📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বাতি ঠিক করছেন
এক রাতে রাজা বিন হাইয়্যান, ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দরবারে এসে উপস্থিত হলেন। তারা বসে দ্বীনী বিষয়ে আলোচনা করছিলেন, কিন্তু হঠাৎ করে বাতি নিভে গেল। রাজা চেরাগ জ্বালাতে দ্রুত উঠে গেলেন যাতে করে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-কে না উঠতে হয়, কিন্তু তিনি তাকে বললেন, তুমি বস। এ বলে তিনি বাতির কাছে উঠে গেলেন এবং নিজেই হাতে চেরাগ জ্বালালেন। অতপর ফিরে এসে রাজা বিন হাইয়্যানের সাথে বসে পুনরায় আলাপ শুরু করলেন। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বিনয়ের সাথে বললেন, দেখ রাজা, মেহমান থেকে খেদমত নেওয়া বড়ই নিন্দনীয়।
📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁর স্ত্রীকে যেমন দেখতে চাইতেন
একদিন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর স্ত্রী ফাতেমার কাছে এক মহিলা এসে দেখলেন তিনি পুরাতন কাপড় পরিধান করে আছেন। তখন মহিলাটি বলল, ফাতেমা! তুমি কি তোমার স্বামীর জন্য সাজগোজ করে থাকতে পার না। ফাতেমা তাকে বললেন, মহিলারা তো স্বামীর খুশি অনুযায়ী সাজ করে তাই না? সে বলল, হ্যাঁ। ফাতেমা বললেন, আমি এভাবে থাকি, এটাই ওমর পছন্দ করে।
📄 গভর্নরের পরীক্ষা
মুসলিম জাহানের খলিফা তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)। এর মধ্যে বিলাল বিন আবু বুরদা নামের এক ব্যক্তি তাঁর দরবারে এসে উপস্থিত হলো। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাকে অভিনন্দন জানালেন। বিলাল খলিফাকে লক্ষ্য করে বলল লালন, খিলাফতের দায়িত্ব যত্নের জন্য উপযুক্ত আপনি তাদেরকে নিযুক্ত করেছেন এবং যারা যারা সুযোগ্য হওয়ার তাদেরকে সুয়োগ দিয়েছেন। আল্লাহ শপথ! মালিক বিন আসামা যখন বলেছেন আপনি ঠিক করেন।
এরপর বেলাল নিয়মিত মসজিদে নামায পড়তে লাগল। দিন রাত সর্বদা কোরআন পড়ত। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁর এমন অবস্থা দেখে তাঁকে ইরাকের গভর্নর নিযুক্ত করতে চাইলেন। তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাকে পরীক্ষা করতে চাইলেন। তিনি তাঁর কাছে এক লোক পাঠালেন। লোকটি তাকে গিয়ে বলল, আমি যদি তোমাকে গভর্নর বানানোর জন্য চেষ্টা করি তাহলে তুমি আমাকে কি দিবে? বিলাল বলল, এত এত দিব। লোকটি ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে গিয়ে ঘটনা খুলে বলল। তার ক্ষমতার প্রতি লোভ থাকায় ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাকে ক্ষমতা দিলেন না; বরং মসজিদ থেকে বের করে দিলেন। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, হে ইরাকবাসী! তোমাদের এ লোককে কথা বলার যোগ্য দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তা বুঝার যোগ্যতা দেওয়া হয়নি। তার বাগ্মিতা বুদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু তার দুনিয়াপ্রিয়তা কমেনি।
📄 এক ইটের ওপর অন্য ইট রেখো না
মুসলিম জাহানের খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয ও বহু সহযোগীর অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও নিজেও জন্য কোনো ইমারত বা প্রাসাদ কিছুই তৈরি করেননি। তিনি বলতেন, এটি নবী করীম ﷺ-এর সুন্নাত। তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু কখনো ইঁটের উপর ইঁট রাখেননি এবং বাশের উপর বাশ রাখেননি। অর্থাৎ প্রাসাদ, দালান তৈরি করেননি। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর ঘরে একটি সিঁড়ি ছিল, কিন্তু এটা ছিল নড়বড়ে। যখন কোনো প্রয়োজনে এটি ব্যবহার করতেন তখন এটি এত বেশি নড়া চড়া করত যে, মনে হয় যেন তা ভেঙে পড়বে। এক গোলাম সিঁড়িটিকে মেরামত করতে চাইল। এরপর কোনো এক প্রয়োজনে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাতে চড়লেন, কিন্তু তিনি লক্ষ্য করলেন যে, সিঁড়িটা মোটেও নড়ছে না। তখন তিনি সিঁড়িটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তারা বলল, অমুক গোলাম এটি মেরামত করেছে। এ কথা শুনে তিনি বললেন, তোমরা সিঁড়িকে আগের মতো করে দাও। কেননা আমি আল্লাহর সাথে ওয়াদা করেছি যদি আল্লাহ আমাকে খিলাফতের দায়িত্ব প্রদান করেন তাহলে আমি ইঁটের উপর ইঁট রাখব না। অর্থাৎ দালান বানাব না।