📘 খুশূ-খুযূ > 📄 প্রত্যেকটির উপমা

📄 প্রত্যেকটির উপমা


প্রথম উপমা :
প্রথম ভাগ হলো সেই ব্যক্তির মতো, যাকে প্রশস্ত একখণ্ড জমি দেওয়া হয়েছে এবং চাষাবাদের জন্য দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রপাতি। বীজ ও পানি। অতঃপর সে চাষ শুরু করে। মাটিতে হাল দেয়। বীজ বপন করে। নানান স্বাদের ফলবান বৃক্ষচারা রোপণ করে। এরপর সীমানা-প্রাচীর তুলে জমি বেষ্টনী দেয়। এটুকুতেই সে ক্ষান্ত হয় না; বরং সে প্রহরা বসায়। কীটপতঙ্গ, পশুপাখি এবং অনিষ্টকর প্রাণীর ক্ষতির ব্যাপারে সে সজাগ দৃষ্টি রাখে। প্রতিদিন সে তার ফসলের দেখভাল করে। কোথাও কোনো চারা মরে গেলে সেখানে আরেকটি চারা রোপণ করে। নিয়মিত নিড়ানি দেয়। আগাছা পরিষ্কার করে। এভাবে শ্রম ও সময় দিয়ে সাজিয়ে তোলে তার প্রশস্ত জমি, এবং জমি থেকে যে ফসল উৎপন্ন হয়, সেগুলো দিয়ে সে তার আরও উন্নতি ঘটায়।
দ্বিতীয় উপমা :
দ্বিতীয় ভাগ হলো সেই ব্যক্তির মতো, যে তার জমিকে পোকা-মাকড় ও হিংস্র প্রাণীর অভয়ারণ্যে পরিণত করে রেখেছে। ভাগাড় ও নর্দমা বানিয়ে ফেলেছে। চোর-ডাকাত ও অনিষ্টকর মানুষের নিরাপদ আস্তানা করে তুলেছে। চাষাবাদের জন্য তাকে যে যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো সে এই অমঙ্গল ও অনিষ্টকর প্রাণীর আস্তানা তৈরির সহজিকরণে ব্যবহার করে থাকে।
তৃতীয় উপমা :
তৃতীয় ভাগ হলো সেই ব্যক্তি, যে তার যন্ত্রগুলো অনর্থক ফেলে রাখে। মরুভূমি ও অনাবাদি জমিতে পানি সিঞ্চন করে। এরপর সে কেবল আক্ষেপ ও আফসোস নিয়ে বেঁচে থাকে। এ হলো উদাসীন, অলস ও সীমালঙ্ঘনকারী ব্যক্তির দৃষ্টান্ত।
এখানে তিন শ্রেণীর ব্যক্তির উপমা উপস্থাপন করা হয়েছে যার মধ্যে প্রথম উপমাটি হলো সচেতন ব্যক্তির। যে জিনিস-পত্রের সঠিক ব্যবহার করেছে। দ্বিতীয় উপমাটি হলো খিয়ানতকারী ব্যক্তির এবং তৃতীয় উপমাটি হলো উদাসীন, অলস ও সীমালঙ্ঘনকারী ব্যক্তির।
প্রথম ব্যক্তি :
সে যা-ই করে-স্থির থাকে কিংবা নড়াচড়া করে, ওঠে কিংবা বসে, খায় কিংবা পান করে, ঘুমায় কিংবা সজাগ থাকে, কাজ করে কিংবা পড়ে, চুপ থাকে কিংবা কথা বলে, সবকিছুই তার 'ইবাদাত। সকল অবস্থায় সে আল্লাহর যিকরে, আনুগত্যে নৈকট্যশীল বান্দাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে। এমন ব্যক্তি চলতে-ফিরতে সর্বদা আল্লাহ্র হুকুম মানে। তার আনুগত্য করে।
দ্বিতীয় ব্যক্তি :
দ্বিতীয় ব্যক্তি জীবন অতিবাহিত করে স্রষ্টার অবাধ্যতায়। মালিকের বিশ্বাসঘাতকতায়। কেননা, আল্লাহ্ তাকে এই অধিকার দেননি যে, সে তার এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার বিরোধিতায় ব্যবহার করবে। নিষিদ্ধ কাজে প্রয়োগ করবে। অতএব, সে পাপী। নি'য়ামাতের খিয়ানতকারী। তার জন্য রয়েছে অশুভ পরিণতি। সে যা-ই করে সবই তার গুনাহ ও অবাধ্যতা। সর্বাবস্থায় সে অভিশাপ ও ক্ষতিগ্রস্ততায় ডুবে থাকে।
তৃতীয় ব্যক্তি :
তৃতীয় ব্যক্তি জীবনটা পার করে দিচ্ছে স্রষ্টা ও সৃষ্টির ঘৃণা নিয়ে। সে প্রবৃত্তির পূজারী। আত্মার অনুসারী। সে তার কোনো কর্ম দ্বারাই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জন করতে পারে না। এ ব্যক্তি যে চরম ক্ষতিগ্রস্ত-তা সুস্পষ্ট। কেননা, জীবনের প্রতিটি অমূল্য মুহূর্ত সে অযথা নষ্ট করছে। তৃতীয় ব্যক্তি হলো উদাসীন, অলস ও সীমালঙ্ঘনকারী।

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 সালাতের রহস্য

📄 সালাতের রহস্য


সালাতের রহস্য ও মূল হলো আল্লাহর দিকে মনোযোগী হওয়া। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে অন্তরকেও সালাতে যুক্ত করা। যদি কেউ সালাতে অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে, নিজের সাথে নিজে কথা বলে, নানান বিষয়ে চিন্তা করে, তাহলে তার দৃষ্টান্ত হলো ওই অপরাধীর মতো, যে বাদশাহর দরবারে রওনা হয় নিজের অপরাধ মার্জনার জন্য; বাদশাহর দয়া, দান ও করুণার মেঘ হতে সামান্য বর্ষণের আশায়; কিন্তু যখন সে দরবারে পৌঁছে, সে তখন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বাদশাহর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। ডানে তাকায়, বামে তাকায়। অর্থাৎ, বাদশাহ যা অপছন্দ করেন তাতে সে লিপ্ত হয়ে যায়।
বাদশাহ যখন তার এই অবস্থা দেখেন; তার ন্যায় ও ইনসাফের দাবি হলো, এমন ব্যক্তির প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা। কোনো দয়া না দেখানো। তবুও তিনি তার প্রতি দয়া দেখান। অনুগ্রহ করেন; কিন্তু চূড়ান্ত পুরস্কার বিতরণের দিন তিনি ঠিকই এই ব্যক্তি এবং খুশু-খুযুর সাথে সালাত আদায়কারীর মাঝে বড় একটা পার্থক্য করে দেবেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَلِكُلِّ دَرَجَتٌ مِّمَّا عَمِلُوا وَلِيُوَفِّيَهُمْ أَعْمَلَهُمْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
প্রত্যেকের জন্য তাদের কৃতকর্ম অনুযায়ী বিভিন্ন স্তর রয়েছে, যাতে আল্লাহ্ তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেন। বস্তুত তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।
আল্লাহ্ তা'আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার 'ইবাদাতের জন্য। আর অপর সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন মানুষের উপকারের জন্য। হাদীসে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহ্ তা'আলা বলেন-
হে আদম সন্তান, আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি কেবল আমার জন্য। বাকি সব সৃষ্টি করেছি তোমার জন্য। সুতরাং তোমার ওপর আমার কিছু হক রয়েছে। সেসব বস্তু যেন তোমাকে আমার হক থেকে ব্যস্ত করে না রাখে, যা তোমার জন্য সৃষ্টি করেছি।
অন্যত্র আছে-
হে মানবপুত্র, তোমাকে আমার 'ইবাদাতের জন্য বানিয়েছি; অবহেলা করো না। তোমার জীবিকার দায়িত্ব আমি নিয়েছি; পেরেশান হয়ো না। হে আদম-সন্তান, তুমি আমাকে চাও, আমাকে পাবে। যদি তুমি আমাকে পেয়ে যাও, তাহলে সব পেয়ে গেলে। আর যদি আমাকে হারাও, তাহলে সব হারালে। সুতরাং তোমার নিকট তো আমিই সর্বাধিক প্রিয় হওয়ার উপযুক্ত।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সালাতকে এমন একটি মাধ্যম বানিয়েছেন যার দ্বারা বান্দা তাঁর নৈকট্য অর্জন, তাঁর সাথে একান্তে কথা বলা, তাঁর ভালোবাসা, দয়া এবং ঘনিষ্ঠতা উপভোগ করার সুযোগ পায়।

টিকাঃ
৫ সূরা আহকাফ ৪৬ : ১৯

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে বান্দার উদাসীনতা

📄 সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে বান্দার উদাসীনতা


এক সালাত থেকে আরেক সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে কখনো কখনো বান্দা ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় নিজেকে গুনাহের কাজে জড়িয়ে ফেলে। উদাসীনতা, ত্রুটি-বিচ্যুতি তাকে পেয়ে বসে। এভাবে সে তার প্রতিপালকের কাছ থেকে দূরে সরে যায়। নৈকট্যবঞ্চিত হয়। ফলে 'ইবাদাতের সাথে তার দূরত্ব বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সে নিজেকে শাইতানের কাছে ছেড়ে দেয়। আর শাইতান তাকে আটক করে। বেড়ি পরায়। প্রবৃত্তির কারাগারে বন্দি করে রাখে। এতে করে তার অন্তর সংকীর্ণ হয়ে যায়। অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা, আক্ষেপ, মন্দভাব, হীনম্মন্যতা, খারাপলাগা তার ওপর জেঁকে বসে যদিও এগুলোর পেছনের কারণ সম্পর্কে অনেক ক্ষেত্রে সে উপলব্ধিই করতে পারে না। তার প্রতি আল্লাহ্র দয়া এই যে, তিনি তার জন্য বহু শাখাবিশিষ্ট এমন 'ইবাদাতের (সালাত) ব্যবস্থা করেছেন, যার প্রতিটি অংশ হতেই সে তার প্রয়োজন অনুপাতে কল্যাণ, অনুগ্রহ এবং নৈকট্য অর্জন করতে পারে।

📘 খুশূ-খুযূ > 📄 ওযু সম্পর্কে কিছু কথা

📄 ওযু সম্পর্কে কিছু কথা


সালাত আদায়কারী ওযূর মাধ্যমে অপবিত্রতা থেকে নিজেকে পবিত্র করে নেয়। অতঃপর পবিত্র অবস্থায় আল্লাহ্র সামনে দাঁড়ায়।
প্রভাব অনুসারে ওযুর দুটি দিক রয়েছে। একটা প্রকাশ্য, অন্যটি অপ্রকাশ্য।
প্রকাশ্য দিকটি হলো: শারীরিক পবিত্রতা; অঙ্গসমূহ ধৌত করা।
আর অপ্রকাশ্য দিকটি হলো: অন্তরকে গুনাহ ও অন্যা কাজসমূহের অপবিত্রতা থেকে তাওবার মাধ্যমে পবিত্র করার সাথে সংশ্লিষ্ট। আল্লাহ্ তা'আলা উভয় পবিত্রতাকে একসাথে উল্লেখ করেছেন।
إن الله يُحِبُّ الثَّوبِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাওবাকারী এবং পবিত্রতা রক্ষাকারীদের পছন্দ করেন।

টিকাঃ
৬ সূরা বাকারাহ, ২: ২২২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00