📄 আল্লাহ কিয়ামতের দিন আমার ব্যাপারে তোমাকে জিজ্ঞেস করবেন
একদিন জীর্ণ-শীর্ণ পোশাকে এক বেদুঈন ওমরের দরবারে উপস্থিত হল। দুঃখ করে তাঁরি হওয়া কণ্ঠে সে বলল, আমিরুল মুমিনীন! আমি এক প্রয়োজনে আপনার কাছে এসেছি, আমার কষ্ট সহ্যের শেষ সীমায় গিয়ে পৌঁছেছে। আল্লাহর শপথ! আমার সম্পর্কে কিয়ামতের দিন তিনি আপনাকে জিজ্ঞেস করবে।
তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, তুমি কি বললে, আবার বল। লোকটি তার সেই কথা আবার বলল। তার কথা শুনে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) মাথা নিচু করে ফেললেন। তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। তারপর তিনি মাথা উঠিয়ে বললেন, তোমরা কয় জন? সে বলল, আমি ও আমার আট কন্যা। তিনি তার ও তার কন্যাদের জন্য একটি অঙ্ক নির্ধারণ করলেন। তারপর তার হাতে একশত দিরহাম দিয়ে বললেন, এ অর্থ আমি আমার সম্পদ থেকে দিয়েছি মানুষের থেকে নয়।
📄 আপনার আজারবাইজানের গভর্নর আমার ওপর জুলুম করছে
আমিরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে আজারবাইজান থেকে এক লোক আসল। সে তার কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলতে লাগল, আমি আপনাকে সে দিনের কথা স্মরণ করে দিচ্ছি, যেদিন আপনি স্বচ্ছ আমলবিহীন ও অপরাধী হয়ে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবেন এবং সৃষ্টির সকলের বিচার করতে গিয়ে আল্লাহ আপনার বিচার করার কথা ভুলে যাবেন না। তার এমন কথা শুনে হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয কান্না শুরু করলেন। তিনি তাকে বললেন, তুমি কথাগুলো আবার বল। লোকটি কথাগুলো পুনরাবৃত্তি করছিল আর হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয তা শুনে কাঁদছিলেন। তারপর তিনি বললেন, তোমার কি সমস্যা? সে বলল, আজারবাইজানে আপনার গভর্নর আমার সাথে শত্রুতা পোষণ করেছে। সে আমার কাছ থেকে জোর করে বারো হাজার দিরহাম নিয়ে বায়তুল মালে জমা দিয়েছে। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তখন তার কর্মকর্তাকে বললেন, এ ব্যক্তির দিরহাম ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে এখনি চিঠি পাঠাও।
📄 গভর্নর ও খামারে বেড়া
আমিরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) মিশরের গভর্নর আইয়ুব বিন শুরাহবিলের কাছে চিঠি লিখে বললেন, এক মহিলা চিঠি লিখে আমাকে জানাল, তার খাঁচার বেড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে মোরগ চুরি হয়ে যাচ্ছে। সে আমার কাছে আবেদন করেছে, যাতে তার খাম্বাটি মেরামত করে দেই। যখন তোমার হাতে আমার চিঠি খানা পৌঁছবে তুমি নিজে গিয়ে তা মেরামত করে দিবে।
📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) কেন কাঁদলেন?
একদিন ফাতেমা বিনতে আব্দুল মালিক ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পেলেন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) নামাযের জায়গায় বসে বসে কাঁদছেন। ফাতেমা তাঁর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কি হয়েছে? আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি কেঁদে কেঁদে বললেন, ফাতেমা উম্মতে মুহাম্মাদীর ছোট-বড় সব বিষয়ের দায়-দায়িত্ব আমার কাঁধে এসে পড়েছে, অথচ জামাতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা গরিব, ক্ষুধার্ত, রোগী-দুঃখু, নির্যাতিত, বন্দি-শুদ্ধ, অভাবী ও অধিক সংসারসৃষ্ট পরিবারের এদের ব্যাপারে আমার প্রতিপালক আমাকে কিয়ামতের দিন জিজ্ঞেস করবেন। আর তাদের পক্ষে তো মুহাম্মাদ ﷺ থাকবেন। আর তাই আমি ভয় করছি যদি না আবার তারা আমার বিরুদ্ধে কোনোকিছু প্রমাণ করে ফেলে। তাই আমি আমার নিজের প্রতি করুণা করে কাঁদছি।