📄 তুমি মধু নষ্ট করে দিয়েছ
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) সপ্তম মুসলিম জাহানের খলিফা হওয়া সত্ত্বেও ডাক বিভাগের বাহন কখনো নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করতেন না। সেগুলো মুসলিম প্রজা সাধারণের স্বার্থেই ব্যবহার হতো।
একবার তিনি তাঁর এক কর্মকর্তার কাছে চিঠি লিখে তাঁর জন্যে মধু ক্রয় করতে নির্দেশ দিলেন। সাথে এও বললেন যে, এর মধ্যে যেন মুসলিমদের কোনো সম্পদ মিশ্রিত না হয়। গভর্নর তার জন্যে মধু ক্রয় করে ডাক বিভাগের বাহনে করে পাঠিয়ে দিলেন।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে মধু আনা হলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, মধু কিসে বহন করে আনা হয়েছে?
তারা বলল, ডাক বিভাগের বাহনে করে।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) মধু বিক্রি করে এর মূল্য বায়তুল মালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।
তারপর তিনি তাঁর কর্মকর্তাকে বললেন, তুমি আমাদের মধু নষ্ট করে দিয়েছ। অর্থাৎ মুসলমানদের বাহনে বহন করে আনায় তাতে মুসলমানদের অধিকার যুক্ত হয়ে গেছে। সুতরাং এটি খাওয়া বৈধ হবে না। তাই তিনি বায়তুল মালে জমা দিয়ে দিলেন।
📄 শহরের দুর্গ হচ্ছে ন্যায়বিচার
একদিন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর এক কর্মচারী তাঁর কাছে লিখে জানাল- .........
পরকথা, আমার শহর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং আমীরুল মুমিনীন যদি ইচ্ছে হয় তিনি পুনর্নির্মাণের জন্য অর্থ দিবেন তবে দেন, ........।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) চিঠির জবাবে বললেন, আমি তোমার চিঠির মর্ম বুঝতে পেরেছি এবং শহর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দ্বারা যা বুঝিয়েছ তাও বুঝতে পেরেছি। যখন তুমি আমার এ চিঠি পাঠ করবে তখন তুমি ন্যায়বিচার দ্বারা এর দুর্গ তৈরি করবে এবং এর প্রতিটি পথের অন্যায়ের দূর করবে। এটাই শহরের পুনর্নির্মাণ। ........ সালাম।
📄 দুর্বলদের অধিকার
একদিন হিসাম বিন আব্দুল মালিক খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে এসে বললেন, আমীরুল মুমিনীন! আপনি আপনার গোত্রের পক্ষ থেকে আপনার কাছে এসেছি। তারা বলে, আপনি আপনার মনমতো নতুন আইন জারি করেছেন এবং পূর্ববর্তীদের মতামত ত্যাগ করেছেন। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তখন বললেন, তোমার অভিমত কি, যদি তোমার মুয়াবিয়া ﷺ-এর পক্ষ থেকে একটি নির্দেশ আসে আর আব্দুল মালিকের পক্ষ থেকে আরেকটি নির্দেশ আসে, তুমি কোন নির্দেশটি মানবে? হিসাম বললেন, অগ্রবর্তিতা হিসেবে গ্রহণ করব আর এর সাথে আমি অন্য কিছুকে সমান মনে করব না। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, আমিও আল্লাহর কিতাবকে অগ্রগামী হিসেবে পেয়েছি। আর তাই আমি সব বাদ দিয়ে আল্লাহর কিতাবকে ধরেছি। এরপর তিনি হিসামকে লক্ষ্য করে আরো বললেন, তোমার অভিমত কি, যদি কোনো ব্যক্তি ছোট বড় সন্তান রেখে যায় তখন বড় সন্তানরা ছোটদের সম্পদ পেয়ে ফেলে তখন যদি তোমার কাছে বিচার নিয়ে আসে হয় তুমি কি করবে? হিসাম বললেন, আমি তাদের সম্পদ ও অধিকার ফিরিয়ে দিব।
তখন তিনি বললেন, আমি আমার পূর্ববর্তী অনেক শাসককে এমন পেয়েছি যে, তারা শক্তি ও ক্ষমতা প্রয়োগ করে মানুষের সম্পদ দখল করেছে। তাদের অনুসারীরাও তেমন করেছে। যখন আমি খলিফা হিসেবে নিযুক্ত হলাম তখন মানুষ আমার কাছে অধিকার ফিরে চেয়েছে। আর শক্তিশালীদের থেকে দুর্বলদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া ব্যতীত আমার আর কোনো উপায় ছিল না। এ কথাগুলো শুনে হিসাম বললেন, আমীরুল মুমিনীন! আল্লাহ আপনাকে তাওফীক দান করুন।
📄 আল্লাহর কাছে দোয়া কর আল্লাহ যেন আমাকে মৃত্যু দান করেন
একদিন আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) এক বিখ্যাত বুযুর্গ আব্দুল্লাহ বিন আবি যাকারিয়া (রহ)-কে ডেকে পাঠালেন। তিনি তাঁর কাছে হাজির হলে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, ইবনে আবু যাকারিয়া! আপনি কি জানেন আমি আপনাকে কেন ডেকেছি? তিনি বললেন, না। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, এমন একটি বিষয়, আপনি আমার জন্য করবেন বলে শপথ করার আগে তা আমি আপনাকে বলব না। তিনি বললেন, আমীরুল মুমিনীন! আপনি যা চাইবেন তাই আমি করব! ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, তাহলে আপনি শপথ করুন। তিনি তাঁর কসম করার পর ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন তিনি যেন আমাকে মৃত্যু দান করেন। তখন তিনি বললেন, তাহলে আমি মুসলমানদের জন্যে কতই না নিকৃষ্ট প্রতিনিধি, মুহাম্মদ ﷺ-এর উম্মতের শাফা। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, আহ্ হা! আপনি তো আমার জন্যে শপথ করেছেন। তিনি বললেন, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তারপর তিনি দোয়া করলেন। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ ওমরের পরে আমাকেও রেখো না। তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর এক ছোট ছেলে এসে বলল, এটি আমিও পছন্দ করি, আমার জন্যে দোয়া করুন। পরে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) মারা গেলেন, ইবনে যাকারিয়াও মারা গেলেন এবং ওই ছোট বালকটিও মারা গেলেন।