📘 খুশূ-খুযূ > 📄 ‘ইয়্যাকা না‘বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতা‘ঈন’ বলা একটি ‘ইবাদাত

📄 ‘ইয়্যাকা না‘বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতা‘ঈন’ বলা একটি ‘ইবাদাত


إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
আমরা একমাত্র আপনারই 'ইবাদাত করি এবং শুধু আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি।
'ইয়্যাকা না'বৃদ্ধ' পড়ার পর সে একটু থামবে।
প্রতিপালক জবাবে বলেন-
هَذَا بَيْنِي وََيْنَ عَبْدِي ، وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ
আমার আর আমার বান্দার মাঝে এটাই পার্থক্য। আমার বান্দা যা চেয়েছে, তা পাবে।
বান্দা এই দুটি (إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِين) বাক্যের গভীরে মনোনিবেশ করবে। বাক্য দুটির মর্ম নিয়ে চিন্তা করবে। এখানে দুটি অংশ। একটি আল্লাহর জন্য (إِيَّاكَ نَعْبُدُ) একটি বান্দার জন্য (وَإِيَّاكَ نَسْتَمِين)। উভয় বাক্য তাওহীদের সাক্ষ্য বহন করে।
'إِيَّاكَ نَعْبُدُ' বললে একজনই উপাস্য ; 'وَإِيَّاكَ نَسْتَعِين' বললে একজনই সাহায্যকারী বোঝায়।
চিন্তা করবে, এই বাক্য দুটি সুরা ফাতিহার ঠিক কোন স্থানে আছে? মাঝখানে। তার শুরুতে আছে স্মৃতি ও প্রশংসাবাক্য। পরে আছে দু'আ ও প্রার্থনাবাক্য।
বান্দা 'অনুধাবন করার চেস্টা করবে, 'ইবাদাতকে 'সাহায্যপ্রার্থনা'র আগে কেন আনা হয়েছে?'
কেন অবজেক্টকে (বিধেয়) সাবজেক্ট (উদ্দেশ্য)-এর আগে উল্লেখ করা হয়েছে? মনোযোগী হয়ে চিন্তা করবে, কেন তিনি সর্বনাম বার বার উল্লেখ করেছেন? ('আরবীতে সর্বনাম বার বার উল্লেখ করা হয় ব্যক্তি বা সত্তার সম্মান ও গুরুত্ব বোঝানোর জন্য)
'ইবাদাত'কে 'আগে আনার কারণ:
সুরা ফাতিহায় 'ইবাদাত'কে 'সাহায্যপ্রার্থনার' আগে আনা হয়েছে। কেননা, 'ইবাদাত 'আল্লাহর জন্য। সাহায্য বান্দার জন্য। আল্লাহ্ তা'আলা উপাসা। তিনি উপাসনার পর বান্দাকে সাহায্য করলেন। সুতরাং আগে 'ইবাদাত, পরে উঞ্জরত (প্রতিদান)।
'ইবাদাত' দ্বারা উদ্দেশ্য-
إِيَّاكَ أُرِيدُ بِعِبَادَتِي
আমার 'ইবাদাত দ্বারা কেবল তোমাকেই চাই।
অতএব, যাবতীয় নেককাজ-যা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য করা হয়-তা 'ইবাদাতের অন্তর্ভুক্ত, এবং আল্লাহ্ মারেফাত, মুহাব্বাত, সাদাকাত ও ইখলাসের দিকে পথ প্রদর্শক সকল উপকারী 'ইলম 'ইবাদাতের শামিল।
সাহায্য দ্বারা বান্দার সকল কাজে তাওফীকপ্রাপ্ত হওয়া উদ্দেশ্য। সুতরাং যে 'ইবাদাত আল্লাহর জন্য হয় না, তা প্রত্যাখ্যাত, এবং যে সাহায্য আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা ছাড়া অন্য কারও কাছে চাওয়া হয় তা বিবর্জিত। এতে কেবল রয়েছে অপমান, লাঞ্ছনা ও গঞ্জনা।
উভয় বাক্যের মর্ম:
প্রত্যেকের গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত এই আয়াত থেকে নিসৃত উপকারী জ্ঞান নিয়ে-যা 'ইবাদাতের বিশুদ্ধতা বজায় রাখতে মানুষকে সাহায্য করে এবং রক্ষা করে আমলের ঘাটতি ও বাঁচিয়ে রাখে যাবতীয় হারাম কাজ থেকে।
আর ভাবনার বিষয়, দুটি মাত্র বাক্যে তাঁর সকল সৃষ্টির রহস্য, আদেশ ও নিষেধ, সাওয়াব ও শাস্তি, দুনিয়া ও 'আখিরাতের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কতটা সুগভীরভাবে বস্তু করা হয়েছে! আদতে পুরো কুর'আনের সারমর্মই এই দুটি বাক্য।
এখানে বুঝতে হবে, কীভাবে সর্বনামে নাম পুরুষ থেকে উত্তম পুরুষের দিকে উঠিয়ে আনা হয়েছে? এ বিষয়টি বিস্তারিত বোঝাতে গেলে বড় একটি গ্রন্থ রচনা করা যাবে। এটি যদি আলোচ্য বিষয়ের বহির্ভূত না হতো, তাহলে আরও আলোচনা করতাম। এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত বিবরণ দিতাম। কারও যদি এ বিষয়ে অধিক জ্ঞান অর্জনের স্পৃহা থাকে, তাহলে সে মারাহিলস সা-ইরিন এবং আররিসালাতুল মুসরিয়া নামক গ্রন্থ দুটি দেখতে পারে।

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 ‘ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকীম’ বলা একটি ‘ইবাদাত

📄 ‘ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকীম’ বলা একটি ‘ইবাদাত


এবার সে চিন্তা করুক, সাহায্য হিসেবে তার কোন জিনিস সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন? একজন বিশ্বাসীর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো হিদায়াত। তাই সে বলবে-
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ
আমাদের সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করুন।
'হিদায়াত' একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। এতে বেশ কয়েকটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত।
এক. হক (সত্য) চেনা।
দুই. হকের রাস্তা পাওয়া।
তিন. হকের ওপর 'আমাল করা।
চার. হকের দিকে মানুষকে আহ্বান করা। এর ওপর চলতে গিয়ে যত বাধা-বিপত্তি আসে, তার ওপর ধৈর্যধারণ করা।
পাঁচ. মৃত্যু পর্যন্ত হকের ওপর অটল থাকা।
যার মধ্যে এই পাঁচটি বিষয়ের উপস্থিতি পরিপূর্ণভাবে আছে, সে পূর্ণ হিদায়াতপ্রাপ্ত। যার কোনোটা কম আছে, তার হিদায়াতও ত্রুটিপূর্ণ। সুতরাং মৃত্যু পর্যন্ত বান্দা সদা সর্বদা এই পূর্ণ হিদায়াতের মুখাপেক্ষী।
এছাড়াও হিদায়াতের আরও কিছু অর্থ রয়েছে। যেমন :
১. যে ভ্রান্ত আকীদা, ভুল বিদ্যা ও অসৎ সংকল্পের ওপর রয়েছে, সে তাওবার মুখাপেক্ষী। এই তাওবা-ই এখানে তার হিদায়াত।
২. যে ইসলামের মৌলিক ধারণাটুকু রাখে, তার জন্য বিস্তারিত জানাই হলো হিদায়াত।
৩. যে ইসলামের কিছু বিধান মানে কিছু মানে না, তার জন্য পূর্ণ ইসলাম মানার তাওফীকপ্রাপ্ত হওয়া হলো হিদায়াত।
৪. যে ইসলামের সকল বিধিবিধান মানে, তার জন্য ভবিষ্যতেও এর ওপর স্থির ও অটল থাকা হলো হিদায়াত।
৫. যার কোনো আকীদা-বিশ্বাস নেই, তার জন্য বিশুদ্ধ আকীদাই হিদায়াত।
৬.যে ভ্রান্ত আকীদায় বিশ্বাসী, ভ্রান্ত আকীদা থেকে বেরিয়ে আসা এবং বিশুদ্ধ আকীদা লালন করাই হলো তার জন্য হিদায়াত।
৭. যে ব্যক্তি নেককাজ করতে সক্ষম, কিন্তু নেককাজের কোনো ইচ্ছা বা আগ্রহ নেই, তার জন্য নেককাজে আগ্রহ তৈরি হওয়াই হিদায়াত।
৮. যে ব্যক্তির ইচ্ছে আছে, কিন্তু শক্তি নেই, সামর্থ্য নেই; সুতরাং শক্তি-সামর্থ্য লাভ করাই তার জন্য হিদায়াত।
৯. যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের ইচ্ছে রাখে না, শক্তিও রাখে না, সে উভয়টার মুখাপেক্ষী। এই ইচ্ছা এবং শক্তি লাভ করাই তার হিদায়াত।
১০. যে আকীদা ও বিশ্বাস, 'ইলম ও 'আমালে হিদায়াতপ্রাপ্ত; তার জন্য হিদায়াত হলো এর ওপর অটল ও অবিচল থাকা।
হিদায়াত হলো বান্দার সবচেয়ে বড় চাওয়া এবং অতীব প্রয়োজনীয় জিনিস। সবাই হিদায়াতের মুখাপেক্ষী। এ কারণে দয়াময় প্রভু প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠের মাধ্যমে হিদায়াত প্রার্থনা ফরয (আবশ্যক) করে দিয়েছেন। এতেই প্রতীয়মান হয় যে, একজন বান্দার জন্য হিদায়াত অর্জন করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মৌলিক হিদায়াতের ভিত্তিতে মানুষকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
এক. মুন'ইম। অর্থাৎ, পুরস্কারপ্রাপ্ত। যাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলা হিদায়াত দান ও তা সংরক্ষণের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন। তারা তাদের নিজেদের অর্জিত হিদায়াতের স্তর মোতাবেক পুরস্কার পাবে।
দুই. দলুন। অর্থাৎ, পথভ্রষ্ট। তাদেরকে হিদায়াত দেওয়া হয়নি। কারণ, তারা নিজেদেরকে এর জন্য প্রস্তুতও করেনি।
তিন. মাগদূব। অর্থাৎ, অভিশপ্ত। যারা সত্য চিনেছে; কিন্তু সত্যকে গ্রহণ করেনি।
প্রথম দল হিদায়াতপ্রাপ্ত। সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিশুদ্ধ আকীদা ও বিশ্বাস লালনকারী এবং এরাই পুরস্কারের উপযোগী। দ্বিতীয় দল পথভ্রষ্ট। তারা অজ্ঞতাবশত সত্য থেকে দূরে সরে যায় ফলে তার হিদায়াত থেকে বঞ্চিত হয়। তৃতীয় দল অভিশপ্ত। কারণ, সত্যকে চেনা এবং জানার পরেও তারা তা অনুসরণ করে না। সত্যকে গ্রহণ করে না।

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 আমীন ও রাফ‘উল ইয়াদাইন

📄 আমীন ও রাফ‘উল ইয়াদাইন


বান্দা সূরা ফাতিহা শেষে 'আমীন' বলবে দু'আ কবুল হওয়ার আশা ও আস্থা নিয়ে, এবং আমীন জোরে পড়তে হবে। কেননা, সালাতে মু'মিনের জোরে আমীন বলা শুনে ইয়াহুদীদের গাত্রদাহ শুরু হয়ে যেত। তারা হিংসায় ফেটে পড়ত।
রুকু'তে যাওয়ার সময়ে দুই হাত উঠাবে। অর্থাৎ, রাফ'উল ইয়াদাইন করবে। এতে আল্লাহ্র প্রতি সম্মান প্রদর্শন হয়। এটি হাতের বিশেষ 'ইবাদাত। যেমন অন্যসব অঙ্গেরও বিশেষ বিশেষ 'ইবাদাত রয়েছে। এছাড়া এটি রাসূলের সুন্নাত, সালাতের সৌন্দর্য। নিদর্শন ও মর্যাদা।
প্রত্যেক ওঠা-বসায়, এক রুকন থেকে আরেক রুকনে যাওয়ার সময় 'আল্লাহু আকবার' বলবে। আল্লাহ্র বড়ত্বের ঘোষণা দিবে। কেননা, সালাতে তাকবীর হলো হজে তালবিয়া পাঠের মতোই। হাজীরা যেমন এক ঘাঁটি থেকে অন্য ঘাঁটি, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার সময় তালবিয়া (লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারীকা লাকা লাব্বাইক...) পড়ে। এটা হজের নিদর্শন। তদ্রুপ সালাতের প্রত্যেক অবস্থান পরিবর্তনে তাকবীর বলবে। এটা সালাতের তালবিয়া এবং নিদর্শন।

টিকাঃ
১৫ আদাবুল মুফরাদ, ৯৯৭; ইবনু মাজাহ, ৮৫৬
১৬ সালাতে উচ্চসুরে আমীন বলা, রাফ'উল ইয়াদাইন করা, এসব সুন্নাত কিংবা মুস্তাহাব পর্যায়ের আমল। ইমামদের মাঝে এ নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। প্রত্যেকেরই রয়েছে নিজ নিজ মতের পক্ষে দলীল-প্রমাণ। অতএব, এসব বিষয় নিয়ে উম্মাহর মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 রুকু’ একটি ‘ইবাদাত

📄 রুকু’ একটি ‘ইবাদাত


অতঃপর রুকু' করার দ্বারা আল্লাহ্র প্রতি সম্মান ও বিনয় প্রদর্শন করবে। তার প্রতিপত্তির কাছে নিজের অসহায়ত্ব, তার 'ইযযাতের কাছে নিজের তুচ্ছতা, নগন্যতা প্রকাশ করবে। রুকু'তে মহান প্রভুর প্রশংসা করা একজন দাসের জন্য আবশ্যক। কারণ, দাসের বৈশিষ্ট্যই হলো নিজেকে প্রভুর নিকট সমর্পণ করা।
আর বান্দা রুকুতে নিজের মেরুদণ্ড বিছিয়ে দিবে। হাঁটুর ওপর ভর দিবে। মাথা ঝোঁকানো থাকবে। পিঠ ও ঘাড় সমান রাখবে। আর তাকবীর বলতে বলতে রুকু'তে যাবে। এরপর তাসবীহ পড়বে-
سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ
আমি আমার প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
রুকু'তে তিনটি বস্তুর খুশু-খুযূ রয়েছে।
এক. অন্তরে খুশ। সেটা হলো মনোযোগী ও বিনয়ী হওয়া।
দুই. অঙ্গসমূহের খুশ। দেহকে নত করা।
তিন. মুখের খুশ। তাসবীহ পাঠ করা। যিক্র করা। এভাবে রুকু' করাই হলো রুকু'র পূর্ণতা। মানুষের প্রতি বিনীত আর স্রষ্টার কাছে বিনয়াবনত হওয়ার পার্থক্যটা এখানে বুঝে আসে। কেননা, মানুষ যত বড়ই হোক সে কারও-না-কারও গোলাম। গোলামের কাজ হলো দাসত্ব; আর আল্লাহ্ হলেন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তার সিফাত হলো, 'আজমাত (বড়ত্ব)।
মোটকথা, রুকু' একটি 'ইবাদাত। তার পূর্ণতাই হলো নিজেকে হীন, নীচ ও তুচ্ছভাবে উপস্থাপন করা। নিজের বড়ত্ব অন্তর থেকে বের করে আল্লাহ্র ভয় ও ওহদানিয়্যাত (একত্ববাদ) সেখানে প্রতিস্থাপন করা। কোনো অন্তরে যখন আল্লাহর ভয় ঢুকে পড়ে, তখন আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য যে কোনো কিছুর ভয় সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। অতএব, রুকু'তে যে যত বেশি তাসবীহ পাঠ করবে, বিনয়ী হবে, আল্লাহ্র ভয় তার ভেতর তত বেশি শক্তিশালী হবে। এই-ই হলো রুকু'র হাকীকত, রুকু'র বাস্তবতা।
রুকু'র এই অবস্থা আল্লাহ্র খুব প্রিয়। তাই বান্দা বেশি বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। হামদ (আল্লাহর প্রশংসা) করবে। 'সুবহানা রব্বিয়াল আযীম' পড়বে। কেননা, আল্লাহই তাকে রুকু' করার তাওফীক দিয়েছেন। আল্লাহ তাওফীক দিয়েছেন বলেই সে 'ইবাদাতের সৌভাগ্য অর্জন করেছে। অথচ কত মানুষ এই তাওফীক থেকে বঞ্চিত।

টিকাঃ
১৭ আবু দাউদ, ৮৫৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00