📘 খুশূ-খুযূ > 📄 ‘কওমা’ একটি ‘ইবাদাত

📄 ‘কওমা’ একটি ‘ইবাদাত


'কওমা' বলা হয় রুকু' ও সিজদার মধ্যবর্তী সময় সোজা হয়ে দাঁড়ানোকে। অতঃপর বুক'কারী রুকু' করে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে। আল্লাহর সামনে সোজা হয়ে দাঁড়াবে, যেভাবে কির'আত পাঠের সময় দাঁড়িয়ে ছিল। তার প্রশংসা স্তুতি করবে, যেভাবে কির'আতের শুরুতে করেছিল।
কওমাও একটি বিশেষ 'ইবাদাত। এটি রুকু-সিজদার মতোই সালাতের অন্যতম একটি রুকন। এর স্বাদ ও মজা একদম ভিন্ন। যা কেবল সালাত আদায়কারীই তার অন্তরে অনুভব করতে পারে। এ কারণে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম কওমাকে রুকূ'-সিজদার মতো প্রলম্বিত করতেন। স্থির দাঁড়িয়ে থাকতেন, এবং খুব বেশি হামদ-সানা পাঠে ব্রত হতেন। যেমনটা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তাহাজ্জুদের সালাতে রুকু' থেকে দাঁড়ানো অবস্থায় তিনি বলতেন-
لِرَبِّيَ الْحَمْدُ لِرَبِّيَ الْحَمْدُ
প্রশংসা আমার প্রতিপালকের জন্যই... প্রশংসা আমার প্রতিপালকের জন্যই.. এভাবে বার বার বলতে থাকতেন।

টিকাঃ
১৮ আবু দাউদ, ৮৭৪

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 ‘সিজদা’ একটি ‘ইবাদাত

📄 ‘সিজদা’ একটি ‘ইবাদাত


অতঃপর বান্দা তাকবীর বলতে বলতে সিজদায় লুটিয়ে পড়বে। প্রতিটি অঙ্গকে এই 'ইবাদাতের শামিল করবে। আল্লাহ্র সম্মুখে কপাল রাখবে। মাটির সাথে চেহারা লাগাবে। নাক ধূলি-ধূসরিত করবে। মানুষের অঙ্গসমূহের মধ্যে চেহারা হলো সর্বোচ্চ সম্মানের। সেটাকে সর্বস্রষ্টার সম্মুখে বিছিয়ে দেবে। বিশেষ করে হৃদয়। এছাড়া চেহারার সাথে সাথে অন্তরকেও সিজদা করাবে। মনে রাখতে হবে, অন্তর এবং অঙ্গসমূহের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সম্মান প্রকাশের নামই সিজদা। তাই দেহ যেভাবে আল্লাহকে সিজদা করে, তদ্রুপ অন্তরকেও তার প্রতিপালকের সামনে সিজদাবনত করবে। আর একই সাথে সিজদাবনত করবে নাক, মুখ, হাত, হাঁটু, মাথা ও পা। আর সিজদারত অবস্থায় উরু পায়ের গোড়ালির উপরের অংশ থেকে পৃথক রাখবে। একইভাবে পেট, উরু থেকে, বাহু তার পার্শ্ব থেকে পৃথক রাখবে। যাতে প্রতিটা অঙ্গ থেকে পৃথক পৃথক 'ইবাদাত প্রকাশ পায়।
বান্দা নিজেকে হীন, নীচ, তুচ্ছ, ভূখা-নাঙ্গা, ভিক্ষুকের মতো পেশ করবে। অহংকার ও অহমিকা ধুলোয় মিশিয়ে দেবে। তার বড়ত্বের সামনে নিজের অসহায়ত্ব, 'ইযযাতের সামনে নিজের সম্মানহীনতা ফুটিয়ে তুলবে। মালিকের সামনে একজন দাসের দাসত্ব প্রকাশের সর্বোচ্চ মাধ্যম হলো এই সিজদা। এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে বেশি নৈকট্য লাভ করে। যেমনটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
যে কাজের দ্বারা বান্দা আল্লাহ্ অধিক নিকটবর্তী হয়, সেটা হলো সিজদা।
সালাত আদায়কারীর সিজদা যখন পূর্ণ খুশু-খুযূর সাথে হবে, তখন এই এক সিজদায় কিয়ামাত পর্যন্ত কাটিয়ে দেওয়া সম্ভব! একবার সাহল ইবনু 'আব্দিল্লাহ্ ইমাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ্-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, হৃদয়ও কি সিজদা করে? তিনি বলেছিলেন 'অবশ্যই'! আল্লাহ্র কসম! কেউ যদি খুশু-খুযুর সাথে সিজদা করার মজা পেয়ে যেত, তাহলে কিয়ামাত পর্যন্ত সে আর তার মাথা তুলতেই চাইত না। এই সিজদার রহস্য হলো, অন্তরের অহমিকা মিটিয়ে দেওয়া। নিজেকে ছোট ও তুচ্ছ জ্ঞান করা। বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ করা। লোকালয়ে বা লোকশূন্যে সর্বাবস্থায়, সকল স্থানে, আল্লাহ্র ধ্যান ও খেয়াল অন্তরে চালু রাখা।

টিকাঃ
১৯ সহীহ মুসলিম, ৪৮২; আবু দাউদ, ৮৭৫
২০ মাজমাউল ফাতওয়া, ২১/২৮৭

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 সালাতের পাঁচ রুকন

📄 সালাতের পাঁচ রুকন


সালাতের ভিত্তি পাঁচটি জিনিসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কির'আত, কিয়াম, রুকু', সিজদা ও যিক্র। প্রত্যেকটি দ্বারাই সালাতের নামকরণ করা যায়। যেমন : কুর'আনে সালাতকে কখনো 'কিয়াম' বলা হয়েছে।
قُمِ الَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا
রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হওয়ার পর সালাতে দাঁড়াও।
وَقُومُوا لِلَّهِ قُنِتِينَ
আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে দণ্ডায়মান হও।
কখনো 'কির'আত' নামে অবহিত করা হয়েছে।
وَقُرْءَانَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْءَانَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا
...আর ফজরের সালাতে কুর'আন পাঠ করো। নিশ্চয়ই ফজরের সালাতের কুর'আন পাঠ সাক্ষী স্বরূপ।
فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ
কাজেই কুর'আনের যতটুকু তোমাদের জন্য সহজ ততটুকু তিলাওয়াত করো।
কখনো রুকু' নামে নামকরণ করা হয়েছে।
وَارْكَعُوا مَعَ الرَّكِعِينَ
এবং তোমরা রুকূ'কারীদের সঙ্গে রুকূ' করো।
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ارْكَعُوا لَا يَرْكَعُونَ
যখন তাদের বলা হয়, আল্লাহ্র সম্মুখে নত হও (সালাতে দাঁড়াও), তখন তারা নত হয় না।
সালাতকে 'সিজদা' বলা হয়েছে।
وَاسْجُدْ وَاقْتَرِب
তুমি সিজদা (সালাত) করো। আর (আল্লাহ্) নৈকট্য লাভ করো।
আবার কখনো 'যিক্র' (স্মরণ) বলে সালাত বোঝানো হয়েছে।
فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
আল্লাহর স্মরণের দিকে (সালাত) শীঘ্র ধাবিত হও, ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ করো, এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে।
يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْولُكُمْ وَلَا أَوْلُدُكُمْ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَمَن يَفْعَلْ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْخُسِرُونَ
হে মু'মিনগণ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ (সালাত) হতে যেন বিমুখ না করে। যারা এ কারণে বিমুখ হয়, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।
এসব আয়াত সালাতের রুকন হওয়ারও দলিল।
সালাতের সর্বোত্তম রুকন হলো সিজদা। সর্বোত্তম যিক্র তিলাওয়াত। প্রথম যে সূরা অবতীর্ণ হয়, (সূরা 'আলাক) তার শুরুটা ছিল 'ইকরা'। অর্থ, পড়ো তোমার প্রভুর নামে। আর শেষটা ছিল-
وَاسْجُدْ وَاقْتَرِب
আপনি সিজদা করুন ও আমার নৈকট্য অর্জন করুন।
তিলাওয়াত দিয়ে শুরু, সিজদা দিয়ে শেষ। প্রতিটা রাক্ 'আতের ভিত্তিও এর ওপর। অর্থাৎ, তিলাওয়াত দ্বারা সূচনা, সিজদা দ্বারা সমাপ্ত।

টিকাঃ
২১ সূরা মুয্যাম্মিল, ৭৩: ০২
২২ সূরা বাকারাহ, ০২: ২২৮
২৩ সূরা বনী ইসরাঈল, ১৭: ৭৮
২৪ সূরা মুয্যাম্মিল, ৭৩ : ২০
২৫ সূরা বাকারাহ, ০২:৪৩
২৬ সুরা মুরসালাত, ৭৭: ৪৮
২৭ সূরা আলাক, ৯৬ : ১৯; আয়াতটির তিলাওয়াতকারীর জন্য সিজদা করা আবশ্যক।
২৮ সূরা জুমু'আ, ৬২ : ০৯
২৯ সুরা মুনাফিকুন, ৬৩:০৯
৩০ সূরা আলাক, ৯৬ : ১৯; আয়াতটির তিলাওয়াতকারীর জন্য সিজদা করা আবশ্যক।

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 ‘জলসা’ (বৈঠক) একটি ‘ইবাদাত

📄 ‘জলসা’ (বৈঠক) একটি ‘ইবাদাত


অতঃপর সিজদা থেকে তাকবীর বলে মাথা ওঠাবে। স্থিরতার সাথে সোজা হয়ে বসবে। এটাকে বলে 'জলসা'। এটা পৃথক একটি 'ইবাদাত, যা দুই সিজদা দ্বারা বেষ্টিত। তার আগেও সিজদা, পরেও সিজদা। এটি এক সিজদা থেকে উঠে আরেক সিজদায় যাওয়ার পূর্বমুহূর্ত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অবস্থা। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম জলসায় সিজদা পরিমাণ সময় বিলম্ব করতেন। খুশু-খুযূর সাথে দু'আ করতেন। ক্ষমা চাইতেন। রাহমাত, হিদায়াত, 'আফিয়াত ও উত্তম রিযক কামনা করতেন। এই জলসার স্বাদ ও মজা একদম ভিন্ন।
বান্দার এই বসার সাদৃশ্য হলো বাদশাহর সামনে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির হাঁটু গেড়ে বসার মতো, যে কিনা অনুনয়-বিনয় করতে থাকে যেন বাদশাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। কাকুতি মিনতি করতে থাকে, যেন তিনি তার ওপর দয়ার দৃষ্টি ফেলেন। তাই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম জলসাতে খুব বেশি বেশি ইস্তিগফার করতেন-
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ্, আমাকে ক্ষমা করুন।
এবং খুব ভীতসন্ত্রস্ত থাকতেন। হে 'ইবাদাতকারী, সালাতে নিজের নাফসকে এমন ব্যক্তির অবস্থায় চিন্তা করুন, যে ঋণগ্রহীতা। আর আপনি হলেন ওই ঋণের যামিনদার। অতঃপর ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধে টালবাহানা এবং প্রতারণার আশ্রয় নিলে উক্ত ঋণ পরিশোধের চাপ আপনার নিজের ওপর আসে। ফলে আপনার সমস্ত শক্তির সদ্ব্যবহার করে আপনি ঋণগ্রহীতাকে ঋণ পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন, যাতে যামিন হওয়া থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেন।
এই উপমাটির অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য-এই বিষয়টি পরিষ্কার করা যে, একজন ব্যক্তির উচিত তার দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ লভ্য সকল উপায় অবলম্বন করে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগানো, যাতে সে তার সালাতের যথাযথ এবং পূর্ণাঙ্গ আদায় নিশ্চিত করতে সামর্থ্য হয়। ভালো-মন্দ, প্রশংসা-তিরষ্কার, পুরষ্কার-শাস্তি এসব ব্যাপারে কলব ও নাফ্স একে অপরের একনিষ্ঠ সঙ্গী। নাফসের সহজাত বৈশিষ্ট্যটাই হলো অবাধ্য ও বিদ্রোহী হয়ে ওঠা, প্রতিনিয়ত আল্লাহর দাসত্ব থেকে বের হয়ে যাওয়ার প্রবণতা, 'ইবাদাত থেকে দূরে থাকা, আল্লাহর হক, এমনকি অন্যের হক নষ্ট করা।
নাফস শক্তিশালী হয়ে উঠলে তার প্রভাব অত্যন্ত বেড়ে যায় এবং কলব তার অনুগত হয়ে পড়ে। আবার বিপরীতভাবে কলবের প্রভাব ও শক্তি বেড়ে গেলে, নাফস তখন কলবের অধীনে চলে আসে। সুতরাং বান্দার জন্য আবশ্যক হলো, যখন সে সিজদা থেকে মাথা ওঠাবে, প্রভুর সামনে অপরাধীর মতো হাঁটু গেড়ে বসবে। নাফসের বিপরীতে আল্লাহ্র নিকট সাহায্য চাইবে। অতীত-ভুলের জন্য অনুতপ্ত হবে, এবং বড় আশা, আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এই দু'আটি পড়বে-
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَعَافِنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي
হে আল্লাহ, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। রাহমাত বর্ষণ করুন। নিরাপদ রাখুন। হিদায়াত নাসীব করুন। উত্তম রিযকের ব্যবস্থা করুন।
ইবনু 'আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই সিজদা'র মাঝে এ দু'আ পড়তেন। আর এই দু'আতে উল্লেখিত পাঁচটি জিনিস এমন-যাতে দুনিয়া ও 'আখিরাতের সমস্ত কল্যাণ অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। মানুষ দুনিয়া ও 'আখিরাতের কল্যাণ চায়। অনিষ্ট থেকে বাঁচতে চায়। আর এই দু'আটিতে এর সবই রয়েছে।
হালাল রিযক হলো তা—যা দুনিয়া ও 'আখিরাতে কল্যাণ বয়ে আনে। রিযক সাধারণত তিন প্রকার। শরীরের রিযক। অন্তরের রিযক। আত্মার (বা নাফস) রিযক। আর আল্লাহ্ হলেন সর্বোত্তম রিযকদাতা।
আফিয়াত : মানে নিরাপত্তা। যা সকল অনিষ্ট, অনিরাপত্তা এবং ভয়-ভীতি দূরকারী।
হিদায়াত : অর্থ সঠিক পথের দিশা। এই হিদায়াতই পরকালের চূড়ান্ত সফলতা।
মাগফিরাত : ভূত-ভবিষ্যতের সকল পাপের মার্জনা। দুনিয়া ও 'আখিরাতের সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকা।
রাহমাত : এটির পরিসীমা এতই ব্যাপক যে, উল্লিখিত চারটি বিষয়ই এতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
এই দু'আ রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায় জলসাতেই পড়তেন। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত আছে। ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল আছে। প্রতি সালাতে দুই, তিন কিংবা চারটি করে জলসা থাকে। কোনো জলসায় যদি একবার এই দু'আটি কবুল হয়ে যায়, তাহলে সালাত আদায়কারীর জন্য এর চেয়ে বড় সফলতা আর কী হতে পারে?

টিকাঃ
৩১ আবু দাউদ, ৮৭৪; ইবনু মাজাহ, ৮৯৭
৩২ আবু দাউদ, ৮৫০; তিরমিযী, ২৮৪; ইবনু মাজাহ, ৮৯৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00