📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 স্বামীর মীরাছ

📄 স্বামীর মীরাছ


স্বামীর মীরাছের দুইটি অবস্থা:
১. স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তির অর্ধেক পাবে, যদি স্ত্রীর উক্ত স্বামীর ঔরসে বা অন্য কোনো স্বামীর ঔরসে কোনো অধস্তন সন্তান না থাকে।
এখানে ওয়ারিছ হওয়ার যোগ্য সন্তানগণ হলো: পুত্রসন্তানগণ, কন্যাসন্তানগণ, পুত্রের সন্তানগণ- এভাবে তারা যতই অধস্তন হোক না কেনো। কিন্তু কন্যার সন্তানগণ ওয়ারিছ নয়।
২. স্বামী তার স্ত্রীর মোট সম্পত্তির এক চতুর্থাংশ পাবে, যদি তার স্ত্রীর কোনো সন্তান থাকে, সেই সন্তান এই স্বামীর ঔরসজাত হতে পারে বা অন্যকোনো স্বামীর ঔরসজাত হতে পারে।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُنَّ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ}
"তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির অর্ধেক ধার্য করা হয়েছে, যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে। আর যদি তাদের কোনো সন্তান থাকে, তাহলে তোমাদের জন্য (মোট সম্পত্তির) এক চতুর্থাংশ ধার্য করা হয়েছে, যা তাদেরকে প্রদান করা হবে তাদের করে যাওয়া অসিয়ত সম্পন্ন করে অথবা (ঋণ থাকলে) ঋণ পরিশোধ করার পরে। [সুরা আন-নিসা: ১২]।

উদাহরণ:
১. কোনো মহিলা স্বামী, মাতা ও আপন ভাইকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে সম্পত্তি ভাগ করতে হবে ৬ দ্বারা: স্বামী পাবে মোট সম্পত্তির অর্ধাংশ, যার পরিমাণ তিন, আর মাতা পাবে এক তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ দুই এবং অবশিষ্ট সম্পত্তি পাবে ভাই।
২. কোনো মহিলা স্বামী ও ছেলেকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে সম্পত্তি ভাগ করতে হবে ৪ দ্বারা: স্বামী পাবে একচতুর্থাংশ আর অবশিষ্ট সম্পত্তি পাবে ছেলে।

📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 স্ত্রীর মীরাছ

📄 স্ত্রীর মীরাছ


স্ত্রীর মীরাছের দুইটি অবস্থা:
১. স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির এক চতুর্থাংশ পাবে, যদি উক্ত স্বামীর এই স্ত্রীর গর্ভের বা অন্যকোনো স্ত্রীর গর্ভের কোনো সন্তান না থাকে।
২. স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির এক অষ্টমাংশ পাবে, যদি উক্ত স্বামীর এই স্ত্রীর গর্ভের বা অন্যকোনো স্ত্রীর গর্ভের কোনো সন্তান থাকে।
যদি স্ত্রীরা সংখ্যায় একাধিক হয়, তবে তারা সকলেই যৌথভাবে এক চতুর্থাংশ বা এক অষ্টমাংশ পাবে।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَكُمْ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُمْ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ}
"যদি তোমাদের কোনো সন্তান না থাকে, তাহলে তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক চতুর্থাংশ তারা (স্ত্রীগণ) পাবে, আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তাহলে তারা তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক অষ্টমাংশ পাবে তোমাদের করে যাওয়া অসিয়ত সম্পন্ন করার পরে বা (যদি ঋণ থাকে) ঋণ পরিশোধ করার পরে। [সূরা আন-নিসা: ১২]।

উদাহরণ:
১. কোনো ব্যক্তি স্ত্রী, মাতা ও আপন চাচাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে সম্পত্তি ভাগ করতে হবে ১২ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক চতুর্থাংশ, মাতা পাবে এক তৃতীয়াংশ, আর চাচা পাবে অবশিষ্ট সম্পত্তি।
২. কোনো ব্যক্তি স্ত্রী ও পুত্র সন্তানকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে সম্পত্তি ভাগ করতে হবে ৮ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ, যার পরিমাণ এক, আর পুত্র পাবে অবশিষ্ট সম্পত্তি।
৩. কোনো ব্যক্তি তিনজন স্ত্রী, একজন পুত্র ও একজন কন্যাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে সম্পত্তি ভাগ করতে হবে ৮ দ্বারা: স্ত্রীগণ পাবে এক অষ্টমাংশ, যার পরিমাণ এক, আর অবশিষ্ট সম্পত্তি পুত্র ও কন্যার মাঝে আছাবার ভিত্তিতে বণ্টন হবে, পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পাবে (আর নারী পাবে পুরুষের অর্ধেক)।

📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 কন্যার মীরাছ

📄 কন্যার মীরাছ


কন্যার মীরাছের তিনটি অবস্থা:
১. কন্যাকে আছাবাকারী তার ভাই না থাকার শর্তে ও সম্পত্তিতে তার কোনো যৌথ অংশীদার বোন না থাকার শর্তে কন্যা মোট সম্পত্তির অর্ধাংশ পাবে।
২. দুই বা ততোধিক কন্যা একত্রে ওয়ারিছ হলে তারা যৌথভাবে দুই তৃতীয়াংশ পাবে, তবে শর্ত হলো- তাদেরকে আছাবাকারী তাদের ভাই থাকা চলবে না।
৩. এক বা একাধিক কন্যা আছাবার ভিত্তিতে ওয়ারিছ হবে, যদি তার সাথে অথবা তাদের সাথে তাদের ভাই থাকে। আছাবার ভিত্তিতে "পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পাবে"- এই নীতির আলোকে সম্পত্তি ভাগ হবে।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{يُوصِيكُمُ اللهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ فَإِنْ كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ }
"আল্লাহ তোমাদের (পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টনে) সন্তানদের ব্যাপারে তোমাদের অসিয়ত করছেন যে, পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পাবে। আর যদি কন্যাদের সংখ্যা দুয়ের অধিক হয়, তবে তারা মোট সম্পত্তির দুই তৃতীয়াংশ পাবে। কিন্তু যদি কন্যা সংখ্যায় একজন হয়, তাহলে সে মোট সম্পত্তির অর্ধাংশ পাবে"। [সূরা আন-নিসা ৪:১১]

উদাহরণ:
১. কোনো ব্যক্তি একটি কন্যা ও চাচাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে সম্পত্তি ভাগ করতে হবে ২ দ্বারা: কন্যা পাবে অর্ধেক, যার পরিমাণ এক, আর চাচা পাবে অবশিষ্ট সম্পত্তি।
২. কোনো ব্যক্তি মাতা, দুই কন্যা ও একজন দাদাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে সম্পত্তি ভাগ করতে হবে ৬ দ্বারা: মাতা পাবে এক ষষ্ঠাংশ, দুই কন্যা পাবে দুই তৃতীয়াংশ, আর দাদা পাবে এক ষষ্ঠাংশ।
৩. কোনো ব্যক্তি একজন দাদী বা নানী, একটি কন্যা ও একটি পুত্রকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে সম্পত্তি ভাগ করতে হবে ৬ দ্বারা: দাদী বা নানী পাবে এক ষষ্ঠাংশ, যার পরিমাণ এক, আর কন্যা ও পুত্র "পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পাবে”- এই বণ্টননীতি অনুযায়ী অবশিষ্ট সম্পত্তি পাবে।
৪. কোনো ব্যক্তি দুইটি পুত্র ও তিনটি কন্যাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে সম্পত্তি ভাগ করতে হবে তাদের সংখ্যা অনুযায়ী ৭ দ্বারা (যেহেতু দুই পুত্র দ্বিগুণ পাবে, তাই তাদের সংখ্যা ৪): প্রত্যেক পুত্র পাবে দুই ভাগ করে, আর প্রত্যেক কন্যা পাবে এক ভাগ করে।

📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 ছেলের ঔরসজাত কন্যার মীরাছ

📄 ছেলের ঔরসজাত কন্যার মীরাছ


পুত্রের কন্যার মীরাছের চারটি অবস্থা:
১. পুত্রের কন্যা (পৌত্রী) মোট সম্পত্তির অর্ধেক পাবে তিনটি শর্তে:
(ক) পুত্রের কন্যাকে আছাবাকারী তার ভাই থাকা যাবে না।
(খ) পুত্রের কন্যার যৌথ অংশীদার তার বোন থাকা যাবে না।
(গ) মৃতব্যক্তির এমন কোনো অধস্তন ওয়ারিছ থাকা চলবে না, যে পুত্রের কন্যার চেয়ে উপরের স্তরের। যেমন- আপন পুত্র ও আপন কন্যা।

২. পুত্রের দুই বা ততোধিক কন্যা মোট সম্পত্তির দুই তৃতীয়াংশের ওয়ারিছ হবে তিনটি শর্তে:
(ক) পুত্রের কন্যার সংখ্যা হতে হবে দুই বা ততোধিক।
(খ) তাদেরকে আছাবাকারী ভাই থাকা যাবে না।
(গ) মৃতব্যক্তির এমন কোনো অধস্তন ওয়ারিছ থাকা চলবে না, যারা তাদের চেয়ে উপরের স্তরের। যেমন- মৃতব্যক্তির পুত্র, কন্যা।

৩. পুত্রের এক বা একাধিক কন্যা এক ষষ্ঠাংশ পাবে দু'টি শর্তে:
(ক) তাকে বা তাদেরকে আছাবাকারী ভাই থাকা যাবে না।
(খ) মৃতব্যক্তির এমন কোনো অধস্তন ওয়ারিছ থাকা চলবে না, যারা তাদের চেয়ে উপরের স্তরের। তবে এ অবস্থায় অর্ধেক সম্পত্তির ভাগীদার আপন কন্যা ব্যতীত। কারণ পুত্রের কন্যা কেবল আপন কন্যার সাথে এক ষষ্ঠাংশ পাবে। একই বিধান মৃতব্যক্তির ছেলের মেয়ের (পৌত্রীর) সাথে ছেলের ছেলের মেয়ের (প্রপৌত্রীর) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে (অর্থাৎ পৌত্রীর উপস্থিতিতে প্রপৌত্রী এক ষষ্ঠাংশ পাবে আর পৌত্রী অর্ধেক পাবে- আছাবাকারী ভাই না থাকা ও মৃতব্যক্তির মোট সম্পত্তির অর্ধাংশের ওয়ারিছ আপন কন্যা ব্যতীত অন্যকোনো ঊর্ধ্বতন ওয়ারিছ না থাকার শর্তে)।

৪. যদি পুত্রের কন্যা (পৌত্রী) এক বা একাধিক হয় এবং তার সাথে প্রজন্মের দিক থেকে তারই সমপর্যায়ের ভাই থাকে-সে হচ্ছে পুত্রের পুত্র (পৌত্র)- আর পুত্রের কন্যার ঊর্ধ্বতন কোনো পুরুষ যদি না থাকে যেমন- আপন ছেলে, তাহলে সে আছাবার ভিত্তিতে সম্পত্তির ওয়ারিছ হবে।

উদাহরণ:
১. এক ব্যক্তি পুত্রের কন্যা (পৌত্রী) ও চাচা রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে সম্পত্তি ভাগ করতে হবে ২ দ্বারা: পুত্রের কন্যা অর্ধেক পাবে, আর চাচা অবশিষ্ট সম্পদ পাবে।
২. এক ব্যক্তি পুত্রের দুই কন্যা ও সহোদর ভাই রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে সম্পত্তি ভাগ করতে হবে ৩ দ্বারা: পুত্রের দুই কন্যা দুই তৃতীয়াংশ পাবে, আর অবশিষ্ট সম্পত্তি ভাই পাবে।
৩. এক ব্যক্তি আপন মেয়ে, ছেলের মেয়ে (পৌত্রী) ও বৈমাত্রেয় ভাই রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে সম্পত্তি ভাগ করতে হবে ৬ দ্বারা: আপন মেয়ে পাবে অর্ধেক- যার পরিমাণ তিন, পুত্রের কন্যা পাবে এক ষষ্ঠাংশ- যার পরিমাণ এক, আর অবশিষ্টাংশ পাবে ভাই।
৪. কোনো মহিলা স্বামী, পুত্রের কন্যা (পৌত্রী) ও পুত্রের পুত্র (পৌত্র) রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে সম্পত্তি ভাগ করতে হবে ৪ দ্বারা: স্বামী পাবে এক চতুর্থাংশ, যার পরিমাণ এক, আর অবশিষ্ট তিন ভাগ পুত্রের কন্যা ও পুত্রের পুত্র "পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পাবে" এই নীতিতে পাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00