📄 কিয়ামতের দিন এরা তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী
একদিন বিখ্যাত বুযুর্গ মিয়াদ বিন আবি যিয়াদ (রহ) ও ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে হাজির হলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন, যিয়াদ! তুমি কি দেখছ না আমি মুহাম্মাদ ﷺ-এর উম্মতের শাসনকার্যের দায়িত্ব পেয়ে কত বড় পরীক্ষায় পড়েছি। যিয়াদ (রহ) বললেন, আপনি প্রশংসার যোগ্য কাজ করবেন না; বরং আপনি যে পরীক্ষায় পড়েছেন তা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য কাজ করুন। কেননা আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ প্রশংসার যোগ্য কাজ করবে তা কিয়ামতের দিন সাক্ষী দিবে। যিয়াদ (রহ) আরো বললেন, বলুন, যে ব্যক্তির পিছনে তার শক্তিশালী কোনো শত্রু লেগে থাকে তার অবস্থা কেমন? ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, তার অবস্থা তো বিপজ্জনক। যিয়াদ (রহ) বললেন, তার শত্রু সংখ্যায় ছয় জন হয়?
তিনি বললেন, তাহলে তো আরো বিপজ্জনক। যিয়াদ (রহ) বললেন, যদি তিন জন হয়? তিনি বললেন, তবে তো বড়ই শোচনীয়। যিয়াদ (রহ) বললেন, আপনার শাসনাধীন উপত্যকায় মুখাযীর যত লোক আছে, সবাই কিয়ামতের মাঠে আপনার বিপক্ষে অবস্থান নিবে। যিয়াদ (রহ)-এর কথা শুনে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খুবই কান্নাকাটি করলেন। যিয়াদ (রহ) তাঁর কান্নাকাটি দেখে বললেন, আমি চেয়েছিলাম তাকে এ কথাগুলো না বলতে।
📄 আমীরুল মুমিনীন আপনি কেন কেঁদেছেন?
একদিন হিশাম বিন যিয়াদ ওমরের কাছে বসে বিভিন্ন নসিহতমূলক কথা বলছিলেন, তার নসিহত শুনতে শুনতে এক সময় তিনি কেঁদে দিলেন। ঠিক তখন মুজাহিমি এসে বলল, মুহাম্মাদ বিন কা’ব আল কুরাজী দরকার। তিনি বললেন, তাকে আসতে বল। অনুমতি পেয়ে মুহাম্মাদ বিন কুরাজী ভেতরে আসল। তিনি ভেতরে এসে ওমর বিন আব্দুল আযীযকে কাঁদতে দেখে বললেন, আমীরুল মুমিনীন আপনি কাঁদলেন কেন? তখন হিশাম বললেন, তিনি এ কারণে কেঁদেছেন। মুহাম্মাদ বিন কা’ব বললেন, আমীরুল মুমিনীন দুনিয়াটা তো একটি বাজার তুল্য/নায়া যে খাতে মানুষ নিজেদের কল্যাণ অর্জন করে নেয়। আর এমন কত লোক আছে যারা আমাদের মতো সকাল বেলা উপস্থিত হয়, কিন্তু তারা ধোঁকায় থাকে ঠিক সে মুহূর্তে তাদের মৃত্যু চলে আসে। এতে তারা লাগুতো হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়। অথচ পরকালে তাদের কল্যাণ ও মুক্তির জন্যে যা প্রয়োজন তারা তা অর্জন করেনি; বরং এমন কিছু অর্জন করে নিয়েছে যা তাদের উপকারে আসবে না। আমীরুল মুমিনীন! আপনি আল্লাহকে ভয় করুন এবং দুটি বিষয় খেয়াল রাখুন। এক, কি সম্বন্ধে আপনি আপনার প্রভুর সাথে সাক্ষাৎ করতে পছন্দ করেন। দুই, আর কি সম্বন্ধে আপনি আপনার প্রভুর সাথে সাক্ষাৎ করতে অপছন্দ করেন। তা এখনি এড়িয়ে চলুন। আর আপনি আপনার পূর্ববর্তী কারো ওপর নির্ভর করবেন যে, তারা আপনাকে আখিরাতে পার করে দিবে। আমীরুল মুমিনীন আল্লাহকে ভয় করুন, আপনার দরজা সবসময় জনসাধারণের জন্যে খোলা রাখুন, নির্যাতিতদের সাহায্য করুন, জুলুম শোষণ বন্ধ করুন। স্মরণ রাখবেন, যার মাঝে তিনটি বিষয় থাকবে সেই পূর্ণাঙ্গ মুমিন।
এক, যখন সে আনন্দিত হবে, তার আনন্দ তাকে গোমরাহীর পথে ঠেলে দিবে না। দুই, সে রাগান্বিতও হবে তবে রাগ তাকে সত্য থেকে বিচ্যুত করবে না। তিন, সে যখন ক্ষমতাবান হবে, অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ গ্রাস করবে না।
📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বাতি ঠিক করছেন
এক রাতে রাজা বিন হাইয়্যান, ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দরবারে এসে উপস্থিত হলেন। তারা বসে দ্বীনী বিষয়ে আলোচনা করছিলেন, কিন্তু হঠাৎ করে বাতি নিভে গেল। রাজা চেরাগ জ্বালাতে দ্রুত উঠে গেলেন যাতে করে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-কে না উঠতে হয়, কিন্তু তিনি তাকে বললেন, তুমি বস। এ বলে তিনি বাতির কাছে উঠে গেলেন এবং নিজেই হাতে চেরাগ জ্বালালেন। অতপর ফিরে এসে রাজা বিন হাইয়্যানের সাথে বসে পুনরায় আলাপ শুরু করলেন। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বিনয়ের সাথে বললেন, দেখ রাজা, মেহমান থেকে খেদমত নেওয়া বড়ই নিন্দনীয়।
📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁর স্ত্রীকে যেমন দেখতে চাইতেন
একদিন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর স্ত্রী ফাতেমার কাছে এক মহিলা এসে দেখলেন তিনি পুরাতন কাপড় পরিধান করে আছেন। তখন মহিলাটি বলল, ফাতেমা! তুমি কি তোমার স্বামীর জন্য সাজগোজ করে থাকতে পার না। ফাতেমা তাকে বললেন, মহিলারা তো স্বামীর খুশি অনুযায়ী সাজ করে তাই না? সে বলল, হ্যাঁ। ফাতেমা বললেন, আমি এভাবে থাকি, এটাই ওমর পছন্দ করে।