📘 খুশূ-খুযূ > 📄 ‘রব্বিল ‘আলামীন’ বলা একটি ‘ইবাদাত

📄 ‘রব্বিল ‘আলামীন’ বলা একটি ‘ইবাদাত


আবার, আল্লাহ তার বান্দাকে সঠিক পথ প্রদর্শন না করলে, সে কোনোভাবেই তার হামদ আদায়ে সক্ষম হতো না। আল্লাহ তা'আলা অনুগ্রহ করে বান্দার অন্তরে হামদ প্রক্ষেপণ করেছেন। সুতরাং তিনি এর জন্যও প্রশংসিত। কেননা, তিনিই তা বান্দার জিহ্বা ও অন্তরে জারি করেছেন। যদি আল্লাহ্ পথ না দেখাতেন, তাহলে কে আছে যে নিজ প্রচেস্টায় পথপ্রাপ্ত হতো?
বান্দার জন্য আবশ্যক হলো সর্বাবস্থায় আল্লাহ্র প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং তার প্রশংসা করা। সুখে থাকুক কিংবা দুঃখে, সকল মাখলুক তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। চাই সে নেককার হোক বা পাপী, সম্মানিত হোক বা অপমানিত। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সর্বাবস্থায় তার প্রশংসার উপযুক্ত। যদিও তার কর্মের নেপথ্য কারণ আমাদের অন্তর্দৃষ্টির বাইরে। সুতরাং যে বান্দা আল্লাহ্র যত নিকটবর্তী হবে, তার কৃতজ্ঞতাপ্রকাশও ততই আন্তরিক হয়ে উঠবে।
'আলহামদু লিল্লাহ্' এটি আল্লাহ্র পক্ষ থেকে তাঁর বান্দার অন্তরে ঐশী অনুপ্রেরণা। নাবী করিম সাল্লালাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুপারিশের হাদীসে বলেছেন-
GG
হাশরের দিন আমি সিজদায় পড়ে যাব। অতঃপর আল্লাহ্ আমার অন্তরে ইলহাম প্রক্ষেপণ করবেন। ফলে আমি এমন সব বাক্য দ্বারা তার প্রশংসা করব, যা কখনো আমার অন্তরে উদয় হয়নি।
رَبِّ الْعَالَمِينَ
জগৎসমূহের একমাত্র প্রতিপালক
এখানে 'রব' একবচন। অর্থ, একজন প্রতিপালক। 'আলামীন' হলো বহুবচন, অর্থ, জগৎসমূহ। 'রব্বিল 'আলামীন' অর্থ: জগৎসমূহের একমাত্র প্রতিপালক। এতে একত্ববাদের সাক্ষ্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি বিশ্ব-জাহানের একমাত্র রব। তিনি সবকিছুর স্রষ্টা, রিয্কদাতা, নিয়ন্ত্রণকর্তা। তিনি জীবন দেন। তিনিই মৃত্যু দেন। তিনি এক ও একমাত্র ইলাহ। 'ইবাদাতের উপযুক্ত সত্তা। দুর্যোগে সাহায্যকারী। বিপদে আশ্রয়দানকারী। তিনি ছাড়া কোনো রব নেই। তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।

টিকাঃ
১২ ইলহাম হলো এক ধরনের অনুপ্রেরণা, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোনো প্রকার বাহ্যিক উৎসের যোগসূত্রতা ছাড়াই 'অন্তরে অনুভব করেন।

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 ‘আর-রহমানির রহীম’ বলা একটি ‘ইবাদাত

📄 ‘আর-রহমানির রহীম’ বলা একটি ‘ইবাদাত


الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু।
এই বাক্যটি বলা বিশেষ একটি 'ইবাদাত। আল্লাহ্র অসীম দয়া ও করুণার বর্ণনা এটি। তাঁর দয়া সকল মাখলুকের ওপর ব্যপ্ত। গোটা দুনিয়ার প্রতিটি বস্তু তাঁর অনুগ্রহ ও রাহমাতের ওপর টিকে আছে।
প্রকৃতপক্ষে, এটিও আল্লাহর একটি বিশেষ দয়া ও অনুগ্রহ যে, বান্দা আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। হাদীসে এসেছে,
'আল্লাহ্ তা'আলা প্রতি রাতে জিবরা'ঈল 'আলাইহিস সালাম-কে বলেন,
'অমুককে সালাতের জন্য জাগিয়ে দাও, অমুককে ঘুম পাড়িয়েই রাখো।
সুতরাং এটা তার বিশেষ রাহমাত যে, তিনি বান্দাকে গভীর রজনীতে সালাতে দাঁড় করিয়ে দেন। তার সাথে নির্জনে কথা বলেন। বান্দা তখন অনুনয়-বিনয় করে। দয়া প্রার্থনা করে। তাকে ডাকে। তার কাছে হিদায়াত ও রাহমাত কামনা করে। দুনিয়া ও 'আখিরাতে এমন বান্দাদের ওপর তার নি'য়ামাত পরিপূর্ণ। এই বিশেষ রাহমাত থেকে যারা দূরে রয়েছে, তারা সত্যিই বঞ্চিত।
এছাড়াও আল্লাহর রাহমাত সকল মাখলুকের ওপর বিস্তৃত। যেমন তার হামদ ও 'ইলম সর্বত্র বিস্তৃত।

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 ‘মালিকি ইয়াউমিদ দীন’ বলা একটি ‘ইবাদাত

📄 ‘মালিকি ইয়াউমিদ দীন’ বলা একটি ‘ইবাদাত


رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا
হে আমাদের পালনকর্তা, আপনার রাহমাত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত।
ملِكِ يَوْمِ الدِّينِ
বিচার দিবসের মালিক।
অতঃপর বান্দা 'মা-লিকি ইয়াও মিদ্দীন' বলবে। তার হীনতা ও বশ্যতা প্রকাশ করবে। নিজেকে সমর্পণ করবে। আল্লাহ্র ইনসাফ ও পরিমাপযন্ত্র স্থাপনের কথা, এবং বিচার দিবসের কথা স্মরণ করে নিজেকে পাপ ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে। এ আয়াত পড়ার সময় একথাও চিন্তা করবে যে, নিশ্চয় কিয়ামাত প্রতিষ্ঠিত হবে। আল্লাহ্ হবেন বিচারক। তিনি মানুষের মাঝে ফয়সালা করবেন। ভালো-মন্দের প্রতিদান দেবেন। তার বিচারকার্যও প্রশংসার অন্তর্ভুক্ত। কুর'আনে ইরশাদ হয়েছে,
وَقُضِيَ بَيْنَهُم بِالْحَقِّ وَقِيلَ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ
তাদের সবার মাঝে ন্যায় বিচার করা হবে। বলা হবে, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ্র।
বর্ণিত আছে, বিচারকার্য সমাধানের পর সেদিন জান্নাত ও জাহান্নামের সকল অধিবাসী তার ন্যায়, ইনসাফ ও অনুগ্রহের প্রশংসা করবে।

টিকাঃ
১৩ সূরা গাফির, ৪০:০৭
১৪ সূরা যুমার, ৩৯: ৭৫

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 সানা ও তামজীদের পার্থক্য

📄 সানা ও তামজীদের পার্থক্য


সালাত আদায়কারী যখন 'আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল 'আলামীন' বলে, তার জবাবে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন-
حَمِدَنِي عَبْدِي
বান্দা আমার হামদ-তথা প্রশংসা করল।
যখন বান্দা 'আর রহমানির রহীম' বলে, তো এর মাধ্যমে সে আল্লাহর প্রশংসার পুনরাবৃত্তি করল। তাঁর একাধিক গুণ বর্ণনা করল। তখন আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন-
أَثْنَى عَلَى عَبْدِي
বান্দা আমার সানা-তথা প্রশংসা করল।
এখানে আল্লাহ্ 'সানা' শব্দের ব্যবহার করেছেন। 'সানা' বলা হয় বারংবার প্রশংসা করা; প্রশংসিত ব্যক্তির একাধিক গুণ বর্ণনা করাকে। এখানে 'আলহামদু লিল্লাহ্' শুধু প্রশংসা। 'রহমানির রহীম' আল্লাহ্র গুণাবলিসহ একাধিক বার প্রশংসা।
এরপর সালাত আদায়কারী বলবে-
ملِكِ يَوْمِ الدِّينِ
বিচার দিবসের মালিক।
এ বাক্যে রয়েছে বিচার দিবসে তার একক ক্ষমতা, দ্বীন ও দুনিয়ার বাদশাহী, তার বড়ত্ব ও মহত্ত্ব, একত্ববাদ, নাবী-রাসূল প্রেরণের সত্যতার কথা। এর উত্তরে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন-
مَجْدَنِي عَبْدِي
বান্দা 'তামজীদ'-এর সাথে আমার প্রশংসা বর্ণনা করল।
এখানে আল্লাহ্ 'তামজীদ' শব্দের ব্যবহার করেছেন। তামজীদ বলা হয় ন্যায়-ইনসাফ, দয়া-অনুগ্রহ এবং মহিমা ও মহত্ত্ব প্রকাশ্যে যে প্রশংসা করা হয় তাঁকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00