📘 খুশূ-খুযূ > 📄 ‘আযানের সুন্নাতসমূহ

📄 ‘আযানের সুন্নাতসমূহ


যে ব্যক্তি 'আযান শুনতে পাবে, তার জন্য পাঁচটি কাজ রয়েছে।
এক. মুআযয্যিন যা বলবে, জবাবে হুবহু তাই বলবে।
দুই. দরূদ পড়বে।
তিন. নাবীর মর্তবা ও মর্যাদাবৃদ্ধির প্রার্থনা করবে।
চার. বলবে-
رَضِيتُ باللهِ رَبِّاً، وَبِالْإِسْلَامِ دِيناً، وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيّاً
আমি রব হিসেবে আল্লাহকে, জীবন বিধান হিসেবে ইসলামকে এবং নাবী হিসেবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে পেয়ে সন্তুষ্ট।
পাঁচ. এরপর আল্লাহর কাছে যা ইচ্ছে চাইবে।
মুআযয্যিনের 'আযানের জবাবে এই হলো পাচঁটি সুন্নত। এক্ষেত্রে অলসতা করা উচিত নয়।

টিকাঃ
৩৮ রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন তোমরা 'আযান শুনতে পাও তখন মুআযয্যিন যা বলে তোমরাও তাই বলবে। সহীহ বুখারী, ৬১১; সহীহ মুসলিম, ৩৮৩
বি.দ্র. 'আযানের পূর্নাঙ্গ জবাব মুসলিমের ৭৩৬ নং হাদীসে বিস্তারিতভাবে এসেছে। 'উমার ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুআযয্যিন যখন 'আল্লাহু আকবার', 'আল্লাহু আকবার' বলে তখন তোমাদের কোনো ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে তার জবাবে বলে, 'আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার'। যখন মুআযযিন বলে, 'আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর জবাবে সেও বলে, 'আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। অতঃপর মুআযয্যিন বলে, 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ' এর জবাবে সে বলে, 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্'। অতঃপর মুআযয্যিন বলে, 'হাইয়‍্যা 'আলাস সলাহ্'- এর জবাবে সে বলে, 'লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ'। অতঃপর মুআযয্যিন বলে, 'হাইয়্যা 'আলাল ফালাহ্' এর জবাবে সে বলে, 'লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ'। অতঃপর মুআযয্যিন বলে, 'আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার' এর জবাবে সে বলে, 'আল্লাহ আকবার, আল্লাহু আকবার'। অতঃপর মুআযয্যিন বলে, 'লা ইলাহা ইল্লালহ' এর জবাবে সে বলে, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।' 'আযানের এ জবাব দেওয়ার কারণে সে জান্নাতে যাবে।
৩৯ 'আবদুল্লাহ্ ইবনু 'আম্র ইবনুল 'আস রাযিআল্লাহু আনহু নাবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, তোমরা যখন মুআযয্যিনকে 'আযান দিতে শোন, তখন সে যা বলে তোমরা তাই বলো। অতঃপর আমার ওপর দরূদ পাঠ করো। কেননা, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে আল্লাহ্ তা'আলা এর বিনিময়ে তার ওপর দশবার রাহমাত বর্ষণ করেন। অতঃপর আমার জন্য আল্লাহর কাছে ওয়াসীলাহ্ প্রার্থনা করো। কেননা, 'ওয়াসীলাহ' জান্নাতের একটি সম্মানজনক স্থান। এটা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে একজনকেই দেওয়া হবে। আমি আশা করি, আমিই হব সে বান্দা। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আমার জন্য ওয়াসীলাহ্ প্রার্থনা করবে তার জন্য (আমার) শাফা'আত ওয়াজিব হয়ে যাবে। সহীহ বুখারী, ৭৩৫
৪০ 'আযান শোনার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দু'আটি পড়তে বলেছেন:
اللَّهُم رَبِّ هَذِهِ الدَعْوَةِ السَّامَةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدًا الوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ
হে আল্লাহ্-এ পরিপূর্ণ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের আপনিই মালিক, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ওয়াসীলাহ ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী করুন এবং তাঁকে সে মাকামে মাহমুদে পৌঁছে দিন যার অঙ্গীকার আপনি করেছেন'-কিয়ামাতের দিন সে আমার শাফা'আত লাভের অধিকারী হবে। সহীহ বুখারী, ৬১৪
৪১ সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযিয়াল্লাহ 'আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: মুআযযিনের 'আযান শুনে যে ব্যক্তি বলে, "আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ ওয়াহদাহু, লা শারীকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসুলুহ, রাযীত বিল্লাহি রব্বান ওয়াবিল ইসলামী দ্বীনান ওয়াবি মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাবিয়্যান" তার গুনাহ মাফ করা হবে। কুতাইবাহ তার হাদীসে ('আরবী) শব্দটি উল্লেখ করেননি। সহীহ মুসলিম, ৭৩৭
৪২ 'আবদুল্লাহ ইবন 'আমর রাযিয়াল্লাহু 'আনহ বর্ণনা করেছেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! মুআযযিন তো আমাদের ওপর মর্যাদার অধিকারী হয়ে যাচ্ছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: মুআযযিনরা যেরূপ বলে থাকে তোমরাও সেরূপ বলবে। অতঃপর 'আযান শেষ হলে আল্লাহর নিকট দু'আ করবে। তখন তোমাকে তা-ই দেওয়া হবে (তোমার দু'আ কবুল হবে)। আবু দাউদ, ৫২৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00