসআলা ৪ কে গুণ করব। গুণফল ৮ হলো সমন্বয়কারী মাসআলা, এর পরে প্রত্যেক ওয়ারিছের প্রাপ্য অংশ পূর্বে বর্ণিত নিয়মানুযায়ী প্রত্যেককে প্রদান করা হবে।
দ্বিতীয় অবস্থা: যখন স্বামী অথবা স্ত্রী উভয়ের কেউ রদ্দের ওয়ারিছদের সঙ্গে উপস্থিত না থাকবে। এই ক্ষেত্রে রদ্দের ওয়ারিছদের তিনটি অবস্থা:
১. যখন রদ্দের উপযুক্ত ওয়ারিছ হবে মাত্র একজন ব্যক্তি, তখন তাকে সমস্ত সম্পত্তি নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে ও রদ্দের ভিত্তিতে দিয়ে দিতে হবে, কোনো মাসআলা গঠন করা ছাড়াই।
২. যখন রদ্দের সকল ওয়ারিছ একই শ্রেণির হয়, তখন তাদের মাসআলা গঠিত হবে তাদের সংখ্যা দ্বারা, যেমনটি আছাবাদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। উদাহরণ হলো: দুই কন্যা, অথবা পুত্রের পাঁচ কন্যা, অথবা আপন চার বোন, তাহলে মাসআলা গঠিত হবে তাদের সংখ্যা দ্বারা, যেমনটি আছাবাদের ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে।
৩. যখন রদ্দের ওয়ারিছগণ একাধিক শ্রেণির হয়, যেমন- দাদী-নানীগণ যখন বোনদের সাথে ওয়ারিছ হবে এবং এ জাতীয় আরো যত উদাহরণ আছে। এই ক্ষেত্রে তাদের মাসআলা গঠিত হবে ৬ দ্বারা, আর তাদের নির্ধারিত অংশগুলো নির্ণয় করা হবে এমনভাবে, যেনো তাদের মাসআলায় কোনো রদ্দ নেই। এরপরে তাদের প্রাপ্য অংশগুলোকে যোগ করা হবে, নির্ণীত যোগফল দ্বারা 'আওলের ন্যায় রদ্দের মাসআলা গঠন করা হবে, আর যদি তাছুহীহের প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহলে তাহুহীহ করতে হবে। এর উদাহরণ হলো:
নির্ধারিত অংশ ও রদ্দ হিসেবে
৩ আপন বোন
২ মাতা
কোনো ব্যক্তি একজন আপন বোন ও একজন মাতাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মাসআলা গঠিত হবে ৬ দ্বারা, মাতা পাবে এক তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ ২, আর অর্ধেক পাবে আপন বোন, যার পরিমাণ ৩। এখন আমরা রদ্দের ওয়ারিছদের প্রাপ্য অংশের যোগফল ৫ দ্বারা নতুনভাবে মাসআলা গঠন করব, যেখানে আপন বোন পাবে ৩ ভাগ নির্দিষ্ট অংশের ভিত্তিতে ও রদ্দের ভিত্তিতে, আর মাতা পাবে ২ ভাগ নির্দিষ্ট অংশের ভিত্তিতে ও রদ্দের ভিত্তিতে। উপরের চিত্রে লেখক এই মাসআলাটিই উল্লেখ করেছেন।
এই চিত্রে লেখক যেই মাসআলার উদাহরণ দিয়েছেন, তা হলো:
৩ x ৩ = ৯
১ মাতা = ১ x ৩ = ৩ (নির্ধারিত অংশ ও রদ্দ হিসেবে)
২ বৈপিত্রেয় ভাই = ২ x ৩ = ৬ (নির্ধারিত অংশ ও রদ্দ হিসেবে)
কোনো ব্যক্তি একজন মাতা ও বৈপিত্রেয় তিনভাইকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে এই ক্ষেত্রে মাসআলা গঠিত হবে ৬ দ্বারা, এই মাসআলায় মাতা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ ১, আর বৈপিত্রেয় তিন ভাই পাবে এক তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ ২। এখন মাসআলা যেহেতু রদ্দের মাসআলা, তাই আমরা ওয়ারিছদের সম্পত্তির সম্মিলিত ভাগের যোগফল ৩ দ্বারা নতুনভাবে মাসআলা গঠন করলাম, যেখানে মাতা পাবে একভাগ, আর বৈপিত্রেয় তিন ভাই পাবে ২ ভাগ। কিন্তু তিন ভাইয়ের মধ্যে দুই ভাগ সম্পত্তি সমানভাগে বিভাজিত হয় না, তাই আমরা এখন এই মাসআলার তাছুহীহ করব। তাছুহীহ এর নিয়মানুযায়ী আমরা দেখব, যেই ওয়ারিছদের সম্পত্তি তাদের মধ্যে সমানভাগে বিভাজিত হয় না, তাদের সম্পত্তির ভাগ ২ আর তাদের সংখ্যা ৩ এর মধ্যে কী সম্পর্ক। আমরা দেখলাম, এখানে উভয়টির মধ্যে মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক। তাই সরাসরি তাদের সংখ্যা ৩ দ্বারা যা এখন ওয়ারিছদের নির্ধারিত অংশের আংশিক ভাগ মাসআলা ৩ কে গুণ করলাম, নির্ণীত গুণফল ৯ হলো তাছুহীহকৃত তথা সংশোধিত মাসআলা। এখন আমরা মাতার ভাগ নির্ণয় করব মাতার প্রাপ্য অংশ ১ দ্বারা ওয়ারিছদের আংশিক ভাগ ৩ কে গুণ করে, নির্ণীত গুণফল ৩ হলো মাতার ভাগ। আর বৈপিত্রেয় তিন ভাইয়ের প্রাপ্য অংশ ২ দ্বারা ওয়ারিছদের আংশিক ভাগ ৩ কে গুণ করলে নির্ণীত গুণফল ৬ হবে বৈপিত্রেয় ভাইদের ভাগ, যা তাদের মধ্যে সমানভাগে বিভাজিত হয়।
**টিকাঃ**
[৩৯] আর যদি অবশিষ্ট সম্পত্তি রদ্দের মাসআলার মধ্যে সমানভাগে বিভক্ত করা না যায়, তাহলে স্বামী বা স্ত্রীর অংশ দ্বারা গঠিত মাসআলার অবশিষ্ট সম্পত্তি দ্বারা রদ্দের মাসআলা গঠন করা ছুহীহ হবে না।
[৪০] অর্থাৎ এমন মাসআলা, যেই মাসআলা থেকে স্বামী, বা স্ত্রীসহ সকল ওয়ারিছের সম্পত্তি তাদের প্রাপ্য অংশের আনুপাতিকহারে সমানভাবে বণ্টন করা যায়।
📄 যাউল আরহাম আত্মীয়গণের মীরাছ
যাউল আরহাম: যাউল আরহাম হলো এমন আত্মীয়, যে কোনোভাবে ওয়ারিছ হতে পারে না, না নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে, না আছাবা হিসেবে।
যাউল আরহাম এর প্রকারভেদ: যাউল আরহাম চার প্রকারে বিভক্ত:
প্রথম প্রকার: মৃতব্যক্তির ঐ সকল অধস্তন আত্মীয়গণ, যারা তার আত্মীয় হয়েছে কোনো নারীর মাধ্যমে। এমন আত্মীয়গণ দুই প্রকারে বিভক্ত: ক-আপন কন্যার সন্তানগণ খ-পুত্রের কন্যার সন্তানগণ এবং বর্ণিত উভয় দলের সন্তানদের অধস্তন যেকোনো পুরুষ বা নারী সন্তান। যেমন: কন্যার কন্যা, কন্যার পুত্রের কন্যা, পুত্রের কন্যার পুত্র, পুত্রের কন্যার কন্যা ও তাদের অধস্তন যেকোনো (পুরুষ বা নারী) সন্তান।
দ্বিতীয় প্রকার: মৃতব্যক্তির ঐ সকল ঊর্ধ্বতন পুরুষ আত্মীয়, যারা তার আত্মীয় হয়েছে কোনো নারীর মাধ্যমে, চাই ঐ সকল আত্মীয় পুরুষ হোক অথবা নারী, তারা দুই প্রকারে বিভক্ত:
১. নানাগণ: যেমন- মৃতব্যক্তির নানা ও নানার পিতা।
২. নানীগণ: যেমন- নানার মাতা ও নানার নানী।
তাদেরকে ফারায়েয শাস্ত্রের পরিভাষায় (ওয়ারিছ হওয়ার) অনুপযুক্ত নানা বলে, চাই তারা যতই ঊর্ধ্বতন পুরুষ হন না কেনো। অনুরূপভাবে অনুপযুক্ত নানী, চাই তারা যতই ঊর্ধ্বতন নারী হন না কেনো।
তৃতীয় প্রকার: মৃত ব্যক্তির মাতা-পিতার অধস্তন সন্তানগণ। আর তারা হলো ভাই ও বোনগণ। এই তৃতীয় প্রকারের আত্মীয়গণ তিন প্রকারে বিভক্ত:
১. বোনদের যেকোনো সন্তান, তারা যতই অধস্তন হোক না কেনো। যেমন: বোনের পুত্র, বোনের কন্যা, বোনের কন্যার পুত্র, বোনের পুত্রের কন্যা ও তাদের অধস্তন যেকোনো সন্তান।
২. ভাইদের যেকোনো সন্তান, তারা যতই অধস্তন হোক না কেনো। যেমন: আপন ভাইয়ের কন্যা, বৈমাত্রেয় ভাইয়ের কন্যা, আপন ভাইয়ের অথবা বৈমাত্রেয় ভাইয়ের কন্যার পুত্র, তারা যতই অধস্তন কন্যা হোক না কেনো।
৩. বৈপিত্রেয় ভাইদের সন্তানগণ, তারা যতই অধস্তন সন্তান হোক না কেনো। যেমন: বৈপিত্রেয় ভাইয়ের পুত্র, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের কন্যা, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের পুত্রের কন্যা, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের কন্যার পুত্র ও তাদের অধস্তন যেকোনো সন্তান।
চতুর্থ প্রকার: দাদা-দাদী বা নানা-নানীর কোনো অধস্তন সন্তান, যারা আছহাবুল ফুরূযের অন্তর্ভুক্তও নয়, আবার আছাবাও নয়। এমন আত্মীয়গণ ছয় ভাগে বিভক্ত:
১. বৈপিত্রেয় চাচাগণ, সকল প্রকার ফুফু, সকল প্রকার মামা ও খালা।
২. উপরে বর্ণিত আত্মীয়দের সন্তানাদি, তারা যতই অধস্তন সন্তান হোক না কেনো। মৃতব্যক্তির চাচার কন্যাগণ, মৃতব্যক্তির চাচার পুত্র বা তারচেয়েও অধস্তন যেকোনো পুত্রের কন্যাগণ।
৩. মৃতব্যক্তির পিতার বৈপিত্রেয় চাচাগণ, মৃতব্যক্তির পিতার সর্বপ্রকার ফুফু, মামা ও খালাগণ, যারা মৃতব্যক্তির পিতৃকুলের দিক থেকে আত্মীয় হয়েছে। এমনিভাবে মৃতব্যক্তির মাতার আপন চাচা, ফুফু, মামা ও খালাগণ, যারা মৃতব্যক্তির মাতৃকুলের দিক থেকে আত্মীয় হয়েছে।
৪. উপরের লাইনে যাদের তালিকা দেওয়া হলো, তাদের যেকোনো অধস্তন সন্তান।
৫. মৃতব্যক্তির দাদার বৈপিত্রেয় চাচা ও ফুফুগণ, মৃতব্যক্তির দাদার মামা ও খালাগণ, মৃতব্যক্তির দাদীর আপন চাচা ও ফুফুগণ, মামা ও খালাগণ।
৬. উপর্যুক্ত ব্যক্তিদের সন্তান ও তাদের যেকোনো অধস্তন সন্তান।
যাউল আরহাম আত্মীয়দের ওয়ারিছ হওয়ার শর্ত:
যাউল আরহাম আত্মীয়গণ দুই শর্তে ওয়ারিছ হতে পারবে:
ক-স্বামী-স্ত্রী ব্যতীত অন্য সকল আছুহাবুল ফুরূয ওয়ারিছ উপস্থিত না থাকা।
খ-কোনো আছাবা বা অবশিষ্টাংশ ভোগীগণ উপস্থিত না থাকা।
যাউল আরহাম আত্মীয়তার সূত্রসমূহ:
যাউল আরহাম আত্মীয়তার সূত্র তিনটি: পুত্রত্ব, পিতৃত্ব, মাতৃত্ব।
যাউল আরহাম আত্মীয়দের মীরাছ বণ্টনের পদ্ধতি:
যাউল আরহাম আত্মীয়দের মীরাছ বণ্টন হবে স্থলাভিষিক্ত করার মাধ্যমে। প্রত্যেক যাউল আরহাম আত্মীয়কে ঐ ওয়ারিছের স্থলাভিষিক্ত করা হবে, যার মাধ্যমে বা যার সূত্রে সে মৃতব্যক্তির আত্মীয় হয়েছে। এরপরে যাদের মাধ্যমে যাউল আরহাম আত্মীয়গণ আত্মীয় হয়েছে, সেই মাধ্যম আত্মীয়দের নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে সম্পত্তি বণ্টন করা হবে। আর মাধ্যম আত্মীয়ের ভাগে যেই পরিমাণ ধার্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট স্থলাভিষিক্ত আত্মীয় গ্রহণ করবে।
নিম্নেবর্ণিত পদ্ধতিতে স্থলাভিষিক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে:
১. কন্যার সন্তানগণ কন্যাদের স্থলাভিষিক্ত হবে, পুত্রের কন্যাদের সন্তানগণ পুত্রের কন্যাদের স্থলাভিষিক্ত হবে।
২. আপন বোনদের সন্তানগণ আপন বোনদের স্থলাভিষিক্ত হবে, ভাইদের কন্যা ভাইদের স্থলাভিষিক্ত হবে, ভাইদের পুত্রদের কন্যা ভাইয়ের পুত্রের স্থলাভিষিক্ত হবে, বৈপিত্রেয় ভাইদের সন্তানগণ বৈপিত্রেয় ভাইদের স্থলাভিষিক্ত হবে, আর বৈপিত্রেয় বোনদের সন্তানগণ বৈপিত্রেয় বোনের স্থলাভিষিক্ত হবে।
৩. আপন চাচা ও বৈমাত্রেয় চাচাদের কন্যাগণ চাচাদের স্থলাভিষিক্ত হবে। আর আপন ও বৈমাত্রেয় চাচাদের পুত্রদের কন্যাগণ চাচার পুত্রের স্থলাভিষিক্ত হবে।
৪. বৈপিত্রেয় চাচা ও সকল ফুফু পিতার স্থলাভিষিক্ত হবে।
৫. মৃতব্যক্তির মামাগণ, তার খালাগণ, তার নানা ও যেসকল ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নানার মাধ্যমে মৃতব্যক্তির আত্মীয় হয়েছে, তারা সকলেই মাতার স্থলাভিষিক্ত হবে।
৬. পিতার মামাগণ, তার খালাগণ, তার নানা ও যেসকল ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নানার মাধ্যমে মৃতব্যক্তির আত্মীয় হয়েছে, তারা সকলেই পিতার স্থলাভিষিক্ত হবে।
৭. মাতার মামাগণ, তার খালাগণ, তারা নানা ও যেসকল ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নানার মাধ্যমে মৃতব্যক্তির আত্মীয় হয়েছে, তারা সকলেই মাতার স্থলাভিষিক্ত হবে।
৮. প্রত্যেক এমন আত্মীয়, যারা উপরে বর্ণিত বিভিন্ন (৭) শ্রেণির আত্মীয়দের কোনো এক শ্রেণির মাধ্যমে আত্মীয় হয়েছে, এমন আত্মীয় উক্ত মাধ্যম আত্মীয়ের স্থলাভিষিক্ত হবে। যেমন- ফুফুর ফুফু, খালার খালা।
উদাহরণসমূহ:
১. কোনো ব্যক্তি একজন কন্যার কন্যা, একজন ভাইয়ের কন্যা ও একজন চাচার কন্যাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে এই ক্ষেত্রে এমন ওয়ারিছদেরকে মাধ্যম আত্মীয়দের স্থলাভিষিক্ত করে তাদের অংশের পরিমাণ ধার্য করা হবে যেমন- কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল একজন কন্যা, একজন ভাই ও একজন চাচাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মাসআলা গঠিত হবে ২ দ্বারা: কন্যা পাবে অর্ধাংশ, যার পরিমাণ ১, আর অবশিষ্ট সম্পত্তি ভাই পাবে আছাবার ভিত্তিতে, আর চাচা কিছুই পাবে না ভাই উপস্থিত থাকার কারণে।
২. কোনো ব্যক্তি একজন খালা ও ফুফুকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে এই ক্ষেত্রে উভয়কে যথাক্রমে মাতা ও পিতার স্থলাভিষিক্ত করা হবে, আর মাসআলা গঠিত হবে ৩ দ্বারা: মাতা পাবে এক তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ ১, আর অবশিষ্ট সম্পত্তি পিতা পাবে।
৩. কোনো ব্যক্তি একজন পুত্রের কন্যা, পুত্রের কন্যার কন্যা, আপন বোনের কন্যা ও বৈমাত্রেয় বোনের কন্যাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে এই ক্ষেত্রে উপরোক্ত সকল ওয়ারিছকে তাদের মাধ্যম আত্মীয়দের স্থলাভিষিক্ত করা হবে, যেনো কোনো ব্যক্তি একজন কন্যা, একজন পুত্রের কন্যা, আপন বোন ও বৈমাত্রেয় বোনকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, এখন মাসআলা গঠিত হবে ৬ দ্বারা: কন্যা পাবে অর্ধাংশ, যার পরিমাণ ৩, পুত্রের কন্যা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ ১, আপন বোন পাবে অবশিষ্ট ২ ভাগ সম্পত্তি, আর বৈমাত্রেয় বোন কিছুই পাবে না। এরপরে প্রত্যেকের সন্তানকে তাদের পিতার প্রাপ্য অংশ প্রদান করা হবে, অর্থাৎ তারা এই পদ্ধতিতেই নিজেদের মধ্যে এমনভাবে ভাগ করে নিবে, যেনো মনে হয় যে, তাদের সংশ্লিষ্ট মাধ্যম আত্মীয়গণ তাদেরকে রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন। এই পদ্ধতিতেই যাউল আরহাম আত্মীয়দের সকল মাসআলার হিসাব সম্পন্ন করা হবে।
**টিকাঃ**
৪১. এখানে মৃতব্যক্তির এমন চাচার কথা বলা হয়েছে, যেই চাচার পিতা আর মৃতব্যক্তির পিতার দাদা এক ব্যক্তি নয়, তবে মৃতব্যক্তির উক্ত পিতার চাচার মা আর মৃতব্যক্তির বাবার মা এক।
📄 গর্ভের সন্তানের মীরাছ
গর্ভের সন্তানের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ করে ও সাবধানতা অবলম্বন করে উত্তরাধিকার হওয়া:
কোনো কোনো ওয়ারিছের অবস্থা সংশয়পূর্ণ হয়ে থাকে তার ওয়ারিছ হিসেবে উপস্থিত থাকা ও অনুপস্থিত থাকার মাঝে অথবা তার পুরুষ হওয়া ও নারী হওয়ার মাঝে। যেসকল ওয়ারিছের অবস্থা ওয়ারিছ হিসেবে উপস্থিত থাকা না থাকার মাঝে সংশয়পূর্ণ হয়ে থাকে, তারা হলো: গর্ভের সন্তান, হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি, পানিতে ডুবে যাওয়া ব্যক্তি ও এ জাতীয় অন্যান্য ব্যক্তি। আর যাদের অবস্থা পুরুষ হওয়া ও নারী হওয়ার মাঝে সংশয়পূর্ণ হয়ে থাকে, তারা হলো: গর্ভের সন্তান ও সম্পূর্ণরূপে হিজড়া। আর এই সংশয়পূর্ণ পরিস্থিতির কারণেই সর্বক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী হওয়ার বিধানও পরিবর্তিত হতে থাকে। এখন এই বিষয়ের উপরেই আলোচনা করা হবে।
হামল: হামল হলো মায়ের গর্ভস্থ সন্তান।
গর্ভের সন্তান ওয়ারিছ হওয়ার শর্তসমূহ:
গর্ভের সন্তান ওয়ারিছ হবে দুইটি শর্তে:
প্রথম শর্ত: গর্ভের সন্তানকে – যদিও উপস্থিতিটা শুক্রাণুর আকারেও হয় – তার মায়ের গর্ভে বিদ্যমান থাকতে হবে ওয়ারিছকারী ব্যক্তির মৃত্যুর সময়।
দ্বিতীয় শর্ত: উক্ত গর্ভের সন্তানের জন্ম হতে হবে স্থিতিশীলভাবে জীবন্ত অবস্থায়। আর উক্ত সন্তানের স্থিতিশীল জীবন্ত অবস্থা জানা যাবে তার উঁচু আওয়াজ, হাঁচি ও স্তনের দুধ পান করা ও এ জাতীয় কাজের মাধ্যমে।
আবূ হুরায়রা – রদ্বিয়াল্লাহু আনহু – থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল – ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – কে বলতে শুনেছি:
«مَا مِنْ بَنِي آدَمَ مَوْلُودٌ إِلا يَمَسُّهُ الشَّيْطَانُ حِينَ يُولَدُ، فَيَسْتَهِلُ صَارِحاً مِنْ مَسِ الشَّيْطَانِ، غَيْرَ مَرْيَمَ وَابْنِهَا».
“মারিয়াম ও তাঁর পুত্র ব্যতীত যেকোনো আদম সন্তান যখন জন্ম গ্রহণ করে, তখন শয়তান তাকে স্পর্শ করে। অতঃপর শয়তানের স্পর্শে সে উঁচু স্বরে চিৎকার করে ওঠে”। [মুত্তাফাকুন আলাইহি]
গর্ভের সন্তানের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণের ধাপসমূহ:
গর্ভের সন্তানের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণের ছয়টি ধাপ:
হয়ত গর্ভের সন্তান মৃত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করবে। এই অবস্থায় সে ওয়ারিছ বলে বিবেচিত হবে না। অথবা সে স্থিতিশীলভাবে জন্মগ্রহণ করবে। এমন অবস্থায় হয়ত সে একজন পুরুষ সন্তান হবে অথবা একজন নারী সন্তান হবে অথবা যমজ দুই পুরুষ সন্তান হবে অথবা যমজ দুই নারী সন্তান হবে অথবা একজন পুরুষ ও নারী সন্তান (হিজড়া সন্তান) হবে।
জন্মগ্রহণের পূর্বে সম্পত্তি বণ্টনের সময় গর্ভস্থ সন্তানের জন্য দুইজন পুরুষ, অথবা দুইজন নারী ওয়ারিছের মধ্যে অধিক পরিমাণ প্রাপ্য অংশের অধিকারীর সমপরিমাণ ভাগ ধার্য করে রাখা হবে। কারণ এতেই গর্ভস্থ সন্তানের জন্য রয়েছে সাবধানতা। আর যদি গর্ভস্থ সন্তান পুরুষ বা নারী হওয়ার কারণে তার মীরাছের ভাগের পরিমাণ পরিবর্তন হবে না এমন ধরণের ওয়ারিছ হয়ে থাকে, যেমন- মৃতব্যক্তির মাতার সন্তানগণ (বৈপিত্রেয় ভাই-বোনগণ), তাহলে তার জন্য দুইজন বৈপিত্রেয় সন্তানের সমান ভাগ ধার্য করে রাখা হবে। কারণ বৈপিত্রেয় ভাইগণ বোনদের সমান ভাগ পাবে, বেশি পাবে না।
গর্ভস্থ সন্তানের সাথে অংশীদার ওয়ারিছদের অবস্থাসমূহ:
গর্ভস্থ সন্তানের সাথে অংশীদার ওয়ারিছদের তিনটি অবস্থা:
১. এমন ওয়ারিছগণ, যাদেরকে গর্ভস্থ সন্তান সামান্যতম বঞ্চিত করতে পারবে না, বরং তাকে তার পূর্ণ ভাগ দিয়ে দেওয়া হবে। যেমন- দাদী-নানী।
২. এমন ওয়ারিছগণ, যাদেরকে গর্ভস্থ সন্তান তাদের সম্পূর্ণ ভাগ থেকে বঞ্চিত করবে, তাদেরকে সামান্যতম ভাগও দেওয়া হবে না। যেমন- ভাই ও চাচা।
৩. এমন ওয়ারিছগণ, যাদেরকে গর্ভস্থ সন্তান তাদের আংশিক ভাগ হতে বঞ্চিত করবে, ফলে তাদেরকে তাদের সর্বনিম্ন ভাগ দেওয়া হবে। যেমন- স্ত্রী ও মাতা।
উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি একজন গর্ভবতী স্ত্রী, একজন দাদী/নানী ও একজন চাচাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মাসআলা গঠিত হবে ২৪ দ্বারা: এখানে গর্ভের সন্তান স্ত্রীকে তার ভাগ হতে আংশিক পরিমাণ বঞ্চিত করবে, যার ফলে স্ত্রীকে তার সুনিশ্চিত প্রাপ্য তথা এক অষ্টমাংশ ভাগ দেওয়া হবে। আর দাদী বা নানীর ভাগে গর্ভের সন্তান যেহেতু কোনো প্রকার হ্রাস করতে পারে না, তাই তাকে পূর্ণ এক ষষ্ঠাংশ ভাগ দেওয়া হবে। আর চাচাকে গর্ভের সন্তান তার পূর্ণ ভাগ থেকেই বঞ্চিত করতে পারে, ফলে সে কিছুই পাবে না।
গর্ভের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্বেই সম্পত্তি বণ্টনের তাগাদা দেওয়ার বিধান:
যে সকল পূর্বসূরী স্বীয় ওয়ারিছদের মধ্যে কোনো গর্ভের সন্তান রেখে গেছে, তাদের দুইটি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: হয়ত ওয়ারিছগণ গর্ভের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া ও তার প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, এরপরে সম্পত্তি বণ্টন করা হবে। আর এটাই উত্তম, যদি ওয়ারিছগণ এর ফলে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।
দ্বিতীয় অবস্থা: ওয়ারিছগণ সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্বেই সম্পত্তি বণ্টনের তাগাদা দিবে, যেহেতু তাদের জন্য মীরাছ বণ্টন করা বৈধ। কারণ এটা তাদেরই অধিকার। তবে এই ক্ষেত্রে গর্ভের সন্তানের জন্য দুইজন পুরুষ ও দুইজন নারী ওয়ারিছের মধ্যে যারা অধিক পরিমাণ সম্পত্তির অংশীদার হবে, তাদের সমপরিমাণ ভাগ ধার্য করে রাখা হবে। যখন সে জন্ম নিবে, সে তার ভাগ নিবে, আর উদ্ধৃত অংশটুকু উপযুক্ত পাওনাদারকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সুতরাং গর্ভের সন্তানের জন্য অধিক পরিমাণ ভাগ ধার্য করে রাখা হবে, আর ওয়ারিছ এবং গর্ভের সন্তান উভয়ের প্রত্যেককে যতটুকু পরিমাণ দেওয়া সম্ভব, তার সর্বনিম্ন পরিমাণ ভাগ ওয়ারিছকে দেওয়া হবে এবং অবশিষ্ট সম্পত্তি সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখা হবে।
উদাহরণ:
কোনো একজন ব্যক্তি একজন গর্ভবতী স্ত্রী ও একজন চাচাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে গর্ভের সন্তানকে মৃত ধরে নিলে মাসআলা গঠিত হবে ৪ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক চতুর্থাংশ- যার পরিমাণ ১, আর অবশিষ্ট সম্পত্তি পাবে চাচা।
আর গর্ভের সন্তানকে জীবিত এবং পুরুষ ধরে নিলে মাসআলা গঠিত হবে ৮ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ- যার পরিমাণ ১, আর অবশিষ্ট সম্পত্তি পাবে গর্ভের সন্তান, আর চাচা কিছুই পাবে না।
আর গর্ভের সন্তানকে জীবিত এবং নারী ধরে নিলে মাসআলা গঠিত হবে ২৪ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ- যার পরিমাণ ৩, আর গর্ভের দুই কন্যা সন্তান দুই তৃতীয়াংশ পাবে- যার পরিমাণ ১৬, আর অবশিষ্ট সম্পত্তি চাচা পাবে।
**টিকাঃ**
৪২. ছুহীহ বুখারী, হা/৩৪৩১, ছুহীহ বুখারীর শব্দেই এখানে হাদীছটি উদ্ধৃত করা হয়েছে; ছুহীহ মুসলিম, হা/২৩৬৬।
📄 হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির মীরাছ
মাফকূদ বা হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি হলো: এমন ওয়ারিছ, যার কোনো খবর পাওয়া যায় না। ফলে এটা জানা যায় না যে, সে জীবিত না মৃত।
হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির বিধান:
হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির দুইটি অবস্থা: জীবন অথবা মৃত্যু... আর উভয় অবস্থারই কিছু বিশেষ বিধান আছে: কিছু বিধান তার স্ত্রীর সাথে সম্পর্কিত... কিছু বিধান তার উত্তরাধিকারী হওয়া বা না হওয়ার সাথে সম্পর্কিত... কিছু বিধান অন্যদের তার উত্তরাধিকারী হওয়ার সাথে সম্পর্কিত... কিছু বিধান অন্যান্য ব্যক্তির তার সঙ্গে ওয়ারিছ হওয়ার সাথে সম্পর্কিত। সুতরাং যখন দুই সম্ভাবনার (মৃত অথবা জীবিত থাকা) একটিকে অন্যটির উপরে প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব হয় না, তখন এমন একটি সময়সীমা বা মেয়াদ নির্ধারণ করতে হবে, যেই মেয়াদের মধ্যে তার প্রকৃত অবস্থার ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় এবং তাকে অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হয়।
হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির আশায় অপেক্ষার সময়সীমা:
হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির জন্য অপেক্ষার সময়সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিচারকের ইজতিহাদ (সিদ্ধান্ত) ও হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি ও অন্যান্য ওয়ারিছের ক্ষতির বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে, আর এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি ব্যক্তি, পরিস্থিতি ও স্থান-কালভেদে বিভিন্ন রকম হতে পারে। সুতরাং বিচারক তাকে অনুসন্ধানের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ধার্য করে দিবেন, এরপরে উক্ত অনুসন্ধানের সময়সীমা অতিবাহিত হয়ে গেলে তার মৃত্যুর সিদ্ধান্ত ঘোষণা দিবেন।
হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির অবস্থাসমূহ:
হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি হয় অন্যকে ওয়ারিছ করবে অথবা নিজে ওয়ারিছ হবে।
১. যদি সে অন্যকে ওয়ারিছ করে, তাহলে যখন বিচারকের নির্ধারিত অপেক্ষার সময়সীমা অতিবাহিত হয়ে যাবে, আর তার বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কিছুই জানা না যাবে, তখন তার মৃত্যুর ঘোষণা দিয়ে দেওয়া হবে, তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি বণ্টন করে দেওয়া হবে এবং তার পূর্বসূরীর মীরাছ থেকে তার জন্য যেই পরিমাণ ভাগ ধার্য করা হয়েছিল, সেই ভাগও "তার মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়ার সময় বিদ্যমান ওয়ারিছদের" মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হবে, তবে যারা অপেক্ষার মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেছে, তারা তার সম্পত্তির ভাগ পাবে না।
২. যদি হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি ওয়ারিছ হয়, আর তার সঙ্গে আর কোনো ওয়ারিছ বিদ্যমান না থাকে, তাহলে সম্পূর্ণ সম্পত্তি তার জন্য ধার্য করে রাখা হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তার বিষয়টি স্পষ্ট না হয় অথবা তার জন্য অপেক্ষার মেয়াদ উত্তীর্ণ না হয়। আর যদি তার সঙ্গে আরো ওয়ারিছ বিদ্যমান থাকে, আর তারা মীরাছ বণ্টনের দাবি করে, তাহলে সাবধানতাবশত তার (হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি) জন্য তার পূর্ণ প্রাপ্য অংশ ধার্য করে রাখা হবে, আর ওয়ারিছদেরকে সর্বনিম্ন প্রাপ্য অংশটুকু দেওয়া হবে। তার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত এই নিয়মটি কার্যকর থাকবে। যদি সে জীবিত থাকে, তাহলে সে তার নির্ধারিত অংশের ভাগ গ্রহণ করবে, এরপরে যদি কিছু ভাগ উদ্বৃত্ত থেকে যায়, তাহলে সেই উদ্বৃত্ত অংশটুকু উপযুক্ত দাবীদারকে দিয়ে দেওয়া হবে।
সুতরাং এই ক্ষেত্রে দুইবার মাসআলা গঠন করতে হবে। প্রথমে একবার তাকে জীবিত ধরে নিয়ে (এই ক্ষেত্রে সে ওয়ারিছ হিসেবে বিবেচিত হবে) মাসআলা গঠন করে সেই অনুসারে সম্পত্তি বণ্টনের হিসাব করতে হবে। আর পরবর্তীতে তাকে মৃত ধরে নিয়ে (এই ক্ষেত্রে সে ওয়ারিছ নয়, বরং অন্যকে ওয়ারিছকারী বলে বিবেচিত হবে) পুনরায় সম্পত্তি বণ্টনের হিসাব করতে হবে। এখন যেই ওয়ারিছ উভয় মাসআলায় কম-বেশি করে ভাগ পাবে (অর্থাৎ একটি মাসআলায় কম ভাগ পাবে আরেকটি মাসআলায় বেশি ভাগ পাবে), তাকে কম ভাগ এর সমপরিমাণ অংশ দেওয়া হবে। আর যে ওয়ারিছ উভয় মাসআলায় সমান ভাগ পাবে, তাকে সমান ভাগই দেওয়া হবে (তার ক্ষেত্রে কোনো কম-বেশি করা হবে না)। কিন্তু যে এক মাসআলায় ওয়ারিছ হবে এবং অন্য মাসআলায় ওয়ারিছ হবে না, তাকে কিছুই দেওয়া হবে না। আর অবশিষ্ট সম্পত্তির বণ্টন স্থগিত রাখা হবে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত।
সুতরাং যখন কোনো ব্যক্তি একজন স্ত্রী, একজন দাদী বা নানী, একজন চাচা ও হারিয়ে যাওয়া একজন পুত্রকে রেখে মৃত্যুবরণ করবে, তখন ২৪ দ্বারা মাসআলা গঠন করা হবে: স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ, যার পরিমাণ ৩। কারণ এটাই হলো সর্বনিম্ন ভাগ। দাদী বা নানী পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ ৪; হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি দাদী বা নানীকে বঞ্চিত করতে পারে না। আর আমরা চাচাকে কিছুই দিবে না, যেহেতু হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি তাকে বঞ্চিত করতে পারে। আর অবশিষ্ট ১৭ ভাগ সম্পত্তির বণ্টন আমরা স্থগিত রাখব, যতদিন পর্যন্ত তার বিষয়টি স্পষ্ট না হয়। যদি সে জীবিত থাকে, তাহলে অবশিষ্ট সম্পত্তি সে গ্রহণ করবে। আর যদি সে তার পূর্বসূরীর আগেই মৃত্যুবরণ করে, তাহলে অবশিষ্ট সম্পত্তি হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির ওয়ারিছদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হবে। আর যদি সে তার পূর্বসূরীর আগেই মৃত্যুবরণ করে, তাহলে সে কিছুই পাবে না, বরং অবশিষ্ট সম্পত্তিটুকু অন্যান্য ওয়ারিছের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হবে।
**টিকাঃ**
৪৩. অর্থাৎ জীবিত ধরে নিয়ে গঠিত মাসআলা ও মৃত ধরে নিয়ে গঠিত মাসআলা।