📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 মৃত্যুর প্রতি ভালোবাসা

📄 মৃত্যুর প্রতি ভালোবাসা


ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তীব্র জ্বরের কারণে তীব্র ব্যথা অনুভব করতেন। তিনি মৃত্যুশয্যায় শুয়ে ছিলেন। তখন ডাক্তার এসে বলল, যে বিন করিয়েছ তাকে আমি দেখেছি তার অবস্থা শোচনীয়। সে মৃত্যু থেকে বাঁচতে পারবে না। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) চোখ খুলে বললেন, যাক বিষ পান করানো হয়নি সেও মৃত্যু থেকে বাঁচতে পারবে না। ডাক্তার বললেন, আপনি তা অনুভব করছেন, আমার তো ভয় হচ্ছিল আপনার কর ছড়ে যাবে। তিনি বললেন, আল্লাহ হচ্ছেন উত্তম প্রত্যাবর্তনর জায়গা। আল্লাহর শপথ! যদি আমি জানি আমার কালের প্রতি স্পর্শ করলে আমি ভালো হয়ে যাব তবে আমি আমার হাতকে কান পর্যন্ত উঠাব না। হে আল্লাহ! ওমরকে তোমার সাক্ষাতে নিয়ে যাও। এর কয়েক দিন পরেই তিনি আল্লাহর কাছে চলে গেলেন।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-কে বিষ পান

📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-কে বিষ পান


ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর অসুস্থ অবস্থায় মুজাহিদ বিন জুবাইরকে দেখতে আসেন। তিনি মুজাহিদকে জিজ্ঞেস করলেন, মানুষ আমার সম্পর্কে কি বলে? মুজাহিদ বললেন, তারা বলছে আপনাকে নাকি জাদু করা হয়েছে? তিনি বললেন, আমাকে জাদু করা হয়নি; বরং আমাকে বিষ পান করানো হয়েছে। তারপর তিনি তাঁর দাসকে ডেকে বললেন, তুমি কেন আমাকে বিষ পান করিয়েছ? সে বলল, আমাকে এক হাজার দিনার দেওয়া হয়েছে, আর আম্মাদ ধরে দিবে বলছে। তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, এক হাজার দিনার নিয়ে আস। সে তা নিয়ে এলে তিনি তা বায়তুল মালে জমা দিয়ে দিলেন। তারপর তিনি দাসীকে বললেন, তুমি যেখানে ইচ্ছে যাও, তুমি আম্মাদ।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) ও ইহুদি

📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) ও ইহুদি


একদিন ওয়ালিদ বিন হিসামের সাথে এক ইহুদির সাক্ষাৎ হলো। ইহুদি লোকটি তাকে বলল, ওমর কিছুদিনের মধ্যে খিলাফতের দায়িত্ব পাবে এবং সে তাতে ন্যায়বিচার বাস্তবায়ন করবে। ওয়ালিদ বললেন, পরে আমি ওমর বিন আব্দুল আযীযের সাথে দেখা করে তাকে এ বিষয় জানালাম। ওমর বিন আব্দুল আযীয খিলাফতের দায়িত্ব পাওয়ার অনেক দিন পরে ইহুদি লোকটি আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বলল, আমি বলিনি ওমর এ দায়িত্ব পাবে, আর কথাগুলোই তো হলো না?

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 রাসূল সা.-এর পাশে দাফনের ইশারা

📄 রাসূল সা.-এর পাশে দাফনের ইশারা


আমি বললাম, হ্যাঁ।
এরপর সে বলল, এখন এ লোকটিকে বিষ পান করানো হবে; সুতরাং তাকে সাবধান থাকতে বলবে।
ওয়ালিদ এ কথা শুনে দ্রুত ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে গেলেন। তিনি তাকে ইহদির এ কথাটি জানালেন।
তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, হে আল্লাহ! সে কীভাবে জানল? আল্লাহর শপথ! আমি জেনেছি যখন আমাকে বিষ পান করানো হয়েছে। যদি এমন হয় যে, আমি আমার হাত দ্বারা কান স্পর্শ করলেই আরোগ্য হয়ে যাব তবে আমি হাত কান পন করব না। অথবা আমার নাক পর্যন্ত হাত নিলেও আমি সুস্থ হয়ে যাব তবে আমি হাত নাক পর্যন্ত নিব না।
একদিন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দরবারে কয়েকজন বিজ্ঞ আলেম বসে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাদের কাছে বসে অত্যন্ত মনোযোগের সাথে তাদের কথাগুলো শুনছিলেন। কথা প্রসঙ্গে তারা বলতে লাগলেন, রাসূল ﷺ-এর কবরের পাশে একটি কবরের জায়গা খালি রয়েছে। তারা সে জায়গাটি তাঁর জন্যে পেশ করলেন।
তারা বললেন, আপনি যদি মদিনার কাছে থাকতেন।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাদের কথা বুঝতে পারলেন। তখন অশ্রু প্রবাহিত চোখে বললেন, জাহান্নাম ব্যতীত আল্লাহ আমাকে যেকোনো শাস্তি দিয়েও যদি ওই কবরের অধিবাসী বানাতে তবে তাই আমি পছন্দ করি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00