📘 খুশূ-খুযূ > 📄 অন্তরের প্রকার

📄 অন্তরের প্রকার


যাদের হৃদয় পবিত্র, 'ঈমানের আলোয় উদ্ভাসিত, তারা নোংরা পাত্রে পান করা থেকে নিজেকে বিরত রাখে। যাতে অপবিত্রতা তাকে স্পর্শ না করে। সে যখনই পান করে, পবিত্র পাত্রে পান করে। পাত্র না পেলে অপেক্ষা করে।
যারা গানের মাঝে ইসলাম খোঁজে, তাদের অবস্থা এমন যে, তারা যেকোনো পাত্রেই পান করে। পিপাসা নিবারণ করে। হোক সেটা মৃতপ্রাণীর হাড্ডি, কুকুর, বা শুয়োরের চামড়া থেকে তৈরি কোনো পাত্র, কিংবা মদের পেয়ালা, যাতে মদ লেগে আছে। বস্তুত তারা ওই সকল কাকের মতো, যারা স্বচ্ছ পানি পান করে, আবার নর্দমায়ও মুখ দেয়। এতে তার কিছুই আসে যায় না। পান করার দ্বারা তার তৃষ্ণা নিবারণ হয় ঠিকই, কিন্তু মুখে দুর্গন্ধ লেগে থাকে।
কিছু মানুষ আছে যারা মিথ্যা, বানোয়াট ও অর্থহীন সব কাব্য ও গান শুনে আত্মতৃপ্তি লাভ করে। তারা মূলত নোংরা পাত্রে নাপাক পানি পান করে। প্রবৃত্তির দাস এরা। ভালো-মন্দ পার্থক্য করার অনুভূতিটুকুও তাদের নেই। অন্যদিকে, কিছু মানুষ আছে যারা নেককার। তারা শুধু কুর'আন পড়ে। কুর'আন শোনে। তারা পবিত্র পাত্রে অমিয় সুধা পানকারী।
পাত্র এবং পানীয় উভয়টি তিন প্রকারের :
১. পবিত্র
২. অপবিত্র
৩. মিশ্রিত
অন্তর বা হৃদয় তিন প্রকার।
এক. সুস্থ ও পবিত্র। এদের পাত্র পবিত্র, পানীয়ও পবিত্র।
দুই. রুগ্ন ও অসুস্থ। এদের পাত্র নোংরা, পানীয়ও নোংরা।
তিন. পাক-নাপাক মিশ্রিত। এমন অন্তরে বিশ্বাস এবং মুনাফিকী উভয়টি বিদ্যমান থাকে। ফলে এরা পবিত্র এবং অপবিত্র উভয় পাত্র থেকেই পান করে।
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা প্রত্যেকের জন্য উপযুক্ত প্রতিদান রেখেছেন।
যারা ফকীহ, বিদগ্ধ 'আলিম, তারা সকল বিষয়ে গভীর নজর দেন। চিন্তা করেন এবং এর পরিণতি ও পরিণাম নিয়ে গবেষণা করেন। যদি তারা বুঝতে পারেন যে, কোনোকিছু মানুষকে হারাম কাজে ধাবিত করে, তখন সেটাকে তারা হারাম বলে সাব্যস্ত করেন। যেমন নারীর সাথে অবাধ মেলামেশা করা, ব্যভিচার করা হারাম। তদ্রুপ বেগানা নারীর দিকে তাকানো, তার সাথে আলাপ করা, নির্জনে মিলিত হওয়াও হারাম।
মোটকথা, শারী'আতে নিষিদ্ধ কাজ দু'প্রকার।
এক. মূল কাজটাই হারাম।
দুই. যা কিছু হারামের দিকে টেনে নিয়ে যায়, সেটাও হারাম। অনেকেই হারামটা দেখে। বোঝে। হারাম থেকে বিরত থাকতে চেষ্টা করে; কিন্তু হারামের সহায়ক কাজও যে হারাম, সেদিকে অনেকেই ভ্রুক্ষেপ করে না। আল্লাহ্ আমাদের হিফাযত করুন। আমীন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00