📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 ফারায়েযের উপর আমল করা ওয়াজিব

📄 ফারায়েযের উপর আমল করা ওয়াজিব


মহান আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকেই তার যথাযথ অধিকার প্রদান করেছেন। আর আমাদেরকে প্রত্যেক হকদারের পাওনা তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। ফারায়েযের এই বিধানকে তিনি ‘নিজ সীমানা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ফারায়েযের বিধানের উপর আমল করাকে তিনি ওয়াজিব করেছেন। যারা এই ফারায়েযের বিধানগুলো বাস্তবায়ন ও তা যথাযথ বণ্টনের মাধ্যমে তার আনুগত্য প্রকাশ করবে, তাদের জন্য এমন সব জান্নাতের অঙ্গীকার করেছেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে বিভিন্ন নহর প্রবাহিত হয়।

আর যারা এই সীমারেখা লঙ্ঘন করবে (কোনো ওয়ারিছের সম্পত্তি বণ্টনে) কোনো প্রকার বৃদ্ধি অথবা হ্রাস অথবা বঞ্চিত করার মাধ্যমে, তাদেরকে তিনি জাহান্নামের লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তির হুমকিও দিয়েছেন।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:
تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (۱۳) وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ (١٤)}
এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। আর যে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে আল্লাহ তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতসমূহে যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর এটা মহা সফলতা। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করে এবং তাঁর সীমারেখা লঙ্ঘন করে আল্লাহ তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর তার জন্যই রয়েছে অপমানজনক আযাব। [সূরা আন নিসা ৪: ১৩-১৪]

📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 পরিত্যক্ত সম্পত্তির সাথে সম্পৃক্ত অধিকারসমূহ

📄 পরিত্যক্ত সম্পত্তির সাথে সম্পৃক্ত অধিকারসমূহ


পরিত্যক্ত সম্পত্তির সাথে সম্পৃক্ত অধিকারসমূহ পাঁচ প্রকার। যেগুলো বিদ্যমান থাকলে ধারাবাহিকভাবে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। অধিকারসমূহ নিম্নরূপ:
প্রথম: মৃতব্যক্তির কাফন-দাফন ইত্যাদি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের যোগান দেওয়া।
দ্বিতীয়: পরিত্যক্ত সম্পত্তির মূল অংশের সাথে সম্পৃক্ত দাবিসমূহ আদায় করা। যেমন- (বন্ধকের মাধ্যমে সংঘটিত) ঋণ ও এ জাতীয় বিষয়াবলি।
তৃতীয়: সাধারণ ঋণ, যা মৃতব্যক্তির দায়বদ্ধতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। চাই আল্লাহ তা'আলার ঋণ হোক। যেমন: যাকাত, কাফফারা ইত্যাদি অথবা চাই মানুষের ঋণ হোক।
চতুর্থ: ওয়াছিয়্যাত (الوصية)।
পঞ্চম: মীরাছের সম্পত্তি (الإرث)। আর এটাই এই কিতাবের আলোচ্য বিষয়। পূর্বে বর্ণিত অধিকারগুলো পূরণ করার পরে অবশিষ্ট পরিত্যক্ত সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মাঝে বণ্টন করতে হবে।

📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 মীরাছের রুকনসমূহ

📄 মীরাছের রুকনসমূহ


মীরাছের রুকন তিনটি:
১. মুওয়াররিছ (المورث): মৃত ব্যক্তি
২. ওয়ারিছ (الوارث): যে মুওয়াররিছের মৃত্যুর পরে জীবিত থাকে।
৩. ওয়ারিছী স্বত্ব (الحق الموروث): ঐ পরিত্যক্ত সম্পত্তি, যা মৃত ব্যক্তি রেখে গেছে।

📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 মীরাছের অধিকারী হওয়ার মাধ্যমসমূহ

📄 মীরাছের অধিকারী হওয়ার মাধ্যমসমূহ


মীরাছের অধিকারী হওয়ার মাধ্যম তিনটি:
১. বিবাহ (النکاح): শুধুমাত্র বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার দ্বারাই স্বামী স্ত্রীর আর স্ত্রী স্বামীর ওয়ারিছ হয়।
২. বংশ (النسب): বংশীয় এই সম্পর্ক মূলের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে, যেমন: মাতা-পিতা। শাখার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে, যেমন: সন্তানাদি। আবার পার্শ্ববর্তী আত্মীয়ও হতে পারে, যেমন: ভাই, চাচা, তাদের সন্তানাদি।
৩. আল ওয়ালা (الولاء): এটা এমন সম্পর্ক, যা দাসমুক্তির কারণে মনীব ও দাস/দাসীর মধ্যে তৈরি হয়। ফলে মনীব তার আযাদকৃত দাসের (মৃত্যুর পরে) ওয়ারিছ হয়, যদি তার মীরাছের নির্ধারিত অংশের হকদার কোনো আত্মীয় বা তার কোনো ‘আছাবা আত্মীয় না থাকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00