📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 বিচারকের সামনে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)

📄 বিচারকের সামনে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)


একদিন মিশরীয় এক লোক ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনার পিতা মিশরের গভর্নর থাকাকালে আব্দুল মালিকের চিঠি লিখে জানালেন যে, হালওয়ান সান্নিধ্যের জামিনটি খারাজের জমি। ফলে আব্দুল মালিক জামিনটি আপনার পিতাকে দিয়ে দিলেন।
পিতার মৃত্যুর পর আপনি আর আপনার ভাইয়েরা জামিনটির মালিক হয়েছেন। আল্লাহকে ভয় করুন, আপনার পিতার ন্যায় আপনি আমাদের প্রতি জুলুম করবেন না।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, জামিনটিতে আমি ব্যতীত আমার ভাইয়েরাও অংশীদার রয়েছে। তাই বিচারকের ফয়সালা ব্যতীত তারা আমার ফয়সালা মেনে নেবে না।
বিচারকের কাছে যাই। তিনি যদি আমার পক্ষে রায় দেন তাহলে আমি নিব আর যদি আমার বিরুদ্ধে রায় দেন তাহলে তুমি নিবে।
লোকটি বলল, যদি আপনি বিচারকের কাছে যান তাহলে তো আপনি আমার প্রতি ইনসাফ করেছেন।
আমীরুল মুমিনীন ও লোকটি বিচারকের কাছে এসে তাঁর সামনে বসলেন। প্রথমে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) কথা বলা শুরু করলেন। তাঁর কথা বলা শেষ হলে এরপর লোকটি তার প্রমাণাদি তুলে ধরল।
উভয়ের দলিল-প্রমাণ বিবেচনা করে বিচারক মিশরীয় লোকটির পক্ষে রায় দিলেন। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বিচারককে পরীক্ষা করতে চাইলেন। তিনি পুনরায় দাবি জানালেন, আমার পিতা তো জামিনটির পিছনে হাজার হাজার দিরহাম ব্যয় করেছেন, তার ফয়সালা কি হবে?
বিচারক জবাব দিলেন, জমি থেকে তো আপনারা সে পরিমাণ ভোগও করেছিলেন।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) আনন্দচিত্তে বলে উঠলেন, এটাই সুবিচার, আল্লাহর শপথ! আপনি যদি আমার দিকে পক্ষপাতিত্ব করতেন তবে আমি এ পদ থেকে আপনাকে অপসারণ করতাম।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তাদের রক্ত নিয়ে আমি আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হতে চাই না

📄 তাদের রক্ত নিয়ে আমি আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হতে চাই না


ন্যায়নীতির কলমে, সত্যের প্রতি ভালোবাসার পূর্ণ হৃদয়ে, পাপমুক্ত হাতে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বসরার গভর্নর আদী বিন আরতাত-এর কাছে চিঠি লিখলেন- .........
পরকথা, আমার কাছে তোমার চিঠি এসে পৌঁছেছে তাতে তুমি বলেছ তোমার কিছু কর্মকর্তা ফেরতও করেছ। আর তাদেরকে শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে তুমি আমার কাছে অনুমতি চেয়েছ। মনে হচ্ছে যেন তোমার কাছে এমন কোনো চাল আছে যা দ্বারা তুমি আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা পাবে। আমার চিঠি তোমার কাছে পৌঁছার পর যদি তাদের দোষ প্রমাণিত হয় তাহলে তাদেরকে শাস্তি দেবে আর যদি না হয় তাহলে তাদেরকে আসরের নামাজের পর ওই আল্লাহর নামে শপথ করাবে যিনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই। যদি তারা শপথ করে তবে তাদেরকে ছেড়ে দিবে। কেননা এ সম্পদ আল্লাহর। তাদের রক্ত করিয়ে আমি আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হওয়া থেকে তারা তাদের খেয়ানতও নিয়ে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হওয়া আমার কাছে অধিক প্রিয়। অর্থাৎ আমি তাদেরকে হত্যা করে অপরাধী হয়ে আল্লাহর দরবারে যাওয়া থেকে তারা অপরাধী হয়ে যাওয়া আমার কাছে প্রিয়।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তুমি মধু নষ্ট করে দিয়েছ

📄 তুমি মধু নষ্ট করে দিয়েছ


ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) সপ্তম মুসলিম জাহানের খলিফা হওয়া সত্ত্বেও ডাক বিভাগের বাহন কখনো নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করতেন না। সেগুলো মুসলিম প্রজা সাধারণের স্বার্থেই ব্যবহার হতো।
একবার তিনি তাঁর এক কর্মকর্তার কাছে চিঠি লিখে তাঁর জন্যে মধু ক্রয় করতে নির্দেশ দিলেন। সাথে এও বললেন যে, এর মধ্যে যেন মুসলিমদের কোনো সম্পদ মিশ্রিত না হয়। গভর্নর তার জন্যে মধু ক্রয় করে ডাক বিভাগের বাহনে করে পাঠিয়ে দিলেন।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে মধু আনা হলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, মধু কিসে বহন করে আনা হয়েছে?
তারা বলল, ডাক বিভাগের বাহনে করে।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) মধু বিক্রি করে এর মূল্য বায়তুল মালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।
তারপর তিনি তাঁর কর্মকর্তাকে বললেন, তুমি আমাদের মধু নষ্ট করে দিয়েছ। অর্থাৎ মুসলমানদের বাহনে বহন করে আনায় তাতে মুসলমানদের অধিকার যুক্ত হয়ে গেছে। সুতরাং এটি খাওয়া বৈধ হবে না। তাই তিনি বায়তুল মালে জমা দিয়ে দিলেন।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 শহরের দুর্গ হচ্ছে ন্যায়বিচার

📄 শহরের দুর্গ হচ্ছে ন্যায়বিচার


একদিন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর এক কর্মচারী তাঁর কাছে লিখে জানাল- .........
পরকথা, আমার শহর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং আমীরুল মুমিনীন যদি ইচ্ছে হয় তিনি পুনর্নির্মাণের জন্য অর্থ দিবেন তবে দেন, ........।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) চিঠির জবাবে বললেন, আমি তোমার চিঠির মর্ম বুঝতে পেরেছি এবং শহর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দ্বারা যা বুঝিয়েছ তাও বুঝতে পেরেছি। যখন তুমি আমার এ চিঠি পাঠ করবে তখন তুমি ন্যায়বিচার দ্বারা এর দুর্গ তৈরি করবে এবং এর প্রতিটি পথের অন্যায়ের দূর করবে। এটাই শহরের পুনর্নির্মাণ। ........ সালাম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00