📄 বড়দের সহনশীলতা
একদিন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) একজন প্রহরীরে নিয়ে পথ চলতে লাগলেন। এরই মধ্যে তিনি এক ঘুমন্ত লোকের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার পায়ের সাথে হোঁচট খেলেন। তাতে লোকটি জেগে গেল। সে রেগে গিয়ে বলল, তুমি কি পাগল? তিনি বললেন, না। তখন তাঁর সাথে প্রহরী লোকটির দিকে শাস্তি দিতে গেল। কেননা সে আমীরুল মুমিনীন সাহেবকে বেয়াদবী করেছে। তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, থাক, সে তো আমাকে জিজ্ঞাসা করেছে আমি পাগল কিনা, আমি বলেছি, না। অন্য একদিন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) ভাষণ দিতে মিম্বরে উঠে দাঁড়ালে, অন্য সভায় উপস্থিত লোকদের মধ্যে এক লোক তাঁর দিকে তেড়ে এসে তাঁকে আঘাত করতে চাইল। তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাকে বললেন, তুমি কি চাও, শয়তান আমাকে ক্ষমতা দ্বারা প্ররোচিত করে এমন কাজ করাবে যা তুমি কাল আমার সাথে করবে। চলে যাও আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন। অর্থাৎ আমি ক্ষমতাপ্রবল শয়তানের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে তোমাকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দিব, পরে তুমি আখিরাতে এর প্রতিশোধ নিব।
📄 আহলে কিতাবদের নিকট ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)
একদিন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর ছেলে কোনো এক গির্জার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁকে দেখে পাদ্রী নিচে নেমে গেল। তারপর পাদ্রী বলল, তুমি কি জান আমি কেন নেমেছি? তিনি বললেন, না। সে বলল, তোমার বাবার সম্মানে, কেননা আমরা তাঁকে ন্যায়বিচারিক হিসেবে পেয়েছি।
📄 অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া
একদিন আরবের এক ব্যক্তি ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে হিশাম বিন আব্দুল মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করল। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করল। সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে তুমি তোমার বাড়ির সাথে গিয়ে বস। সে বলল, আমার উকিল তার সাথে ঘেরা করবে। তিনি বললেন, জমিন দখল করতেছো তো তুমি কোনো উকিল নিয়োগ করনি। তাহলে কিভাবে বিচারের সময় তুমি উকিল নিয়োগ করবে? খলিফার আদেশমতো হিশাম লোকটির সাথে বসে পড়ল।
লোকটি যখন বিচারে তার প্রমাণাদি পেশ করল তখন হিশাম তাকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দিতে চাইল।
এতও ওমর বিন আব্দুল আযীয খুবই রেগে গেলেন। তিনি চিৎকার দিয়ে বললেন, তুমি আমার সামনে ব্যারিকেড বানাচ্ছ?
তারপর ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) লোকটিকে জামিনটি দিয়ে দিলেন এবং দায়িত্বশীল সেনাকে বললেন, হিশামের সাথে যাও, যদি সে জামিনটি দিতে কোনো রকমের না করে, তাহলে তার ঘাড়ে আঘাত করবে।
📄 বিচারকের সামনে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)
একদিন মিশরীয় এক লোক ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনার পিতা মিশরের গভর্নর থাকাকালে আব্দুল মালিকের চিঠি লিখে জানালেন যে, হালওয়ান সান্নিধ্যের জামিনটি খারাজের জমি। ফলে আব্দুল মালিক জামিনটি আপনার পিতাকে দিয়ে দিলেন।
পিতার মৃত্যুর পর আপনি আর আপনার ভাইয়েরা জামিনটির মালিক হয়েছেন। আল্লাহকে ভয় করুন, আপনার পিতার ন্যায় আপনি আমাদের প্রতি জুলুম করবেন না।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, জামিনটিতে আমি ব্যতীত আমার ভাইয়েরাও অংশীদার রয়েছে। তাই বিচারকের ফয়সালা ব্যতীত তারা আমার ফয়সালা মেনে নেবে না।
বিচারকের কাছে যাই। তিনি যদি আমার পক্ষে রায় দেন তাহলে আমি নিব আর যদি আমার বিরুদ্ধে রায় দেন তাহলে তুমি নিবে।
লোকটি বলল, যদি আপনি বিচারকের কাছে যান তাহলে তো আপনি আমার প্রতি ইনসাফ করেছেন।
আমীরুল মুমিনীন ও লোকটি বিচারকের কাছে এসে তাঁর সামনে বসলেন। প্রথমে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) কথা বলা শুরু করলেন। তাঁর কথা বলা শেষ হলে এরপর লোকটি তার প্রমাণাদি তুলে ধরল।
উভয়ের দলিল-প্রমাণ বিবেচনা করে বিচারক মিশরীয় লোকটির পক্ষে রায় দিলেন। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বিচারককে পরীক্ষা করতে চাইলেন। তিনি পুনরায় দাবি জানালেন, আমার পিতা তো জামিনটির পিছনে হাজার হাজার দিরহাম ব্যয় করেছেন, তার ফয়সালা কি হবে?
বিচারক জবাব দিলেন, জমি থেকে তো আপনারা সে পরিমাণ ভোগও করেছিলেন।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) আনন্দচিত্তে বলে উঠলেন, এটাই সুবিচার, আল্লাহর শপথ! আপনি যদি আমার দিকে পক্ষপাতিত্ব করতেন তবে আমি এ পদ থেকে আপনাকে অপসারণ করতাম।