📄 মীরাছের উত্তরাধিকারী নারীদের সংখ্যা
মীরাছের উত্তরাধিকারী নারীদের সংখ্যা এগার (১১) জন। তারা হলো-
১. কন্যা
২. ছেলের ঔরসজাত কন্যা (নাতনী), তার (কন্যা) পিতা যতই অধস্তন পুরুষ হন না কেনো, তবে শুধুমাত্র ছেলের মধ্যস্থতায় হতে হবে।
৩. মাতা
৪. মায়ের দিকের মাতামহ (নানী) যতই ঊর্ধ্বতন মাতা হন না কেনো, তবে শুধুমাত্র মহিলার মধ্যস্থতায় হতে হবে
৫. পিতার দিকের মাতামহ (দাদী) যতই ঊর্ধ্বতন মাতা হন না কেনো, তবে শুধুমাত্র মহিলার মধ্যস্থতায় হতে হবে
৬. ঐ মাতামহ, যিনি পিতার বাবার মা (পিতার দাদী)।
৭. সহোদর বোন
৮. বৈমাত্রেয় বোন
৯. বৈপিত্রেয় বোন
১০. স্ত্রী
১১. আযাদকারিনী মহিলা।
উল্লিখিত নারীগণ ব্যতীত যত নারী আছে, তারা সকলেই সাধারণ আত্মীয়। যেমন: ফুফুগণ, খালাগণ ও এজাতীয় অন্যান্য আত্মীয়।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيبًا مَفْرُوضًا (۷)}
'পুরুষদের জন্য মাতা পিতা ও নিকটাত্মীয়রা যা রেখে গেছে, তা হতে একটি অংশ রয়েছে। আর নারীদের জন্য রয়েছে মাতা পিতা ও নিকটাত্মীয়রা যা রেখে গেছে, তা থেকে একটি অংশ- তা থেকে কম হোক বা বেশি হোক- নির্ধারিত হারে'। সূরা আন-নিসা ৪:৭
📄 নির্ধারিত অংশের অধিকারী ওয়ারিছগণ
ওয়ারিছদের প্রকারভেদ: সম্পত্তির ওয়ারিছ হওয়ার অবস্থাভেদে ওয়ারিছরা চার ভাগে বিভক্ত:
১. যারা শুধুমাত্র (কুরআনে বর্ণিত) নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে ওয়ারিছ হবে, তারা ৭ জন: الزوج والزوجة والأم والجدة من جهة الأم والجدة من جهة الأب، والأخ لأم، والأخت لأم.
স্বামী, স্ত্রী, মাতা, নানী, দাদী, বৈপিত্রেয় ভাই ও বৈপিত্রেয় বোন।
২. যারা শুধুমাত্র আছাবা হওয়ার ভিত্তিতে ওয়ারিছ হবে, তারা ১২ জন:
الابن، وابن الابن وإن نزل، والأخ الشقيق، والأخ لأب، وابن الأخ الشقيق وإن نزل، وابن الأخ لأب وإن نزل، والعم الشقيق وإن علا، والعم لأب وإن علا، وابن العم الشقيق وإن نزل، وابن العم لأب وإن نزل، والمعتق، والمعتقة.
পুত্র, পুত্রের পুত্র (নাতি)- এভাবে যতই নীচে যাক না কেন, সহোদর ভাই, বৈমাত্রেয় ভাই, সহোদর ভাইয়ের পুত্র- এভাবে যতই নীচে যাক না কেন, বৈমাত্রেয় ভাইয়ের পুত্র- এভাবে যতই নীচে যাক না কেন, আপন চাচা- এভাবে যতই উপরে যাক না কেন, বৈমাত্রেয় চাচা- এভাবে যতই উপরে যাক না কেন, আপন চাচার পুত্র- এভাবে যতই নীচে যাক না কেন, বৈমাত্রেয় চাচার পুত্র- এভাবে যতই নীচে যাক না কেন, আযাদকারী পুরুষ ও আযাদকারী মহিলা মনীব।
৩. যারা কখনো নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে ওয়ারিছ হবে, আবার কখনো আছাবার সম্পর্কের ভিত্তিতে ওয়ারিছ হবে, আবার কখনো উভয়টার ভিত্তিতেই ওয়ারিছ হবে (অর্থাৎ দুইবার ওয়ারিছ হবে), তারা ২ জন: পিতা ও দাদা।
তাদের দুইজনের একজন (বাবা অথবা দাদা) যদি নিজের রক্তের কোনো অধস্তন পুরুষের সাথে ওয়ারিছ হয়, তবে নির্ধারিত অংশের এক ষষ্ঠাংশ পাবে। আর যদি তার সঙ্গে তার রক্তের কোনো অধস্তন পুরুষ ওয়ারিছ হিসেবে না থাকে, তাহলে সে শুধুমাত্র আছাবার ভিত্তিতে ওয়ারিছ হবে। আর যদি সে (দাদা অথবা পিতা) তারই রক্তের কোনো অধস্তন পুরুষের সঙ্গে ওয়ারিছ হয়, তবে নির্ধারিত অংশ ও আছাবা উভয়টার ভিত্তিতেই সম্পত্তি পাবে, যদি নির্ধারিত অংশ বণ্টনের পরে এক ষষ্ঠাংশের বেশি অবশিষ্ট থাকে, যেমন- কোনো ব্যক্তি বাবা, মা ও একজন কন্যা রেখে মারা গেলো,
তখন মাসআলা (অর্থাৎ বণ্টনের হিসাবের মূল উৎস) হবে ছয় দ্বারা: কন্যা পাবে মোট সম্পদের অর্ধেক- যার পরিমাণ তিন, মাতা পাবে এক ষষ্ঠাংশ- যার পরিমাণ এক, আর অবশিষ্ট দুই ভাগ পাবে পিতা নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে এবং আছাবার ভিত্তিতে।
৪. যারা কখনো নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে ওয়ারিছ হবে, আবার কখনো আছাবার ভিত্তিতে ওয়ারিছ হবে, তবে একত্রে কখনোই উভয়টির ভিত্তিতে ওয়ারিছ হবে না, তারা হলো ৪ জন:
এক বা একাধিক কন্যা, এক বা একাধিক ছেলের কন্যা- কন্যার বাবা যতই অধস্তন পুরুষ হোক না কেনো, এক বা একাধিক সহোদর বোন, বৈমাত্রেয় এক বা একাধিক বোন।
এই চারজন (চতুর্থ স্তরে বর্ণিত চারজন) নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে ওয়ারিছ হবে, যদি তাদেরকে আছাবা বানানোর মত কেউ বিদ্যমান না থাকে, আর তাদেরকে আছাবা বানানোর মত ব্যক্তি হলো তাদের ভাই। আর তারা আছাবার ভিত্তিতে ওয়ারিছ হবে, যদি তাদের সঙ্গে তাদেরকে আছাবা বানানোর মত ব্যক্তি – তাদের ভাই বিদ্যমান থাকে। যেমন- কন্যার সাথে পুত্র ওয়ারিছ হলে, বোনের সাথে ভাই ওয়ারিছ হলে। আর বোনরা কন্যাদের সাথে সর্বদা আছাবা হবে।
'আছহাবুল ফুরূয'[খ]-এর সংখ্যা: আছহাবুল ফুরুষ ১২ জন:
৪ জন পুরুষ, তারা হলো: পিতা, দাদা, স্বামী এবং বৈপিত্রেয় ভাই।
৮ জন নারী, তারা হলো: স্ত্রী, কন্যা, ছেলের কন্যা, মাতা, দাদী, সহোদরা বোন, বৈমাত্রেয় বোন ও বৈপিত্রেয় বোন।
**টিকাঃ**
[২] মীরাছের ঐ সকল ওয়ারিছ, যারা পরিত্যক্ত সম্পত্তির একটি নির্ধারিত অংশের ওয়ারিছ হয়েছেন।