📄 সাহাবীগণের শ্রবণ
সাহাবীগণ যখন একত্র হতেন এবং তাদের অন্তরকে প্রশমিত করতে চাইতেন, তাদের মধ্য থেকে একজনকে কুর'আন তিলাওয়াত করার আহ্বান জানাতেন, আর অন্যরা গভীর মনোযোগ দিয়ে তা শ্রবণ করতেন। এভাবে তারা প্রশান্তিতে বিমোহিত হতেন। তাদের চক্ষু হতে অশ্রু প্রবাহিত হতো এবং তাদের হৃদয় 'ঈমানের মিষ্টতা উপভোগ করত। এটা এমন এক অভিজ্ঞতা যা গান শ্রবণকারীরা কখনো তাদের কল্পনায়ও উপলব্ধি করতে পারবে না।
'উমার ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু 'আনহুর নিকট যখন আবু মুসা আশ'আরী রাযিয়াল্লাহু 'আনহু আসতেন, তখন তিনি বলতেন-
ভাই আবূ মূসা, আল্লাহর আলোচনা করো।' আবূ মূসা আশ'আরী রাযিয়াল্লাহু 'আনহু তখন কুর আন পাঠ শুরু করতেন। এতই মধুর ছিল তার তিলাওয়াত যে, তা প্রত্যেকের অন্তর ছুঁয়ে যেত।
তিলাওয়াত শুনে উসমান ইবনু 'আফফান রাযিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন-
যদি আমাদের অন্তর পবিত্র হতো, তাহলে কুর'আনের স্বাদ কখনো নিঃশেষ হতো না।
হ্যাঁ, আল্লাহ্র কসম! যে সত্তার নিকট বান্দার স্বপ্ন, ভালোবাসা ও আকাঙ্ক্ষার আবাসস্থল, তাঁর কথামালার স্বাদ কীভাবে নিঃশেষ হতে পারে! এ তো এমন বাক্যমালা, যার সাথে কোনো সুর-লহরী ও গানের তুলনা চলে না।
কবি বলেন-
واذا مرضنا تداوينا بذكركم
فان تركناه زاد السقم والمرض
আমি অসুস্থ হলে তোমার যিক্র দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণ করি। এখন তোমার যিক্রই যদি ছেড়ে দিই, তবে তো অসুস্থতা বেড়ে যাবে!
গানে আসক্ত ব্যক্তিরা এসব থেকে বঞ্চিত। তাদের বসতি এক উপত্যকায় হলে, অন্যদের বসতি আরেক উপত্যকায়।
কবির ভাষায়-
والضب والنون قد يرجى التقائه
وليس يرجى التقاء الوحى والقصب
ডাঙার গুঁইসাপ ও জলের মাছ একসাথে মিলতে পারে, কিন্তু ওহীর সুর ও বাঁশির সুর কখনো একত্র হতে পারে না।
টিকাঃ
৪৮ মুসান্নাফে আব্দির রাজ্জাক, ৪১৭৯
৪৯ ফাযাইলুস সাহাবা