📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 মীরাছের উত্তরাধিকারী হওয়ার ধরন

📄 মীরাছের উত্তরাধিকারী হওয়ার ধরন


মীরাছের উত্তরাধিকারী হওয়ার ধরন দুইটি:
১. মীরাছের নির্ধারিত অংশের অধিকারী হওয়া (إرث بالفرض) : এটা হলো ওয়ারিছের জন্য (মীরাছের সম্পত্তি থেকে) একটি নির্ধারিত অংশ, যা পূর্ব থেকেই (কুরআনে) ধার্য করা থাকে। যেমন- পূরো সম্পত্তির অর্ধেক অথবা এক তৃতীয়াংশ।
২. আছাবা হওয়ার কারণে মীরাছের অধিকারী হওয়া (إرث بالتعصيب) : এটা হলো ওয়ারিছের জন্য অনির্ধারিত অংশ।

📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 মীরাছের নির্ধারিত অংশগুলোর প্রকারভেদ

📄 মীরাছের নির্ধারিত অংশগুলোর প্রকারভেদ


কুরআনে বর্ণিত মীরাছের নির্ধারিত অংশ হলো ছয়টি: النصف . . والربع . . والثمن . . والثلث . . والثلثان . . والسدس. أما ثلث الباقي فثابت بالاجتهاد.
১. পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেক
২. এক চতুর্থাংশ
৩. এক অষ্টমাংশ
৪. এক তৃতীয়াংশ
৫. দুই তৃতীয়াংশ ও
৬. এক ষষ্ঠাংশ।
আরো রয়েছে অবশিষ্ট সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ, যা ইজতিহাদ দ্বারা প্রমাণিত।

সম্পত্তির অর্ধাংশ পাঁচশ্রেণির ওয়ারিছের জন্য নির্ধারিত: الزوج إذا لم يكن لزوجته ولد والبنت وبنت الابن والأخت الشقيقة، والأخت لأب.
১. স্বামী, যখন তার স্ত্রীর কোনো সন্তান থাকবে না
২. কন্যা
৩. ছেলের ঔরসজাত কন্যা
৪. সহোদরা বোন ও
৫. বৈমাত্রেয় বোন।

📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 মীরাছের উত্তরাধিকারী পুরুষদের সংখ্যা

📄 মীরাছের উত্তরাধিকারী পুরুষদের সংখ্যা


মীরাছের উত্তরাধিকারী পুরুষদের সংখ্যা হলো ১৫ (পনের) জন, তারা হলো:
১. ছেলে
২. ছেলের ছেলে ও তার অধস্তন পুরুষ, যাদের মধ্যস্থতায় শুধুমাত্র পুরুষ থাকে
৩. পিতা
৪. পিতার দিকের দাদা ও তার ঊর্ধ্বতন পুরুষ, যাদের মধ্যস্থতায় শুধুমাত্র পুরুষ থাকে
৫. সহোদর ভাই
৬. বৈমাত্রেয় ভাই
৭. বৈপিত্রেয় ভাই
৮. সহোদর ভাইয়ের ছেলে
৯. বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ছেলে ও তার অধস্তন পুরুষ, যাদের মধ্যস্থতায় শুধুমাত্র পুরুষ থাকে
১০. আপন চাচা ও তার ঊর্ধ্বতন পুরুষগণ
১১. বৈমাত্রেয় চাচা ও তার ঊর্ধ্বতন পুরুষগণ
১২. আপন চাচার ছেলে ও তার অধস্তন পুরুষগণ, যাদের মধ্যস্থতায় শুধুমাত্র পুরুষ থাকে
১৩. বৈমাত্রেয় চাচার ছেলে ও তার অধস্তন পুরুষগণ, যাদের মধ্যস্থতায় শুধুমাত্র পুরুষ থাকে
১৪. (মৃতিব্যক্তির) স্বামী
১৫. দাস-দাসী আযাদকারী মনীব ও তার বংশীয় আছাবা

উপরে বর্ণিত পুরুষগণ ব্যতীত অন্য যত পুরুষ আছে, তারা সবাই সাধারণ আত্মীয়। যেমন- মামা, বৈপিত্রেয় ভাই, বৈপিত্রেয় চাচা, বৈপিত্রেয় চাচাত ভাই, মায়ের পিতা ও মায়ের দিকের দাদা ও এজাতীয় অন্যান্য আত্মীয়।

📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 মীরাছের উত্তরাধিকারী নারীদের সংখ্যা

📄 মীরাছের উত্তরাধিকারী নারীদের সংখ্যা


মীরাছের উত্তরাধিকারী নারীদের সংখ্যা এগার (১১) জন। তারা হলো-
১. কন্যা
২. ছেলের ঔরসজাত কন্যা (নাতনী), তার (কন্যা) পিতা যতই অধস্তন পুরুষ হন না কেনো, তবে শুধুমাত্র ছেলের মধ্যস্থতায় হতে হবে।
৩. মাতা
৪. মায়ের দিকের মাতামহ (নানী) যতই ঊর্ধ্বতন মাতা হন না কেনো, তবে শুধুমাত্র মহিলার মধ্যস্থতায় হতে হবে
৫. পিতার দিকের মাতামহ (দাদী) যতই ঊর্ধ্বতন মাতা হন না কেনো, তবে শুধুমাত্র মহিলার মধ্যস্থতায় হতে হবে
৬. ঐ মাতামহ, যিনি পিতার বাবার মা (পিতার দাদী)।
৭. সহোদর বোন
৮. বৈমাত্রেয় বোন
৯. বৈপিত্রেয় বোন
১০. স্ত্রী
১১. আযাদকারিনী মহিলা।

উল্লিখিত নারীগণ ব্যতীত যত নারী আছে, তারা সকলেই সাধারণ আত্মীয়। যেমন: ফুফুগণ, খালাগণ ও এজাতীয় অন্যান্য আত্মীয়।

আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيبًا مَفْرُوضًا (۷)}
'পুরুষদের জন্য মাতা পিতা ও নিকটাত্মীয়রা যা রেখে গেছে, তা হতে একটি অংশ রয়েছে। আর নারীদের জন্য রয়েছে মাতা পিতা ও নিকটাত্মীয়রা যা রেখে গেছে, তা থেকে একটি অংশ- তা থেকে কম হোক বা বেশি হোক- নির্ধারিত হারে'। সূরা আন-নিসা ৪:৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00