📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 আহলুল ফুরূয (নির্ধারিত অংশের ওয়ারিছগণ) এর মাসাঈলের প্রকারভেদ

📄 আহলুল ফুরূয (নির্ধারিত অংশের ওয়ারিছগণ) এর মাসাঈলের প্রকারভেদ


আহলুল ফুরূযের মাসআলা মোট তিন প্রকার:
১. আল-মাসআলাতুল 'আদিলাহ:
এমন মাসআলা, যেই মাসআলায় ওয়ারিছদের (মীরাছের) নির্ধারিত অংশগুলো (অংশগুলোর সম্মিলিত যোগফল) মূল মাসআলার সঙ্গে (অর্থাৎ ভাজকের সঙ্গে) হুবহু মিলে যায়। যেমন: কেউ স্বামী ও একজন আপন বোন রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে সম্পত্তি ভাগ করতে হবে ২ দ্বারা: স্বামী পাবে অর্ধেক- যার পরিমাণ এক আর আপন বোন পাবে অর্ধেক- যার পরিমাণও এক।

২. আল মাসআলাতুল 'আয়িলাহ:
এমন মাসআলা, যেই মাসআলায় ওয়ারিছদের (মীরাছের) নির্ধারিত অংশগুলো (অংশগুলোর সম্মিলিত যোগফল) মূল মাসআলার চেয়ে (অর্থাৎ ভাজকের চেয়ে) বেশি হয়। যেমন: কোনো নারীর মৃত্যুর পরে তার স্বামী ও বৈমাত্রেয় দুইবোন তার ওয়ারিছ হলো, এখন স্বামীকে অর্ধাংশ দিলে দুইবোনের ভাগ অবশিষ্ট থাকে না- আর এ মাসআলায় দুই বোনের অংশ হচ্ছে, দুই তৃতীয়াংশ। যাহোক, এখানে মূল মাসআলা হবে ছয় দ্বারা, কিন্তু মূল মাসআলা প্রত্যেক ওয়ারিছের মাঝে নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে সমানভাগে বিভাজ্য নয় বলে 'আওলের মাধ্যমে (ওয়ারিছদের নির্ধারিত অংশের সম্মিলিত যোগফলের দিকে লক্ষ্য করে) মূল মাসআলা গঠন করতে হবে সাত দ্বারা। এখন স্বামী পাবে অর্ধেক, যার পরিমাণ তিন, আর দুইবোন পাবে দুই তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ চার। আর এই ক্ষেত্রে ('আওলের মাসআলায়) প্রত্যেক ওয়ারিছেরই যার যার নির্ধারিত অংশের আনুপাতিক হারে লোকসান হবে।

৩. আল মাসআলাতুন নাকিছাহ:
এমন মাসআলা, যেই মাসআলায় ওয়ারিছদের (মীরাছের) নির্ধারিত অংশগুলো (অংশগুলোর সম্মিলিত যোগফল) মূল মাসআলার চেয়ে কম হয়।
এমন পরিস্থিতিতে অবশিষ্ট অতিরিক্ত অংশটুকু স্বামী-স্ত্রী ব্যতীত অন্যসকল আছহাবুল ফুরূযের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হবে। বিধায় যখন ওয়ারিছদের নির্ধারিত অংশগুলো পরিত্যক্ত সম্পত্তির চেয়ে কম হবে আর ওয়ারিছদের মাঝে কোনো আছাবাও বিদ্যমান থাকবে না, তখন অবশিষ্ট সম্পত্তি পুনরায় ওয়ারিছদের মাঝে তাদের নির্ধারিত অংশের অনুপাতে বণ্টন করে দেওয়া হবে। যেমন: কোনো ব্যক্তি একজন স্ত্রী ও একজন কন্যা রেখে মৃত্যুবরণ করল, তখন মাসআলা হবে ৮ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ- যার পরিমাণ এক, কন্যা পাবে অর্ধাংশ- যার পরিমাণ চার এবং অবশিষ্ট তিনভাগ পুনরায় তাদের মধ্যে নির্ধারিত অংশের অনুপাতে বণ্টন করা হবে।

**টিকাঃ**
[৫] অথচ সাতের অর্ধেক কখনোই তিন হয় না, আর কুরআনে স্বামীর জন্য এই ক্ষেত্রে মোট সম্পত্তির অর্ধেক ধার্য করা হয়েছে, যা স্বামীকে দিতে গেলে দুইবোনের নির্ধারিত অংশ দুই তৃতীয়াংশ দুইবোনকে দেওয়া সম্ভব না, অথচ কুরআনে দুই বোনের জন্যেও দুই তৃতীয়াংশ ধার্য করে দেওয়া হয়েছে, এখন স্বামীকে তার নির্ধারিত অর্ধাংশ – যার পরিমাণ তিন – দিতে গেলে দুইবোনকে দুই তৃতীয়াংশের ভাগ যা পরিমাণ চার – দেওয়া যায় না। কারণ, চার আর তিনের যোগফল সাত, যা মূল মাসআলার চেয়ে বড়।

📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 আচ্ছা-এর বিধান

📄 আচ্ছা-এর বিধান


আছাবার সংজ্ঞা: আছাবা এমন ওয়ারিছ, যে অনির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে সম্পত্তি পাবে।
আছাবার প্রকারভেদ: আছাবা দুইভাগে বিভক্ত:
(১) আছাবা বিন-নাসাব ও
(২) আছাবা বিস-সাবাব।

(১) আছাবা বিন-নাসাব
আছাবা বিন-নাসাব তিন প্রকারে বিভক্ত:
১. আছাবা বিন-নাফস:
স্বামী ও বৈপিত্রেয় ভাই ব্যতীত প্রত্যেক পুরুষ ওয়ারিছই আছাবা। তারা হলো: পুত্র, পুত্রের পুত্র ও তার চেয়ে অধস্তন যেকোনো পুরুষ, পিতা, দাদা ও তার চেয়ে ঊর্ধ্বতন যেকোনো পুরুষ, আপন ভাই, বৈমাত্রেয় ভাই, আপন ভাইয়ের পুত্র ও তার চেয়ে অধস্তন যেকোনো পুরুষ, বৈমাত্রেয় ভাইয়ের পুত্র ও তার চেয়ে অধস্তন যেকোনো পুরুষ, আপন চাচা, বৈমাত্রেয় চাচা, আপন চাচার পুত্র ও তার চেয়ে অধস্তন যেকোনো পুরুষ, বৈমাত্রেয় চাচার পুত্র ও তার চেয়ে অধস্তন যেকোনো পুরুষ ও কৃতদাসকে আযাদকারী।
বর্ণিত ব্যক্তিদের মধ্য হতে কেউ যদি এককভাবে ওয়ারিছ হয় (আর অন্যকোনো ওয়ারিছ না থাকে), তাহলে সে সমস্ত সম্পদ গ্রহণ করবে। আর যদি আছহাবুল ফুরূযের সঙ্গে ওয়ারিছ হয়, তাহলে আছহাবুল ফুরূযের অংশ বণ্টন শেষে অবশিষ্ট সম্পত্তি সে গ্রহণ করবে। কিন্তু যদি আছহাবুল ফুরূযের অংশ বণ্টন করতে যেয়ে সমস্ত সম্পদ শেষ হয়ে যায়, তবে উক্ত আছাবা বাদ পড়ে যাবে। অবশ্য ঔরসজাত পুত্র ও বাবা বিদ্যমান থাকাকালে কোনোভাবেই আছহাবুল ফুরূযের অংশ বণ্টনে সমস্ত সম্পত্তি শেষ হবে না।

আছাবা হওয়ার দিকগুলো: আছাবা হওয়ার কোনো কোনো দিক কোনো কোনো দিকের চেয়ে অধিক নিকটতম, আছাবা হওয়ার দিকগুলো যথাক্রমে পাঁচটি স্তরে বিভক্ত:
১. পুত্র হওয়া
২. অতঃপর পিতা হওয়া
৩. অতঃপর ভাই হওয়া বা ভাইদের পুত্র হওয়া
৪. অতঃপর চাচা হওয়া বা চাচার পুত্র হওয়া
৫. অতঃপর ওয়ালার সম্পর্ক থাকা।
সুতরাং পুত্র বিদ্যমান থাকলে সে সম্পত্তি পাবে। যদি পুত্র না থাকে, তাহলে পরিত্যক্ত সম্পত্তি পিতার দিকে স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। যদি পিতা বিদ্যমান না থাকে, তাহলে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ভাইদের দিকে স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। যদি ভাই বিদ্যমান না থাকে, তাহলে পরিত্যক্ত সম্পত্তি চাচার দিকে স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। আর যদি চাচাও বিদ্যমান না থাকে, তাহলে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ওয়ালার দিকে স্থানান্তরিত হয়ে যাবে।

ওয়ারিছ আছাবার সংখ্যা যদি একাধিক হয়, তাহলে তাদের বিধান:
যদি দুই বা ততোধিক আছাবা একত্রিত হয়, তাহলে তাদের চারটি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: উভয় আছাবাই আছাবা হওয়ার দিক থেকে ও নৈকট্যের দিক থেকে সমপর্যায়ের। যেমন- দুই পুত্র, অথবা দুইভাই, অথবা দুই চাচা। এই অবস্থায় উভয়েই সমান হারে সম্পদ পাবে।
দ্বিতীয় অবস্থা: উভয়েই আছাবা হওয়ার দিক ও স্তরের (প্রজন্ম) দিক থেকে সমপর্যায়ের, কিন্তু নৈকট্যের দিক থেকে উভয়ের মাঝে তারতম্য বিদ্যমান। যেমন- আপন চাচা ও বৈমাত্রেয় চাচা, এই ক্ষেত্রে নিকটতর চাচাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। বিধায় আপন চাচা ওয়ারিছ হবে; বৈমাত্রেয় চাচা নয়।
তৃতীয় অবস্থা: উভয়েই আছাবা হওয়ার দিক থেকে সমপর্যায়ের, কিন্তু প্রজন্মের দিক থেকে ভিন্ন। যেমন- পুত্র সন্তান আর পুত্রের পুত্র সন্তান। এই ক্ষেত্রে প্রজন্মের দিক থেকে নিকটতম আছাবাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। বিধায় সমস্ত সম্পত্তি পুত্র পাবে।
চতুর্থ অবস্থা: উভয় আছাবা আছাবা হওয়ার দিক থেকে সমপর্যায়ের না হলে নিকটতর আছাবাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে- যদিও সে প্রজন্মের স্তরের দিক থেকে তার চেয়ে দূরবর্তী। কারণ অপর আছাবা যদিও প্রজন্মের স্তরের দিক থেকে মৃতব্যক্তির অধিক নিকটতর, কিন্তু সে আছাবা হওয়ার দিক থেকে অপর আছাবার তুলনায় মৃতব্যক্তির অনেক দূরের সম্পর্কের আত্মীয়। তাই পুত্রের পুত্রকে পিতার উপর প্রাধান্য দেওয়া হবে, আর বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ছেলেকে আপন চাচার উপর প্রাধান্য দেওয়া হবে।

যেসব আছাবা মীরাছের ক্ষেত্রে আপন বোনদের সঙ্গে যৌথভাবে অংশীদার হবে:
যেসব পুরুষ স্বীয় বোনদেরকে আছাবা বানায় এবং তাদেরকে নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে ওয়ারিছ হওয়ার পথে বাধা দেয় আর এমন পুরুষ তার সাথে থাকা নারীর তুলনায় দ্বিগুণ সম্পত্তি পায়- এ জাতীয় পুরুষদের সংখ্যা চার:
পুত্র, পুত্রের পুত্র ও তার চেয়েও অধস্তন যে কোনো পুরুষ, আপন ভাই ও বৈমাত্রেয় ভাই।
যেসকল আছাবা আছাবা হওয়ার ভিত্তিতে (অবশিষ্ট) সম্পত্তির ভাগ পাবে, তাদের বোনেরা তাদের সাথে আছাবা হবে না, আর তারা হলো: ভাইদের পুত্রগণ, চাচাগণ ও তাদের পুত্রগণ।

২. আছাবা বিল গাইর: এরা হলো চারজন:
(১) এক বা একাধিক কন্যা, যে এক বা একাধিক পুত্রের মাধ্যমে আছাবা হয়,
(২) পুত্রের এক বা একাধিক কন্যা, যে এক বা একাধিক পুত্রের পুত্রের মাধ্যমে আছাবা হয়,
(৩) আপন এক বা একাধিক বোন, যে আপন এক বা একাধিক ভাইয়ের মাধ্যমে আছাবা হয় ও
(৪) বৈমাত্রেয় এক বা একাধিক বোন, যে বৈমাত্রেয় এক বা একাধিক ভাইয়ের মাধ্যমে আছাবা হয়।
এরা সকলে একত্রে যৌথভাবে "পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পাবে" এই নীতিতে ওয়ারিছ হতে পারবে, আছহাবুল ফুরূযের অংশ বণ্টন শেষে তারা অবশিষ্ট সম্পত্তি পাবে। আর যদি আছহাবুল ফুরূযের অংশ বণ্টন করতে যেয়ে সম্পত্তি শেষ হয়ে যায়, তাহলে তারা সকলেই বাদ পড়ে যাবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{ يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ}
"আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে "পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পরিমাণ সম্পদের ওয়ারিছ হবে" এই মর্মে স্পষ্ট নির্দেশ দিচ্ছেন” [আন-নিসা: ১১]।
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
{وَإِنْ كَانُوا إِخْوَةً رِجَالًا وَنِسَاءً فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ أَنْ تَضِلُّوا وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ}
"আর যদি একাধিক ভাই ও বোন একত্রে ওয়ারিছ হয়, তাহলে তারা "পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পরিমাণ সম্পদের ওয়ারিছ হবে" এই নীতির ভিত্তিতে সম্পদ পাবে। আল্লাহ তোমাদেরকে সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করছেন, যাতে তোমরা পথভ্রান্ত না হও। আর নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবগত। [আন-নিসা: ১৭৬]

৩. আছাবা মা'আল গাইর। এরা দুই শ্রেণিতে বিভক্ত:
ক. আপন এক বা একাধিক বোন আপন এক বা একাধিক কন্যার সাথে আছাবা হবে, অথবা পুত্রের এক বা একাধিক কন্যার সাথে আছাবা হবে, অথবা তারা উভয়ে অর্থাৎ আপন বোন আপন কন্যা বা পুত্রের কন্যার সাথে একত্রে ওয়ারিছ হলে আপন বোন আছাবা হবে।
খ. বৈমাত্রেয় এক বা একাধিক বোন – এক বা একাধিক আপন কন্যার সাথে মিলিত হয়ে আছাবা হবে। অথবা এক বা একাধিক ছেলের কন্যার সাথে মিলে আছাবা হবে। অথবা উভয়ের সাথে মিলে আছাবা হবে।
সুতরাং বোনেরা কন্যাদের সাথে বা পুত্রের কন্যাদের সাথে ও তাদের চেয়েও অধস্তন কন্যাদের সাথে সর্বদা আছাবা হবে। আছহাবুল ফুরূযের নির্ধারিত অংশ ভাগ করে দেওয়ার পরে অবশিষ্ট সম্পত্তি তারা পাবে। আর যদি আছহাবুল ফুরূযের মাঝে সম্পত্তি বণ্টন করতে যেয়ে সমস্ত সম্পত্তি শেষ হয়ে যায়, তাহলে তারা বাদ পড়ে যাবে।
আর আপন বোন যখনই আছাবা মা'আল গাইর হবে, তখনই সে আপন ভাইয়ের ন্যায় বৈমাত্রেয় ভাই, বোন ও তাদের পরবর্তী প্রজন্মের আছাবাদের ওয়ারিছ হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক হয়ে যাবে।
আর বৈমাত্রেয় বোন যখনই আছাবা মা'আল গাইর হবে, তখনই সে (মৃতব্যক্তির) বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ন্যায় (মৃতব্যক্তির) ভাইদের পুত্রগণ ও তাদের পরবর্তী আছাবাদের ওয়ারিছ হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক হবে।

(২). আছাবা বিস-সাবাব
আছাবা বিস-সাবাব হলো কৃতদাসকে আযাদকারী পুরুষ বা নারী। আর তার আছাবা তারা, যারা তার আছাবা বিন নাফস। অর্থাৎ স্বামী আর বৈপিত্রেয় ভাই ব্যতীত সকল ওয়ারিছ।

ইবনু 'আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
الْحِقُوا الفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا، فَمَا بَقِيَ فَهُوَ لأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ».
"তোমরা ওয়ারিছদেরকে তাদের নির্ধারিত অংশ দিয়ে দাও। আর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা সবচে নিকটতম পুরুষ আত্মীয়ের জন্য"। [মুত্তাফাকুন আলাইহি]।

আবূ হুরায়রা - রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«مَا مِنْ مُؤْمِنٍ إِلا وَأَنَا أَوْلَى بِهِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ: {النَّبِيُّ أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ } . فَأَيُّمَا مُؤْمِنٍ مَاتَ وَتَرَكَ مَالاً فَلْيَرِثُهُ عَصَبَتُهُ مَنْ كَانُوا، وَمَنْ تَرَكَ دَيْنَا أَوْ ضَيَاعاً فَلْيَأْتِنِي، فَأَنَا مَوْلَاهُ».
"যেকোনো মুমিনের দুনিয়া ও আখিরাতে সবচেয়ে নিকটতম ব্যক্তি হলাম আমি। যদি তোমরা চাও, তাহলে এই আয়াতটি পড়ো:
{النَّبِيُّ أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ} .
'নবী হলেন সকল মুমিনের জন্য তাদের নিজেদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ।'
সুতরাং যেকোনো মুমিন ব্যক্তিই মৃত্যুবরণ করুক না কেনো, সে কোনো সম্পত্তি রেখে গেলে তার আছাবাগণ সেই সম্পত্তির ওয়ারিছ হবে। আর যে মুমিন কোনো কারো থেকে খঋণ নিয়েছে অথবা কারো কোনো ক্ষতি করে গেছে, সে যেনো আমার কাছে আসে, কারণ আমিই তার অভিভাবক”। [মুত্তাফাকুন আলাইহি]।

ইবনু 'উমার - রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«إِنَّمَا الوَلاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ».
"ওয়ালার সম্পর্কের মাধ্যমে ওয়ারিছ হবে আযাদকারী মনীব”। [মুত্তাফাকুন আলাইহি]।

**টিকাঃ**
[৬] 'ইলমুল ফারায়েযে ওয়ালা বলতে কৃতদাস ও তাকে আযাদকারীর মধ্যকার সম্পর্ককে বুঝানো হয়। অর্থাৎ কৃতদাসকে আযাদ করে তার উপর এই মহান অনুগ্রহ প্রদর্শনের কারণে মনীব আর কৃতদাসের মধ্যে শরী'আত এই সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে যে, যদি উক্ত কৃতদাসের কোনো বংশীয় আছাবা না থাকে, তাহলে উক্ত মনীবই হবে একমাত্র আছাবা, চাই উক্ত মনীব তার কৃতদাসকে মুকাতাবা, তাদবীর অথবা যেকোনোভাবেই আযাদ করুক না কেনো। ওয়ালার সম্পর্কের ক্ষেত্রে একমাত্র আযাদকারী ছাড়া আর কেউ ওয়ারিছ হয় না, চাই আযাদকারী পুরুষ বা নারী যেই হোক না কেনো। তবে আছাবা একমাত্র পুরুষ আযাদকারীই হতে পারবে, আযাদকারী নারী আছাবা হতে পারে না।
[৭] অর্থাৎ মৃতব্যক্তির পুত্রের পুত্র ও তার চেয়েও অধস্তন যেকোনো পুরুষ ইত্যাদি।
[৮] আছাবা মা'আল গাইর এর অন্তর্ভুক্ত হলো শুধুমাত্র আপন বোন ও বৈমাত্রেয় বোন। তারা আপন কন্যা বা পুত্রের কন্যার সাথে মিলে আছাবা হলেও উক্ত কন্যা বা পুত্রের কন্যা আছাবা হবে না, বরং তারা আছহাবুল ফুরূষের মতই নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে ওয়ারিছ হবে। আর আছাবা মা'আল গাইর হওয়ার জন্য শর্ত হলো: উক্ত আপন বোনকে বা বৈমাত্রেয় বোনকে আছাবাকারী ভাই থাকা যাবে না। কারণ তখন সেই বোন আছাবা বিল গাইর হয়ে যাবে, আছাবা মা'আল গাইর হতে পারবে না।
[৯] যদি তারা সকলেই উপস্থিত থাকে। এর উদাহরণ হলো: একদা রসূলুল্লাহ - ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - কোনো মৃতব্যক্তির একজন কন্যা, একজন পুত্রের কন্যা ও আপন বোনের মাঝে যথাক্রমে কন্যাকে মোট সম্পত্তির অর্ধেক, পুত্রের কন্যাকে এক ষষ্ঠাংশ এবং বোনকে অবশিষ্ট সম্পত্তি দেওয়ার ফায়ছালা করলেন। ছুহীহ বুখারী, কিতাবুল ফারায়েয ৪/২৩৮/৬৭৩৬। আবূ দাউদ, কিতাবুল ফারায়েয ৩/৩১২/২৮৯০
[১০] যদি তারা সকলেই উপস্থিত থাকে।
[১১] অর্থাৎ তাহলে তারা আর সম্পত্তির ভাগ পাবে না। কারণ, আছাবা একমাত্র সম্পত্তির ভাগ তখনই পাবে, যখন নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে সম্পত্তি বণ্টনের পরেও সম্পদ অবশিষ্ট থাকবে।
[১২] অর্থাৎ বৈমাত্রেয় ভাই অথবা বোনদের পুত্র বা কন্যা যদি বিদ্যমান থাকে, তাহলে তাদের ওয়ারিছ হওয়ার পথেও এই আপন বোন প্রতিবন্ধক হবে।
[১৩] কারণ বৈমাত্রেয় বোন প্রজন্মের স্তরের দিক থেকে মৃতব্যক্তির ভাইগণের পুত্রদের চেয়ে বেশি নিকটতম আত্মীয়, তাই তার উপস্থিতিতে তার ভাইয়ের সন্তান ও তাদের পরবর্তী আছাবা অর্থাৎ মৃতব্যক্তির ভাইয়ের সন্তানদের অধস্তন যেকোনো পুরুষ বা নারী ওয়ারিছ হবে না।
[১৪] এখানে আসলে আছাবা বিস সাবাব বলতে শুধুমাত্র মৃতব্যক্তির এমন ওয়ারিছকে বুঝানো হয়েছে, যে মৃতব্যক্তি কোনোকালে কৃতদাস ছিল, আর তাকে তার মনীব বা অন্য কেউ ক্রয় করে বা মুকাতাবা অথবা তাদবীর বা অন্যকোনো পদ্ধতির আশ্রয় নিয়ে আযাদ করে দিয়েছে, এখন এই কৃতদাস মৃত্যুবরণ করার পরে যদি তার কোনো আছাবা উত্তরাধিকারী না থাকে, তাহলে দুই শ্রেণীর মানুষ তার আছাবা হবে: ১. উক্ত কৃতদাসকে আযাদকারী মনীব, ২. যদি উক্ত আযাদকারী মনীবও বেঁচে না থাকেন, তাহলে উক্ত মনীবের আছাবা বিন নাফস যারা হবে, তারাই আত্মীয়তার ক্রমধারায় আছাবা হবে।
[১৫] ছুহীহ বুখারী, হা/৬৭৩২, ছুহীহ মুসলিম, হা/১৬১৫।
[১৬] ছুহীহ বুখারী, হা/২৩৯৯, ছুহীহ মুসলিম, হা/১৬১৯।
[১৭] ছুহীহ বুখারী, হা/৬৭৫২, ছুহীহ মুসলিম, হা/১৫০৪।

📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 হাজব-এর বিধান

📄 হাজব-এর বিধান


হাজব বা বঞ্চিতকরণ: ওয়ারিছ হওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিকে তার মীরাছ থেকে সম্পূর্ণরূপে অথবা তার ভাগের দুইটি অংশের মধ্যে তুলনামূলক বড় অংশটি থেকে বাধা দেওয়ার নাম হাজব।
হাজব ফারায়েয শাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যে এই বিষয়ে অজ্ঞ, সে উপযুক্ত হকদারকে কখনো তার ভাগ থেকে বঞ্চিত করবে, আবার কখনো অনুপযুক্ত ব্যক্তিকে অন্যের হক্ক প্রদান করবে। আর এই দুইটি কাজেই যুলম ও গোনাহ রয়েছে।

ওয়ারিছগণ (সম্পত্তি বণ্টনকালে) যখন একত্রিত হবে
সম্পত্তি বণ্টনকালে একত্রিত হওয়া ওয়ারিছদের তিনটি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: যখন সকল পুরুষ ওয়ারিছ উপস্থিত থাকবে, তখন ওয়ারিছ হবে শুধুমাত্র তিন জন। তারা হলো: পিতা, পুত্র ও স্বামী।
তাদের সম্পত্তি ভাগ করতে হবে ১২ দ্বারা: পিতা পাবে এক ষষ্ঠাংশ- যার পরিমাণ দুই। স্বামী পাবে এক চতুর্থাংশ- যার পরিমাণ তিন। আর অবশিষ্ট সাত ভাগ সম্পত্তি ছেলে পাবে আছাবা হিসেবে।
দ্বিতীয় অবস্থা: যখন সকল মহিলা ওয়ারিছ উপস্থিত থাকবে, তখন মাত্র পাঁচজন ওয়ারিছ হবে। তারা হলো: কন্যা, পুত্রের কন্যা, মাতা, স্ত্রী ও আপন বোন।
আর তাদের সম্পত্তি ভাগ করতে হবে ২৪ দ্বারা: মাতা পাবে এক ষষ্ঠাংশ- যার পরিমাণ চার। আর স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ- যার পরিমাণ তিন। কন্যা পাবে অর্ধাংশ- যার পরিমাণ বারো। আর অবশিষ্ট এক ভাগ আছাবা হিসেবে আপন বোন পাবে।
তৃতীয় অবস্থা: যখন পুরুষ ও নারী উভয় ওয়ারিছ উপস্থিত থাকবে, তখন তাদের মধ্যে মাত্র পাঁচজন ওয়ারিছ হবে। তারা হলো: মাতা, পিতা, পুত্র, কন্যা ও স্বামী অথবা স্ত্রী।
১. যদি এই পাঁচজন ওয়ারিছের একজন স্ত্রী হয়, তাহলে সম্পত্তি ২৪ দ্বারা ভাগ করতে হবে: পিতা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমণ চার। স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ, যার পরিমাণ তিন। আর অবশিষ্ট সম্পত্তি পুত্র ও কন্যা আছাবার ভিত্তিতে "পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পাবে" এই নীতিতে পাবে।
২. যদি এই পাঁচজন ওয়ারিছের একজন স্বামী হয়, তাহলে সম্পত্তি ভাগ করতে হবে ১২ দ্বারা: পিতা এক ষষ্ঠাংশ পাবে, যার পরিমাণ দুই। মাতা এক ষষ্ঠাংশ পাবে, যার পরিমাণ দুই। স্বামী এক চতুর্থাংশ পাবে, যার পরিমাণ তিন। আর অবশিষ্ট সম্পত্তি পুত্র ও কন্যা আছাবার ভিত্তিতে "পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পাবে" এই নীতিতে পাবে।

হাজব-এর প্রকারভেদ
হাজব দুই প্রকারে বিভক্ত: হাজব বিল ওয়াছফ... হাজব বিশ শাখছ।
১. হাজব বিল ওয়াছফ: কোনো ওয়ারিছ ওয়ারিছ হওয়ার পথের প্রতিবন্ধকতাসমূহের কোনো একটি প্রতিবন্ধকতার বিশেষণে বিশেষিত হওয়া যেমন- দাসত্ব অথবা হত্যা অথবা ভিন্নধর্মাবলম্বী হওয়া। এই প্রতিবন্ধকতা সকল ওয়ারিছের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বিধায় যে ব্যক্তি উপযুক্ত কোনো একটি বিশেষণে বিশেষিত হবে, সে ওয়ারিছ হবে না। সে থাকা আর না থাকা একই কথা।
২. হাজব বিশ শাখছ: হাজব বিশ শাখছ হলো কোনো ওয়ারিছ অন্যকোনো ওয়ারিছের প্রতিবন্ধকতার কারণে তার নির্দিষ্ট ভাগ থেকে বঞ্চিত হওয়া। আর এই প্রকারের হাজবই এই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়।

হাজব বিশ শাখছ-এর প্রকারভেদ
হাজব বিশ শাখছ দুই প্রকারে বিভক্ত: হাজব নুকছান... হাজব হিরমান।
১. হাজব নুকছান: হাজব নুকছান হলো কোনো ওয়ারিছ তার ভাগের দুইটি অংশের মধ্যে তুলনামূলক বড় অংশটির ভাগ পাওয়ার পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকা। যেখানে মাহজুবের মীরাছের অংশ হাজিবের কারণে আংশিক হ্রাস পাবে। আর এই হাজব বা আংশিক প্রতিবন্ধকতা সকল ওয়ারিছের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

হাজব নুকছান দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথম প্রকার: এমন হাজব বা প্রতিবন্ধকতা, যা সংঘটিত হয় ওয়ারিছের নির্ধারিত অংশের পরিমাণ পরিবর্তনের কারণে। আর এটা চার প্রকার:
ক. মাহজুব তথা প্রতিবন্ধকতার শিকার ওয়ারিছের মীরাছের পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট অংশ থেকে তুলনামূলক কম অংশের দিকে নেমে আসা। এমন ওয়ারিছ হলো পাঁচজন:
স্বামী-স্ত্রী, মাতা, পুত্রের কন্যা ও বৈমাত্রেয় বোন। সন্তানের উপস্থিতিতে স্বামীর মীরাছের পরিমাণ অর্ধাংশ থেকে এক চতুর্থাংশে নেমে আসবে। সন্তানের উপস্থিতিতে স্ত্রীর মীরাছের পরিমাণ এক চতুর্থাংশ থেকে এক অষ্টমাংশে নেমে আসবে। সন্তান, ভাইগণ, অথবা বোনগণের উপস্থিতিতে মাতার অংশ এক তৃতীয়াংশ থেকে এক ষষ্ঠাংশে নেমে আসবে। পুত্রের কন্যার মীরাছের পরিমাণ একজন কন্যার উপস্থিতিতে অর্ধাংশ থেকে এক ষষ্ঠাংশে নেমে আসবে। আর একজন আপন বোনের উপস্থিতিতে বৈমাত্রেয় বোনের মীরাছের পরিমাণ অর্ধাংশ থেকে এক ষষ্ঠাংশে নেমে আসবে।
খ. কোনো ওয়ারিছের মীরাছ আছাবার স্তর থেকে তুলনামূলক কম অংশের দিকে নেমে আসা। আর এই হাজব সংঘটিত হয় পিতা ও পিতার অনুপস্থিতিতে দাদার ক্ষেত্রে। যেমন- পুত্র ও পুত্রের পুত্রের উপস্থিতিতে পিতার মীরাছের পরিমাণ আছাবার স্তর থেকে নেমে এক ষষ্ঠাংশে নেমে আসা।
গ. কোনো ওয়ারিছের মীরাছের পরিমাণ নির্ধারিত অংশ থেকে তুলনামূলক কম অংশবিশিষ্ট আছাবার স্তরে নেমে আসা।
এই প্রকারের হাজব সংঘটিত হয় ঐ সকল ওয়ারিছের ক্ষেত্রে, যারা মোট সম্পত্তির অর্ধাংশের অধিকারী হয়, এমন ওয়ারিছদের সংখ্যা চারজন: কন্যা, পুত্রের কন্যা, আপন বোন ও বৈমাত্রেয় বোন। এই হাজব ঐ সময় সংঘটিত হবে, যখন উক্ত ওয়ারিছদের প্রত্যেকের সঙ্গে তাদের ভাইও উপস্থিত থাকবে, আর তখন তারা আছাবা বিল গাইর হবে।
ঘ. কোনো ওয়ারিছের মীরাছের পরিমাণ অধিক অংশবিশিষ্ট আছাবার স্তর থেকে কম অংশবিশিষ্ট আছাবার স্তরে নেমে আসা।
আর এই হাজব সংঘটিত হয় আছাবা মা'আল গাইরের ক্ষেত্রে, এমন ওয়ারিছগণ সংখ্যায় দুইজন:
আপন এক বা একাধিক বোন কন্যা বা পুত্রের কন্যার সাথে ওয়ারিছ হলে। আর বৈমাত্রেয় এক বা একাধিক বোন কন্যা বা পুত্রের কন্যার সাথে ওয়ারিছ হলে। বিধায়, আপন বা বৈমাত্রেয় বোন কন্যা বা পুত্রের কন্যার সাথে ওয়ারিছ হলে আছাবার ভিত্তিতে অবশিষ্ট সম্পত্তি পাবে, যার পরিমাণ মোট সম্পত্তির অর্ধাংশ। আর যদি তার সাথে তার ভাই থাকে, তাহলে “পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পাবে” এই নীতির ভিত্তিতে তারা উভয়ে সম্পত্তি পাবে।

দ্বিতীয় প্রকার: এমন হাজব বা প্রতিবন্ধকতা, যা সংঘটিত হয় সমপর্যায়ের অধিক সংখ্যক ওয়ারিছ জড়ো হওয়ার কারণে। এই ধরনের হাজব তিন প্রকারে বিভক্ত:
ক. নির্ধারিত অংশে জড়ো হওয়া: এটা সাত প্রকারের ওয়ারিছদের ক্ষেত্রে হতে পারে, তারা হলো:
দাদা, স্ত্রী, কন্যাগণ, পুত্রের কন্যাগণ, আপন বোনগণ, বৈমাত্রেয় বোনগণ, বৈপিত্রেয় ভাইগণ ও বৈপিত্রেয় বোনগণ। যেমন- দুই বা ততোধিক কন্যা অথবা দুই বা ততোধিক বোনের দুই তৃতীয়াংশে জড়ো হওয়া।
খ. আছাবার ক্ষেত্রে জড়ো হওয়া: এই হাজব সর্বপ্রকারের আছাবার মাঝেই সংঘটিত হয়। যেমন- পুত্রগণ, ভাইগণ ও চাচাগণ। যেমন- দুই বা ততোধিক পুত্র অথবা দুই বা ততোধিক ভাই অথবা দুই বা ততোধিক চাচা মীরাছে জড়ো হওয়া।
গ. আওলের ক্ষেত্রে জড়ো হওয়া: এই হাজব সংঘটিত হয় আছহাবুল ফুরূযের মাঝে, যখন তারা অনেকেই জড়ো হয়। এ ব্যাপারে অচিরেই আলোচনা হবে ইনশাআল্লাহ।

২. হাজব হিরমান:
হাজব হিরমান হলো কোনো ওয়ারিছ অন্য ওয়ারিছকে তার সম্পূর্ণ ভাগ থেকে বঞ্চিত করবে। এই হাজব ৬ জন ব্যতীত সকল ওয়ারিছের ক্ষেত্রেই সংঘটিত হতে পারে। সেই ৬ জন হলো:
পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, স্বামী ও স্ত্রী।
হাজব হিরমান দুইটি মূলনীতির উপরে ভিত্তি করে সংঘটিত হবে:
১. প্রত্যেক এমন ব্যক্তি, যে মৃতব্যক্তির আত্মীয় হয়েছে ঐ ব্যক্তির মাধ্যমে, যার উপস্থিতিতে ঐ ব্যক্তি ওয়ারিছ হতে পারে না। যেমন- পুত্রের পুত্র পুত্রের উপস্থিতিতে ওয়ারিছ হতে পারে না। তবে বৈপিত্রেয় সন্তানগণের কথা ভিন্ন, তারা (বৈপিত্রেয় সন্তানগণ) স্বীয় মাতার সঙ্গে ওয়ারিছ হবে, যদিও তারা তারই (মাতার) মাধ্যমে মৃতব্যক্তির আত্মীয় হয়েছে।
২. মীরাছ বণ্টনে নিকটতম আত্মীয়কে তুলনামূলক দূরবর্তী আত্মীয়ের উপর প্রাধান্য দেওয়া হবে, বিধায় আপন পুত্র ভাইয়ের পুত্রের জন্য প্রতিবন্ধক হবে। আর যদি ওয়ারিছগণ প্রজন্মের স্তরের দিক থেকে সমপর্যায়ের হয়, তাহলে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী আত্মীয়কে প্রাধান্য দেওয়া হবে। যেমন- আপন ভাই বৈমাত্রেয় ভাইয়ের জন্য প্রতিবন্ধক হবে।

মাহজুব ও মাহরুম-এর মাঝে পার্থক্য:
১. মাহরুম ব্যক্তি মূলত ওয়ারিছ হওয়ারই যোগ্য নয়। যেমন- হত্যাকারী। কিন্তু মাহজুব ব্যক্তি আসলে ওয়ারিছ হওয়ার যোগ্য, তবে তার চেয়েও অধিক উপযুক্ত কোনো ওয়ারিছের উপস্থিতির কারণে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
২. মাহরুম ব্যক্তি কোনোভাবেই অন্য ওয়ারিছকে বঞ্চিত করতে পারে না। কারণ তার থাকা না থাকা একই, তাই সে অন্যকোনো ওয়ারিছকে বঞ্চিত করতে পারে না। পক্ষান্তরে মাহজুব ব্যক্তি কখনো কখনো ওয়ারিছ না হয়েও অন্য ওয়ারিছকে বঞ্চিত করতে পারে। যেমন- মাতা-পিতার সাথে উপস্থিত ওয়ারিছ ভাইগণ, তারা পিতার উপস্থিতির কারণে ওয়ারিছ না হয়েও মাতার মীরাছের অংশকে এক তৃতীয়াংশ থেকে এক ষষ্ঠাংশে নামিয়ে আনতে পারে।

যেসকল ওয়ারিছ তাদের ভাগ থেকে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত হবে, তারা সাতজন:
১. দাদা পিতা দ্বারা।
২. দাদী-নানীগণ মাতা দ্বারা।
৩. পুত্রের পুত্র পুত্র দ্বারা।
৪. পুত্রের কন্যাগণ দুইজন কন্যা ও একজন পুত্র দ্বারা।
৫. বৈমাত্রেয় বোনগণ আপন দুই বা ততোধিক বোন ও আপন এক ভাই দ্বারা।
৬. সর্বপ্রকার ভাইগণ পুত্র, পুত্রের পুত্র, পিতা ও দাদা দ্বারা।
৭. আর বৈপিত্রেয় ভাই ও বোনগণ অধস্তন কোনো ওয়ারিছ দ্বারা এবং ঊর্ধ্বতন কোনো পুরুষ দ্বারা।

হাজব হিরমান বিশ শাখছ-এর মূলনীতিসমূহ:
১. প্রত্যেক ঊর্ধ্বতন ওয়ারিছ তার ঊর্ধ্বতন ওয়ারিছের জন্য প্রতিবন্ধক হবে, যদি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন ওয়ারিছ তার সমলিঙ্গের ঊর্ধ্বতন আত্মীয় হয়। সুতরাং পিতা দাদাদের জন্য প্রতিবন্ধক হবে, মাতা দাদী-নানীগণের জন্য প্রতিবন্ধক হবে... এভাবেই চলতে থাকবে।
২. প্রত্যেক অধস্তন পুরুষ ওয়ারিছ তার অধস্তন ওয়ারিছদের জন্য প্রতিবন্ধক হবে, চাই উক্ত অধস্তন ওয়ারিছ তার সমলিঙ্গের আত্মীয় হোক বা না হোক। বিধায়, পুত্র পুত্রের পুত্র ও পুত্রের কন্যার জন্য প্রতিবন্ধক হবে। আর অধস্তন নারী ওয়ারিছ একমাত্র তার অধস্তন নারী ওয়ারিছদের জন্যই প্রতিবন্ধক হতে পারে। যেমন- কন্যাগণ, যখন তারা দুই তৃতীয়াংশ সম্পূর্ণরূপে পাবে, তখন তারা তাদের অধস্তন নারী ওয়ারিছদের জন্য প্রতিবন্ধক হবে। যেমন- পুত্রের কন্যাগণ, তবে তারা তাদের ভাইদের দ্বারা আছাবা হলে তা ভিন্ন কথা, তখন তারা অবশিষ্ট সম্পত্তি আছাবার ভিত্তিতে পাবে।
৩. প্রত্যেক ঊর্ধ্বতন ও অধস্তন ওয়ারিছ হাওয়াশী আত্মীয়-স্বজনের জন্য প্রতিবন্ধক হবে।
৪. ঊর্ধ্বতন ওয়ারিছগণ: তারা হলো পিতা-মাতা। অধস্তন ওয়ারিছগণ: তারা হলো পুত্র ও কন্যা। পার্শ্ববর্তী আত্মীয় ওয়ারিছগণ: তারা হলো আপন ভাই ও বোনগণ অথবা বৈমাত্রেয় ভাই, বোন ও তাদের পুত্রগণ, বৈপিত্রেয় ভাইগণ, আপন চাচা অথবা বৈমাত্রেয় চাচা ও তাদের পুত্রগণ।
৫. ঊর্ধ্বতন অথবা অধস্তন নারী ওয়ারিছগণ পার্শ্ববর্তী কোনো আত্মীয়ের জন্য প্রতিবন্ধক হবে না। তবে একমাত্র অধস্তন নারী ওয়ারিছগণ বৈপিত্রেয় ভাইদের জন্য প্রতিবন্ধক হবে। উক্ত অধস্তন নারী ওয়ারিছ হচ্ছে কন্যা ও পুত্রের কন্যাগণ।
৬. হাওয়াশী তথা পার্শ্ববর্তী আত্মীয়গণের মধ্যে যে-ই আছাবার ভিত্তিতে ওয়ারিছ হবে, সে-ই তার চেয়ে নিচের আত্মীয়ের জন্য প্রতিবন্ধক হবে- চাই যে দিক থেকেই নিচের দিকে হোক না কেন- প্রজন্মের স্তরের দিক থেকে হোক অথবা আত্মীয়তার নৈকট্যের দিক থেকে হোক অথবা শক্তির দিক থেকে হোক।
সুতরাং বৈমাত্রেয় ভাই "আপন ভাই ও আপন আছাবা মা'আল গাইর বোনের" কারণে বাদ পড়ে যাবে। আপন ভাইয়ের পুত্র আপন ভাই, আছাবা মা'আল গাইর বোন, বৈমাত্রেয় ভাই ও বৈমাত্রেয় আছাবা মা'আল গাইর বোনের কারণে বাদ পড়ে যাবে। আর বৈমাত্রেয় ভাইয়ের পুত্র পূর্ববর্তী চারজন ও আপন ভাইয়ের পুত্রের কারণে বাদ পড়ে যাবে।
আপন চাচা পূর্ববর্তী পাঁচজন ও বৈমাত্রেয় ভাইয়ের পুত্রের কারণে বাদ পড়ে যাবে।
বৈমাত্রেয় চাচা পূর্ববর্তী ছয়জন ও আপন চাচার কারণে বাদ পড়ে যাবে।
আপন চাচার পুত্র পূর্ববর্তী সাতজন ও বৈমাত্রেয় চাচার কারণে বাদ পড়ে যাবে।
বৈমাত্রেয় চাচার পুত্র পূর্ববর্তী আটজন ও আপন চাচার পুত্রের কারণে বাদ পড়ে যাবে।
আর বৈপিত্রেয় ভাইগণ অধস্তন ওয়ারিছ ও ঊর্ধ্বতন পুরুষ ওয়ারিছের কারণে বাদ পড়ে যাবে।
৭. ঊর্ধ্বতন ওয়ারিছদের জন্য একমাত্র ঊর্ধ্বতন ওয়ারিছগণ ব্যতীত আর কেউ প্রতিবন্ধক হতে পারবে না। আর অধস্তন ওয়ারিছদের জন্য একমাত্র অধস্তন ওয়ারিছগণ ব্যতীত আর কেউ প্রতিবন্ধক হতে পারবে না। কিন্তু পার্শ্ববর্তী আত্মীয়দের জন্য ঊর্ধ্বতন, অধস্তন ও পার্শ্ববর্তী আত্মীয়গণ সকলেই প্রতিবন্ধক হবে।
৮. দাসমুক্তকারী পুরুষ বা নারী মৃতব্যক্তির নিকটাত্মীয় আছাবা দ্বারা বাদ পড়ে যাবে।

হাজব হিরমানের দিকে লক্ষ্য করে ওয়ারিছদের প্রকারভেদ:
হাজব হিরমানের দিকে লক্ষ্য করে ওয়ারিছগণ চার ভাগে বিভক্ত:
১. এমন প্রকারের ওয়ারিছগণ, যারা অন্যদের জন্য প্রতিবন্ধক হবে, কিন্তু তারা নিজেরা প্রতিবন্ধকতার শিকার হবে না। তারা হলো, মাতা-পিতা ও ছেলে-মেয়ে।
২. এমন প্রকারের ওয়ারিছগণ, যাদের ওয়ারিছ হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক আছে, কিন্তু তারা কারোর জন্য প্রতিবন্ধক নয়। তারা হলো বৈপিত্রেয় ভাইগণ।
৩. এমন প্রকারের ওয়ারিছগণ, যারা অন্যদের জন্যে প্রতিবন্ধক নয় আর তাদেরকেও বাধাদানকারী কোনো ওয়ারিছ নেই। তারা হলো, স্বামী-স্ত্রী।
৪. এমন প্রকারের ওয়ারিছগণ, যারা নিজেরাও অন্যদের জন্য প্রতিবন্ধক, আবার অন্যরাও তাদের জন্য প্রতিবন্ধক হয়। তারা হলো, অবশিষ্ট সকল ওয়ারিছ।

**টিকাঃ**
[১৮] এখানে মাহজুব বলতে সেই ওয়ারিছকে বুঝানো হয়েছে, যে নিজ ভাগ হতে আংশিক বঞ্চিত হয়েছে অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী ওয়ারিছের কারণে।
[১৯] মীরাছের নির্ধারিত অংশের পুরোপুরি ভাগ পাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী ওয়ারিছ অথবা এমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী ওয়ারিছ, যার কারণে অন্য কোনো ওয়ারিছ তার নির্ধারিত অংশের আংশিক ভাগ থেকে বঞ্চিত হয়।
[২০] অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ওয়ারিছ আছাবার ভিত্তিতে সম্পদ পেলে বেশি পেত, কিন্তু প্রতিবন্ধকতার কারণে আছহাবুল ফুরূযের অন্তর্ভুক্ত হয়ে তার ভাগের পরিমাণ আরো কমে গেছে।
[২১] অর্থাৎ যেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ওয়ারিছ নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে ভাগ পেলে বেশি পেত, আছাবা হওয়ার কারণে বরং তার ভাগের পরিমাণ আরো কম হয়েছে।
[২২] কারণ আপন কন্যার নির্ধারিত অংশ হলো মোট সম্পত্তির অর্ধাংশ, আর আপন কন্যা না থাকলে পুত্রের কন্যার নির্ধারিত অংশও হলো অর্ধাংশ। আর যদি তিনজনই একত্রে উপস্থিত থাকে, তাহলে আপন কন্যা পাবে অর্ধেক, পুত্রের ঘরের কন্যা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, আর অবশিষ্ট সম্পত্তি পাবে আপন বোন আছাবার ভিত্তিতে।
[২৩] সহজভাবে বললে এখানে মাহরুম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো চিরবঞ্চিত ওয়ারিছ, আর মাহজুব দ্বারা উদেশ্য হলো সাময়িকভাবে বঞ্চিত ওয়ারিছ।
[২৪] অর্থাৎ আপন ভাই, বৈমাত্রেয় ভাই ও বৈপিত্রেয় ভাই।
[২৫] এখানে বংশীয় বলতে এমন ব্যক্তিসত্তাকে বুঝানো হয়েছে, যে সংশ্লিষ্ট ওয়ারিছের রক্তের আত্মীয়।
[২৬] অর্থাৎ উক্ত অধস্তন পুরুষ ওয়ারিছের চেয়েও যারা অধস্তন, চাই তারা উক্ত অধস্তন পুরুষ ওয়ারিছের রক্তের আত্মীয় হোক বা না হোক।
[২৭] পিতা, দাদা, মা, নানী ইত্যাদি।
[২৮] পুত্র, কন্যা, নাতি ইত্যাদি।
[২৯] ভাই-ভাতিজা, চাচা, চাচাত ভাই ইত্যাদি।
[৩০] এখানে আপন বোনের সাথে আছাবা মা'আল গাইর শব্দটি জুড়ে দেওয়া হয়েছে এই জন্য যে, বোন যদি আছাবা মা'আল গাইর না হয়, তাহলে সে হাজিব তথা প্রতিবন্ধক হবে না। এমনিভাবে অন্যান্যস্থানেও "আছাবা মা'আলা গাইর" শব্দটি একই কারণে যুক্ত করা হয়েছে, যেমনটি পরবর্তী আলোচনাতেই দেখা যাবে।
[৩১] অর্থাৎ আপন ভাই, আপন আছাবা মা'আল গাইর বোন, বৈমাত্রেয় ভাই ও বৈমাত্রেয় আছাবা মা'আল গাইর বোন。

📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 সম্পত্তি বণ্টনের মূল সংখ্যা নির্ধারণ

📄 সম্পত্তি বণ্টনের মূল সংখ্যা নির্ধারণ


তা'ছীল: এমন ক্ষুদ্রতম সংখ্যা নির্ণয়কে তা'ছীল বলা হয়, যার মাধ্যমে ভগ্নাংশবিহীন ভাজ্য নির্গত হতে পারে।
তা'ছীলের ফায়দা: এর মাধ্যমে ভাজ্যগুলো সম্পর্কে জানা যায় এবং পরিত্যক্ত সম্পত্তিগুলো বণ্টন করা সহজ হয়।

ওয়ারিছদের বিভিন্ন অংশের ভাজ্য নির্ণয়: ওয়ারিছদের ভিন্নতার কারণে প্রতিটি ভাজ্য বিভিন্ন হয়, যেমনটি এখানে বর্ণনা করা হলো:
১. যদি ওয়ারিছগণ সকলেই আছাবা হয়, তাহলে ভাজ্য তাদের সংখ্যা অনুযায়ী হবে। তবে যদি তাদের সাথে নারীগণও থাকে, তাহলে "পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পাবে" এই নীতির ভিত্তিতে তাদের মাঝে সম্পত্তি বণ্টিত হবে।
বিধায়, যখন কোনো ব্যক্তি একজন পুত্র ও একজন কন্যা রেখে মৃত্যুবরণ করবে, তখন ভাজ্য নির্ণয় করা হবে তাদের সংখ্যা তিন দ্বারা: পুত্র পাবে দুই ভাগ, কন্যা পাবে এক ভাগ।
২. যদি মাসআলায় নির্ধারিত অংশের একজন ওয়ারিছ থাকে আর একজন আছাবা থাকে, তাহলে ভাজ্য নির্ণয় করা হবে নির্ধারিত অংশের ওয়ারিছের মূলসংখ্যা (হর) অনুযায়ী। যেমন কোনো ব্যক্তি একজন স্ত্রী ও একজন পুত্র রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে ভাজ্য নির্ণয় করা হবে ৮ সংখ্যা দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ- যার পরিমাণ এক, আর অবশিষ্ট সম্পত্তি পুত্র পাবে আছাবার ভিত্তিতে।
৩. যদি কোনো মাসআলায় শুধুমাত্র আছহাবুল ফুরূয থাকে, অথবা যদি তাদের সাথে আছাবাও থাকে, তাহলে নির্ধারিত অংশগুলোর মূলসংখ্যাগুলো (হর) চারটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে; সেগুলো হলো- মুমাছালাহ, মুদাখালাহ, মুওয়াফাক্বাহ, মুবায়ানাহ। নির্ণীত ফলাফলই হবে মূল মাসআলা (ভাজ্য)।
নির্ধারিত অংশগুলো হলো: অর্ধাংশ, এক চতুর্থাংশ, এক অষ্টমাংশ, এক তৃতীয়াংশ, দুই তৃতীয়াংশ ও এক ষষ্ঠাংশ।

দুটি মুতামাছিল সংখ্যার মধ্যে যেকোনো একটি সংখ্যা দ্বারাই মাসআলা নির্ণয় করা যাবে। যেমন- ২, ২
দুটি মুতাদাখিল সংখ্যার মধ্যে বড় সংখ্যাটি দ্বারা মাসআলা নির্ণয় করতে হবে। যেমন- ৪, ৮
দুটি মুতাওয়াফিক সংখ্যার ক্ষেত্রে উভয় সংখ্যার গরিষ্ঠ সাধারণ গুণনীয়ক বা উৎপাদক সংখ্যা গ্রহণ করতে হবে এবং উক্ত সাধারণ উৎপাদক সংখ্যা দ্বারা যেকোনো একটি মুতাওয়াফিক সংখ্যাকে ভাগ করে নির্ণীত ভাগফল দ্বারা অপর মুতাওয়াফিক সংখ্যাকে গুণ করতে হবে। নির্ণীত গুণফলই হলো মূল মাসআলা (ভাজ্য)। যেমন- ৪, ৬
দুটি মুতাবায়িন সংখ্যার ক্ষেত্রে একটিকে অপরটি দ্বারা গুণ করতে হবে। নির্ণীত গুণফলই হলো মূল মাসআলা। যেমন- ২, ৩
আছহাবুল ফুরূযের মূল মাসআলা (ভাজ্য) হলো যথাক্রমে সাতটি: দুই, তিন, চার, ছয়, আট, বারো, চব্বিশ।
যদি আছহাবুল ফুরূযের অংশ বণ্টনের পরেও সম্পত্তি বেঁচে থাকে, কিন্তু কোনো আছাবা না থাকে, তাহলে অবশিষ্ট সম্পত্তি স্বামী-স্ত্রী ব্যতীত অন্য সকলকে তাদের নির্ধারিত অংশের আনুপাতিক হারে পুনরায় বণ্টন করে দেওয়া হবে। যেমন- কোনো মহিলা স্বামী ও কন্যাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে সম্পত্তি ভাগ করতে হবে ৪ দ্বারা: স্বামী পাবে এক চতুর্থাংশ- যার পরিমাণ এক। আর অবশিষ্ট সম্পত্তি নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে এবং পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে কন্যা পাবে। এভাবেই অন্যান্য রদ্দ-এর মাসআলা নির্ণীত হবে।

দু'টি সংখ্যার মধ্যে পারস্পরিক সম্বন্ধ ৪ ধরনের: মুমাছালাহ, মুদাখালাহ, মুওয়াফাক্বাহ, মুবায়ানাহ।
মুমাছালাহ হলো: দুইটি সংখ্যা পরিমাণের দিক থেকে এক হওয়া। যেমন ৪-৪
মুদাখালাহ হলো: দুইটি সংখ্যার মধ্যে বড় সংখ্যাটি তুলনামূলক ছোট সংখ্যাটির মধ্যে কোনো ভগ্নাংশ ছাড়াই সমানভাবে বিভাজিত হওয়া। যেমন- ৪-৮।
মুওয়াফাক্বাহ হলো: দুটি সংখ্যা একটি অংশের দিক থেকে পরস্পর মিলে। কিন্তু বড় সংখ্যাটি তুলনামূলক ছোট সংখ্যাটির মধ্যে নিঃশেষে বিভাজ্য হয় না। যেমন- ৪-৬।
মুবায়ানাহ হলো: এক আর দুই ব্যতীত অন্যসকল পারস্পরিক দুইটি সংখ্যার সম্পর্ক। যেমন- ২-৩, ৪-৫, ৬-৭, ৮-৯ ইত্যাদি।

উক্ত চার সম্বন্ধ ব্যবহারের পদ্ধতি: এ সম্বন্ধগুলো ব্যবহার হবে ওয়ারিছদের সংখ্যার প্রতি লক্ষ্য করে, মাসআলাগুলোর (প্রাপ্যগুলোর) সম্পর্ক লক্ষ্য করে, নির্ধারিত অংশগুলোর একটি পূর্ণ সংখ্যার সাথে অপর পূর্ণ সংখ্যার অনুপাত বা সম্পর্কের প্রতি লক্ষ্য করে।
আর মুওয়াফাক্বাহ ও মুবায়ানাহ বিশেষভাবে ব্যবহার হবে ওয়ারিছদের সংখ্যা ও তাদের প্রাপ্য অংশের প্রতি লক্ষ্য করে এবং ওয়ারিছদের প্রাপ্য অংশসমূহ ও মাসআলাগুলোর প্রতি লক্ষ্য করে।
বিধায়, মুতামাছিল সংখ্যাগুলোর যেকোনো একটি সংখ্যা গ্রহণ করা হবে। মুতাদাখিল সংখ্যাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সংখ্যাটি গ্রহণ করতে হবে। আর মুওয়াফিক সংখ্যাগুলোর ক্ষেত্রে গরিষ্ঠ সাধারণ গুণনীয়ক বা উৎপাদক দ্বারা যেকোনো মুওয়াফিক সংখ্যাকে ভাগ করে নির্ণীত ভাগফল দ্বারা অন্য যেকোনো মুওয়াফিক সংখ্যাকে গুণ করতে হবে। নির্ণীত গুণফলই হলো মূল মাসআলা। আর মুবায়িন এর ক্ষেত্রে একটি সংখ্যাকে অপর সংখ্যা দ্বারা গুণ করতে হবে।

ইনকিসার ও ইনক্কিসাম
ইনক্কিসাম হলো: ওয়ারিছদের ভাগসমূহ সকল ওয়ারিছের মধ্যে ভগ্নাংশবিহীন সমানভাগে বিভাজিত হওয়া।
ইনকিসার হলো: ওয়ারিছদের ভাগসমূহ সকল ওয়ারিছের মধ্যে বা কিছু ওয়ারিছের মধ্যে সমানভাগে ভগ্নাংশহীনভাবে বিভাজিত না হওয়া।

একাধিক ভগ্নাংশের দিক দিয়ে ওয়ারিছদের নির্ধারিত অংশের মূলসংখ্যাগুলোর প্রকারভেদ:
একাধিক ভগ্নাংশের দিক দিয়ে ওয়ারিছদের নির্ধারিত অংশের মূলসংখ্যাগুলো চার ভাগে বিভক্ত:
১. এমন মৌলিক সংখ্যা, যাতে ভগ্নাংশ কল্পনা করা যায় না। ওয়ারিছদের শুধুমাত্র এক জাতীয় দল ছাড়া আর কারোর ক্ষেত্রে এটা বিদ্যমান থাকতে পারে না। আর এই মৌলিক সংখ্যাটি হলো ২।
২. এমন মৌলিক সংখ্যা, যার ভগ্নাংশ ওয়ারিছদের দুই জাতীয় বা তার চেয়েও কম সংখ্যক দলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান থাকতে পারে। আর সেই মৌলিক সংখ্যাগুলো হলো ৩, ৪, ৬, ১৮, ৩৬।
৩. এমন মৌলিক সংখ্যা, যার ভগ্নাংশ ওয়ারিছদের তিন জাতীয় দলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান থাকতে পারে। আর সেই সংখ্যাটি হলো ৬।
৪. এমন মৌলিক সংখ্যা, যার ভগ্নাংশ ওয়ারিছদের চারটি দলের ক্ষেত্রে থাকতে পারে। আর সেই সংখ্যাগুলো হলো ১২ ও ২৪।

যখন ওয়ারিছদের একটি দলের অংশের মধ্যে ভগ্নাংশ পাওয়া যাবে, তখন তাছুহীহ করার পদ্ধতি:
আমাদেরকে ওয়ারিছদের সংখ্যা ও তাদের প্রাপ্য অংশের প্রতি লক্ষ্য করতে হবে যে, এতদুভয়ের মধ্যে সম্পর্ক কীসের? মুবায়ানাহ-এর সম্পর্ক নাকি মুওয়াফাক্বাহ-এর সম্পর্ক?
যদি উভয়টির মধ্যে মুবায়ানাহ-এর সম্পর্ক থাকে, তাহলে আমরা ওয়ারিছদের সংখ্যাকে ঠিক রেখে উক্ত সংখ্যা দ্বারা মূল মাসআলাকে গুণ করব। আর যদি উভয়টির মধ্যে মুওয়াফাক্বাহ-এর সম্পর্ক থাকে, তাহলে ওয়ারিছদের সংখ্যার উৎপাদককে মূল মাসআলার সাথে গুণ করব। এই ক্ষেত্রে ওয়ারিছদের সংখ্যা বা তাদের সংখ্যার উৎপাদকটি ওয়ারিছদের ভাগের একটি অংশ বলে বিবেচিত হবে। তারপর সেটা দিয়ে মূল মাসআলাকে গুণ করব। নির্ণীত গুণফলই হলো সংশোধিত মাসআলা। এরপরে আমরা মূল মাসআলা (সংশোধিত মাসআলার পূর্বের মাসআলা) হতে প্রত্যেক ওয়ারিছের প্রাপ্ত অংশকে ওয়ারিছদের ভাগের উক্ত অংশের সাথে গুণ করব। এখন একজন ওয়ারিছের অংশই হবে গুণ করার পূর্বে দলের সম্মিলিত অংশের সমান, মাসআলার চিত্র নিম্নে বর্ণিত হলো:
৬ x ২ = ১২
১ x ২ = ২ (মাতা)
৫ x ২ = ১০ (১০ পুত্রগণ)
উক্ত চিত্রে লেখক যেই মাসআলাটি তুলে ধরেছেন, তা হলো- কোনো এক ব্যক্তি একজন মাতা ও দশজন পুত্রকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মাসআলা গঠিত হবে ছয় দ্বারা, মাতা এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ এক। আর পুত্রগণ পাবে অবশিষ্ট পাঁচ ভাগ। কিন্তু পুত্রদের সংখ্যা দশজন হওয়ায় পাঁচ ভাগ তাদের মধ্যে সমানভাগে বণ্টন করা সম্ভব নয়, তাই এখানে আমরা ওয়ারিছদের যেই দলের সম্পত্তি সমানভাগে বিভাজ্য হয়নি, তাদের সংখ্যা দশ ও মূল মাসআলা ছয়-এর মাঝে মুওয়াফাক্বাহ-এর সম্পর্ক বিদ্যমান থাকায় ওয়ারিছদের সংখ্যা দশ-এর উৎপাদক দ্বারা মূল মাসআলা ৬কে গুণ করলাম। গুণফল ১২ হলো এখন সংশোধিত মাসআলা। এখন ১২ হতে এক ষষ্ঠাংশ অর্থাৎ দুই ভাগ পাবে মাতা, আর অবশিষ্ট পাঁচ ভাগ – যার পরিমাণ দশ - পাবে দশজন পুত্র।

২ x ২ = ৪
১ x ২ = ২ (কন্যা)
১ x ২ = ২ (২ চাচা)
এই চিত্রে লেখক যেই মাসআলাটি তুলে ধরেছেন, তা হলো- কোনো ব্যক্তি এক কন্যা ও দুই চাচাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মাসআলা গঠিত হবে দুই দ্বারা। যেখানে কন্যা পাবে অর্ধেক, যার পরিমাণ এক, আর অবশিষ্ট সম্পত্তি পাবে দুই চাচা। কিন্তু দুই চাচার মধ্যে এক অংশ সমানভাগে বিভাজিত হয় না। তাই এখানে আমরা ওয়ারিছদের যেই দলের সম্পত্তি সমানভাগে বিভক্ত হয়নি, তাদের সংখ্যা দুই ও মূল মাসআলা দুই-এর মাঝে বিদ্যমান মুমাছালাহ-এর সম্পর্ক থাকায় ওয়ারিছদের সংখ্যা দুই দ্বারা মূল মাসআলা দুইকে গুণ করলাম। এখন নির্ণীত গুণফল চারই হলো সংশোধিত মাসআলা। এখন অর্ধেক সম্পদ দুই ভাগ পাবে কন্যা, আর অবশিষ্ট দুই ভাগ পাবে দুই চাচা।

যখন ওয়ারিছদের একাধিক দলের অংশের মধ্যে ভগ্নাংশ পাওয়া যাবে, তখন তাছুহীহ করার পদ্ধতি:
যদি ওয়ারিছদের একাধিক দলের অংশের মধ্যে ভগ্নাংশ পাওয়া যায়, তাহলে আমরা দুটি বিষয় লক্ষ্য করব:
প্রথমত: ওয়ারিছদের সংখ্যা ও তাদের প্রাপ্য অংশের দিকে লক্ষ্য করব যে, এতদুভয়ের মাঝে মুবায়ানাহ-এর সম্পর্ক নাকি মুওয়াফাক্বাহ-এর?
দ্বিতীয়ত: ওয়ারিছদের যেই একাধিক দলের প্রাপ্য অংশের মধ্যে ভগ্নাংশ পাওয়া গেছে, সেই একাধিক দলগুলোর সংখ্যার (ব্যক্তি সংখ্যা) মধ্যে পূর্বে বর্ণিত চারটি অনুপাতের কোন অনুপাত আছে, সে বিষয়টি লক্ষ্য করতে হবে।
১. সুতরাং এখন আমরা দেখব, যাদের প্রাপ্য অংশের মধ্যে ভগ্নাংশ বিদ্যমান, তাদের মাথাপিছু সংখ্যা আর তাদের প্রাপ্য অংশের মধ্যে কোন অনুপাত বা কোন সম্পর্ক আছে। যদি উভয়টির মধ্যে মুওয়াফাক্বাহ-এর সম্পর্ক থাকে, তাহলে আমরা তাদের সংখ্যার উৎপাদকটি নির্ণয় করে নিব। আর যদি উভয়টির মধ্যে মুবায়ানাহ-এর সম্পর্ক থাকে, তাহলে আমরা তাদের সংখ্যা ঠিক যেভাবে আছে, সেভাবেই রাখব।
২. এরপরে আমরা দেখব ওয়ারিছদের উভয় দলের সংখ্যার মধ্যে চারটি সম্পর্কের কোন সম্পর্ক বিদ্যমান, এখন এখানে যেহেতু উভয় দলের সংখ্যার মধ্যে মুবায়ানাহ-এর সম্পর্ক বিদ্যমান, তাই আমরা একদলের সংখ্যা চার দ্বারা অন্যদলের সংখ্যা তিনকে সরাসরি গুণ করব ৪×৩ = ১২
৩. এরপরে আমরা নির্ণীত গুণফল ১২কে - যা মূলত ওয়ারিছদের নির্ধারিত অংশেরই আংশিক ভাগ - মূল মাসআলা ৪-এর সাথে গুণ করব, ১২×৪=৪৮।
৪. এরপরে আমরা মূল মাসআলা (সংশোধিত মাসআলার পূর্বের মাসআলা) হতে "প্রত্যেক দলের প্রাপ্য অংশকে" তাদের নির্ধারিত অংশের আংশিক ভাগের সাথে গুণ করব, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
৫. এরপরে আমরা প্রত্যেক দলের প্রাপ্য অংশ সংশ্লিষ্ট দলের ওয়ারিছদেরকে মাথাপিছু বণ্টন করে দিব, আর এই জন্য প্রত্যেক ওয়ারিছের প্রাপ্য অংশ নির্ণয় করে নিতে হবে। সুতরাং আমরা স্ত্রীগণের প্রাপ্য অংশ ১২ তাদের মাথাপিছু সংখ্যা (৩) অনুসারে প্রত্যেককে ৪ ভাগ করে প্রদান করব আর চাচাদেরকেও এভাবেই বণ্টন করে দিব:
মাসআলাটির চিত্র নিম্নে তুলে ধরা হয়েছে:
৪ x ১২ = ৪৮
৩ স্ত্রী = ১ x ১২ = ১২ (প্রত্যেকে ৪)
৪ চাচা = ৩ x ১২ = ৩৬ (প্রত্যেকে ৯)
মাসআলাটি হলো, কোনো ব্যক্তি তিনজন স্ত্রী ও চারজন চাচাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মূল মাসআলা গঠিত হবে চার দ্বারা, যেখানে তিনজন স্ত্রী পাবে এক চতুর্থাংশ, যার পরিমাণ এক। আর অবশিষ্ট তিনভাগ পাবে চারজন চাচা আছাবার ভিত্তিতে, কিন্তু তিনজন স্ত্রীর মধ্যে একভাগ আর চারজন চাচার মধ্যে তিনভাগ সম্পত্তি সমানভাগে বিভাজিত হয় না। এখন আমরা কীভাবে এই মাসআলাকে সংশোধন করব? উপরোক্ত নিয়মানুযায়ী এখন আমরা দেখতে পেলাম যে, এই মাসআলায় ওয়ারিছদের দুই দল – তিনজন স্ত্রী ও চারজন চাচা – এর প্রাপ্য অংশের মধ্যে ভগ্নাংশ বিদ্যমান, তাই আমরা প্রথমে যাদের প্রাপ্য অংশে ভগ্নাংশ বিদ্যমান, এমন দুই দলের ওয়ারিছদের সংখ্যা ও তাদের প্রাপ্য অংশের মধ্যে মুবায়ানাহ-এর সম্পর্ক নাকি মুওয়াফাক্বাহ-এর সম্পর্ক। তাহলে এখানে যেহেতু তিনজন স্ত্রী পাবে একভাগ, তাই স্পষ্টভাবেই দেখা যাচ্ছে যে, তিন ও এক এর মাঝে মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক। অপরদিকে চারজন চাচা ও তাদের প্রাপ্য অংশ তিন এর মাঝেও মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক, তাই আমরা উভয় দলের ওয়ারিছদের সংখ্যাকেই ঠিক রেখে পরবর্তী হিসাবের দিকে অগ্রসর হব। এখান দ্বিতীয় ধাপে আমরা দেখতে পেলাম যে, উভয় দলের ওয়ারিছদের সংখ্যা যথাক্রমে ৩ ও ৪ এর মধ্যে মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক, তাই আমরা তিনকে চারের সাথে গুণ করলাম, গুণফল হলো “১২”। এখন তৃতীয় ধাপে বর্ণিত নিয়মানুযায়ী আমরা নির্ণীত গুণফলকে – যা মূলত নির্ধারিত অংশের একটি ভাগ – মাসআলা চার এর সাথে গুণ করলাম, গুণফল হলো ৪৮, যা সংশোধিত মাসআলা। এখন চতুর্থ ধাপে বর্ণিত নিয়মানুযায়ী আমরা প্রত্যেক দলের মূল মাসআলা হতে প্রাপ্য অংশ দ্বারা তাদের নির্ধারিত আংশিক অংশকে গুণ করব, প্রত্যেক দলের নির্ধারিত অংশ যেহেতু ১২, তাই স্ত্রীদের দল পাবে এক চতুর্থাংশ, যার পরিমাণ ১২। তিনজন স্ত্রীর প্রত্যেকে চারভাগ করে পাবে। অপরদিকে অবশিষ্ট ছত্রিশভাগকে চারজন চাচার মাঝে নয়ভাগ করে বণ্টন করে দেওয়া হবে।

১২ x ৬০ = ৭২০
৪ স্ত্রী = ৩ x ৬০ = ১৮০ (প্রত্যেকে ৪৫)
৫ বৈপিত্রেয় ভাই = ৪ x ৬০ = ২৪০ (প্রত্যেকে ৪৮)
৩ দাদী বা নানী = ২ x ৬০ = ১২০ (প্রত্যেকে ৪০)
১ চাচা = ৩ x ৬০ = ১৮০
এই চিত্রে লেখক যেই মাসআলাটি তুলে ধরেছেন, তা হলো কোনো ব্যক্তি চারজন স্ত্রী, পাঁচজন বৈপিত্রেয় ভাই ও তিনজন দাদী বা নানীকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মাসআলা গঠিত হবে ১২ দ্বারা। এখন চারজন স্ত্রী পাবে এক চতুর্থাংশ, যার পরিমাণ তিন, পাঁচজন বৈপিত্রেয় ভাই পাবে এক তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ চার, তিনজন দাদী বা নানী পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ দুই, আর একজন চাচা পাবে অবশিষ্ট তিনভাগ সম্পত্তি। কিন্তু এখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, চারজন স্ত্রী, পাঁচজন বৈপিত্রেয় ভাই ও তিনজন দাদী বা নানীর ভাগ তাদের মধ্যে সমানভাগে বিভাজিত হয় না, তাই এখন এই মাসআলার সংশোধন প্রয়োজন। কিন্তু চারজন স্ত্রী ও তাদের প্রাপ্য অংশ তিন এর মাঝে মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক, ঠিক একই অবস্থা পাঁচজন বৈপিত্রেয় ভাই ও তিনজন দাদী ও নানী এবং তাদের প্রাপ্য অংশের। তাই আমরা পূর্বের মতই তাদের মাথাপিছু সংখ্যাকে ঠিক রেখে দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হয়ে দেখলাম যে, উক্ত ওয়ারিছদের মাথাপিছু সংখ্যার মধ্যেও মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক, তাই যথাক্রমে স্ত্রীদের সংখ্যা ৪ দ্বারা বৈপিত্রেয় ভাইদের সংখ্যা ৫ কে গুণ করলাম, গুণফল ২০ দ্বারা আবার দাদী বা নানীদের সংখ্যা ৩ কে গুণ করলাম, গুণগল হলো ৬০। এখন তৃতীয় ধাপের নিয়মানুযায়ী আমরা গুণফল ৬০ দ্বারা মূল মাসআলা ১২ কে গুণ করলাম, এখন নির্ণীত গুণফল ৭২০ হলো সংশোধিত মাসআলা। এখন চতুর্থ ধাপের নিয়মানুযায়ী আমরা মূল মাসআলা হতে প্রত্যেক দলের প্রাপ্য অংশ দ্বারা তাদের নির্ধারিত আংশিক অংশকে গুণ করব। এখন তিনজন স্ত্রীর মূল মাসআলার অংশ ৩ দ্বারা তাদের নির্ধারিত অংশ ৬০ কে গুণ করব, গুণফল ১৮০, প্রত্যেক স্ত্রী পাবে ৪৫ করে। একইভাবে বৈপিত্রেয় পাঁচ ভাই ও তিন দাদী বা নানী ও একজন চাচার হিসাবও এভাবেই করতে হবে। এখানে চাচার প্রাপ্য অংশ ৩ দ্বারা নির্ধারিত অংশ ৬০ কে গুণ করতে হবে, নির্ণীত গুণগল ১৮০ হলো চাচার ভাগ।

২৪ x ১২ = ২৮৮
৪ স্ত্রী = ৩ x ১২ = ৩৬ (প্রত্যেকে ৯)
৬ কন্যা = ১৬ x ১২ = ১৯২ (প্রত্যেকে ৩২)
৩ দাদী বা নানী = ৪ x ১২ = ৪৮ (প্রত্যেকে ১৬)
৬ চাচা = ১ x ১২ = ১২
এখানে যেই মাসআলাটি লেখক তুলে ধরেছেন, তা হলো কোনো ব্যক্তি চারজন স্ত্রী, ছয়জন কন্যা, তিনজন দাদী বা নানী ও ছয়জন চাচাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে মাসআলা গঠিত হবে চব্বিশ দ্বারা, যেখানে চারজন স্ত্রী পাবে তিনভাগ, ছয়জন কন্যা পাবে ষোলভাগ, তিনজন দাদী বা নানী পাবে চারভাগ আর ছয়জন চাচা পাবে একভাগ। কিন্তু এই মাসআলায় ওয়ারিছদের কোনো দলেরই প্রাপ্য অংশ তাদের মধ্যে সমানভাগে বিভাজিত হয় না, তাই এখানেও মাসআলা সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এখন প্রথমে আমরা দেখব, এখানে ওয়ারিছদের সংখ্যা আর তাদের প্রাপ্য অংশের মধ্যে মুওয়াফাক্বাহ এর সম্পর্ক নাকি মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক? আমরা দেখলাম, একমাত্র কন্যাদের সংখ্যা ৬ আর তাদের প্রাপ্য অংশ ১৬ এর মধ্যে মুওয়াফাক্বাহ এর সম্পর্ক বিদ্যমান। এছাড়া অন্য সকল ওয়ারিছদের সংখ্যা আর তাদের প্রাপ্য অংশের মধ্যে মুবায়ানাহ-এর সম্পর্ক বিদ্যমান। সুতরাং আমরা ৬ আর ১৬ এর উৎপাদক নির্ণয় করলাম, ৬ আর ১৬ এর উৎপাদক হলো ২। তাহলে অন্য সকল ওয়ারিছের সংখ্যাকে ঠিক রেখে কন্যাদের সংখ্যার উৎপাদক নির্ণয় করে সামনে অগ্রসর হলাম। এখন দ্বিতীয় ধাপে আমরা দেখব, যেই দলগুলোর ওয়ারিছদের মাথাপিছু সংখ্যা ঠিক রাখা হয়েছে, (অর্থাৎ যেই দলগুলোর ওয়ারিছদের মাথাপিছু সংখ্যার উৎপাদক নির্ণয়ের প্রয়োজন হয়নি) সেই দলগুলোর মাথাপিছু সংখ্যার মধ্যে চারটি সম্পর্কের কোন সম্পর্ক বিদ্যমান। আমরা দেখলাম যে, চাচাদের দলের সংখ্যা ৬ ও স্ত্রীদের দলের সংখ্যা ৪, এগুলোর মধ্যে তথা ৬ ও ৪ এর মধ্যে মুওয়াফাক্বাহ এর সম্পর্ক বিদ্যমান। কিন্তু এখানে আমরা দাদী বা নানীদের সংখ্যা ৩ এর কাজ এখনই করব না, যেহেতু ৩এর সঙ্গে ৪ এর মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক। এখন আমরা এই দুইটি সংখ্যার সাধারণ একটি উৎপাদক নির্ণয় করব। এখানে এই দুইটি সংখ্যার সাধারণ উৎপাদক হলো ২। এখন আমরা দেখব, এই উৎপাদক ২ আর দাদী বা নানীদের সংখ্যা ৩ এর মধ্যে কী সম্পর্ক? এই সংখ্যা দুইটির মধ্যে মুবায়ানাহ এর সম্পর্ক বিদ্যমান, তাই আমরা সরাসরি ৩ দ্বারা ২ কে গুণ করব, গুণফল ৬ দ্বারা কন্যাদের সংখ্যার উৎপাদককে গুণ করব, গুণফল হলো ১২। এখন এই নির্ণীত গুণফলই হলো ওয়ারিছদের প্রত্যেক দলের নির্ধারিত অংশের আংশিক ভাগ। এখন তৃতীয় পর্যায়ে আমরা ওয়ারিছদের নির্ধারিত অংশের আংশিক ভাগ দ্বারা মূল মাসআলা ২৪ কে গুণ করব। এখন নির্ণীত গুণফল ২৮৮ হলো সংশোধিত মাসআলা। এবার চতুর্থ ধাপে আমরা মূল মাসআলা হতে প্রাপ্ত ওয়ারিছদের অংশ দ্বারা তাদের নির্ধারিত অংশের আংশিক ভাগকে গুণ করব। নির্ণীত গুণফলই হবে প্রত্যেক ওয়ারিছের ভাগের পরিমাণ, যেমনটি উপরোক্ত চিত্রে তুলে ধরা হয়েছে。

**টিকাঃ**
[৩২] ফারায়েয শাস্ত্রে মূল মাসআলা বা মাসআলার মৌলিক সংখ্যা বলতে এমন ভাজ্যকে বুঝানো হয়, যা সকল ওয়ারিছের মাঝে তাদের নির্ধারিত অংশের আনুপাতিক হারে বণ্টনযোগ্য। এখানে মৌলিক সংখ্যা নির্ণয়ের প্রয়োজন এই জন্য যে, পরিত্যক্ত সম্পত্তি ওয়ারিছদের মাঝে বণ্টনের সময় এমন মৌলিক সংখ্যা নির্ণয় আবশ্যকীয় হয়ে পড়ে, যা দ্বারা পুরো সম্পত্তি ওয়ারিছদের মাঝে তাদের অংশের আনুপাতিক হারে বণ্টন করা যায়। মূল মাসআলা বা মাসআলা বলতেও এমন ভাজ্যকেই বুঝানো হয়েছে।
[৩৩] সামনে এগুলোর পরিচয় আসছে।
[৩৪] মুতামাসিল এর অর্থ হলো হুবহু একই সংখ্যা হওয়া। যেমন- ২, ২, ৪, ৪, ৬ ও ৬ ইত্যাদি। মুতাদাখিল এর অর্থ হলো মিশ্র সংখ্যা। যেমন, ৪, ৮, ৩, ৬ ইত্যাদি। অর্থাৎ এমন দুই বা ততোধিক সংখ্যা, যেই সংখ্যাগুলোর বড় সংখ্যাটিকে ছোট সংখ্যাটি দ্বারা ভাগ করা যায়। মুতাওয়াফিক এর অর্থ হলো এমন দুই বা ততোধিক সংখ্যা, যেগুলোর একটিকে অপরটি দ্বারা ভাগ করা যায় না, কিন্তু সংখ্যাগুলোর একটি সাধারণ গুণনীয়ক বা উৎপাদক থাকে। যেমন, ৬, ৮ সংখ্যা দুটির কোনো একটিকে অপরটি দ্বারা সমান ভাগে ভাগ করা যায় না, কিন্তু সংখ্যা দুটির একটি সাধারণ উৎপাদক আছে, আর সেই উৎপাদক হলো ২, যা ৬ ও ৮ উভয় সংখ্যাকেই সমান ভাগে ভাগ করতে পারে। আর এই উৎপাদককে আরবী ভাষায় ওয়াফক্ব বলা হয়।
[৩৫] এগুলোকে তামাছুল, তাদাখুল, তাওয়াফুক্ব ও তাবায়ুনও বলে। তামাছুল বলা হয় এমন দু'টি সংখ্যাকে, যার একটি অপরটির সমান। যেমন- ৩-৩, ৫-৫। তাদাখুল বলা হয় এমন দুই সংখ্যাকে, যার একটি অপেক্ষা অন্যটি বড়, তবে ছোট সংখ্যাটি দ্বারা বড়টি বিভাজ্য। যেমন- ৫ ও ২০ বা ৪ ও ২০। ৪ বা ৫ দ্বারা ২০-কে ভাগ করলে অবশিষ্ট কিছু থাকে না। ভাগ মিলে যায়। তাওয়াফুক বলা হয় এমন দুই সংখ্যাকে, যার ছোটটি দ্বারা বড়টিকে ভাগ করা যায় না বটে, তবে তৃতীয় কোনো সংখ্যা দ্বারা উভয়টিকে ভাগ করা যায়। যেমন- ৮ ও ২০। উভয় সংখ্যাকে ৪ দ্বারা ভাগ করা যায়। এমনিভাবে ৬ ও ৮-কে ভাগ করা যায় ২ দ্বারা। তাবায়ুন বলা হয় যে দুই সংখ্যার অপর কোনো ভাজক নেই, তাকে তাবায়ুন বলা হয়। যেমন- ৯ ও ১০, ৮ ও ১১, ৫ ও ৯। [ফারাইয বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত মাসআলা-মাসায়েল (ইফাবা), পৃ. ৬৬]
[৩৬] তাহুহীহ-এর আভিধানিক অর্থ বিশুদ্ধকরণ। আর ফারায়েযের পরিভাষায় তাছুহীহ-এর অর্থ হচ্ছে একাধিক ওয়ারিছের প্রাপ্য অংশে ভগ্নাংশ দেখা দিলে এমন কোনো ক্ষুদ্রতম সংখ্যা দ্বারা অংশ বের করা, যা দ্বারা অংশীদারদের অংশসমূহ ভগ্নাংশ ছাড়াই সঠিকভাবে মিলে যায়। সম্পত্তি বণ্টনে অনেক সময় এরূপ বিশুদ্ধকরণ বা মূলরাশি (=হর=ভাজক)-কে ভেঙ্গে এমন কোনো সংখ্যা বের করতে হয়, যা দ্বারা ভাগ মিলে যায়। কোথায় তাছুহীহ-এর প্রয়োজন এবং কোথায় প্রয়োজন নেই, তা বোঝাতে হলে ৭টি মূলনীতি জানা প্রয়োজন। তন্মধ্যে ৩টি নিয়ম প্রাপ্ত অংশ ও ওয়ারিছগণের সংখ্যা হিসেবে। আর ৪টি কেবল ওয়ারিছগণের সংখ্যা হিসেবে স্থিরীকৃত। [ফারাইয বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত মাসআলা-মাসায়েল (ইফাবা), পৃ. ৬৬]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00