📄 গভর্নর ও খামারে বেড়া
আমিরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) মিশরের গভর্নর আইয়ুব বিন শুরাহবিলের কাছে চিঠি লিখে বললেন, এক মহিলা চিঠি লিখে আমাকে জানাল, তার খাঁচার বেড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে মোরগ চুরি হয়ে যাচ্ছে। সে আমার কাছে আবেদন করেছে, যাতে তার খাম্বাটি মেরামত করে দেই। যখন তোমার হাতে আমার চিঠি খানা পৌঁছবে তুমি নিজে গিয়ে তা মেরামত করে দিবে।
📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) কেন কাঁদলেন?
একদিন ফাতেমা বিনতে আব্দুল মালিক ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পেলেন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) নামাযের জায়গায় বসে বসে কাঁদছেন। ফাতেমা তাঁর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কি হয়েছে? আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি কেঁদে কেঁদে বললেন, ফাতেমা উম্মতে মুহাম্মাদীর ছোট-বড় সব বিষয়ের দায়-দায়িত্ব আমার কাঁধে এসে পড়েছে, অথচ জামাতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা গরিব, ক্ষুধার্ত, রোগী-দুঃখু, নির্যাতিত, বন্দি-শুদ্ধ, অভাবী ও অধিক সংসারসৃষ্ট পরিবারের এদের ব্যাপারে আমার প্রতিপালক আমাকে কিয়ামতের দিন জিজ্ঞেস করবেন। আর তাদের পক্ষে তো মুহাম্মাদ ﷺ থাকবেন। আর তাই আমি ভয় করছি যদি না আবার তারা আমার বিরুদ্ধে কোনোকিছু প্রমাণ করে ফেলে। তাই আমি আমার নিজের প্রতি করুণা করে কাঁদছি।
📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) গোয়েন্দাগিরি করলেন
একদিন দুপুরে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তার গোলাম মাজাহিকে নিয়ে বাহনে চড়ে বাইরে বের হলেন। উদ্দেশ্য প্রজা-সাধারণের খোঁজ-খবর নেওয়া। পথ চলতে চলতে তারা দেখতে পেলেন মদিনা থেকে এক আরোহী ব্যক্তি আসছে। তিনি আরোহীকে মদিনাবাসীদের খোঁজ-খবর জিজ্ঞেস করলেন। সে বলল, আপনি চাইলেই আমি সকলের খবর একত্রে বলব। আর মা হয় আলাদা আলাদা বলব। ওমর বললেন, বরং তুমি একত্রে বল। লোকটি বলল, আমি মদিনায় দেখে এসেছি সেখানের জালিমরা পরাভূত, মজলুমরা সাহায্যপ্রাপ্ত, ধনীরা পরিতৃপ্ত আর সীমান্তরক্ষণকারীরা বাধ্য। এ সংবাদ ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খুব খুশি হয়ে বললেন, পুরো রাষ্ট্র এমন হয়ে যাওয়া আমার কাছে সুখ যত কিছুর ওপর উদিত হয় তার থেকে উত্তম।
📄 জাহান্নামের দুইটি পাথর
আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে তাঁর কন্যা একটি মুক্তা পাঠিয়ে বলল, বাবা! আপনি আমার জন্যে এরূপ আরেকটি মুক্তার ব্যবস্থা করে দিন। আমার কাছে শুধু একটি থাকায় তা ব্যবহার করতে পারছি না।
ওমর বিন আব্দুল আযীয তার মেয়ের কাছে দুটি পাথর পাঠিয়ে বললেন, যদি এ দুটি পাথর কানে পরতে পার তাহলে আমি তোমাকে আরেকটি মুক্তা এনে দিব।