📄 এক ইটের ওপর অন্য ইট রেখো না
মুসলিম জাহানের খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয ও বহু সহযোগীর অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও নিজেও জন্য কোনো ইমারত বা প্রাসাদ কিছুই তৈরি করেননি। তিনি বলতেন, এটি নবী করীম ﷺ-এর সুন্নাত। তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু কখনো ইঁটের উপর ইঁট রাখেননি এবং বাশের উপর বাশ রাখেননি। অর্থাৎ প্রাসাদ, দালান তৈরি করেননি। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর ঘরে একটি সিঁড়ি ছিল, কিন্তু এটা ছিল নড়বড়ে। যখন কোনো প্রয়োজনে এটি ব্যবহার করতেন তখন এটি এত বেশি নড়া চড়া করত যে, মনে হয় যেন তা ভেঙে পড়বে। এক গোলাম সিঁড়িটিকে মেরামত করতে চাইল। এরপর কোনো এক প্রয়োজনে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাতে চড়লেন, কিন্তু তিনি লক্ষ্য করলেন যে, সিঁড়িটা মোটেও নড়ছে না। তখন তিনি সিঁড়িটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তারা বলল, অমুক গোলাম এটি মেরামত করেছে। এ কথা শুনে তিনি বললেন, তোমরা সিঁড়িকে আগের মতো করে দাও। কেননা আমি আল্লাহর সাথে ওয়াদা করেছি যদি আল্লাহ আমাকে খিলাফতের দায়িত্ব প্রদান করেন তাহলে আমি ইঁটের উপর ইঁট রাখব না। অর্থাৎ দালান বানাব না।
📄 যে সৈন্যবাহিনীতে তুমি থাকবে সেখানে আল্লাহ সাহায্য পাঠাবেন না
যখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) মুসলিম জাহানের খলিফা নিযুক্ত হলেন তখন হাজ্জাজের জুলুম-নির্যাতনের একান্ত সহযোগী ইয়াযিদ বিন আবু মুসলিম রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দেশের বাইরে ছিল। একদিন সে রাস্তায় হাঁটছিল এমন সময় তার কাছে আমীরুল মুমিনিনের পত্র এসে পৌঁছে। তাতে লিখা ছিল.... আমীরুল মুমিনীন পত্র পাওয়ার সাথে সাথে তুমি ফিরে আসবে। কেননা তুমি যে সেনাবাহিনীতে থাকবে সে বাহিনীতে আল্লাহর সাহায্য আসবে না।
📄 আমীরুল মুমিনীবের কাপড়
একদিন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) জুমার নামাযে আসতে কিছুক্ষণ দেরি করলেন। লোকজন তাকে বলল, আমীরুল মুমিনীন জুমার নামাযে পড়াতে মনে হয় কিছুটা দেরি করে ফেললেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বললেন, আমার একটি মাত্র জামা। আর সে জামাটি ধুয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি জামাটি শুকানোর অপেক্ষা করেছিলাম। অনুরূপ অন্য একদিন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) লোকেদেরকে নিয়ে জুমার নামায আদায় করে যখন তাদের সামনে বসলেন তখন তাঁর পায়ের জামাটিতে সামনে ও পিছনে তালিমুছ ছিল। জুমার এ অবস্থা দেখে একলোক বলল, আল্লাহ তো আপনাকে দান করেছেন, সুতরাং আপনি যদি নতুন জামা পরে আসতেন!
📄 বায়তুল্লার গিলাফ ও ক্ষুধার্ত কলিজা
একদিন বায়তুল্লাহর খাদেম ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে চিঠি লিখে বায়তুল্লাহর জন্য একটি গিফলাফ চাইল। যেমনভাবে পূর্ববর্তী খলিফারা দিত। তিনি চিঠির জবাবে লেখলেন, আমি দেখাবো বায়তুল্লাহর গিফলাফ না পরিয়ে ক্ষুধার্ত কলিজায় তা দেওয়া আমার কাছে অধিক উত্তম মনে হয়। কেননা অর্থের প্রয়োজন বায়তুল্লাহ থেকে তাদেরই বেশি।