📘 খুশূ-খুযূ > 📄 নাবী ও সালিহীনদের প্রতি সালাম

📄 নাবী ও সালিহীনদের প্রতি সালাম


التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ
সালাম, অভিবাদন, সালাত, দু'আ এবং পবিত্রতা-সবকিছু মহান আল্লাহর জন্য।
বলার পর বলবে,
السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ
হে নাবী, আপনার ওপর সালাম, আল্লাহর রাহমাত ও কল্যাণ বর্ষিত হোক। আমাদের ও আল্লাহর সকল নেক বান্দার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।
এভাবে সকল নেককার লোকের ওপর সালাম পেশ করবে-যারা আল্লাহর মনোনীত বান্দা। তিনি কুর'আনে নিজের হামদের পরেই তাদের প্রতি সালাম প্রেরণের কথা উল্লেখ করেছেন-
قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلِّمُ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى وَاللَّهُ خَيْرٌ أَمَّا يُشْرِكُونَ
বলো, যাবতীয় প্রশংসাই আল্লাহর এবং সালাম ও শান্তি তাঁর মনোনীত বান্দাগণের ওপর! (বলো) শ্রেষ্ঠ কে? আল্লাহ্, না ওরা যাদেরকে তারা শরীক সাব্যস্ত করে।
এখানে তিনি উপমা টেনে বুঝিয়ে দিলেন। এখানে সৎকর্মপরায়ণদের প্রশংসা করা হয়েছে। তার মানে, স্রষ্টার পর সৃষ্টির প্রশংসা ও অভিবাদন জানানো শারী'আতসম্মত।
সৃষ্টির মধ্যে সর্বাগ্রে সালাম পেশ করা হবে সর্বোত্তম মানব রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি। যার বারকাতে, ত্যাগ ও কুরবানীতে আমরা ইসলাম পেয়েছি। শেষ উম্মত হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছি। অতঃপর অন্যান্য নাবী ও ফেরেশতাকুলের ওপর। এরপর তাদের অনুসারী সাহাবী ও সলিহীনগণের ওপর সালাম পেশ করবে এবং সালাম পেশ করবে সাধারণ বিশ্বাসীদের ওপর।

টিকাঃ
৩৪ সূরা আন-নামল, ২৭: ৫৯

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 কালিমায়ে শাহাদাতাইনের মর্ম

📄 কালিমায়ে শাহাদাতাইনের মর্ম


এরপর কালিমায়ে শাহাদাতাইন পড়বে-
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
...আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ্ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল।
এটি তাশাহহুদের শেষ বাক্য। কালিমায়ে শাহাদাতে দুটি অংশ রয়েছে। একটি হলো তাওহীদে বিশ্বাস, অন্যটি হলো রিসালাতের সাক্ষ্য। এর ওপরই সালাতের ভিত্তি, এবং এই কালেমার একটি দাবীই হলো সালাত প্রতিষ্ঠা করা।
এই কালিমা দ্বারা বোঝা যায়, নুবুওয়্যাতের সাক্ষ্য দেওয়া ছাড়া শুধু তাওহীদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।
কালিমায়ে শাহাদাতাইনের মাধ্যমে সালাতের সমাপ্তি হয়। 'আব্দুল্লাহ্ ইবনু মাস'উদ রাযিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
فإِذَا قُلْتَ هَذَا أَوْ قَضَيْتَ هَذَا فَقَدْ قَضَيْتَ صَلَاتَكَ إِنْ شِئْتَ أَنْ تَقُومَ فَقُمْ وَإِنْ شِئْتَ أَنْ تَقْعُدَ فَاقْعُدْ
...যখন তুমি এ দু'আ (তাশাহহুদ) পড়বে অথবা পড়া শেষ করবে তখন তোমার সালাত শেষ হবে। এরপর তুমি চাইলে উঠে যাবে নতুবা বসে থাকবে।
আত্তাহিয়্যাতু পড়ার দ্বারা সালাত পূর্ণাঙ্গ হয়ে যায়। এমনটিই ইমাম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ-এর মত। অন্যান্যদের মতেও, সালাত তখন সমাপ্তের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়। মোটকথা, উভয় মত অনুসারেই কালিমায়ে শাহাদাতের দ্বারা সালাত পরিপূর্ণ হয়ে যায়। যেভাবে ওযু এবং জীবনের সমাপ্তিও কালিমার মাধ্যমে হওয়াই উত্তম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
যে ব্যক্তির জীবনের শেষ বাক্য হবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

টিকাঃ
৩৫ আবু দাউদ, ৯৭০; মুসনাদে আহমাদ, ১/৪২২
৩৬ আবু দাউদ, ৩১১৬; মুসনাদে আহমাদ, ৫/২৩৩

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 নাবীর ওপর দরূদ পড়ার রহস্য

📄 নাবীর ওপর দরূদ পড়ার রহস্য


সালাত শেষ। এরপর সালাত আদায়কারী প্রার্থনা করবে। নিজের প্রয়োজনের কথা আল্লাহ্র নিকট উত্থাপন করবে। এর জন্য উত্তম পদ্ধতি হলো আল্লাহ্ তা'আলার হামদ (প্রশংসা) করা এবং রাসূল সাল্লালালাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরূদ পাঠ করা, যেমনটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। ফুযালা ইবনু 'উবায়দ রাযিআল্লাহ 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
GG
যখন তোমাদের কেউ প্রার্থনা করবে, তখন সে যেন প্রথমে আল্লাহ্র হামদ (প্রশংসা) করে। সানা পাঠ করে, এবং তাঁর রাসূলের ওপর দরূদ পাঠ করে। অতঃপর যা তার প্রয়োজন-তা চেয়ে নেয়।
দরুদ পড়ার পর সে প্রার্থনা করবে (দু'আ মাসূরা পড়বে)। আর দু'আই হলো সালাতের সীলমোহর।
সুতরাং 'আত্তাহিয়্যাত'তে রয়েছে আল্লাহর হামদ ও সানা। এরপর রাসূলের ওপর দরূদ। সর্বশেষ দু'আ। আর নাবী করীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই অনুমতি দিয়েছেন যে, সালাতের পর সে যা ইচ্ছা চাইতে পারে।

টিকাঃ
৩৭ আবু দাউদ, ১৪৮১; তিরমিযী, ৩৪৭৭

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 ‘আযানের সুন্নাতসমূহ

📄 ‘আযানের সুন্নাতসমূহ


যে ব্যক্তি 'আযান শুনতে পাবে, তার জন্য পাঁচটি কাজ রয়েছে।
এক. মুআযয্যিন যা বলবে, জবাবে হুবহু তাই বলবে।
দুই. দরূদ পড়বে।
তিন. নাবীর মর্তবা ও মর্যাদাবৃদ্ধির প্রার্থনা করবে।
চার. বলবে-
رَضِيتُ باللهِ رَبِّاً، وَبِالْإِسْلَامِ دِيناً، وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيّاً
আমি রব হিসেবে আল্লাহকে, জীবন বিধান হিসেবে ইসলামকে এবং নাবী হিসেবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে পেয়ে সন্তুষ্ট।
পাঁচ. এরপর আল্লাহর কাছে যা ইচ্ছে চাইবে।
মুআযয্যিনের 'আযানের জবাবে এই হলো পাচঁটি সুন্নত। এক্ষেত্রে অলসতা করা উচিত নয়।

টিকাঃ
৩৮ রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন তোমরা 'আযান শুনতে পাও তখন মুআযয্যিন যা বলে তোমরাও তাই বলবে। সহীহ বুখারী, ৬১১; সহীহ মুসলিম, ৩৮৩
বি.দ্র. 'আযানের পূর্নাঙ্গ জবাব মুসলিমের ৭৩৬ নং হাদীসে বিস্তারিতভাবে এসেছে। 'উমার ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুআযয্যিন যখন 'আল্লাহু আকবার', 'আল্লাহু আকবার' বলে তখন তোমাদের কোনো ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে তার জবাবে বলে, 'আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার'। যখন মুআযযিন বলে, 'আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর জবাবে সেও বলে, 'আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। অতঃপর মুআযয্যিন বলে, 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ' এর জবাবে সে বলে, 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্'। অতঃপর মুআযয্যিন বলে, 'হাইয়‍্যা 'আলাস সলাহ্'- এর জবাবে সে বলে, 'লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ'। অতঃপর মুআযয্যিন বলে, 'হাইয়্যা 'আলাল ফালাহ্' এর জবাবে সে বলে, 'লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ'। অতঃপর মুআযয্যিন বলে, 'আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার' এর জবাবে সে বলে, 'আল্লাহ আকবার, আল্লাহু আকবার'। অতঃপর মুআযয্যিন বলে, 'লা ইলাহা ইল্লালহ' এর জবাবে সে বলে, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।' 'আযানের এ জবাব দেওয়ার কারণে সে জান্নাতে যাবে।
৩৯ 'আবদুল্লাহ্ ইবনু 'আম্র ইবনুল 'আস রাযিআল্লাহু আনহু নাবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, তোমরা যখন মুআযয্যিনকে 'আযান দিতে শোন, তখন সে যা বলে তোমরা তাই বলো। অতঃপর আমার ওপর দরূদ পাঠ করো। কেননা, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে আল্লাহ্ তা'আলা এর বিনিময়ে তার ওপর দশবার রাহমাত বর্ষণ করেন। অতঃপর আমার জন্য আল্লাহর কাছে ওয়াসীলাহ্ প্রার্থনা করো। কেননা, 'ওয়াসীলাহ' জান্নাতের একটি সম্মানজনক স্থান। এটা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে একজনকেই দেওয়া হবে। আমি আশা করি, আমিই হব সে বান্দা। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আমার জন্য ওয়াসীলাহ্ প্রার্থনা করবে তার জন্য (আমার) শাফা'আত ওয়াজিব হয়ে যাবে। সহীহ বুখারী, ৭৩৫
৪০ 'আযান শোনার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দু'আটি পড়তে বলেছেন:
اللَّهُم رَبِّ هَذِهِ الدَعْوَةِ السَّامَةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدًا الوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ
হে আল্লাহ্-এ পরিপূর্ণ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের আপনিই মালিক, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ওয়াসীলাহ ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী করুন এবং তাঁকে সে মাকামে মাহমুদে পৌঁছে দিন যার অঙ্গীকার আপনি করেছেন'-কিয়ামাতের দিন সে আমার শাফা'আত লাভের অধিকারী হবে। সহীহ বুখারী, ৬১৪
৪১ সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযিয়াল্লাহ 'আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: মুআযযিনের 'আযান শুনে যে ব্যক্তি বলে, "আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ ওয়াহদাহু, লা শারীকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসুলুহ, রাযীত বিল্লাহি রব্বান ওয়াবিল ইসলামী দ্বীনান ওয়াবি মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাবিয়্যান" তার গুনাহ মাফ করা হবে। কুতাইবাহ তার হাদীসে ('আরবী) শব্দটি উল্লেখ করেননি। সহীহ মুসলিম, ৭৩৭
৪২ 'আবদুল্লাহ ইবন 'আমর রাযিয়াল্লাহু 'আনহ বর্ণনা করেছেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! মুআযযিন তো আমাদের ওপর মর্যাদার অধিকারী হয়ে যাচ্ছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: মুআযযিনরা যেরূপ বলে থাকে তোমরাও সেরূপ বলবে। অতঃপর 'আযান শেষ হলে আল্লাহর নিকট দু'আ করবে। তখন তোমাকে তা-ই দেওয়া হবে (তোমার দু'আ কবুল হবে)। আবু দাউদ, ৫২৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00