📄 মীরাছের রুকনসমূহ
মীরাছের রুকন তিনটি:
১. মুওয়াররিছ (المورث): মৃত ব্যক্তি
২. ওয়ারিছ (الوارث): যে মুওয়াররিছের মৃত্যুর পরে জীবিত থাকে।
৩. ওয়ারিছী স্বত্ব (الحق الموروث): ঐ পরিত্যক্ত সম্পত্তি, যা মৃত ব্যক্তি রেখে গেছে।
📄 মীরাছের অধিকারী হওয়ার মাধ্যমসমূহ
মীরাছের অধিকারী হওয়ার মাধ্যম তিনটি:
১. বিবাহ (النکاح): শুধুমাত্র বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার দ্বারাই স্বামী স্ত্রীর আর স্ত্রী স্বামীর ওয়ারিছ হয়।
২. বংশ (النسب): বংশীয় এই সম্পর্ক মূলের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে, যেমন: মাতা-পিতা। শাখার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে, যেমন: সন্তানাদি। আবার পার্শ্ববর্তী আত্মীয়ও হতে পারে, যেমন: ভাই, চাচা, তাদের সন্তানাদি।
৩. আল ওয়ালা (الولاء): এটা এমন সম্পর্ক, যা দাসমুক্তির কারণে মনীব ও দাস/দাসীর মধ্যে তৈরি হয়। ফলে মনীব তার আযাদকৃত দাসের (মৃত্যুর পরে) ওয়ারিছ হয়, যদি তার মীরাছের নির্ধারিত অংশের হকদার কোনো আত্মীয় বা তার কোনো ‘আছাবা আত্মীয় না থাকে।
📄 মীরাছের উত্তরাধিকারী হওয়ার পথে অন্তরায়সমূহ
মীরাছের উত্তরাধিকারী হওয়ার পথে অন্তরায় হলো তিনটি বিষয়:
১. দাসত্ব (الرق): কৃতদাস কারো ওয়ারিছ হবে না এবং তারও কেউ ওয়ারিছ হতে পারবে না; কারণ সে তার মনীবের মালিকানাভুক্ত দাস।
২. অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা (القتل بغير حق): হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিছ হবে না (যদিও উত্তরাধিকারী হয়), হত্যাকারী ইচ্ছায় অথবা ভুলক্রমে যেভাবে হত্যা করুক না কেনো।
৩. ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়া (اختلاف الدين) : কোনো মুসলিম কোনো কাফেরের ওয়ারিছ হবে না, আর কোনো কাফেরও কোনো মুসলিমের ওয়ারিছ হবে না।
উসামা ইবন যায়েদ – রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা – থেকে বর্ণিত, নাবী – ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – বলেছেন,
«لا يَرِثُ المُسْلِمُ الكَافِرَ وَلَا الكَافِرُ الْمُسْلِمَ»
“মুসলিম ব্যক্তি কোনো কাফেরের ওয়ারিছ হবে না এবং কাফেরও মুসলিমের ওয়ারিছ হবে না”।
**টিকাঃ**
[১] মুত্তাফাকুন আলাইহি, বুখারী হা/৬৭৬৪, মুসলিম হা/১৬১৪।
📄 মীরাছের উত্তরাধিকারীগণ
মীরাছের হক্কদারগণ তিন ধরনের:
১. মীরাছের নির্ধারিত অংশের অধিকারীগণ (أهل الفروض) (অর্থাৎ যাদের অংশ আল্লাহ তা’আলা কুরআনে নির্ধারণ করে দিয়েছেন)।
২. আছাবা (অনির্ধারিত অংশপ্রাপ্ত আত্মীয়গণ) (أهل التعصيب)।
৩. রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়গণ (ذوو الأرحام)।