📄 জাহান্নামের দুইটি পাথর
আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে তাঁর কন্যা একটি মুক্তা পাঠিয়ে বলল, বাবা! আপনি আমার জন্যে এরূপ আরেকটি মুক্তার ব্যবস্থা করে দিন। আমার কাছে শুধু একটি থাকায় তা ব্যবহার করতে পারছি না।
ওমর বিন আব্দুল আযীয তার মেয়ের কাছে দুটি পাথর পাঠিয়ে বললেন, যদি এ দুটি পাথর কানে পরতে পার তাহলে আমি তোমাকে আরেকটি মুক্তা এনে দিব।
📄 মুসলমানদের মধ্যে যে খারাপ তাকে বন্দি করে রাখ
মসজিদে নববীতে ই’তিকাফ করে লোক প্রবেশ করে কাতারকে ভেঙে সামনের দিকে যেতে লাগল। তখন মদিনার গভর্নর আবু বকর বিন মুহাম্মাদ তাকে ধরে ফেলল। লোকটির ব্যাপারে অভিযোগ করে তিনি ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে চিঠি লিখে পাঠাল। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) নির্দেশনা দিয়ে তাকে পত্র পাঠালেন। আবু বকর বিন মুহাম্মাদ যখন পত্রটি পড়ছিল তখন লোকটি ওমর, পত্রবাহক ও পত্রকে গালি দিল। এতে আবু বকর চরম রেগে গিয়ে লোকটির গর্দান উড়িয়ে দিতে চাইলেন, কিন্তু তিনি তা করার পূর্বে আমীরুল মুমিনীনকে লিখে জানালেন যে, লোকটি আপনাকে গালি দিয়েছে আর তাই আমি তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চিঠির জবাবে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, তুমি যদি তাকে হত্যা করতে তাহলে আমি তাকে হত্যা করার কারণে তোমাকে হত্যা করতাম। কেননা ইসলামে নবী ﷺ-কে ব্যতীতও অন্য কাউকে গালি দেওয়ার কারণে হত্যা করা যায় না। আমার চিঠি তোমার হাতে পৌঁছার পর তুমি মুসলমানদের যারা খারাপ তাদেরকে বন্দি করে রাখ এবং প্রত্যেক মাসে তাদেরকে তাণ্ডব করার দিকে আহ্বান করবে যদি তাণ্ডব করে তবে তাদেরকে মুক্ত করে দিবে। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর শাসনের শেষ পর্যন্ত লোকটিকে বন্দি করে রাখা হয়। তার মৃত্যুর পর ইয়াজিদ ক্ষমতায় আসলে লোকটিকে হত্যা করা হয়।
📄 খেজুরের ঝুড়ি
আরদানের শাসক আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর জন্যে উত্তমমানের দুইটি ঝুড়ি খেজুর পাঠালেন। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে খেজুরগুলো আনা হলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, খেজুরগুলো কীভাবে আনা হয়েছে? জবাবে বলল, এগুলো ডাক বিভাগের পশুর পিঠে বহন করে আনা হয়েছে। তিনি বললেন, তাহলে আল্লাহ তা’আলা ওসুলার অধিকার মুসলমানদের ডাক বিভাগকেই বানিয়েছেন। তখন তাঁরা সেগুলো বিক্রি করে এর মূল্য ডাক বিভাগে জমা দিয়ে দিল। ওমরের চাচাতো ভাই তাদেরেক বলল, তোমরা বাজারে গিয়ে খেজুরের দাম নির্ধারণ কর। যখন মূল্য নির্ধারিত হবে তখন খেজুরগুলো আমার জন্যে এসো, আমি মূল্য দিয়ে দিব।
খেজুরের বাহক বাজারে গিয়ে দাম কষাকষি করে চব্বিশ দিরহাম দাম উঠাল। এরপর ওমরের চাচাতো ভাই সেগুলো কিনে নিল। তিনি এক ঝুড়ি নিজের জন্য রেখে অন্য ঝুড়ি ওমরের জন্য হাদিয়া পাঠালেন। লোকটি যখন আবার খেজুরের ঝুড়ি নিয়ে ওমরের কাছে গেল। তখন তিনি তাকে বললেন, এটা কি? লোকটি বলল, আপনার ভাতিজা খেজুরগুলো কিনে নিয়ে আপনার জন্য এক ঝুড়ি পাঠিয়েছে। আর অন্য এক ঝুড়ি নিজের জন্য রেখেছে। এ কথা শুনার পর তিনি বললেন, এখন এগুলো খাওয়া আমার জন্যে বৈধ হবে।
📄 রাসূল সা.-এর মহব্বতে
একদিন রাসুল ﷺ-এর গোলাম আমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) এর খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দরবারে আসলেন। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি রাসুল ﷺ-এর মাওলা (মুক্ত দাস)? আমর বললেন, হ্যাঁ, আমীরুল মুমিনীন। তিনি বললেন, আমিও তো রাসুল ﷺ-এর মুক্ত দাস। বলুন আপনার কি প্রয়োজন? আমর বললেন, আমীরুল মুমিনীন আমার মা বৃদ্ধা অক্ষম, তার সাহায্যের জন্য একজন সেবিকা প্রয়োজন। তিনি বললেন, আমরা তাকে সেবিকা দেওয়ার হুকুম দিলাম। আর কোনো প্রয়োজন আছে? আমর বললেন, আমীরুল মুমিনীন আমার জন্য ভাতার ব্যবস্থা করে দিন। তিনি বললেন, আমরা আপনার জন্য ত্রিশ দিনার দেওয়ার হুকুম দিলাম। আর কোনো প্রয়োজন আছে? আমর বললেন, যথেষ্ট হয়েছে, আমীরুল মুমিনীন। তিনি বললেন, আপনি যদি সুযোগ পাওয়া পর্যন্ত আপনার প্রয়োজনের কথা বলতেন, তবুও আমি পূর্ণ করে দিতাম। বলা হয়ে থাকে, ওমর বিন আব্দুল আযীয আমর এর সাথে সুন্দর ব্যবহার করেছেন শুধু সে রাসুল ﷺ-এর সাথে সম্পর্কিত হওয়ার কারণে।