📄 পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টন
পরিত্যক্ত সম্পত্তির পরিচয়: পরিত্যক্ত সম্পত্তি হলো- মৃতব্যক্তি যে সম্পদ বা যে সকল বস্তু রেখে যায়।
ওয়ারিছদের মধ্যে পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টনের পদ্ধতি: পরিত্যক্ত সম্পত্তি নিম্নেবর্ণিত যেকোনো একটি পদ্ধতিতে বণ্টন করতে হয়:
১. সম্বন্ধকরণ পদ্ধতি: সম্বন্ধকরণ পদ্ধতি হলো- প্রত্যেক ওয়ারিছের মূল মাসআলা হতে তার প্রাপ্য অংশকে সংশ্লিষ্ট মাসআলার দিকে সম্বন্ধিত করতে হবে। আর তাকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে হুবহু ঐ পরিমাণ সম্পদ প্রদান করতে হবে।
সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি একজন স্ত্রী, একজন মাতা ও একজন চাচাকে রেখে মৃত্যুবরণ করে আর তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির পরিমাণ হয় একলক্ষ বিশ হাজার মুদ্রা। তাহলে মাসআলা গঠিত হবে ১২ দ্বারা বা ১২ দ্বারা ভাগ করতে হবে:
স্ত্রী পাবে এক চতুর্থাংশ- যার পরিমাণ ৩, মাতা পাবে এক তৃতীয়াংশ- যার পরিমাণ ৪, আর চাচা পাবে অবশিষ্ট পাঁচ ভাগ।
সুতরাং স্ত্রীর প্রাপ্য অংশ তিনভাগকে মূল মাসআলার দিকে সম্বন্ধিত করলে এর পরিমাণ হবে এক চতুর্থাংশ, তাই স্ত্রী পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক চতুর্থাংশ ত্রিশ হাজার মুদ্রা পাবে।
মাতার প্রাপ্য অংশ চারভাগকে মূল মাসআলার দিকে সম্বন্ধিত করলে এর পরিমাণ হবে এক তৃতীয়াংশ, তাই মাতা পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ চল্লিশ হাজার মুদ্রা পাবে।
চাচার প্রাপ্য অংশ পাঁচভাগকে মূল মাসআলার দিকে সম্বন্ধিত করলে এর পরিমাণ হবে এক চতুর্থাংশ ও এক ষষ্ঠাংশ, তাই চাচা এক চতুর্থাংশ ও এক ষষ্ঠাংশ পঞ্চাশ হাজার মুদ্রা পাবে।
২ – বণ্টন পদ্ধতি:
পরিত্যক্ত সম্পত্তিকে মূল মাসআলা দ্বারা ভাগ দেওয়া, নির্ণীত ভাগফল দ্বারা "মূল মাসআলা হতে প্রত্যেক ওয়ারিছের প্রাপ্য অংশকে গুণ করা। নির্ণীত গুনফলই হলো সংশ্লিষ্ট ওয়ারিছের পরিত্যক্ত সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ। সুতরাং পূর্বের মাসআলায় বর্ণিত পরিত্যক্ত সম্পত্তি "একলক্ষ বিশ হাজার মুদ্রাকে" মূল মাসআলা ১২ দ্বারা ভাগ করে নির্ণীত ভাগফল ১০ হাজার দ্বারা মূল মাসআলা হতে প্রত্যেক ওয়ারিছের প্রাপ্য অংশকে গুণ করতে হবে, নির্ণীত গুণফলই হলো সংশ্লিষ্ট ওয়ারিছের পরিত্যক্ত সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ। সুতরাং পূর্বে বর্ণিত মাসআলায় মাতার প্রাপ্য অংশ হলো এক-তৃতীয়াংশ (৪), এখন এই প্রাপ্য অংশ দ্বারা দশ হাজারকে গুণ করতে হবে ৪ X ১০,০০০ = ৪০ হাজার। এই চল্লিশ হাজার হলো পরিত্যক্ত সম্পত্তি হতে মাতার ভাগ।
৩ – গুণন পদ্ধতি:
প্রত্যেক ওয়ারিছের প্রাপ্য অংশ দ্বারা পরিত্যক্ত সম্পত্তিকে গুণ করতে হবে, অতঃপর নির্ণীত গুণফলকে মূল মাসআলা দ্বারা ভাগ করতে হবে, নির্ণীত ভাগফলই হলো সংশ্লিষ্ট ওয়ারিছের প্রাপ্য অংশ হবে।
সুতরাং পূর্বে বর্ণিত মাসআলায় স্ত্রী পাবে এক চতুর্থাংশ (৩), এই তিন দ্বারা পরিত্যক্ত সম্পত্তি একলক্ষ বিশ হাজার মুদ্রাকে গুণ করা হবে, এরপরে নির্ণীত গুণফল তিনলক্ষ ষাট হাজার মুদ্রাকে মূল মাসআলা ১২ দ্বারা ভাগ করা হবে, নির্ণীত ভাগফল ত্রিশ হাজার মুদ্রাই হলো স্ত্রীর প্রাপ্য অংশ।
৪ – ভাগ পদ্ধতি:
প্রত্যেক ওয়ারিছের নির্ধারিত অংশের পূর্ণ সংখ্যা দ্বারা মূল মাসআলাকে ভাগ করতে হবে, নির্ণীত ভাগফল দ্বারা পরিত্যক্ত সম্পত্তিকে ভাগ করতে হবে, নির্ণীত ভাগফলই হলো প্রত্যেক ওয়ারিছের প্রাপ্য অংশ। সুতরাং পূর্বে বর্ণিত মাসআলায় যেহেতু স্ত্রী পাবে এক চতুর্থাংশ, তাই এক চতুর্থাংশের পূর্ণ সংখ্যা ৪ দ্বারা মূল মাসআলা ১২ কে ভাগ করতে হবে, নির্ণীত ভাগফল ৩ দ্বারা পরিত্যক্ত সম্পত্তি একলক্ষ বিশ হাজারকে ভাগ করতে হবে, নির্ণীত ভাগফল ৪০ হাজার হলো স্ত্রীর প্রাপ্য অংশ।
সম্পত্তি বণ্টনকালে উপস্থিত ব্যক্তিদেরকে দান করার বিধান:
যদি সম্পত্তি বণ্টনকালে মৃতব্যক্তির এমন আত্মীয়গণ উপস্থিত থাকে, যারা ওয়ারিছ নয়, অথবা ইয়াতীমগণ, অথবা দরিদ্র ও মিসকীনগণ বা এই জাতীয় অন্যকোনো ব্যক্তি উপস্থিত থাকে, তাহলে পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টনের পূর্বে তাদেরকে কিছু সম্পদ দান করা মুসতাহাব, যাতে করে তাদের হৃদয় প্রশান্ত হয় আর মন থেকে তারা মৃতব্যক্তি ও তার ওয়ারিছদের জন্য দু'আ করে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَإِذَا حَضَرَ الْقِسْمَةَ أُولُو الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينُ فَارْزُقُوهُمْ مِنْهُ وَقُولُوا لَهُمْ قَوْلًا مَعْرُوفًا (۸) وَلْيَخْشَ الَّذِينَ لَوْ تَرَكُوا مِنْ خَلْفِهِمْ ذُرِّيَّةً ضِعَافًا خَافُوا عَلَيْهِمْ فَلْيَتَّقُوا اللَّهَ وَلْيَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا
“যদি সম্পত্তি বণ্টনকালে নিকটাত্মীয়, ইয়াতীম, মিসকীন ব্যক্তিগণ উপস্থিত থাকে, তাহলে তাদেরকে তোমরা পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে আংশিক দান করো, আর তাদেরকে কল্যাণমূলক উপদেশ দাও (৮)। আর তাদের ভয় করা উচিত, যারা নিজেদের পশ্চাতে দুর্বল অক্ষম সন্তান-সন্ততি রেখে গেলে তারা তাদের ব্যাপারে আশঙ্কা করে; সুতরাং তারা যেনো আল্লাহকে সর্বাবস্থায় ভয় করে চলে এবং সঠিক কথা বলে” (৯) [আন - নিসা: ৮-৯]।
**টিকাঃ**
[৩৭] নির্ধারিত অংশের পূর্ণ সংখ্যার দৃষ্টান্ত হলো- কুরআনে স্ত্রীর জন্য আল্লাহ তা'আলা পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক চতুর্থাংশ ধার্য করেছেন, যদি স্বামীর কোনো সন্তান না থাকে, এখন স্ত্রীর নির্ধারিত অংশ হলো এক চতুর্থাংশ, আর এই এক চতুর্থাংশের পূর্ণ সংখ্যা হলো ৪।
📄 ‘আওলবিশিষ্ট মাসআলার সমাধান
‘আওল হলো: আছহাবুল ফুরূযের নির্ধারিত অংশের পরিমাণ মূল মাসআলার চেয়ে বেশি হওয়ার ফলে ওয়ারিছদের প্রাপ্য অংশের পরিমাণ কমে যাওয়া।
ওয়ারিছদের মাসআলাসমূহের প্রকারভেদ:
আছহাবুল ফুরূযের মাসআলাগুলো তিন প্রকারে বিভক্ত:
প্রথম প্রকার: আল-মাসআলাতুল ‘আদিলাহ: আল-মাসআলাতুল ‘আদিলাহ হলো যেই মাসআলায় ওয়ারিছদের নির্ধারিত অংশ মূল মাসআলার সমপরিমাণ হয়।
দ্বিতীয় প্রকার: আল-মাসআলাতুন নাকিছাহ: আল-মাসআলাতুন নাকিছাহ হলো যেই মাসআলায় ওয়ারিছদের নির্ধারিত অংশের পরিমাণ মূল মাসআলার চেয়ে কম হয়।
তৃতীয় প্রকার: আল-মাসআলাতুল 'আয়িলাহ: আল-মাসআলাতুল 'আয়িলাহ হলো যেই মাসআলায় ওয়ারিছদের নির্ধারিত অংশ মূল মাসআলার চেয়ে পরিমাণে বেশি হয়।
এর উদাহরণ হলো: কোনো ব্যক্তি একজন মাতা, বৈপিত্রেয় ভাইগণ ও সহোদরা দুই বোনকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মাসআলা গঠিত হবে ছয় দ্বারা: মাতা পাবে এক ষষ্ঠাংশ (১), বৈপিত্রেয় ভাইগণ পাবে এক তৃতীয়াংশ (২), দুই সহোদরা বোন পাবে দুই তৃতীয়াংশ (৪)। এখন ওয়ারিছদের নির্ধারিত অংশের সম্মিলিত যোগফল হলো ৭, যা মূল মাসআলা ৬ হতে পরিমাণে বেশি। বিধায় মাসআলা পরিবর্তিত হয়ে ফিরে যাবে ৭ এর দিকে।
'আওলের মাসআলার সমাধান:
প্রথমত আমরা মূল মাসআলার পরিমাণ ধার্য করব, অতঃপর আছহাবুল ফুরুষের নির্ধারিত অংশের পরিমাণ ধার্য করব, এরপরে আমরা মূল মাসআলা বাদ দিয়ে নতুন করে সকল ওয়ারিছের নির্ধারিত অংশগুলোর পূর্ণ সংখ্যার যোগফল নির্ণয় করে উক্ত যোগফল দ্বারা মূল মাসআলা গঠন করব, আর এই মাসআলা থেকেই ওয়ারিছদের ভাগ বণ্টন করব, এর ফলে প্রত্যেক ওয়ারিছের ভাগেই লোকসান হবে তাদের নির্ধারিত অংশের আনুপাতিক হারে।
উদাহরণ: কোনো মহিলা একজন স্বামী, দুইজন সহোদরা বোনকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মাসআলা গঠিত হবে ৬ দ্বারা: স্বামী পাবে অর্ধেক- যার পরিমাণ তিন, দুই সহোদরা বোন পাবে দুই তৃতীয়াংশ- যার পরিমাণ চার। এখন ওয়ারিছদের মোট ভাগের পরিমাণ হলো সাত, তাই আমরা এখন মূল মাসআলা ছয়কে বাদ দিয়ে নতুন করে সাত দ্বারা মাসআলা গঠন করব, আর এই মাসআলা থেকেই ওয়ারিছদের সম্পত্তি বণ্টন করব যেমনটি ইতোপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
ওয়ারিছদের উপর 'আওলের প্রভাব: যখন মাসআলায় 'আওল পাওয়া যাবে, তখন প্রত্যেক ওয়ারিছেরই প্রাপ্য অংশে এতটুকু লোকসান হবে, যতটুকু লোকসান তার হত না, যদি মাসআলায় 'আওল না থাকত।
'আওল হওয়ার দিক থেকে মূল মাসআলাসমূহের প্রকারভেদ: মূল মাসআলাসমূহ 'আওল হওয়া বা না হওয়ার দিক থেকে দুই প্রকারে বিভক্ত:
প্রথম প্রকার: এমন মৌলিক সংখ্যাসমূহ, যেগুলো 'আওল হয় না। এমন সংখ্যা ৪টি: ২, ৩, ৪, ৮।
দ্বিতীয় প্রকার: এমন মৌলিক সংখ্যাসমূহ, যেগুলো 'আওল হয়। এমন সংখ্যা ৩টি: ৬, ১২, ২৪।
আছহাবুল ফুরূযের মৌলিক সংখ্যাসমূহ: আছহাবুল ফুরূযের মৌলিক সংখ্যাসমূহ সাত প্রকার: ২, ৩, ৪, ৬, ৮, ১২, ২৪।
এই মূল মাসআলাগুলো 'আওল, হ্রাস ও সমতার দিক থেকে চার প্রকারে বিভক্ত:
১. যে সংখ্যা সর্বদাই অসম্পূর্ণ হয়। যেমন- ৪ ও ৮।
২. যে সংখ্যা কখনো অসম্পূর্ণ, কখনো সমান, কখনো 'আওল বিশিষ্ট হয়। যেমন- ৩ ও ২।
৩. যে সংখ্যা কখনো অসম্পূর্ণ, কখনো 'আওল বিশিষ্ট হয়। কিন্তু তা কখনো সমান হয় না। যেমন- ১২ ও ২৪।
৪. যে সংখ্যা অসম্পূর্ণ, সমান ও 'আওল বিশিষ্ট সবগুলোই হয়। যেমন- ৬।
মৌলিক সংখ্যাগুলো কত সংখ্যা পর্যন্ত 'আওল হয়?
যেসকল মৌলিক সংখ্যা 'আওল হতে পারে, সেগুলো হলো তিনটি: ৬, ১২, ২৪।
প্রথমটি: মৌলিক সংখ্যা ৬ নিম্নেবর্ণিত চারটি সংখ্যার যেকোনো একটিতে 'আওল হতে পারে: ৭, ৮, ৯, ১০।
১. মূল সংখ্যা ৬ "৭” এ রূপান্তরিত হবে। যেমন কোনো স্ত্রী স্বামী ও সহোদরা দুই বোনকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মূল মাসআলা ৬ দ্বারা গঠিত হয়ে রূপান্তরিত হবে "৭” এ, স্বামী পাবে অর্ধেক, যার পরিমাণ ৩, আর দুই সহোদরা বোন পাবে দুই তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ ৪।
২. মূল সংখ্যা ৬ "৮” এ রূপান্তরিত হবে। যেমন কোনো মহিলা স্বামী, একজন সহোদরা বোন ও দুইজন বৈপিত্রেয় বোনকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মূল মাসআলা ৬ দ্বারা গঠিত হয়ে "৮” এ রূপান্তরিত হবে। স্বামী পাবে অর্ধেক, যার পরিমাণ ৩, সহোদরা বোন পাবে অর্ধেক, যার পরিমাণ ৩, বৈপিত্রেয় দুই বোন পাবে এক তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ ২।
৩. মূল মাসআলা ৬ "৯” এ রূপান্তরিত হবে। যেমন কোনো মহিলা স্বামী, সহোদরা দুই বোন ও বৈপিত্রেয় দুই ভাইকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মূল মাসআলা ৬ দ্বারা গঠিত হয়ে রূপান্তরিত হবে "৯” এ। স্বামী পাবে অর্ধেক, যার পরিমাণ ৩, দুই সহোদরা বোন পাবে দুই তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ ৪, বৈপিত্রেয় দুই ভাই পাবে এক তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ ২।
৪. মূল মাসআলা ৬ '১০” এ রূপান্তরিত হবে। যেমন কোনো মহিলা স্বামী, একজন মাতা, দুই সহোদরা বোন ও বৈপিত্রেয় দুই বোনকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মূল মাসআলা ৬ দ্বারা গঠিত হয়ে "১০” এ রূপান্তরিত হবে। স্বামী পাবে অর্ধেক, যার পরিমাণ ৩, মাতা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ ১, দুই সহোদরা বোন পাবে দুই তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ ৪, বৈপিত্রেয় দুই বোন পাবে এক তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ ২।
দ্বিতীয়টি: যখন মূল মাসআলা ১২ দ্বারা গঠিত হবে, তখন 'আওল হলে মৌলিক মাসআলা ১২ নিম্নেবর্ণিত তিনটি সংখ্যার যেকোনো একটিতে রূপান্তরিত হবে: ১৩, ১৫, ১৭।
১. মূল মাসআলা ১২ "১৩” তে রূপান্তরিত হবে। যেমন- কোনো মহিলা স্বামী, পিতা, একজন মাতা ও একজন কন্যাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মূল মাসআলা ১২ দ্বারা গঠিত হয়ে "১৩” তে রূপান্তরিত হবে। স্বামী পাবে এক চতুর্থাংশ, যার পরিমাণ ৩, পিতা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ ২, মাতা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ ২, আর কন্যা পাবে অর্ধাংশ, যার পরিমাণ ৬।
২. মূল মাসআলা ১২ "১৫” তে রূপান্তরিত হবে। যেমন কোনো মহিলা স্বামী, পিতা, একজন মাতা ও দুই কন্যাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মূল মাসআলা ১২ দ্বারা গঠিত হয়ে "১৫” তে রূপান্তরিত হবে। স্বামী পাবে এক চতুর্থাংশ, যার পরিমাণ ৩, পিতা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ ২, দুই কন্যা পাবে দুই তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ ৮।
৩. মূল মাসআলা ১২ "১৭” তে রূপান্তরিত হবে। যেমন কোনো ব্যক্তি একজন স্ত্রী, একজন মাতা, বৈমাত্রেয় দুই বোন ও বৈপিত্রেয় দুই বোনকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মূল মাসআলা ১২ দ্বারা গঠিত হয়ে "১৭” তে রূপান্তরিত হবে। স্ত্রী পাবে এক চতুর্থাংশ, যার পরিমাণ ৩, মাতা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ ২, বৈমাত্রেয় দুই বোন পাবে দুই তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ ৮, বৈপিত্রেয় দুই বোন পাবে এক তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ ৪।
৪. মূল মাসআলা ২৪ শুধুমাত্র “২৭” এ রূপান্তরিত হবে। যেমন কোনো ব্যক্তি একজন স্ত্রী, পিতা, একজন মাতা ও দুই কন্যাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মূল মাসআলা ২৪ দ্বারা গঠিত হয়ে "২৭” এ রূপান্তরিত হবে। স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ, যার পরিমাণ ৩, পিতা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ ৪, দুই কন্যা পাবে দুই তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ ১৬।
**টিকাঃ**
[৩৮] আছহাবুল ফুরুষ একাধিক হলে কখনও এমন হয় যে, তাদের নির্দিষ্ট অংশগুলো একত্র করলে তার পরিমাণ পরিত্যক্ত সম্পত্তির চেয়ে বেশি হয়ে যায়। এমতাবস্থায় কতক ওয়ারিছকে পূর্ণ অংশ প্রদান করলে বাকী ওয়ারিছদের অংশ কম পড়ে যায় কিংবা একেবারেই বঞ্চিত হয়ে যায়। এ সমস্যার সমাধানকল্পে বণ্টনের মূলরাশিকে বৃদ্ধি করত অংশানুপাতে ওয়ারিছদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন করতে হয়। ফলে প্রত্যেক ওয়ারিছের নির্ধারিত অংশ স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। কাজে উত্তরাধিকার বণ্টনের মূলরাশি বৃদ্ধি ও ওয়ারিছদের নির্ধারিত অংশের হ্রাসপ্রাপ্তিকে আওল বলে। [ফারাইয বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত মাসআলা-মাসায়েল (ইফাবা), পৃ. ৬০]
📄 রদের মাসআলার সমাধান
রদ্দ হলো: আছহাবুল ফুরূযের মাঝে সম্পত্তি বণ্টন শেষে অবশিষ্ট সম্পত্তি তাদের মধ্যে উপযুক্ত ওয়ারিছদের মাঝে তাদের নির্ধারিত অংশের আনুপাতিক হারে পুনর্বণ্টন করা।
রদ্দের কারণ: নির্ধারিত অংশের পরিমাণ হ্রাস পাওয়া ও ওয়ারিছদের প্রাপ্য অংশের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া। সুতরাং রদ্দটা মূলত 'আওলের বিপরীত।
রদ্দের শর্তসমূহ: রদ্দ তিনটি শর্ত ব্যতীত বাস্তবায়িত হতে পারে না। শর্তগুলো হলো: (ক) নির্ধারিত অংশের ওয়ারিছ বিদ্যমান থাকা, (খ) পরিত্যক্ত সম্পত্তির কিছু অতিরিক্ত অংশ (বণ্টনের পরেও) অবশিষ্ট থাকা ও (গ) কোনো আছাবা ওয়ারিছ না থাকা।
যে ওয়ারিছদেরকে অবশিষ্ট সম্পত্তি ফেরত দেওয়া হয় না: পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টনের পরে অবশিষ্ট সম্পত্তি সকল আছহাবুল ফুরূযকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় শুধুমাত্র চারজন ব্যতীত। তারা হলো: স্বামী, স্ত্রী, পিতা ও দাদা। কারণ পিতা ও দাদা উভয়েই আছাবা। ফলে তারা আছাবার ভিত্তিতে অবশিষ্ট সম্পত্তির পুরো ভাগ পাবে; রদ্দের ভিত্তিতে নয়। আর স্বামী-স্ত্রীকে সম্পত্তি একবার বণ্টনের পরে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। কারণ রদ্দের উপযুক্ততার ভিত্তিই হলো রক্তের আত্মীয়তার সম্পর্ক, কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক রক্তসম্পর্কীয় নয়।
যে ওয়ারিছদেরকে অবশিষ্ট সম্পত্তি ফেরত দেওয়া হবে: যে সকল নির্ধারিত অংশের ওয়ারিছদের মাঝে পুনর্বার সম্পদ বণ্টিত হবে, তারা ৮ প্রকার ওয়ারিছ:
কন্যা, পুত্রের কন্যা, সহোদরা বোন, বৈমাত্রেয় বোন, মা, দাদী বা নানী, বৈপিত্রেয় ভাই ও বৈপিত্রেয় বোন।
এক মাসআলায় কখনো তিনশ্রেনীর অধিক সংখ্যক রদ্দের সম্পত্তির অংশীদার জড়ো হতে পারে না।
ছিনফ বা শ্রেণি হলো: ঐ সকল ওয়ারিছ, যারা একটি নির্দিষ্ট ভাগের অংশীদার হয়।
আহলুর রাদ্দ বা রদ্দের সম্পত্তির অংশীদারদের নির্ধারিত অংশের পরিমাণ চারটি: এক ষষ্ঠাংশ, এক তৃতীয়াংশ, অর্ধাংশ ও দুই তৃতীয়াংশ।
রদ্দের সম্পত্তির অংশীদারদের সকল ওয়ারিছীস্বত্বের নির্ধারিত অংশ পূর্ণ সংখ্যা ৬ থেকে নির্ধারিত হবে।
রদ্দের মাসআলাসমূহের কার্যপ্রণালী: রদ্দের সম্পত্তির অংশীদারদের দুইটি অবস্থা:
হয়তবা রদ্দের অংশীদারদের সাথে স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের কোনো একজন থাকবে... অথবা তাদের সাথে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের কেউই থাকবে না।
প্রথম অবস্থা: যখন রদ্দের অংশীদারদের সাথে স্বামী অথবা স্ত্রী থাকবে, তখন উপস্থিত স্বামী বা স্ত্রীকে তার নির্ধারিত অংশ যেমন- অর্ধাংশ, অথবা এক চতুর্থাংশ, অথবা এক অষ্টমাংশ এর পূর্ণ সংখ্যা থেকে ভাগ দেওয়া হবে, আর স্বামী-স্ত্রীর কোনো একজনের নির্ধারিত অংশ প্রদান করার পরে অবশিষ্ট সম্পত্তির পরিমাণ হবে এক, অথবা তিন, অথবা সাত, যেই ভাগগুলো নির্ধারিত অংশের অংশীদার ওয়ারিছদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। যদি রদ্দের উপযুক্ত মাত্র একজন ওয়ারিছ থাকে, তাহলে সেই একজন ওয়ারিছই অবশিষ্ট সম্পত্তি নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে ও রদ্দের ভিত্তিতে গ্রহণ করবে।
এর উদাহরণ হলো:
কোনো মহিলা স্বামী ও একজন কন্যাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মাসআলা গঠিত হবে ৪ দ্বারা: স্বামী পাবে এক চতুর্থাংশ, যার পরিমাণ ১, আর অবশিষ্ট ৩ ভাগ সম্পত্তি কন্যা পাবে নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে ও রদ্দের ভিত্তিতে।
আর যদি অবশিষ্ট সম্পত্তি রদ্দের ভিত্তিতে পাওয়ার উপযুক্ত অংশীদারগণ একাধিক হয় এবং তারা একই শ্রেণির হয়, তাহলে স্বামী বা স্ত্রীর সম্পত্তি বণ্টনের পরে অবশিষ্ট সম্পত্তি রদ্দের উপযুক্ত অংশীদারদের মধ্যে তাদের মাথাপিছু হারে বণ্টন করা হবে, যেমনটি করা হয়ে থাকে আছাবাদের ক্ষেত্রে। এর উদাহরণ হলো: কেউ মারা গেলো একজন স্ত্রী ও সাতজন কন্যা রেখে, তাহলে এই ক্ষেত্রে মাসআলা গঠিত হবে ৮ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ, যার পরিমাণ ১, আর অবশিষ্ট সম্পত্তি তথা ৭ ভাগ পাবে সাতজন কন্যা তাদের মাথাপিছু হারে।
আর যদি অবশিষ্ট সম্পত্তি রদ্দের উপযুক্ত অংশীদারদের মধ্যে সমানভাগে বিভাজিত না হয়, তাহলে তাদের মাথাপিছু সংখ্যা দ্বারা আমরা মূল মাসআলাকে গুণ করব, যদি মূল মাসআলা আর মাথাপিছু সংখ্যার মধ্যে মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক থাকে, অথবা মাথাপিছু সংখ্যার উৎপাদক দ্বারা মূল মাসআলাকে গুণ করব, যদি উভয়টির মধ্যে মুওয়াফাক্বাহ এর সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে। আর নির্ণীত গুণফলই হলো সংশোধিত মাসআলা।
উদাহরণ:
কোনো মহিলা স্বামী ও পাচঁজন কন্যাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মাসআলা গঠিত হবে ৪ দ্বারা: স্বামী পাবে এক চতুর্থাংশ, যার পরিমাণ ১। আর অবশিষ্ট সম্পত্তি ৩ পাঁচ কন্যার মধ্যে সমানভাগে বিভাজিত হয় না। আর তাদের সংখ্যা ৫ ও মূল মাসআলা ৪ এর মধ্যে মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক আছে, তাই আমরা ৫ দ্বারা মূল মাসআলাকে গুণ করলাম। এখন নির্ণীত গুণফল ২০ হলো সংশোধিত মাসআলা। স্বামী পাবে ১x৫= ৫। আর কন্যাগণ পাবে অবশিষ্ট ৩x৫ = ১৫ ভাগ। প্রত্যেক কন্যা পাবে ৩ ভাগ করে।
আর যদি রদ্দের উপযুক্ত ওয়ারিছগণ একাধিক শ্রেণির হয়। যেমন- কন্যা, বোন ও স্ত্রীগণ একত্রে রদ্দের ওয়ারিছ হয়, তাহলে কার্যপ্রণালী নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি অনুসারে হবে:
১. স্বামী বা স্ত্রীর যেকোনো একজনের নির্ধারিত অংশের পূর্ণ সংখ্যা দ্বারা মাসআলা গঠন করে স্বামী বা স্ত্রীকে তার অংশ দিয়ে দেওয়া হবে, আর অবশিষ্ট অংশ রদ্দের উপযুক্ত ওয়ারিছদের জন্য। আর যদি মাসআলার তাছুহীহ বা সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহলে মাসআলা সংশোধন করতে হবে।
২. ছয় দ্বারা মূল মাসআলা গঠন করতে হবে রদ্দের উপযুক্ত ওয়ারিছদের জন্য যেমনটি ইতোপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে, আর মাসআলা সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দিলে সংশোধন করতে হবে।
৩. রদ্দের মাসআলার মধ্যে আর স্বামী বা স্ত্রীর অংশের (পূর্ণ সংখ্যা দ্বারা গঠিত) মাসআলায় স্বামী বা স্ত্রীর নির্ধারিত অংশ বণ্টনের পরে অবশিষ্ট সম্পত্তির মধ্যে লক্ষ্য করে দেখতে হবে, যদি অবশিষ্ট সম্পত্তি রদ্দের মাসআলার মধ্যে সমানভাগে বিভক্ত করা যায়, তাহলে স্বামী বা স্ত্রীর নির্ধারিত অংশের মাসআলায় অবশিষ্ট সম্পত্তি দ্বারাই রদ্দের মাসআলা গঠন করা ছুহীহ হবে।
এর উদাহরণ হলো:
কেউ একজন স্ত্রী, একজন মাতা ও বৈপিত্রেয় দুই ভাইকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মাসআলা গঠিত হবে ৪ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক চতুর্থাংশ, যার পরিমাণ ১, অবশিষ্ট ৩ ভাগ পাবে মাতা ও বৈপিত্রেয় দুই ভাই।
আর রদ্দের মূল মাসআলা গঠিত হবে ৬ দ্বারা: মাতা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ এক, আর বৈপিত্রেয় দুই ভাই পাবে এক তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ দুই, স্বামী বা স্ত্রীর অংশ দ্বারা গঠিত মাসআলার অবশিষ্ট সম্পত্তি রদ্দের উপযুক্ত ওয়ারিছদের মাসআলার মধ্যে সমানভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে, এর পরে রদ্দের মাসআলার মাধ্যমে অবশিষ্ট সম্পত্তি উক্ত তিনজনের (মাতা ও বৈপিত্রেয় দুই ভাই) মধ্যে সমানভাগে বণ্টন করে দেওয়া হবে।
আর যদি এই অবশিষ্ট সম্পত্তি রদ্দের মাসআলার মধ্যে সমানভাগে বিভক্ত করা না যায়, তাহলে আমরা স্বামী বা স্ত্রীর মাসআলা দ্বারা রদ্দের পূর্ণ মাসআলাকে গুণ করব যদি স্বামী বা স্ত্রীর মাসআলার সংখ্যা আর রদ্দের মাসআলার সংখ্যার মধ্যে মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক থাকে। আর যদি স্বামী বা স্ত্রীর মাসআলার সংখ্যা আর রদ্দের মাসআলার সংখ্যার মধ্যে মুওয়াফাক্বাহ এর সম্পর্ক থাকে, তাহলে স্বামী বা স্ত্রীর মাসআলার উৎপাদক দ্বারা রদ্দের পূর্ণ মাসআলাকে গুণ করব, আর নির্ণীত গুণফল হবে উভয় মাসআলার সমন্বয়ক বা সম্পূরক। সুতরাং যে স্বামী বা স্ত্রীর মাসআলা থেকে কোনো আংশিক ভাগ পাবে, সে উক্ত অংশ দ্বারা রদ্দের পূর্ণ মাসআলাকে গুণ করবে, যদি তার অংশ আর রদ্দের মাসআলার মধ্যে মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক থাকে। আর যদি উক্ত ওয়ারিছের অংশ আর রদ্দের মাসআলার মধ্যে মুওয়াফাক্বাহ এর সম্পর্ক থাকে, তাহলে তার অংশের উৎপাদক দ্বারা রদ্দের পূর্ণ মাসআলাকে গুণ করবে, এখন নির্ণীত গুণফলই হলো সংশ্লিষ্ট ওয়ারিছের প্রাপ্য অংশ।
আর যে ওয়ারিছ রদ্দের মাসআলা থেকে ভাগ পাবে, সে তার অংশ দ্বারা স্বামী বা স্ত্রীর অবশিষ্ট পূর্ণ সম্পত্তিকে গুণ করবে যদি তার রদ্দের মাসআলার ভাগের মধ্যে আর অবশিষ্ট সম্পত্তির মধ্যে মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক থাকে। আর যদি তার রদ্দের মাসআলার ভাগের মধ্যে আর অবশিষ্ট সম্পত্তির মধ্যে মুওয়াফাক্বাহ এর সম্পর্ক থাকে, তাহলে তার রদ্দের মাসআলার অংশের উৎপাদক দ্বারা অবশিষ্ট পূর্ণ সম্পত্তিকে গুণ করবে যদি অবশিষ্ট পূর্ণ সম্পত্তির মধ্যে আর রদ্দের মাসআলার মধ্যে মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক থাকে। আর যদি উভয়টির মধ্যে মুওয়াফাক্বাহ এর সম্পর্ক থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ওয়ারিছের রদ্দের মাসআলার অংশের উৎপাদক দ্বারা অবশিষ্ট পূর্ণ সম্পত্তিকে গুণ করবে, আর নির্ণীত গুণফলই হলো তার প্রাপ্য অংশ।
৪ x ৪ = ১৬
১ স্বামী = ১ x ৪ = ৪
৩ কন্যা = ৩ x ৩ = ৯
১ পুত্রের কন্যা = ১ x ৩ = ৩
১. প্রথম চিত্রে স্বামী-স্ত্রীর মাসআলা ৪ দ্বারা গঠিত হয়েছে: স্বামী পাবে এক চতুর্থাংশ, যার পরিমাণ ১, আর অবশিষ্ট তিনভাগ হলো রদ্দের ওয়ারিছদের জন্য। এখন নতুনভাবে রদ্দের মাসআলা গঠিত হবে ৬ দ্বারা: কন্যা পাবে অর্ধেক, যার পরিমাণ ৩, আর পুত্রের কন্যা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ ১, উভয়ের ভাগের সম্মিলিত পরিমাণ হলো ৪, তাই ৬ কে পরিবর্তন করে ৪ এ রূপান্তর করা হবে। এখন স্বামী-স্ত্রীর মাসআলার অবশিষ্ট ভাগ ৩ রদ্দের মাসআলা ৪ এর মধ্যে সমানভাগে বিভাজিত হয় না, তাই আমরা স্বামী- স্ত্রীর মাসআলা ৪ দ্বারা রদ্দের মাসআলা ৪ কে গুণ করলাম, গুণফল ১৬ হলো সমন্বয়কারী মাসআলা।
৪ x ২ = ৮
১ স্ত্রী = ১ x ২ = ২
৩ (দাদী-নানী ও বৈপিত্রেয় ভাই) =
১ দাদী-নানী = ১ x ২ = ২
২ বৈপিত্রেয় ভাই = ২ x ২ = ৪
২. দ্বিতীয় চিত্রে স্বামী-স্ত্রীর মাসআলা গঠিত হয়েছে ৪ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক চতুর্থাংশ, যার পরিমাণ ১, আর অবশিষ্ট তিনভাগ রদ্দের ওয়ারিছদের জন্য, রদ্দের আসল মাসআলা গঠিত হবে ৬ দ্বারা, দুইজন দাদী-নানী পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ ১, আর বৈপিত্রেয় দুই ভাই পাবে এক তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ ২, এখন রদ্দের মূল মাসআলা ৬ কে পরিবর্তন করে ৩ এ রূপান্তরিত করা হবে। আর যেহেতু স্বামী-স্ত্রীর মাসআলার ৩ ভাগ অবশিষ্ট সম্পত্তি রদ্দের মাসআলা ৬ দ্বারা সমানভাগে বিভাজিত হয় না (বরং আরো কিছু ভাগ অবশিষ্ট থেকে যায়), বরং ৩ এর সাথে ৬ এর মুওয়াফাক্বাহ এর সম্পর্ক, তাই আমরা ৬ এর উৎপাদক ২ দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর পূর্ণ মাসআলা ৪ কে গুণ করব। গুণফল ৮ হলো সমন্বয়কারী মাসআলা, এর পরে প্রত্যেক ওয়ারিছের প্রাপ্য অংশ পূর্বে বর্ণিত নিয়মানুযায়ী প্রত্যেককে প্রদান করা হবে।
দ্বিতীয় অবস্থা: যখন স্বামী অথবা স্ত্রী উভয়ের কেউ রদ্দের ওয়ারিছদের সঙ্গে উপস্থিত না থাকবে। এই ক্ষেত্রে রদ্দের ওয়ারিছদের তিনটি অবস্থা:
১. যখন রদ্দের উপযুক্ত ওয়ারিছ হবে মাত্র একজন ব্যক্তি, তখন তাকে সমস্ত সম্পত্তি নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে ও রদ্দের ভিত্তিতে দিয়ে দিতে হবে, কোনো মাসআলা গঠন করা ছাড়াই।
২. যখন রদ্দের সকল ওয়ারিছ একই শ্রেণির হয়, তখন তাদের মাসআলা গঠিত হবে তাদের সংখ্যা দ্বারা, যেমনটি আছাবাদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। উদাহরণ হলো: দুই কন্যা, অথবা পুত্রের পাঁচ কন্যা, অথবা আপন চার বোন, তাহলে মাসআলা গঠিত হবে তাদের সংখ্যা দ্বারা, যেমনটি আছাবাদের ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে।
৩. যখন রদ্দের ওয়ারিছগণ একাধিক শ্রেণির হয়, যেমন- দাদী-নানীগণ যখন বোনদের সাথে ওয়ারিছ হবে এবং এ জাতীয় আরো যত উদাহরণ আছে। এই ক্ষেত্রে তাদের মাসআলা গঠিত হবে ৬ দ্বারা, আর তাদের নির্ধারিত অংশগুলো নির্ণয় করা হবে এমনভাবে, যেনো তাদের মাসআলায় কোনো রদ্দ নেই। এরপরে তাদের প্রাপ্য অংশগুলোকে যোগ করা হবে, নির্ণীত যোগফল দ্বারা 'আওলের ন্যায় রদ্দের মাসআলা গঠন করা হবে, আর যদি তাছুহীহের প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহলে তাহুহীহ করতে হবে। এর উদাহরণ হলো:
নির্ধারিত অংশ ও রদ্দ হিসেবে
৩ আপন বোন
২ মাতা
কোনো ব্যক্তি একজন আপন বোন ও একজন মাতাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মাসআলা গঠিত হবে ৬ দ্বারা, মাতা পাবে এক তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ ২, আর অর্ধেক পাবে আপন বোন, যার পরিমাণ ৩। এখন আমরা রদ্দের ওয়ারিছদের প্রাপ্য অংশের যোগফল ৫ দ্বারা নতুনভাবে মাসআলা গঠন করব, যেখানে আপন বোন পাবে ৩ ভাগ নির্দিষ্ট অংশের ভিত্তিতে ও রদ্দের ভিত্তিতে, আর মাতা পাবে ২ ভাগ নির্দিষ্ট অংশের ভিত্তিতে ও রদ্দের ভিত্তিতে। উপরের চিত্রে লেখক এই মাসআলাটিই উল্লেখ করেছেন।
এই চিত্রে লেখক যেই মাসআলার উদাহরণ দিয়েছেন, তা হলো:
৩ x ৩ = ৯
১ মাতা = ১ x ৩ = ৩ (নির্ধারিত অংশ ও রদ্দ হিসেবে)
২ বৈপিত্রেয় ভাই = ২ x ৩ = ৬ (নির্ধারিত অংশ ও রদ্দ হিসেবে)
কোনো ব্যক্তি একজন মাতা ও বৈপিত্রেয় তিনভাইকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে এই ক্ষেত্রে মাসআলা গঠিত হবে ৬ দ্বারা, এই মাসআলায় মাতা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ ১, আর বৈপিত্রেয় তিন ভাই পাবে এক তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ ২। এখন মাসআলা যেহেতু রদ্দের মাসআলা, তাই আমরা ওয়ারিছদের সম্পত্তির সম্মিলিত ভাগের যোগফল ৩ দ্বারা নতুনভাবে মাসআলা গঠন করলাম, যেখানে মাতা পাবে একভাগ, আর বৈপিত্রেয় তিন ভাই পাবে ২ ভাগ। কিন্তু তিন ভাইয়ের মধ্যে দুই ভাগ সম্পত্তি সমানভাগে বিভাজিত হয় না, তাই আমরা এখন এই মাসআলার তাছুহীহ করব। তাছুহীহ এর নিয়মানুযায়ী আমরা দেখব, যেই ওয়ারিছদের সম্পত্তি তাদের মধ্যে সমানভাগে বিভাজিত হয় না, তাদের সম্পত্তির ভাগ ২ আর তাদের সংখ্যা ৩ এর মধ্যে কী সম্পর্ক। আমরা দেখলাম, এখানে উভয়টির মধ্যে মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক। তাই সরাসরি তাদের সংখ্যা ৩ দ্বারা যা এখন ওয়ারিছদের নির্ধারিত অংশের আংশিক ভাগ মাসআলা ৩ কে গুণ করলাম, নির্ণীত গুণফল ৯ হলো তাছুহীহকৃত তথা সংশোধিত মাসআলা। এখন আমরা মাতার ভাগ নির্ণয় করব মাতার প্রাপ্য অংশ ১ দ্বারা ওয়ারিছদের আংশিক ভাগ ৩ কে গুণ করে, নির্ণীত গুণফল ৩ হলো মাতার ভাগ। আর বৈপিত্রেয় তিন ভাইয়ের প্রাপ্য অংশ ২ দ্বারা ওয়ারিছদের আংশিক ভাগ ৩ কে গুণ করলে নির্ণীত গুণফল ৬ হবে বৈপিত্রেয় ভাইদের ভাগ, যা তাদের মধ্যে সমানভাগে বিভাজিত হয়।
**টিকাঃ**
[৩৯] আর যদি অবশিষ্ট সম্পত্তি রদ্দের মাসআলার মধ্যে সমানভাগে বিভক্ত করা না যায়, তাহলে স্বামী বা স্ত্রীর অংশ দ্বারা গঠিত মাসআলার অবশিষ্ট সম্পত্তি দ্বারা রদ্দের মাসআলা গঠন করা ছুহীহ হবে না।
[৪০] অর্থাৎ এমন মাসআলা, যেই মাসআলা থেকে স্বামী, বা স্ত্রীসহ সকল ওয়ারিছের সম্পত্তি তাদের প্রাপ্য অংশের আনুপাতিকহারে সমানভাবে বণ্টন করা যায়।
📄 যাউল আরহাম আত্মীয়গণের মীরাছ
যাউল আরহাম: যাউল আরহাম হলো এমন আত্মীয়, যে কোনোভাবে ওয়ারিছ হতে পারে না, না নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে, না আছাবা হিসেবে।
যাউল আরহাম এর প্রকারভেদ: যাউল আরহাম চার প্রকারে বিভক্ত:
প্রথম প্রকার: মৃতব্যক্তির ঐ সকল অধস্তন আত্মীয়গণ, যারা তার আত্মীয় হয়েছে কোনো নারীর মাধ্যমে। এমন আত্মীয়গণ দুই প্রকারে বিভক্ত: ক-আপন কন্যার সন্তানগণ খ-পুত্রের কন্যার সন্তানগণ এবং বর্ণিত উভয় দলের সন্তানদের অধস্তন যেকোনো পুরুষ বা নারী সন্তান। যেমন: কন্যার কন্যা, কন্যার পুত্রের কন্যা, পুত্রের কন্যার পুত্র, পুত্রের কন্যার কন্যা ও তাদের অধস্তন যেকোনো (পুরুষ বা নারী) সন্তান।
দ্বিতীয় প্রকার: মৃতব্যক্তির ঐ সকল ঊর্ধ্বতন পুরুষ আত্মীয়, যারা তার আত্মীয় হয়েছে কোনো নারীর মাধ্যমে, চাই ঐ সকল আত্মীয় পুরুষ হোক অথবা নারী, তারা দুই প্রকারে বিভক্ত:
১. নানাগণ: যেমন- মৃতব্যক্তির নানা ও নানার পিতা।
২. নানীগণ: যেমন- নানার মাতা ও নানার নানী।
তাদেরকে ফারায়েয শাস্ত্রের পরিভাষায় (ওয়ারিছ হওয়ার) অনুপযুক্ত নানা বলে, চাই তারা যতই ঊর্ধ্বতন পুরুষ হন না কেনো। অনুরূপভাবে অনুপযুক্ত নানী, চাই তারা যতই ঊর্ধ্বতন নারী হন না কেনো।
তৃতীয় প্রকার: মৃত ব্যক্তির মাতা-পিতার অধস্তন সন্তানগণ। আর তারা হলো ভাই ও বোনগণ। এই তৃতীয় প্রকারের আত্মীয়গণ তিন প্রকারে বিভক্ত:
১. বোনদের যেকোনো সন্তান, তারা যতই অধস্তন হোক না কেনো। যেমন: বোনের পুত্র, বোনের কন্যা, বোনের কন্যার পুত্র, বোনের পুত্রের কন্যা ও তাদের অধস্তন যেকোনো সন্তান।
২. ভাইদের যেকোনো সন্তান, তারা যতই অধস্তন হোক না কেনো। যেমন: আপন ভাইয়ের কন্যা, বৈমাত্রেয় ভাইয়ের কন্যা, আপন ভাইয়ের অথবা বৈমাত্রেয় ভাইয়ের কন্যার পুত্র, তারা যতই অধস্তন কন্যা হোক না কেনো।
৩. বৈপিত্রেয় ভাইদের সন্তানগণ, তারা যতই অধস্তন সন্তান হোক না কেনো। যেমন: বৈপিত্রেয় ভাইয়ের পুত্র, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের কন্যা, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের পুত্রের কন্যা, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের কন্যার পুত্র ও তাদের অধস্তন যেকোনো সন্তান।
চতুর্থ প্রকার: দাদা-দাদী বা নানা-নানীর কোনো অধস্তন সন্তান, যারা আছহাবুল ফুরূযের অন্তর্ভুক্তও নয়, আবার আছাবাও নয়। এমন আত্মীয়গণ ছয় ভাগে বিভক্ত:
১. বৈপিত্রেয় চাচাগণ, সকল প্রকার ফুফু, সকল প্রকার মামা ও খালা।
২. উপরে বর্ণিত আত্মীয়দের সন্তানাদি, তারা যতই অধস্তন সন্তান হোক না কেনো। মৃতব্যক্তির চাচার কন্যাগণ, মৃতব্যক্তির চাচার পুত্র বা তারচেয়েও অধস্তন যেকোনো পুত্রের কন্যাগণ।
৩. মৃতব্যক্তির পিতার বৈপিত্রেয় চাচাগণ, মৃতব্যক্তির পিতার সর্বপ্রকার ফুফু, মামা ও খালাগণ, যারা মৃতব্যক্তির পিতৃকুলের দিক থেকে আত্মীয় হয়েছে। এমনিভাবে মৃতব্যক্তির মাতার আপন চাচা, ফুফু, মামা ও খালাগণ, যারা মৃতব্যক্তির মাতৃকুলের দিক থেকে আত্মীয় হয়েছে।
৪. উপরের লাইনে যাদের তালিকা দেওয়া হলো, তাদের যেকোনো অধস্তন সন্তান।
৫. মৃতব্যক্তির দাদার বৈপিত্রেয় চাচা ও ফুফুগণ, মৃতব্যক্তির দাদার মামা ও খালাগণ, মৃতব্যক্তির দাদীর আপন চাচা ও ফুফুগণ, মামা ও খালাগণ।
৬. উপর্যুক্ত ব্যক্তিদের সন্তান ও তাদের যেকোনো অধস্তন সন্তান।
যাউল আরহাম আত্মীয়দের ওয়ারিছ হওয়ার শর্ত:
যাউল আরহাম আত্মীয়গণ দুই শর্তে ওয়ারিছ হতে পারবে:
ক-স্বামী-স্ত্রী ব্যতীত অন্য সকল আছুহাবুল ফুরূয ওয়ারিছ উপস্থিত না থাকা।
খ-কোনো আছাবা বা অবশিষ্টাংশ ভোগীগণ উপস্থিত না থাকা।
যাউল আরহাম আত্মীয়তার সূত্রসমূহ:
যাউল আরহাম আত্মীয়তার সূত্র তিনটি: পুত্রত্ব, পিতৃত্ব, মাতৃত্ব।
যাউল আরহাম আত্মীয়দের মীরাছ বণ্টনের পদ্ধতি:
যাউল আরহাম আত্মীয়দের মীরাছ বণ্টন হবে স্থলাভিষিক্ত করার মাধ্যমে। প্রত্যেক যাউল আরহাম আত্মীয়কে ঐ ওয়ারিছের স্থলাভিষিক্ত করা হবে, যার মাধ্যমে বা যার সূত্রে সে মৃতব্যক্তির আত্মীয় হয়েছে। এরপরে যাদের মাধ্যমে যাউল আরহাম আত্মীয়গণ আত্মীয় হয়েছে, সেই মাধ্যম আত্মীয়দের নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে সম্পত্তি বণ্টন করা হবে। আর মাধ্যম আত্মীয়ের ভাগে যেই পরিমাণ ধার্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট স্থলাভিষিক্ত আত্মীয় গ্রহণ করবে।
নিম্নেবর্ণিত পদ্ধতিতে স্থলাভিষিক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে:
১. কন্যার সন্তানগণ কন্যাদের স্থলাভিষিক্ত হবে, পুত্রের কন্যাদের সন্তানগণ পুত্রের কন্যাদের স্থলাভিষিক্ত হবে।
২. আপন বোনদের সন্তানগণ আপন বোনদের স্থলাভিষিক্ত হবে, ভাইদের কন্যা ভাইদের স্থলাভিষিক্ত হবে, ভাইদের পুত্রদের কন্যা ভাইয়ের পুত্রের স্থলাভিষিক্ত হবে, বৈপিত্রেয় ভাইদের সন্তানগণ বৈপিত্রেয় ভাইদের স্থলাভিষিক্ত হবে, আর বৈপিত্রেয় বোনদের সন্তানগণ বৈপিত্রেয় বোনের স্থলাভিষিক্ত হবে।
৩. আপন চাচা ও বৈমাত্রেয় চাচাদের কন্যাগণ চাচাদের স্থলাভিষিক্ত হবে। আর আপন ও বৈমাত্রেয় চাচাদের পুত্রদের কন্যাগণ চাচার পুত্রের স্থলাভিষিক্ত হবে।
৪. বৈপিত্রেয় চাচা ও সকল ফুফু পিতার স্থলাভিষিক্ত হবে।
৫. মৃতব্যক্তির মামাগণ, তার খালাগণ, তার নানা ও যেসকল ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নানার মাধ্যমে মৃতব্যক্তির আত্মীয় হয়েছে, তারা সকলেই মাতার স্থলাভিষিক্ত হবে।
৬. পিতার মামাগণ, তার খালাগণ, তার নানা ও যেসকল ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নানার মাধ্যমে মৃতব্যক্তির আত্মীয় হয়েছে, তারা সকলেই পিতার স্থলাভিষিক্ত হবে।
৭. মাতার মামাগণ, তার খালাগণ, তারা নানা ও যেসকল ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নানার মাধ্যমে মৃতব্যক্তির আত্মীয় হয়েছে, তারা সকলেই মাতার স্থলাভিষিক্ত হবে।
৮. প্রত্যেক এমন আত্মীয়, যারা উপরে বর্ণিত বিভিন্ন (৭) শ্রেণির আত্মীয়দের কোনো এক শ্রেণির মাধ্যমে আত্মীয় হয়েছে, এমন আত্মীয় উক্ত মাধ্যম আত্মীয়ের স্থলাভিষিক্ত হবে। যেমন- ফুফুর ফুফু, খালার খালা।
উদাহরণসমূহ:
১. কোনো ব্যক্তি একজন কন্যার কন্যা, একজন ভাইয়ের কন্যা ও একজন চাচার কন্যাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে এই ক্ষেত্রে এমন ওয়ারিছদেরকে মাধ্যম আত্মীয়দের স্থলাভিষিক্ত করে তাদের অংশের পরিমাণ ধার্য করা হবে যেমন- কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল একজন কন্যা, একজন ভাই ও একজন চাচাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মাসআলা গঠিত হবে ২ দ্বারা: কন্যা পাবে অর্ধাংশ, যার পরিমাণ ১, আর অবশিষ্ট সম্পত্তি ভাই পাবে আছাবার ভিত্তিতে, আর চাচা কিছুই পাবে না ভাই উপস্থিত থাকার কারণে।
২. কোনো ব্যক্তি একজন খালা ও ফুফুকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে এই ক্ষেত্রে উভয়কে যথাক্রমে মাতা ও পিতার স্থলাভিষিক্ত করা হবে, আর মাসআলা গঠিত হবে ৩ দ্বারা: মাতা পাবে এক তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ ১, আর অবশিষ্ট সম্পত্তি পিতা পাবে।
৩. কোনো ব্যক্তি একজন পুত্রের কন্যা, পুত্রের কন্যার কন্যা, আপন বোনের কন্যা ও বৈমাত্রেয় বোনের কন্যাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে এই ক্ষেত্রে উপরোক্ত সকল ওয়ারিছকে তাদের মাধ্যম আত্মীয়দের স্থলাভিষিক্ত করা হবে, যেনো কোনো ব্যক্তি একজন কন্যা, একজন পুত্রের কন্যা, আপন বোন ও বৈমাত্রেয় বোনকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, এখন মাসআলা গঠিত হবে ৬ দ্বারা: কন্যা পাবে অর্ধাংশ, যার পরিমাণ ৩, পুত্রের কন্যা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ ১, আপন বোন পাবে অবশিষ্ট ২ ভাগ সম্পত্তি, আর বৈমাত্রেয় বোন কিছুই পাবে না। এরপরে প্রত্যেকের সন্তানকে তাদের পিতার প্রাপ্য অংশ প্রদান করা হবে, অর্থাৎ তারা এই পদ্ধতিতেই নিজেদের মধ্যে এমনভাবে ভাগ করে নিবে, যেনো মনে হয় যে, তাদের সংশ্লিষ্ট মাধ্যম আত্মীয়গণ তাদেরকে রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন। এই পদ্ধতিতেই যাউল আরহাম আত্মীয়দের সকল মাসআলার হিসাব সম্পন্ন করা হবে।
**টিকাঃ**
৪১. এখানে মৃতব্যক্তির এমন চাচার কথা বলা হয়েছে, যেই চাচার পিতা আর মৃতব্যক্তির পিতার দাদা এক ব্যক্তি নয়, তবে মৃতব্যক্তির উক্ত পিতার চাচার মা আর মৃতব্যক্তির বাবার মা এক।