📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) ও ইহুদি

📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) ও ইহুদি


একদিন ওয়ালিদ বিন হিসামের সাথে এক ইহুদির সাক্ষাৎ হলো। ইহুদি লোকটি তাকে বলল, ওমর কিছুদিনের মধ্যে খিলাফতের দায়িত্ব পাবে এবং সে তাতে ন্যায়বিচার বাস্তবায়ন করবে। ওয়ালিদ বললেন, পরে আমি ওমর বিন আব্দুল আযীযের সাথে দেখা করে তাকে এ বিষয় জানালাম। ওমর বিন আব্দুল আযীয খিলাফতের দায়িত্ব পাওয়ার অনেক দিন পরে ইহুদি লোকটি আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বলল, আমি বলিনি ওমর এ দায়িত্ব পাবে, আর কথাগুলোই তো হলো না?

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 রাসূল সা.-এর পাশে দাফনের ইশারা

📄 রাসূল সা.-এর পাশে দাফনের ইশারা


আমি বললাম, হ্যাঁ।
এরপর সে বলল, এখন এ লোকটিকে বিষ পান করানো হবে; সুতরাং তাকে সাবধান থাকতে বলবে।
ওয়ালিদ এ কথা শুনে দ্রুত ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে গেলেন। তিনি তাকে ইহদির এ কথাটি জানালেন।
তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, হে আল্লাহ! সে কীভাবে জানল? আল্লাহর শপথ! আমি জেনেছি যখন আমাকে বিষ পান করানো হয়েছে। যদি এমন হয় যে, আমি আমার হাত দ্বারা কান স্পর্শ করলেই আরোগ্য হয়ে যাব তবে আমি হাত কান পন করব না। অথবা আমার নাক পর্যন্ত হাত নিলেও আমি সুস্থ হয়ে যাব তবে আমি হাত নাক পর্যন্ত নিব না।
একদিন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দরবারে কয়েকজন বিজ্ঞ আলেম বসে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাদের কাছে বসে অত্যন্ত মনোযোগের সাথে তাদের কথাগুলো শুনছিলেন। কথা প্রসঙ্গে তারা বলতে লাগলেন, রাসূল ﷺ-এর কবরের পাশে একটি কবরের জায়গা খালি রয়েছে। তারা সে জায়গাটি তাঁর জন্যে পেশ করলেন।
তারা বললেন, আপনি যদি মদিনার কাছে থাকতেন।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাদের কথা বুঝতে পারলেন। তখন অশ্রু প্রবাহিত চোখে বললেন, জাহান্নাম ব্যতীত আল্লাহ আমাকে যেকোনো শাস্তি দিয়েও যদি ওই কবরের অধিবাসী বানাতে তবে তাই আমি পছন্দ করি।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমীরুল মুমিনীবের জামা

📄 আমীরুল মুমিনীবের জামা


তখন আমীরুল মুমিনিন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) জীবনের শেষ দিকে মৃত্যুমুখে শায়িত ছিলেন, তাকে দেখতে মুসাল্লামা বিন আব্দুল মালিক আসে। সে এসে দেখল তাঁর গায়ের জামাটি ময়লাযুক্ত।
সে ফাতেমাকে বলল, ফাতেমা! আমীরুল মুমিনিনের জামাটি ধুয়ে দিও।
ফাতেমা বললেন, আল্লাহ চাইলে আমরা করব।
পরে আবার মুসাল্লামা তাকে দেখতে এসে তাঁর গায়ে ময়লাযুক্ত জামা দেখে ফাতেমাকে ধমক দিয়ে বলল, আমি কি তোমাকে বলিনি আমীরুল মুমিনিনের জামা ধুয়ে দিতে? কেননা মানুষতো তাকে দেখতে আসবে।
ফাতেমা বললেন, আল্লাহর শপথ! তাঁর এ জামা ব্যতীত আর কোনো জামা নেই।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 সন্তানদেরকে গরিব অবস্থায় রেখে গেলেন

📄 সন্তানদেরকে গরিব অবস্থায় রেখে গেলেন


হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) মৃত্যুমুখে শায়িত অবস্থায় তাঁকে মুসাল্লামা বিন আব্দুল মালিক দেখতে আসে।
সে তাকে খুব তিক্তভাবে বলল, আমীরুল মুমিনিন! আপনি তো আপনার সন্তানদেরকে এ সম্পদ থেকে বঞ্চিত করে যাচ্ছেন এবং তাদেরকে দারিদ্রতার মাঝে ছেড়ে যাচ্ছেন। যদি আপনি তাদের জন্য আমার কাছে ওসিয়ত করতেন।
তিনি খুব ক্ষীণকণ্ঠে বললেন, আমাকে শোয়ানো থেকে বসাও।
তারপর তিনি বললেন, তুমি কি বলেছ আমি তাদেরকে গরিব করে যাচ্ছি, আল্লাহর শপথ! তাদের প্রাপ্য কোনো অধিকার থেকে আমি তাদেরকে বঞ্চিত করছি না। আর তারা যা পাবে না তা তো আমি তাদেরকে দিতে পারি না।
আর তোমার কথা, আমি যেন তাদের জন্যে তোমার কাছে ওসিয়ত করে যাই। আমি আল্লাহকে তাদের অভিভাবক ও তাদের জন্যে ওসিয়ত করে যাচ্ছি, যিনি কোরআন নাজিল করেছেন এবং তিনিই সৎকর্মশীলদের অভিভাবক।
আমার সন্তানেরা তো দুটি পথের একটি পথ গ্রহণ করবে। হয় তারা মুত্তাক্বী পরহেজগার হবে। তখন আল্লাহই তাদের জীবন জীবিকার ব্যবস্থা করে দিবেন অথবা তারা অবাধ্য পতিত হবে আর আমি চাই না আল্লাহ্র অবাধ্য তাদেরেক সহযোগিতা করি।
তারপর তিনি তার ছেলেদেরকে ডাকলেন। তাদের সংখ্যা দশজন থেকে বেশি ছিল। তারা আসলে তিনি তাদের দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ছেড়ে দিলেন।
তিনি বললেন, আমার সন্তানেরা! তোমাদের বাবা এখন দুটি সিদ্ধান্তের মাঝে, হয় সে তোমাদেরকে ধনী বানিয়ে যাবে আর নিজে জাহান্নামে প্রবেশ করবে অথবা সে তোমাদেরকে দরিদ্রতার মাঝে ছেড়ে যাবে আর নিজে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তোমাদেরকে ধনী বানিয়ে গিয়ে জাহান্নামে যাওয়া থেকে তোমাদেরকে দারিদ্রতার মাঝে ছেড়ে গিয়ে জান্নাতে যাওয়াই তার কাছে অধিক প্রিয়।
যাও,........ আল্লাহই তোমাদের জন্য যথেষ্ট।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00