📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) কেন কাঁদলেন?

📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) কেন কাঁদলেন?


একদিন ফাতেমা বিনতে আব্দুল মালিক ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পেলেন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) নামাযের জায়গায় বসে বসে কাঁদছেন। ফাতেমা তাঁর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কি হয়েছে? আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি কেঁদে কেঁদে বললেন, ফাতেমা উম্মতে মুহাম্মাদীর ছোট-বড় সব বিষয়ের দায়-দায়িত্ব আমার কাঁধে এসে পড়েছে, অথচ জামাতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা গরিব, ক্ষুধার্ত, রোগী-দুঃখু, নির্যাতিত, বন্দি-শুদ্ধ, অভাবী ও অধিক সংসারসৃষ্ট পরিবারের এদের ব্যাপারে আমার প্রতিপালক আমাকে কিয়ামতের দিন জিজ্ঞেস করবেন। আর তাদের পক্ষে তো মুহাম্মাদ ﷺ থাকবেন। আর তাই আমি ভয় করছি যদি না আবার তারা আমার বিরুদ্ধে কোনোকিছু প্রমাণ করে ফেলে। তাই আমি আমার নিজের প্রতি করুণা করে কাঁদছি।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) গোয়েন্দাগিরি করলেন

📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) গোয়েন্দাগিরি করলেন


একদিন দুপুরে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তার গোলাম মাজাহিকে নিয়ে বাহনে চড়ে বাইরে বের হলেন। উদ্দেশ্য প্রজা-সাধারণের খোঁজ-খবর নেওয়া। পথ চলতে চলতে তারা দেখতে পেলেন মদিনা থেকে এক আরোহী ব্যক্তি আসছে। তিনি আরোহীকে মদিনাবাসীদের খোঁজ-খবর জিজ্ঞেস করলেন। সে বলল, আপনি চাইলেই আমি সকলের খবর একত্রে বলব। আর মা হয় আলাদা আলাদা বলব। ওমর বললেন, বরং তুমি একত্রে বল। লোকটি বলল, আমি মদিনায় দেখে এসেছি সেখানের জালিমরা পরাভূত, মজলুমরা সাহায্যপ্রাপ্ত, ধনীরা পরিতৃপ্ত আর সীমান্তরক্ষণকারীরা বাধ্য। এ সংবাদ ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খুব খুশি হয়ে বললেন, পুরো রাষ্ট্র এমন হয়ে যাওয়া আমার কাছে সুখ যত কিছুর ওপর উদিত হয় তার থেকে উত্তম।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 জাহান্নামের দুইটি পাথর

📄 জাহান্নামের দুইটি পাথর


আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে তাঁর কন্যা একটি মুক্তা পাঠিয়ে বলল, বাবা! আপনি আমার জন্যে এরূপ আরেকটি মুক্তার ব্যবস্থা করে দিন। আমার কাছে শুধু একটি থাকায় তা ব্যবহার করতে পারছি না।
ওমর বিন আব্দুল আযীয তার মেয়ের কাছে দুটি পাথর পাঠিয়ে বললেন, যদি এ দুটি পাথর কানে পরতে পার তাহলে আমি তোমাকে আরেকটি মুক্তা এনে দিব।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 মুসলমানদের মধ্যে যে খারাপ তাকে বন্দি করে রাখ

📄 মুসলমানদের মধ্যে যে খারাপ তাকে বন্দি করে রাখ


মসজিদে নববীতে ই’তিকাফ করে লোক প্রবেশ করে কাতারকে ভেঙে সামনের দিকে যেতে লাগল। তখন মদিনার গভর্নর আবু বকর বিন মুহাম্মাদ তাকে ধরে ফেলল। লোকটির ব্যাপারে অভিযোগ করে তিনি ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে চিঠি লিখে পাঠাল। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) নির্দেশনা দিয়ে তাকে পত্র পাঠালেন। আবু বকর বিন মুহাম্মাদ যখন পত্রটি পড়ছিল তখন লোকটি ওমর, পত্রবাহক ও পত্রকে গালি দিল। এতে আবু বকর চরম রেগে গিয়ে লোকটির গর্দান উড়িয়ে দিতে চাইলেন, কিন্তু তিনি তা করার পূর্বে আমীরুল মুমিনীনকে লিখে জানালেন যে, লোকটি আপনাকে গালি দিয়েছে আর তাই আমি তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চিঠির জবাবে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, তুমি যদি তাকে হত্যা করতে তাহলে আমি তাকে হত্যা করার কারণে তোমাকে হত্যা করতাম। কেননা ইসলামে নবী ﷺ-কে ব্যতীতও অন্য কাউকে গালি দেওয়ার কারণে হত্যা করা যায় না। আমার চিঠি তোমার হাতে পৌঁছার পর তুমি মুসলমানদের যারা খারাপ তাদেরকে বন্দি করে রাখ এবং প্রত্যেক মাসে তাদেরকে তাণ্ডব করার দিকে আহ্বান করবে যদি তাণ্ডব করে তবে তাদেরকে মুক্ত করে দিবে। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর শাসনের শেষ পর্যন্ত লোকটিকে বন্দি করে রাখা হয়। তার মৃত্যুর পর ইয়াজিদ ক্ষমতায় আসলে লোকটিকে হত্যা করা হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00