📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 সৎ আমল পরবর্তী বংশদেরকে উপকৃত করে

📄 সৎ আমল পরবর্তী বংশদেরকে উপকৃত করে


একদিন আল মানসুর, আব্দুর রহমান বিন কাসেমকে বললেন, আমাকে কিছু নসিহত করুন।
আব্দুর রহমান বললেন, কি থেকে, যা আমি দেখেছি, নাকি যা কিছু শুনেছি?
মানসুর বললেন, আপনি যা দেখেছেন, তা থেকে নসিহত করুন।
আব্দুর রহমান বললেন, ওমরের মৃত্যুর সময় আমি তার কাছে উপস্থিত ছিলাম। তিনি মাত্র এগারোটি ছেলে রেখে মারা গেছেন। তার পরিত্যক্ত সম্পদ ছিল মাত্র সতেরো দিনার।
এর মধ্যে দুই দিনার দিয়ে তাঁর দাফনের জন্যি জায়াগ্রা ক্রয় করা হয়েছে। আর পাঁচ দিনার দিয়ে তাঁর কাফনের কাপড় কেনা হয়েছে। বাকি দশ দিনার তাঁর সন্তানদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যেকে মাত্র উনিশ দিরহাম করে ভাগে পেয়েছে।
একইভাবে হিশামের মৃত্যুর সময়ও আমি ছিলাম। তিনি এগারোটি সন্তান রেখে মারা গেছেন। তাঁর সন্তানরা প্রত্যেকে দশ লাখ করে পেয়েছে।
কিন্তু পরে আমি দেখেছি ওমরের মৃত্যুর পর তাঁর এক ছেলে একশত ঘোড়া বোঝাই করে জিহাদে যাচ্ছে।
কিন্তু হিশামের এক সন্তানকে আমি দেখলাম সে লোকদের মাঝে ভিক্ষা করছে।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 সে আল্লাহকে ধোঁকা দিয়েছে আল্লাহ তাকে তেমন করবেন

📄 সে আল্লাহকে ধোঁকা দিয়েছে আল্লাহ তাকে তেমন করবেন


আল ওয়ালিদ বিন হিশাম শোক দেখানোর জন্য কাজ করত। একবার সে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-কে ধোঁকা দেওয়ার জন্য লিখল জানাল- আমার জন্য মাসিক যে ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা আমার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি। আমীরুল মুমিনীন যদি মনে করেন কমিয়ে দিবেন তাহলে যেন দেন।
চিঠিটি পড়ে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) উপস্থিত লোকজনকে বলল, ওয়ালিদ আমাদের কাছে তার এমন ভালোগুণ তুলে ধরতে চাইল যা আমরা তার ব্যাপারে খারাপ করি না। যদি আমি কোনো ব্যক্তিকে আমার ধারণা অনুযায়ী অপসারণ করতাম তাহলে তাকেই প্রথম করতাম।
তারপর তিনি তার বেতন-ভাতা কমিয়ে দিতে নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি তাঁর পরবর্তী নির্বাচিত খলিফা ইয়াজিদ বিন আব্দুল মালিকের কাছে লিখে জানালেন, ওয়ালিদ বিন হিশাম আমার কাছে চিঠি লিখে তাঁর সম্পর্কে এমন কিছু গুণাগুণ উল্লেখ করল যা আমরা তার ব্যাপারে কখনো খারাপ করি না। যদি আমি তার ধারণা মতো কোনো পদক্ষেপ নিই তাহলে সে আমার জন্য কাজ করবে না, কিন্তু আমি বহিষ্কারের ওপর ভিত্তি করেই পদক্ষেপ নিব আর অদৃশ্যের ব্যাপারে আল্লাহ ভালো জানেন...।
আমি তোমাকে শপথ করে বলছি, আমাকে যদি কোনো ঘটনা ঘটে আর এ বিষয় সে তোমার কাছে পেশ করে এবং তোমার কাছে বেতন ভাতা বাড়িয়ে দিতে আহবান করে আর অভিযোগ করে আমিই তার বেতন ভাতা কমিয়ে দিয়েছি। তবে তোমাকে বিষয়টি যেন ধোঁকা না দেয়। কেননা সে আল্লাহর কাছে ধোঁকা দিয়েছে আর আল্লাহ তাকে পাকড়াও করতে কৌশল অবলম্বন করবেন।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর মৃত্যুর পর ইয়াজিদ বিন আব্দুল মালিক খলিফা নিযুক্ত হলে কপট ওয়ালিদ তার কাছে চিঠি লিখে বলল, ওমর আমার বেতন ভাতা কমিয়ে দিয়ে আমার ওপর জুলুম করেছে।
তার চিঠি পড়ে ইয়াজিদ রেগে গিয়ে তার শোক পাঠিয়ে তার পদ, বেতন ভাতা আরো যা কিছু সে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর সময় লাভ করেছে সব কিছু ছিনিয়ে নিয়েছে।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 বন্দি ও রোমের বাদশাহ

📄 বন্দি ও রোমের বাদশাহ


একবার ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) রোমের বাদশাহর কাছে একজন দূত প্রেরণ করলেন। লোকটি বাদশাহর সাথে কথা সেরে বের হওয়ার সময় দেখল এক লোক বসে কোরআন তেলাওয়াত করছে আর হাত বীজ ছূঁয়ে ধরছে। আগত দূত লোকটিকে ছূঁই তিনবার সালাম দিল, কিন্তু তবুও লোকটি কোনো উত্তর দিল না। এবার লোকটি বলল, এ শহরে সালাম দিবে কে?
দূত লোকটিকে বলল, আমি আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীযের দূত রোমের বাদশাহ কাছে দেখা করতে এসেছি।
সে তাকে বলল, তুমি কি অবস্থা?
লোকটি বলল, আমি অমুক জায়গায় থেকে বন্দি হয়েছি। আমাকে রোম সম্রাটের দরবারে নিয়ে আসা হলে সে আমাকে স্ত্রীর ধর্ম গ্রহণ করতে বলে। আমি তা গ্রহণে অস্বীকার করি।
সে আমাকে বলল, যদি তুমি তা না কর তাহলে তোমার চোখ উপড়ে ফেলা হবে। তখন আমি চোখের পরিবর্তে ইসলামকেই প্রাধান্য দিয়েছি। পরে সে আমার দু চোখ উপড়ে ফেলে। তারা প্রতিদিন আমার কাছে গম পাঠায় সেগুলো আমি চূর্ণ করি আর আমার খাওয়ার জন্য একটি রুটি পাঁটায় সেট খাই।
দূত দেশে ফিরে আসার পর ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে লোকটির কথা বর্ণনা করে। তিনি এ করুণ কাহিনী শুনে দু চোখের পানিতে তার বুক ভেসে গেল।
তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) রোমের বাদশার কাছে লিখলেন...
পরকথা, অমুকের ছেলে অমুকের কথা আমি জানতে পেরেছি। আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, হয়তো তুমি তাকে ফিরত পাঠাবে নতুবা আমি তোমার বিরুদ্ধে এত পরিমাণ সৈন্য পাঠাব যা অগ্রভাগ থেকে তোমার কাছে আর শেষভাগ থাকবে আমার কাছে।
এরপর একজন দূত চিঠি নিয়ে রোম সম্রাটের দরবারে পৌঁছে গেলেন। সম্রাট চিঠিটা পড়ে বলল, আমরা একজন সৎ লোকের সাথে যুদ্ধ করতে চাই না; বরং একে পাঠিয়ে দিব।
বন্দি যেখানে অবস্থান করছিল তার অপেক্ষায় ওই দূত সেখানে অবস্থান করছিল। এরই মধ্যে একদল দিনারবাহী দূতেরা ডাক পড়ে। সে এসে দেখল রোমের সম্রাট সিংহাসন ছেড়ে জমিনের ওপর বসে আছে।
সম্রাট দূতকে লক্ষ্য করে বলল, তুমি কি বলতে পার আমি এমনটি কেন করেছি।
দূত বলল, না।
সম্রাট বলল, আমি বিভিন্ন দিক থেকে সংবাদ পেয়েছি সে সৎ লোক মারা গেছেন।
এ কথা শুনে দূত বন্দিকে ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে হতাশ হয়ে পড়লেন। তাই সে রোম সম্রাটকে বলল, আপনি কি আমাকে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছেন?
রোম সম্রাট দূতের চেহারায় হতাশার ভাব দেখে বলল, আমরা তো এমন নই যে, জীবিত অবস্থায় তাঁর কথা মেনে নেব আর তাঁর মৃত্যুর পর তা ভঙ্গ করব।
অতঃপর দূতকে সাথে বন্দিকে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 সৎ লোকটি মারা গেছেন

📄 সৎ লোকটি মারা গেছেন


আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) রোমানদের হাতে বন্দি মুসলিমদের ফিরত আনতে বন্দি বিনিময় চুক্তির ভিত্তিতে মুসলমানদের কাছে আটটি রোমানবাসীদের আশায়, কিন্তু না, তারা দেখছিলেন স্বয়ং দূত কাঁদছে।
উপস্থিত লোকেরা তাকে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করল।
সে বলল, আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয মারা গেছেন।
এতে উপস্থিত লোকদের মাঝে কান্নার রোল পড়ে গেল। তারা কাঁদতে কাঁদতে মসজিদে প্রবেশ করল। মসজিদে প্রবেশ করার পর সকলের সম্মুখে দূত আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর মৃত্যুর কথা ঘোষণা করল।
সে আরো বলল, আমার ধারণা যদি ঈসা রুহুল্লাহর ন্যায় মৃত্যুর পর পুনরায় কাউকে জীবন দান করা হতো তবে সে হতো ওমর বিন আব্দুল আযীয।
সে আরো বলল, যদি কোনো পুত্তী দুনিয়াদারী ত্যাগ করে দরজা বন্ধ করে সারাটি জীবন ইবাদতে কাটিয়ে দেয় তবে তাকে আমি আশ্চর্য হব না। কিন্তু আশ্চর্য তো ওই লোককে নিয়ে যার পদতলে দুনিয়া এসেছে, কিন্তু তিনি তা ত্যাগ করে ইবাদতে মগ্ন হয়েছেন।
একদিন দিনার বিন মালিককে জনৈক এক ব্যক্তি ডাক দিয়ে বলল, হে দুনিয়াবাদী.........
তখন তিনি লোকটিকে বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি দুনিয়াবাবাদী নই।
দুনিয়াবাবাদী তো হচ্ছেন ওমর বিন আব্দুল আযীয যার পদতলে দুনিয়া এসেছিল, কিন্তু তিনি তা ত্যাগ করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00