📘 খুশূ-খুযূ > 📄 সালাতের রহস্য

📄 সালাতের রহস্য


সালাতের রহস্য ও মূল হলো আল্লাহর দিকে মনোযোগী হওয়া। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে অন্তরকেও সালাতে যুক্ত করা। যদি কেউ সালাতে অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে, নিজের সাথে নিজে কথা বলে, নানান বিষয়ে চিন্তা করে, তাহলে তার দৃষ্টান্ত হলো ওই অপরাধীর মতো, যে বাদশাহর দরবারে রওনা হয় নিজের অপরাধ মার্জনার জন্য; বাদশাহর দয়া, দান ও করুণার মেঘ হতে সামান্য বর্ষণের আশায়; কিন্তু যখন সে দরবারে পৌঁছে, সে তখন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বাদশাহর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। ডানে তাকায়, বামে তাকায়। অর্থাৎ, বাদশাহ যা অপছন্দ করেন তাতে সে লিপ্ত হয়ে যায়।
বাদশাহ যখন তার এই অবস্থা দেখেন; তার ন্যায় ও ইনসাফের দাবি হলো, এমন ব্যক্তির প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা। কোনো দয়া না দেখানো। তবুও তিনি তার প্রতি দয়া দেখান। অনুগ্রহ করেন; কিন্তু চূড়ান্ত পুরস্কার বিতরণের দিন তিনি ঠিকই এই ব্যক্তি এবং খুশু-খুযুর সাথে সালাত আদায়কারীর মাঝে বড় একটা পার্থক্য করে দেবেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَلِكُلِّ دَرَجَتٌ مِّمَّا عَمِلُوا وَلِيُوَفِّيَهُمْ أَعْمَلَهُمْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
প্রত্যেকের জন্য তাদের কৃতকর্ম অনুযায়ী বিভিন্ন স্তর রয়েছে, যাতে আল্লাহ্ তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেন। বস্তুত তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।
আল্লাহ্ তা'আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার 'ইবাদাতের জন্য। আর অপর সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন মানুষের উপকারের জন্য। হাদীসে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহ্ তা'আলা বলেন-
হে আদম সন্তান, আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি কেবল আমার জন্য। বাকি সব সৃষ্টি করেছি তোমার জন্য। সুতরাং তোমার ওপর আমার কিছু হক রয়েছে। সেসব বস্তু যেন তোমাকে আমার হক থেকে ব্যস্ত করে না রাখে, যা তোমার জন্য সৃষ্টি করেছি।
অন্যত্র আছে-
হে মানবপুত্র, তোমাকে আমার 'ইবাদাতের জন্য বানিয়েছি; অবহেলা করো না। তোমার জীবিকার দায়িত্ব আমি নিয়েছি; পেরেশান হয়ো না। হে আদম-সন্তান, তুমি আমাকে চাও, আমাকে পাবে। যদি তুমি আমাকে পেয়ে যাও, তাহলে সব পেয়ে গেলে। আর যদি আমাকে হারাও, তাহলে সব হারালে। সুতরাং তোমার নিকট তো আমিই সর্বাধিক প্রিয় হওয়ার উপযুক্ত।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সালাতকে এমন একটি মাধ্যম বানিয়েছেন যার দ্বারা বান্দা তাঁর নৈকট্য অর্জন, তাঁর সাথে একান্তে কথা বলা, তাঁর ভালোবাসা, দয়া এবং ঘনিষ্ঠতা উপভোগ করার সুযোগ পায়।

টিকাঃ
৫ সূরা আহকাফ ৪৬ : ১৯

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে বান্দার উদাসীনতা

📄 সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে বান্দার উদাসীনতা


এক সালাত থেকে আরেক সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে কখনো কখনো বান্দা ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় নিজেকে গুনাহের কাজে জড়িয়ে ফেলে। উদাসীনতা, ত্রুটি-বিচ্যুতি তাকে পেয়ে বসে। এভাবে সে তার প্রতিপালকের কাছ থেকে দূরে সরে যায়। নৈকট্যবঞ্চিত হয়। ফলে 'ইবাদাতের সাথে তার দূরত্ব বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সে নিজেকে শাইতানের কাছে ছেড়ে দেয়। আর শাইতান তাকে আটক করে। বেড়ি পরায়। প্রবৃত্তির কারাগারে বন্দি করে রাখে। এতে করে তার অন্তর সংকীর্ণ হয়ে যায়। অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা, আক্ষেপ, মন্দভাব, হীনম্মন্যতা, খারাপলাগা তার ওপর জেঁকে বসে যদিও এগুলোর পেছনের কারণ সম্পর্কে অনেক ক্ষেত্রে সে উপলব্ধিই করতে পারে না। তার প্রতি আল্লাহ্র দয়া এই যে, তিনি তার জন্য বহু শাখাবিশিষ্ট এমন 'ইবাদাতের (সালাত) ব্যবস্থা করেছেন, যার প্রতিটি অংশ হতেই সে তার প্রয়োজন অনুপাতে কল্যাণ, অনুগ্রহ এবং নৈকট্য অর্জন করতে পারে।

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 ওযু সম্পর্কে কিছু কথা

📄 ওযু সম্পর্কে কিছু কথা


সালাত আদায়কারী ওযূর মাধ্যমে অপবিত্রতা থেকে নিজেকে পবিত্র করে নেয়। অতঃপর পবিত্র অবস্থায় আল্লাহ্র সামনে দাঁড়ায়।
প্রভাব অনুসারে ওযুর দুটি দিক রয়েছে। একটা প্রকাশ্য, অন্যটি অপ্রকাশ্য।
প্রকাশ্য দিকটি হলো: শারীরিক পবিত্রতা; অঙ্গসমূহ ধৌত করা।
আর অপ্রকাশ্য দিকটি হলো: অন্তরকে গুনাহ ও অন্যা কাজসমূহের অপবিত্রতা থেকে তাওবার মাধ্যমে পবিত্র করার সাথে সংশ্লিষ্ট। আল্লাহ্ তা'আলা উভয় পবিত্রতাকে একসাথে উল্লেখ করেছেন।
إن الله يُحِبُّ الثَّوبِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাওবাকারী এবং পবিত্রতা রক্ষাকারীদের পছন্দ করেন।

টিকাঃ
৬ সূরা বাকারাহ, ২: ২২২

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 সালাতের পূর্ণতা যখন মসজিদে

📄 সালাতের পূর্ণতা যখন মসজিদে


রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন কোনো ব্যক্তি ওযু করে, তখন সে কালিমায়ে শাহাদাত পড়বে। এরপর বলবে-
اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنْ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنْ الْمُتَطَهِّرِينَ
হে আল্লাহ্, আপনি আমাকে তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি আমাকে পবিত্রদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
তাহলে বান্দার পবিত্রতা পূর্ণতা পাবে :
এক. কালিমায় শাহাদাত দ্বারা শিরক থেকে
দুই. তাওবা দ্বারা গুনাহ থেকে
তিন. পানি দ্বারা নাপাকী থেকে
সালাত আদায়কারী যখন আল্লাহ্র সামনে যাওয়ার আগে পবিত্রতার সকল ধাপ পূর্ণ করে, তাকে অনুমতি দেওয়া হয় আল্লাহর ঘরে প্রবেশ করার। তাঁর সামনে দাঁড়ানোর। মাসজিদ আল্লাহ্র ঘর। মাসজিদ 'ইবাদাতের স্থান। এ কারণে অধিকাংশ ইমামের মতেই, ফরয সালাত মাসজিদে আদায় করা ওয়াজিব।
অন্যদিকে বান্দা যখন দুনিয়াবী কাজে ডুবে যায়, 'ইবাদাত থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয়, তখন তার অবস্থা দাঁড়ায় পলাতক ভৃত্যের মতো যে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং হৃদয়কে তার প্রভুর জন্য নিয়োজিত করা থেকে বিরত রাখে। অতঃপর যেইমাত্র সে ভৃত্য তার প্রভুর নিকট ফিরে আসে, তার অবাধ্যতা আনুগত্যে রূপ নেয়। ঠিক তেমনই, বান্দা যখন বিনয়ের সাথে আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হয় এবং আল্লাহর নিকট নিজেকে সমর্পণ করে, আল্লাহর দয়া এবং করুণা তাকে ঘিরে ফেলে এবং আল্লাহ তাকে তার অনুগত বান্দা হিসেবে গ্রহণ করে নেন।

টিকাঃ
৭ 'উমার ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যপ্তি সুন্দরভাবে ওযু করার পর বলে: 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তার কোনো অংশীদার নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, নাবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও তাঁরই রাসূল; হে আল্লাহ, আমাকে তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ট করুন। তো তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে। সে নিজ ইচ্ছেমতো যেকোনো দরজা দিয়েই তাতে প্রবেশ করতে পারবে। (সহীহ মুসলিম, ২৩৪; তিরমিযী, ৫৫)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00