📄 তাঁর হাতে-গড়া প্রসিদ্ধ কিছু ছাত্রের নাম
১. আল হাফিয আল মুফাসসির আল মাশহুর, 'ইমাদুদ্দীন ইসমা'ঈল আবুল ফিদা বিন 'উমার বিন কাসীর আশ-শাফে'য়ী। তিনি ইবনু কাসীর নামেই অধিক প্রসিদ্ধ। রাহিমাহুল্লাহ্। (মৃত্যু-৭৭৪ হিজরি)
২. 'আব্দুর রাহমান যাইনুদ্দীন আবুল ফারায ইবনু আহমদ ইবনু 'আবদুর রাহমান। তিনিই বিখ্যাত ইবনু রজব হাম্বলী। রাহিমাহুল্লাহ্। (মৃত্যু-৭৯৫ হিজরি)
৩. মুহাম্মাদ শামসুদ্দিন আবূ 'আব্দিল্লাহ্ বিন আহমাদ বিন 'আব্দুল হাদি। রাহিমাহুল্লাহ্। (মৃত্যু-৭৪৪ হিজরি)
📄 প্রকাশিত গ্রন্থ
তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন। সংকলন করেছেন অনেক বড় বড় কিতাব। তার চিন্তার দূরদর্শিতা এবং জ্ঞানের গভীরতা ফুটে ওঠে তার লিখনীতে। এমনকি যুগযুগ ধরে তা পরবর্তীদের জন্য পাথেয় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। শাইখ জালিল বাকর আবূ যায়দ রাহিমাহুল্লাহ্ ইবনুল কায়্যিম রাহিমাহুল্লাহ্-র গ্রন্থাবলির একটি তালিকা করেছেন, যার সংখ্যা ৯৬ ছাড়িয়ে! তন্মধ্যে প্রকাশিত প্রসিদ্ধ কিছু কিতাবের নাম:
১. যাদুল মা'আদ (চার খণ্ড)
২. তাহযীব সুনানে আবি দাউদ ওয়া ইযাহু মুশকিলাতিহি।
৩. সফরুল হিজরাতাইন।
৪. মারাহিলুস সায়িরীন।
৫. আল কালিমুত তাইয়্যিব।
৬. যাদুল মুসাফিরীন।
৭. নকদিল মানকূল।
৮. ই'লামুল মু'কীয়ীন 'আন রব্বিল 'আলামীন (তিন খণ্ড)।
৯. বাদায়িয়ুল ফাওয়ায়িদ (দুই খণ্ড)।
১০. আস সাওয়ায়িকুল মুরসালা।
১১. হাদীউল আরওয়াহ ইলা বিলাদিল আফরাহ।
১২. নুযহাতুল মুশতাকীন।
১৩. আদ্দাউ ওয়াদ্দাওয়।
১৪. মিফতাহ্র দারিস সা'আদাহ্ (একটি বিশাল গ্রন্থ)।
১৫. গরীবুল উসলুব।
১৬. ইজতিমা'উ জুয়ুশিল ইসলামিয়া।
১৭. কিতাবুত তুরুকিল হিকমাহ্।
১৮. 'ইদ্দাতুস সাবিরীন।
১৯. ইগাসাতুল লাহিফান।
২০. আত তিবয়ান ফী আকসামিল কুর'আন।
২১. কিতাবুর রূহ।
২২. আসসিরাতুল মুসতাকীম।
২৩. আল ফাতহুল কুদসী।
২৪. আততুহফাতুল মাক্কীয়াহ।
২৫. আল ফাতাওয়া, ইত্যাদি।
২৬. জাম 'উল ইফহাম।
২৭. আসরারুস সলাহ।
২৮. রওজাতুল মুহিব্বীন ও নুযহাতুল মুসতাকীন।
২৯. আহকামু আহলিয যিম্মী।
৩০. জালাউল আফহামি ফিসসালাতি ওসসালামু আ'লা খাইরিল আনামী।
৩১. আহকামুল মাউলুদ।
৩২. আল জাওয়াবুল কাফি লিমান সাআলা আন দাওয়া ইশশাফী।
৩৩. হুকমু তারিকিস সালাহ
৩৪. আসসাওয়া'ইকুল মুরসালাতু 'আলাল জাহমিয়্যাতি।
৩৫. আততুরুকুল হিকমিয়্যাহ ফি সিয়াসাতিল ইসলামিয়্যাহ।
৩৬. মিফতাহু দারিস সা'আদাহ।
মুসলিম উম্মাহর এই অতন্দ্র প্রহরী জীবনভর ইসলামের অনেক খেদমত করেছেন। নিজের চিন্তা-চেতনা, বিবেক-বুদ্ধি, জ্ঞান ও 'ইলমের কাছে পরবর্তীদের চির ঋণী করে রেখেছেন। এই দীপ্তিমান প্রদীপটি ষাট বছর বয়সে ৭৫১ হিজরীর ১৩ই রজব বুধবার দিবাগত রাতে 'ঈশার 'আযানের সময় চিরদিনের জন্য নিভে যায়। পরদিন যুহরের সালাতের পর তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়-যা তৎকালীন সর্ববৃহৎ জানাযা। দামেস্কের 'আল বাবুস সগীর' নামক কবরস্থানে পিতার পাশে আজও তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত। আল্লাহ্ তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন। এবং জান্নাতের উঁচু মাকাম নসীব করুন।