📄 জাহেলী যুগে ও ইসলামী যুগে মীরাছী সম্পদ বণ্টনের রূপরেখা
জাহিলী যুগের লোকেরা মহিলাদেরকে বাদ দিয়ে শুধু পুরুষদেরকে এবং ছোটদেরকে বাদ দিয়ে শুধু বড়দেরকে তাদের সম্পদের উত্তরাধিকারী বানাত। কারণ পুরুষরা এবং বয়স্ক ব্যক্তিরাই কেবল গনীমতের সম্পদ সংগ্রহ করত এবং পরিবার-পরিজনদেরকে সুরক্ষা দিত, যা মহিলা ও বালকদের জন্য সম্ভবপর ছিল না।
আর আধুনিককালের জাহিলিয়্যাতের ধ্বজাধারীরা নারীকে তার অনুপযুক্ত পদ-মর্যাদা, অসহনীয় কাজের ভার ও অধিকার বহির্ভূত সম্পদ দিয়েছে, যার ফলে অনিষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অন্যায় অধিকমাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে।
অপরদিকে ইসলাম সকল উত্তরাধিকারীর সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করেছে, প্রত্যেক ওয়ারিছকে তার পাওনা যথারীতি প্রদান করেছে এবং জাহিলীযুগের সকল উত্তরাধিকারসম্বন্ধীয় রীতি-পদ্ধতি বাতিল করেছে। প্রত্যেক হকদারকে তার ন্যায়সম্মত অধিকার প্রদান করেছে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيبًا مَفْرُوضًا }
পিতা-মাতার ও আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের ভাগ আছে আর নারীদেরও পিতা-মাতার ও আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে ভাগ আছে, চাই পরিত্যক্ত সম্পত্তির পরিমাণ অল্প হোক আর বেশিই হোক, এই ভাগের পরিমাণ নির্ধারিত। [সূরা আন-নিসা: ৭]
📄 ফারায়েযের উপর আমল করা ওয়াজিব
মহান আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকেই তার যথাযথ অধিকার প্রদান করেছেন। আর আমাদেরকে প্রত্যেক হকদারের পাওনা তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। ফারায়েযের এই বিধানকে তিনি ‘নিজ সীমানা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ফারায়েযের বিধানের উপর আমল করাকে তিনি ওয়াজিব করেছেন। যারা এই ফারায়েযের বিধানগুলো বাস্তবায়ন ও তা যথাযথ বণ্টনের মাধ্যমে তার আনুগত্য প্রকাশ করবে, তাদের জন্য এমন সব জান্নাতের অঙ্গীকার করেছেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে বিভিন্ন নহর প্রবাহিত হয়।
আর যারা এই সীমারেখা লঙ্ঘন করবে (কোনো ওয়ারিছের সম্পত্তি বণ্টনে) কোনো প্রকার বৃদ্ধি অথবা হ্রাস অথবা বঞ্চিত করার মাধ্যমে, তাদেরকে তিনি জাহান্নামের লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তির হুমকিও দিয়েছেন।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (۱۳) وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ (١٤)}
এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। আর যে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে আল্লাহ তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতসমূহে যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর এটা মহা সফলতা। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করে এবং তাঁর সীমারেখা লঙ্ঘন করে আল্লাহ তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর তার জন্যই রয়েছে অপমানজনক আযাব। [সূরা আন নিসা ৪: ১৩-১৪]
📄 পরিত্যক্ত সম্পত্তির সাথে সম্পৃক্ত অধিকারসমূহ
পরিত্যক্ত সম্পত্তির সাথে সম্পৃক্ত অধিকারসমূহ পাঁচ প্রকার। যেগুলো বিদ্যমান থাকলে ধারাবাহিকভাবে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। অধিকারসমূহ নিম্নরূপ:
প্রথম: মৃতব্যক্তির কাফন-দাফন ইত্যাদি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের যোগান দেওয়া।
দ্বিতীয়: পরিত্যক্ত সম্পত্তির মূল অংশের সাথে সম্পৃক্ত দাবিসমূহ আদায় করা। যেমন- (বন্ধকের মাধ্যমে সংঘটিত) ঋণ ও এ জাতীয় বিষয়াবলি।
তৃতীয়: সাধারণ ঋণ, যা মৃতব্যক্তির দায়বদ্ধতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। চাই আল্লাহ তা'আলার ঋণ হোক। যেমন: যাকাত, কাফফারা ইত্যাদি অথবা চাই মানুষের ঋণ হোক।
চতুর্থ: ওয়াছিয়্যাত (الوصية)।
পঞ্চম: মীরাছের সম্পত্তি (الإرث)। আর এটাই এই কিতাবের আলোচ্য বিষয়। পূর্বে বর্ণিত অধিকারগুলো পূরণ করার পরে অবশিষ্ট পরিত্যক্ত সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মাঝে বণ্টন করতে হবে।
📄 মীরাছের রুকনসমূহ
মীরাছের রুকন তিনটি:
১. মুওয়াররিছ (المورث): মৃত ব্যক্তি
২. ওয়ারিছ (الوارث): যে মুওয়াররিছের মৃত্যুর পরে জীবিত থাকে।
৩. ওয়ারিছী স্বত্ব (الحق الموروث): ঐ পরিত্যক্ত সম্পত্তি, যা মৃত ব্যক্তি রেখে গেছে।