📄 গরিবদের দান করতেন কবিদেরকে করতেন না
একদিন কবি জারীর আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে এসে বলল, আমীরুল মুমিনীন! আমি শুনেছি নাকি নসিহত সম্মিলিত কবিতা পছন্দ করেন। আর প্রশংসা অপছন্দ করেন। তারপর সে তার দারিদ্র অবস্থার বর্ণনা করে কবিতা গাইল।
তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, তুমি তো তোমার কষ্টের কথা বর্ণনা করেছ। সে বলল, এতোতো আমার থেকে কাটছে না। তখন তিনি তার জন্যে একটি খচ্চর নিয়ে আসতে বললেন। যে খচ্চর দ্বারা পরিবহনের জন্য মাল বহন করে নেওয়া হয়। এরপর তিনি তাকে বললেন, জারীর! তুমি কি মুহাজিরদের কেউ? সে বলল, না। তিনি বললেন, তাহলে তোমার সাথে আনসারদের সাথে কোনো আত্মীয় বা বৈবাহিক সম্পর্ক আছে? সে বলল, না। তিনি বললেন, তাহলে তুমি কি যুদ্ধ করেছ? সে বলল, না। তিনি বললেন, তাহলে তো مسلمانوں সম্পদে তোমার কোনো অংশ আমি দেখছি না। সে বলল, অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা এ সম্পদে আমার জন্য অংশ রেখেছেন। তিনি বললেন, তোমার জন্য অংশ? এখানে তোমার কি অংশ আছে? সে বলল, মুসাফির অনেক দূর থেকে এসেছে, সে এখন আপনার দরজায়। তিনি বললেন, তাহলে তোমাকে দিতে পারি। তিনি তাকে বিশ দিরহাম দিলেন। এরপর তিনি বললেন, আমি এটি আমার দান থেকে তোমাকে দিয়েছি। যদি আমার দানে আরো থাকত তাহলে আরো দিতাম। তুমি এটি গ্রহণ কর। যদি চাও তুমি প্রশংসা কর অথবা দাও নিন্দা কর। সে বলল, বরং আমি প্রশংসাই করব। যখন জারীর ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দরবার থেকে বের হলেন তখন তার চার পাশে অন্যান্য কবিরা এসে বলল, তকে কি হয়েছে? সে বলল, শুনলে তোমাদের কষ্ট লাগবে, আমি এমন এক লোকের কাছে এসেছি যিনি পরিষেবাকে দান করেন আর কবিদেরকে করেন না।
📄 আল্লাহ তাআ'লা মুহাম্মদকে দায়ী হিসেবে পাঠিয়েছেন
আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) মিশরের গভর্নরের কাছে লিখে পাঠালেন, যে বা যারা `لا إله إلا الله محمد رسول الله` এ কালমে একবার নামায কায়েম করবে তার থেকে জিজিয়া কর নিবে না। পরবর্তী চিঠিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মিশরের গভর্নর যাইয়ান ও ওমরের কাছে লিখে জানান, আমীরুল মুমিনীন, আপনি যদি এ ঘোষণা দেন তাহলে সবাই মুসলমান হয়ে যাবে। এতে আমরা কোনো জিজিয়া পাব না।
হাইয়ায়েমের চিঠি পাওয়ার পর তিনি লোকটিকে প্রেরণ করে বললেন, তুমি মিশরে গিয়ে হাইয়ায়েমের মাথায় ত্রিশটি চাবুক মারবে। এরপর ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) হাইয়ায়েমের কাছে চিঠি লিখে জানালেন, তোমার জন্য ধ্বংস! যে মুসলমান হবে তার থেকে জিজিয়া নিবে না। কেননা আমি চাচ্ছি সকলে ইসলাম গ্রহণ করুক। তাদের থেকে একটি দিরহামও জিজিয়া হিসেবে নিবে না।
📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) ও উওয়াইস করনী (রহ)
বিখ্যাত বুযুর্গ আবু সুলাইমান ও আবু সাফওয়ান (রহ) বসে পর্যালোচনা করছিলেন যে, ওমর বিন আব্দুল আযীয ও উওয়াইস করনী এ দু’জনের মধ্যে বেশি দুনিয়াবিরাগী কে ছিলেন? সুলাইমান বললেন, ওমর (রহ) উওয়াইস কারনী (রহ) থেকেও অধিক দুনিয়াবিরাগী ছিলেন। আবু সাফওয়ান বললেন, কীভাবে? আবু সুলাইমান বললেন, দুনিয়ার ধন দৌলত ওমরের পদতলে এসেছিল, কিন্তু তিনি তা থেকে পরহেজগারিতা অবলম্বন করেছেন। আবু সাফওয়ান বললেন, এরূপ যদি উওয়াইস কারনী (রহ)-এর পদতলে আসত তবে তিনিও তা থেকে পরহেজগারিতা অবলম্বন করতেন। সুলাইমান বললেন, যে ব্যক্তি পরিচিত হয়ে কৃতকার্য হয়েছে তাকে আমরা ওই ব্যক্তির সাথে মিলাতে চাই না যে পরিচিতি হয়নি।
📄 কিয়ামতের দিন এরা তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী
একদিন বিখ্যাত বুযুর্গ মিয়াদ বিন আবি যিয়াদ (রহ) ও ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে হাজির হলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন, যিয়াদ! তুমি কি দেখছ না আমি মুহাম্মাদ ﷺ-এর উম্মতের শাসনকার্যের দায়িত্ব পেয়ে কত বড় পরীক্ষায় পড়েছি। যিয়াদ (রহ) বললেন, আপনি প্রশংসার যোগ্য কাজ করবেন না; বরং আপনি যে পরীক্ষায় পড়েছেন তা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য কাজ করুন। কেননা আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ প্রশংসার যোগ্য কাজ করবে তা কিয়ামতের দিন সাক্ষী দিবে। যিয়াদ (রহ) আরো বললেন, বলুন, যে ব্যক্তির পিছনে তার শক্তিশালী কোনো শত্রু লেগে থাকে তার অবস্থা কেমন? ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, তার অবস্থা তো বিপজ্জনক। যিয়াদ (রহ) বললেন, তার শত্রু সংখ্যায় ছয় জন হয়?
তিনি বললেন, তাহলে তো আরো বিপজ্জনক। যিয়াদ (রহ) বললেন, যদি তিন জন হয়? তিনি বললেন, তবে তো বড়ই শোচনীয়। যিয়াদ (রহ) বললেন, আপনার শাসনাধীন উপত্যকায় মুখাযীর যত লোক আছে, সবাই কিয়ামতের মাঠে আপনার বিপক্ষে অবস্থান নিবে। যিয়াদ (রহ)-এর কথা শুনে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খুবই কান্নাকাটি করলেন। যিয়াদ (রহ) তাঁর কান্নাকাটি দেখে বললেন, আমি চেয়েছিলাম তাকে এ কথাগুলো না বলতে।