📘 খুশূ-খুযূ > 📄 কুর’আনের পর সর্বোত্তম বাক্য

📄 কুর’আনের পর সর্বোত্তম বাক্য


কুর'আনের পর সর্বোত্তম বাক্য হলো, 'সুবহানাল্লাহ্, ওয়াল হামদু লিল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওল্লাহু আকবার ওয়া লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ...'
কেনইবা তা সর্বোত্তম বাক্য হবে না? এর প্রতিটি অংশে রয়েছে আল্লাহর স্তুতি, তাওহীদের স্বীকৃতি। একটু চিন্তা করলেই তা পরিস্কার হয়ে যাবে। যেমন:
'সুবহানাল্লাহ্' অর্থ : আল্লাহ্ তা'আলা পবিত্র। যাবতীয় মানবীয় গুণাবলি, দোষ-ত্রুটি, এবং সাদৃশ্য থেকে তিনি মুক্ত ও পবিত্র। 'আলহামদু লিল্লাহ' অর্থ : সকল প্রশংসা আল্লাহ্ জন্য। তিনি কথা, কর্ম ও গুণগত দিক দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ। সর্বদিক দিয়ে পরিপূর্ণ। তার এই পূর্ণতা ভূত-ভবিষ্যৎ ও সর্বকালে চিরন্তন।
'লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ্' অর্থাৎ, তিনি একমাত্র ইলাহ। তিনিই একমাত্র মা'বুদ। তিনি ছাড়া সব ইলাহ ভ্রান্ত। 'ইবাদাতের তিনিই একমাত্র উপযুক্ত। যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও উপাসনা করে, তার দৃষ্টান্ত হলো ওই ব্যক্তির মতো যে মাকড়সার জাল দিয়ে ঘর বানায়। শীত ও গ্রীমে, বর্ষা ও বিপদে, দুর্যোগ ও দুর্ভোগে তাতে আশ্রয় নেয়। অথচ এটি তার জন্য কোনো উপকারই বয়ে আনতে পারে না।
'আল্লাহু আকবার' অর্থ : তিনি মহান। তিনি সব কিছু থেকে মহান। সম্মানিত, ক্ষমতাধর, পরাক্রমশালী, রক্ষণাবেক্ষণকারী, সর্বদ্রষ্টা, সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। এমন অর্থবহ অতি উত্তম বাক্যের তিনিই একমাত্র উপযুক্ত।

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 নাবী ও সালিহীনদের প্রতি সালাম

📄 নাবী ও সালিহীনদের প্রতি সালাম


التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ
সালাম, অভিবাদন, সালাত, দু'আ এবং পবিত্রতা-সবকিছু মহান আল্লাহর জন্য।
বলার পর বলবে,
السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ
হে নাবী, আপনার ওপর সালাম, আল্লাহর রাহমাত ও কল্যাণ বর্ষিত হোক। আমাদের ও আল্লাহর সকল নেক বান্দার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।
এভাবে সকল নেককার লোকের ওপর সালাম পেশ করবে-যারা আল্লাহর মনোনীত বান্দা। তিনি কুর'আনে নিজের হামদের পরেই তাদের প্রতি সালাম প্রেরণের কথা উল্লেখ করেছেন-
قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلِّمُ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى وَاللَّهُ خَيْرٌ أَمَّا يُشْرِكُونَ
বলো, যাবতীয় প্রশংসাই আল্লাহর এবং সালাম ও শান্তি তাঁর মনোনীত বান্দাগণের ওপর! (বলো) শ্রেষ্ঠ কে? আল্লাহ্, না ওরা যাদেরকে তারা শরীক সাব্যস্ত করে।
এখানে তিনি উপমা টেনে বুঝিয়ে দিলেন। এখানে সৎকর্মপরায়ণদের প্রশংসা করা হয়েছে। তার মানে, স্রষ্টার পর সৃষ্টির প্রশংসা ও অভিবাদন জানানো শারী'আতসম্মত।
সৃষ্টির মধ্যে সর্বাগ্রে সালাম পেশ করা হবে সর্বোত্তম মানব রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি। যার বারকাতে, ত্যাগ ও কুরবানীতে আমরা ইসলাম পেয়েছি। শেষ উম্মত হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছি। অতঃপর অন্যান্য নাবী ও ফেরেশতাকুলের ওপর। এরপর তাদের অনুসারী সাহাবী ও সলিহীনগণের ওপর সালাম পেশ করবে এবং সালাম পেশ করবে সাধারণ বিশ্বাসীদের ওপর।

টিকাঃ
৩৪ সূরা আন-নামল, ২৭: ৫৯

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 কালিমায়ে শাহাদাতাইনের মর্ম

📄 কালিমায়ে শাহাদাতাইনের মর্ম


এরপর কালিমায়ে শাহাদাতাইন পড়বে-
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
...আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ্ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল।
এটি তাশাহহুদের শেষ বাক্য। কালিমায়ে শাহাদাতে দুটি অংশ রয়েছে। একটি হলো তাওহীদে বিশ্বাস, অন্যটি হলো রিসালাতের সাক্ষ্য। এর ওপরই সালাতের ভিত্তি, এবং এই কালেমার একটি দাবীই হলো সালাত প্রতিষ্ঠা করা।
এই কালিমা দ্বারা বোঝা যায়, নুবুওয়্যাতের সাক্ষ্য দেওয়া ছাড়া শুধু তাওহীদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।
কালিমায়ে শাহাদাতাইনের মাধ্যমে সালাতের সমাপ্তি হয়। 'আব্দুল্লাহ্ ইবনু মাস'উদ রাযিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
فإِذَا قُلْتَ هَذَا أَوْ قَضَيْتَ هَذَا فَقَدْ قَضَيْتَ صَلَاتَكَ إِنْ شِئْتَ أَنْ تَقُومَ فَقُمْ وَإِنْ شِئْتَ أَنْ تَقْعُدَ فَاقْعُدْ
...যখন তুমি এ দু'আ (তাশাহহুদ) পড়বে অথবা পড়া শেষ করবে তখন তোমার সালাত শেষ হবে। এরপর তুমি চাইলে উঠে যাবে নতুবা বসে থাকবে।
আত্তাহিয়্যাতু পড়ার দ্বারা সালাত পূর্ণাঙ্গ হয়ে যায়। এমনটিই ইমাম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ-এর মত। অন্যান্যদের মতেও, সালাত তখন সমাপ্তের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়। মোটকথা, উভয় মত অনুসারেই কালিমায়ে শাহাদাতের দ্বারা সালাত পরিপূর্ণ হয়ে যায়। যেভাবে ওযু এবং জীবনের সমাপ্তিও কালিমার মাধ্যমে হওয়াই উত্তম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
যে ব্যক্তির জীবনের শেষ বাক্য হবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

টিকাঃ
৩৫ আবু দাউদ, ৯৭০; মুসনাদে আহমাদ, ১/৪২২
৩৬ আবু দাউদ, ৩১১৬; মুসনাদে আহমাদ, ৫/২৩৩

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 নাবীর ওপর দরূদ পড়ার রহস্য

📄 নাবীর ওপর দরূদ পড়ার রহস্য


সালাত শেষ। এরপর সালাত আদায়কারী প্রার্থনা করবে। নিজের প্রয়োজনের কথা আল্লাহ্র নিকট উত্থাপন করবে। এর জন্য উত্তম পদ্ধতি হলো আল্লাহ্ তা'আলার হামদ (প্রশংসা) করা এবং রাসূল সাল্লালালাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরূদ পাঠ করা, যেমনটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। ফুযালা ইবনু 'উবায়দ রাযিআল্লাহ 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
GG
যখন তোমাদের কেউ প্রার্থনা করবে, তখন সে যেন প্রথমে আল্লাহ্র হামদ (প্রশংসা) করে। সানা পাঠ করে, এবং তাঁর রাসূলের ওপর দরূদ পাঠ করে। অতঃপর যা তার প্রয়োজন-তা চেয়ে নেয়।
দরুদ পড়ার পর সে প্রার্থনা করবে (দু'আ মাসূরা পড়বে)। আর দু'আই হলো সালাতের সীলমোহর।
সুতরাং 'আত্তাহিয়্যাত'তে রয়েছে আল্লাহর হামদ ও সানা। এরপর রাসূলের ওপর দরূদ। সর্বশেষ দু'আ। আর নাবী করীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই অনুমতি দিয়েছেন যে, সালাতের পর সে যা ইচ্ছা চাইতে পারে।

টিকাঃ
৩৭ আবু দাউদ, ১৪৮১; তিরমিযী, ৩৪৭৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00