📄 সৎ লোকটি মারা গেছেন
আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) রোমানদের হাতে বন্দি মুসলিমদের ফিরত আনতে বন্দি বিনিময় চুক্তির ভিত্তিতে মুসলমানদের কাছে আটটি রোমানবাসীদের আশায়, কিন্তু না, তারা দেখছিলেন স্বয়ং দূত কাঁদছে।
উপস্থিত লোকেরা তাকে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করল।
সে বলল, আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয মারা গেছেন।
এতে উপস্থিত লোকদের মাঝে কান্নার রোল পড়ে গেল। তারা কাঁদতে কাঁদতে মসজিদে প্রবেশ করল। মসজিদে প্রবেশ করার পর সকলের সম্মুখে দূত আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর মৃত্যুর কথা ঘোষণা করল।
সে আরো বলল, আমার ধারণা যদি ঈসা রুহুল্লাহর ন্যায় মৃত্যুর পর পুনরায় কাউকে জীবন দান করা হতো তবে সে হতো ওমর বিন আব্দুল আযীয।
সে আরো বলল, যদি কোনো পুত্তী দুনিয়াদারী ত্যাগ করে দরজা বন্ধ করে সারাটি জীবন ইবাদতে কাটিয়ে দেয় তবে তাকে আমি আশ্চর্য হব না। কিন্তু আশ্চর্য তো ওই লোককে নিয়ে যার পদতলে দুনিয়া এসেছে, কিন্তু তিনি তা ত্যাগ করে ইবাদতে মগ্ন হয়েছেন।
একদিন দিনার বিন মালিককে জনৈক এক ব্যক্তি ডাক দিয়ে বলল, হে দুনিয়াবাদী.........
তখন তিনি লোকটিকে বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি দুনিয়াবাবাদী নই।
দুনিয়াবাবাদী তো হচ্ছেন ওমর বিন আব্দুল আযীয যার পদতলে দুনিয়া এসেছিল, কিন্তু তিনি তা ত্যাগ করেছেন।
📄 মানুষের কান্না
আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দূত যখনই বসরারতে এসে পৌঁছতেন তখন লোকজন আনন্দের তাঁর দিকে দ্রুত ছুটে আসত। কারণ তারা জানত যে, ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দূত কোনো না কোনো সুসংবাদ দিবে অথবা ভালো নির্দেশ দিবে অথবা কোনো খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার উপদেশ দিবে।
এসব নিশ্চয়তার কারণেই তারা দ্রুততার সাথে মসজিদে এসে উপস্থিত হতো এবং দূত আমীরুল মুমিনীন এর চিঠি পাঠ করে শেষ করা পর্যন্ত তারা বসে থাকত।
একইভাবে একদিন দূত এসে উপস্থিত হলো। পূর্বের ন্যায় এবারও তারা ছুটে আসল লোকজনের সুসংবাদের আশায়, কিন্তু না, তারা দেখছিলেন স্বয়ং দূত কাঁদছে।
উপস্থিত লোকেরা তাকে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করল।
সে বলল, আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয মারা গেছেন।
এতে উপস্থিত লোকদের মাঝে কান্নার রোল পড়ে গেল। তারা কাঁদতে কাঁদতে মসজিদে প্রবেশ করল। মসজিদে প্রবেশ করার পর সকলের সম্মুখে দূত আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর মৃত্যুর কথা ঘোষণা করল।