📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ওমরের চিঠি অগ্রাহ্য হবে না

📄 ওমরের চিঠি অগ্রাহ্য হবে না


একদিন জীর্ণ-মলিন বস্ত্র পরিহিতা এক ইরাকী মহিলা আমীরুল মুমিনিন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দরবারে এসে উপস্থিত হলো। মহিলাটির চেহারায় দারিদ্রতার ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
মহিলাটি ঘরের দরজায় এসে জিজ্ঞেস করল, আমীরুল মুমিনিনের ঘরে কোনো পাহারাদার আছে?
ঘরে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর স্ত্রী ফাতেমা ছিলেন। মহিলাটি তাঁকে সালাম দিল। তিনি সালামের উত্তর দিয়ে তাকে আসার অনুমতি দিলেন।
মহিলাটি বসার পর চারদিকে তাকিয়ে ঘরে কোনো মূল্যবান আসবাবপত্র দেখল না।
ঘরের এ অবস্থা দেখে সে বলল, আমার ঘর রাতে আমি এ শূন্য ঘরে আসলাম! তখন ফাতেমা বললেন, তোমার ঘরের বস্তুর চেয়েও তোমার ঘর তৈরি হয়েছে এ ঘরটি শূন্য হয়েছে।
কিছুক্ষণ পর ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বাড়িতে এসে বালতি দিয়ে কূপ থেকে পানি উঠিয়ে তা ঘরের সামনের তুলসী বাগানে ঢাললেন। তখন তিনি বার বার ফাতেমার দিকে তাকাচ্ছিলেন।
মহিলাটি ফাতেমাকে বলল, এ শ্রমিক লোকটি তোমার দিকে বার বার তাকাচ্ছে, একটু আড়ালে এসে বস।
ফাতেমা বললেন, ইনি শ্রমিক না, ইনিই স্বয়ং আমীরুল মুমিনিন।
কিছুক্ষণ পর তিনি ফিরে এসে সালাম দিলেন। তারপর মেঝেতে ঢুকে নামায আদায় করলেন। তারপর তিনি একটি বাতি নিলেন যে বাড়িতে তাঁর জন্য অদ্ভুত রাখা ছিল। তিনি সে আদ্রুলো থেকে ভালো ভালো মহিলাটির জন্য রেখে নিজে নিভে ফেললেন।
এরপর তিনি মহিলাটির কাছে এসে বললেন, আপনার কি প্রয়োজন?
সে বলল, আমি এক ইরাকী মহিলা, আমার পাঁচটি অচল মেয়ে আছে। আর তাই আমি তাদের ব্যাপারে আমি আপনার সুপারিশ কামনা করছি। অচল বলতে অসুস্থ ও আকর্ষণীয় হীন যার কারণে বিয়ে হচ্ছেনা।
মহিলাটির কথা শুনে তিনি কাগজ ও কালি নিয়ে ইরাকের গভর্নরএর কাছে লিখে পাঠালেন সে যেন মহিলাটির জন্য ভাতা নির্দিষ্ট করে দেয়।
মহিলাটি চিঠিটা নিয়ে ইরাকের গভর্নরএর কাছে উপস্থিত হলেন।
ইরাকের গভর্নর চিঠিটা দেখে কেঁদে ফেললেন। ধীরে ধীরে তাঁর কান্নার আওয়াজ বাড়তে লাগল।
তিনি আকাঙ্ক্ষার সাথে বললেন, আল্লাহ্ এ চিঠির লেখককে রহম করুক।
মহিলাটি বলল, তিনি কি মারা গেছে?
সে বলল, হ্যাঁ।
এ কথা শুনে মহিলাটি মৃত খলিফার নির্দেশ কার্যকর হবে না ভেবে আহাজারি শুরু করল।
তখন গভর্নর বললেন, তোমার কোনো সমস্যা নেই, আমি তাঁর আদেশকে অগ্রাহ্য করব না।
এরপর মহিলাটির প্রয়োজন মিটিয়ে দিল এবং তাঁর মেয়েদের জন্য ভাতা নির্ধারণ করে দিল।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ওমর (রহ)-এর প্রতি অভিযোগ

📄 ওমর (রহ)-এর প্রতি অভিযোগ


ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর মৃত্যুর পর মুসলিম জাহানের খলিফা হিসেবে ইয়াজিদ বিন আব্দুল মালিক নিযুক্ত হলেন।
একদিন ইয়াজিদের ভাতিজা ওমর বিন ওয়ালিদ এসে তার কাছে অভিযোগ করল, আমীরুল মুমিনিন! আপনার পূর্বের খলিফা যিনি গতকাল মারা গেছেন (ওমর বিন আব্দুল আযীয) তিনি তো মাখজুমিয়া যা পেয়েছেন সে সব কবজা করে নিয়ে রেখেছেন।
ইয়াজিদ ওমর বিন ওয়ালিদকে কথা শুনতে ইয়াজিদ নিজের বোন ফাতেমা যিনি ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর স্ত্রী, তাঁর কাছে লোক পাঠিয়ে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন।
তখন তিনি বললেন, আল্লাহ্র শপথ! ভাই, ওমর তো এ রুমাল ব্যতীত অন্য কোনো কাপড়ও রেখে যায়নি।
ইয়াজিদ তা খুলে দেখলেন তাতে শুধু পুরাতন একটি চাদর আর ধূলায় মলিন একটি জামা।
এসব দেখে ইয়াজিদ বলল, আমি তো তোমাকে এগুলোর কথা বলিনি; বরং তালাবক্বও এই ঘরের কথা জিগেস করেছি।
ফাতেমা বললেন, আল্লাহ্র শপথ! ওমর খলিফা নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে আমরা সে ঘরে একটি বাক্সও প্রবেশ করাইনি। কেননা সে এটি অপছন্দ করত। এই ঘর, সে ঘরের চাবি, দেশ থেকে কী আছে। যদি তাতে তোমার কোনো প্রাপ্য থেকে থাকে তাহলে তা বায়তুল মালে নিয়ে যেও।
ইয়াজিদ চাবিগুলো নিয়ে সে ঘরের সামনে আসল। তার সাথে অন্যান্য মানুষও আসল।
সে চাবি দিয়ে ঘরের তালা খুলল। তারপর তারা দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে দেখল, তাতে একটি তেষড়া, ছোট একটি পানির পাত্র ও ছোটখাট সামান্য লিন্ট্রিস বার ব্যতীত আর কিছুই পেল না।
ইয়াজিদ কোনো কিছু না পেয়ে বলল, أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ আমি আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
এরপর দ্বিতীয় ঘর খুলতে ভেতরে প্রবেশ করে দেখলেন মাটিতে একটি জায়নামায বিছানো, তার উপরে ছাদের সাথে একটি শিকল বাঁধা আর অত্যন্ত ফাঁসের মতো করে সেঁত। নামাযের সময় বিষুণ আসলে ওমর তার মাঝ ও ফাঁসের ভেতরে ঢুকাতেন যাতে বিষুণ দূর হয়ে যায়।
তারা আরো দেখলেন সেখানে তালাযুক্ত একটি বাক্স পড়ে আছে। বাক্সটি খুলে দেখতে পেল তাতে পুরাতন একটি জামা পড়ে আছে।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর এসব জিনিসপত্র দেখে ইয়াজিদ কেঁদে ফেলল। তার সাথে অন্যান্য মানুষও কেঁদে ফেললেন। পরে তারা ওমর বিন আব্দুল আযীযের ব্যাপারে খারাপ খারাপ কারণে ওমর বিন ওয়ালিদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইল।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 সৎ আমল পরবর্তী বংশদেরকে উপকৃত করে

📄 সৎ আমল পরবর্তী বংশদেরকে উপকৃত করে


একদিন আল মানসুর, আব্দুর রহমান বিন কাসেমকে বললেন, আমাকে কিছু নসিহত করুন।
আব্দুর রহমান বললেন, কি থেকে, যা আমি দেখেছি, নাকি যা কিছু শুনেছি?
মানসুর বললেন, আপনি যা দেখেছেন, তা থেকে নসিহত করুন।
আব্দুর রহমান বললেন, ওমরের মৃত্যুর সময় আমি তার কাছে উপস্থিত ছিলাম। তিনি মাত্র এগারোটি ছেলে রেখে মারা গেছেন। তার পরিত্যক্ত সম্পদ ছিল মাত্র সতেরো দিনার।
এর মধ্যে দুই দিনার দিয়ে তাঁর দাফনের জন্যি জায়াগ্রা ক্রয় করা হয়েছে। আর পাঁচ দিনার দিয়ে তাঁর কাফনের কাপড় কেনা হয়েছে। বাকি দশ দিনার তাঁর সন্তানদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যেকে মাত্র উনিশ দিরহাম করে ভাগে পেয়েছে।
একইভাবে হিশামের মৃত্যুর সময়ও আমি ছিলাম। তিনি এগারোটি সন্তান রেখে মারা গেছেন। তাঁর সন্তানরা প্রত্যেকে দশ লাখ করে পেয়েছে।
কিন্তু পরে আমি দেখেছি ওমরের মৃত্যুর পর তাঁর এক ছেলে একশত ঘোড়া বোঝাই করে জিহাদে যাচ্ছে।
কিন্তু হিশামের এক সন্তানকে আমি দেখলাম সে লোকদের মাঝে ভিক্ষা করছে।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 সে আল্লাহকে ধোঁকা দিয়েছে আল্লাহ তাকে তেমন করবেন

📄 সে আল্লাহকে ধোঁকা দিয়েছে আল্লাহ তাকে তেমন করবেন


আল ওয়ালিদ বিন হিশাম শোক দেখানোর জন্য কাজ করত। একবার সে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-কে ধোঁকা দেওয়ার জন্য লিখল জানাল- আমার জন্য মাসিক যে ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা আমার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি। আমীরুল মুমিনীন যদি মনে করেন কমিয়ে দিবেন তাহলে যেন দেন।
চিঠিটি পড়ে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) উপস্থিত লোকজনকে বলল, ওয়ালিদ আমাদের কাছে তার এমন ভালোগুণ তুলে ধরতে চাইল যা আমরা তার ব্যাপারে খারাপ করি না। যদি আমি কোনো ব্যক্তিকে আমার ধারণা অনুযায়ী অপসারণ করতাম তাহলে তাকেই প্রথম করতাম।
তারপর তিনি তার বেতন-ভাতা কমিয়ে দিতে নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি তাঁর পরবর্তী নির্বাচিত খলিফা ইয়াজিদ বিন আব্দুল মালিকের কাছে লিখে জানালেন, ওয়ালিদ বিন হিশাম আমার কাছে চিঠি লিখে তাঁর সম্পর্কে এমন কিছু গুণাগুণ উল্লেখ করল যা আমরা তার ব্যাপারে কখনো খারাপ করি না। যদি আমি তার ধারণা মতো কোনো পদক্ষেপ নিই তাহলে সে আমার জন্য কাজ করবে না, কিন্তু আমি বহিষ্কারের ওপর ভিত্তি করেই পদক্ষেপ নিব আর অদৃশ্যের ব্যাপারে আল্লাহ ভালো জানেন...।
আমি তোমাকে শপথ করে বলছি, আমাকে যদি কোনো ঘটনা ঘটে আর এ বিষয় সে তোমার কাছে পেশ করে এবং তোমার কাছে বেতন ভাতা বাড়িয়ে দিতে আহবান করে আর অভিযোগ করে আমিই তার বেতন ভাতা কমিয়ে দিয়েছি। তবে তোমাকে বিষয়টি যেন ধোঁকা না দেয়। কেননা সে আল্লাহর কাছে ধোঁকা দিয়েছে আর আল্লাহ তাকে পাকড়াও করতে কৌশল অবলম্বন করবেন।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর মৃত্যুর পর ইয়াজিদ বিন আব্দুল মালিক খলিফা নিযুক্ত হলে কপট ওয়ালিদ তার কাছে চিঠি লিখে বলল, ওমর আমার বেতন ভাতা কমিয়ে দিয়ে আমার ওপর জুলুম করেছে।
তার চিঠি পড়ে ইয়াজিদ রেগে গিয়ে তার শোক পাঠিয়ে তার পদ, বেতন ভাতা আরো যা কিছু সে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর সময় লাভ করেছে সব কিছু ছিনিয়ে নিয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00