📄 সন্তানদেরকে গরিব অবস্থায় রেখে গেলেন
হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) মৃত্যুমুখে শায়িত অবস্থায় তাঁকে মুসাল্লামা বিন আব্দুল মালিক দেখতে আসে।
সে তাকে খুব তিক্তভাবে বলল, আমীরুল মুমিনিন! আপনি তো আপনার সন্তানদেরকে এ সম্পদ থেকে বঞ্চিত করে যাচ্ছেন এবং তাদেরকে দারিদ্রতার মাঝে ছেড়ে যাচ্ছেন। যদি আপনি তাদের জন্য আমার কাছে ওসিয়ত করতেন।
তিনি খুব ক্ষীণকণ্ঠে বললেন, আমাকে শোয়ানো থেকে বসাও।
তারপর তিনি বললেন, তুমি কি বলেছ আমি তাদেরকে গরিব করে যাচ্ছি, আল্লাহর শপথ! তাদের প্রাপ্য কোনো অধিকার থেকে আমি তাদেরকে বঞ্চিত করছি না। আর তারা যা পাবে না তা তো আমি তাদেরকে দিতে পারি না।
আর তোমার কথা, আমি যেন তাদের জন্যে তোমার কাছে ওসিয়ত করে যাই। আমি আল্লাহকে তাদের অভিভাবক ও তাদের জন্যে ওসিয়ত করে যাচ্ছি, যিনি কোরআন নাজিল করেছেন এবং তিনিই সৎকর্মশীলদের অভিভাবক।
আমার সন্তানেরা তো দুটি পথের একটি পথ গ্রহণ করবে। হয় তারা মুত্তাক্বী পরহেজগার হবে। তখন আল্লাহই তাদের জীবন জীবিকার ব্যবস্থা করে দিবেন অথবা তারা অবাধ্য পতিত হবে আর আমি চাই না আল্লাহ্র অবাধ্য তাদেরেক সহযোগিতা করি।
তারপর তিনি তার ছেলেদেরকে ডাকলেন। তাদের সংখ্যা দশজন থেকে বেশি ছিল। তারা আসলে তিনি তাদের দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ছেড়ে দিলেন।
তিনি বললেন, আমার সন্তানেরা! তোমাদের বাবা এখন দুটি সিদ্ধান্তের মাঝে, হয় সে তোমাদেরকে ধনী বানিয়ে যাবে আর নিজে জাহান্নামে প্রবেশ করবে অথবা সে তোমাদেরকে দরিদ্রতার মাঝে ছেড়ে যাবে আর নিজে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তোমাদেরকে ধনী বানিয়ে গিয়ে জাহান্নামে যাওয়া থেকে তোমাদেরকে দারিদ্রতার মাঝে ছেড়ে গিয়ে জান্নাতে যাওয়াই তার কাছে অধিক প্রিয়।
যাও,........ আল্লাহই তোমাদের জন্য যথেষ্ট।
📄 আমীরের চেহারা কিবলামুখী
আমীরুল মুমিনিন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) মৃত্যুমুখে শায়িত অবস্থায় দু' চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছেন। তাঁর মুখও অতি নিকট চলে এসেছে।
তখন তিনি ক্ষীণ স্বরে রাজা বিন হাইয়ানকে বললেন, আমার মৃত্যুর পর তোমরা যখন আমাকে গোসল দিবে, কাফন পরিয়ে কবরে রাখবে তখন যদি দেখ আমার চেহারা কেবলামুখ হবে তোমরা আল্লাহ্র প্রশংসা করবে। আর যদি দেখ আমার চেহারা অন্যদিকে ঘুরে গেছে তবে তুমি কবরে কাছে অবস্থানরত লোকদের কাছে গিয়ে বলবে, তারা যতক্ষণ আমার কবরের পাশে থাকবে ততক্ষণ যেন আমার জন্য আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে।
রাজা বলেন, তাকে কবরে রাখার পর আমি লক্ষ্য করে দেখেছি তাঁর চেহারা উজ্জ্বল চাঁদের মতো কিবলার দিকে ফিরে আছে।
📄 ওমর যা করেছে তা আমরা স্বীকৃতি দিয়েছি
আমীরুল মুমিনিন হিশাম বিন আব্দুল মালিক তখন ওয়ালিদের কাছে অভিযোগ করে বলল, আমীরুল মুমিনিন আপনার পিতা আমার দাদাকে একখণ্ড জমি দান করেছিলেন। ওয়ালিদ এবং সুলাইমান তা বহাল রেখেছিলেন, কিন্তু ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খিলাফতে বসার পর তা নিয়ে গেলেন।
হিশাম বললেন, তুমি যা বলেছ তা আবার বল।
লোকটি আবার বলল, আমীরুল মুমিনিন আপনার পিতা আমার দাদাকে একখণ্ড জমি দান করেছিলেন। ওয়ালিদ এবং সুলাইমান তা বহাল রেখেছিলেন, কিন্তু ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খিলাফতে বসার পর তা নিয়ে গেলেন।
হিশাম বিস্ময় কণ্ঠে বললেন, তুমি অদ্ভুত লোক! যে তোমাকে জমি দিলেন এবং যারা তা বহাল রেখেছেন তাদের জন্য একটি বার রহমত কামনা করনি (অর্থাৎ রহ. বলনি) অথচ যে জমি বাজেয়াপ্ত করল তার জন্য রহমত কামনা করছ।
ওমর যা করেছে তা আমরা স্বীকৃতি দিয়ে ফেলেছি।
📄 ওমর (রহ) মারা গেছেন, বাঘ হিংস্র হয়ে গেছে
এক দুপুরে একটি গোলাম তাঁর মনিবের দৌড় দিয়ে এসে অবাক হয়ে বলতে লাগল, বাঘ এসে আমাদের ছাগলের ছানা শিকার করে নিয়ে গেছে একই দিনে দুপুরে।
গোলামের কথা শুনে মনিব নিজ বুকে হাত চিৎকার দিয়ে আফসোস করতে লাগল।
তখন কেউ একজন তাকে বলল, সুবহানাল্লাহ! দুই দিরহামের একটি ছাগলছানার জন্য আপনি এত আফসোস করছেন?
তিনি বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি এ ছাগলের ছানার জন্য আফসোস করছিনি। নিশ্চয়ই ওমর বিন আব্দুল আযীয মৃত্যুবরণ করেছেন। কেননা ওমরের জীবিত থাকা অবস্থায় বাঘের এত সাহস হতে পারে না।
এরপর তারা অপেক্ষা করতে লাগল আর এই মধ্যে সংবাদ এল ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) মারা গেছেন।
মূসা বিন আ'য়ান বলেন, ওমর বিন আব্দুল আযীযের সময়কালে আমরা এমন একটি বাগানে ছাগল চরাতাম যেখানে বাঘেরও চলাফেরা ছিল, কিন্তু বাঘ ছাগল আক্রমণ করত না। হঠাৎ এক রাতে বাঘ ছাগল আক্রমণ করে বসল।
তখন আমি বলেছি, মনে হয় আল্লাহ্র নেক বান্দা দুনিয়া থেকে চলে গেছেন! এভাবেই তাদের দিন অতিবাহিত হতে লাগল। এরই মধ্যে একদিন সংবাদ এল আমীরুল মুমিনিন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) মারা গেছেন।