📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) দাসীর খেদমত করছেন
স্ত্রীকে ওগর দিনের দিনে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁর দাসীকে বললেন, হে দাসী, ঘুম না আসা পর্যন্ত আমাকে পাখা দ্বারা বাতাস কর। তাঁর নির্দেশমতো দাসী বাতাস করতে লাগলেন, এক সময় তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। ওদিকে দাসী বাতাস করতে করতে তার চোখে ঘুম চেপে আসে। সে তাঁর পাশেই ঘুমিয়ে পড়ল।
কিছুক্ষণ পর তিনি ঘুম থেকে জেগে গিয়ে দাসীকে ঘুমাতে দেখে পাখা নিয়ে তাকে বাতাস করতে লাগলেন। হঠাৎ সে জেগে গিয়ে দেখতে পেল তার মালিক তাকে বাতাস করছে এত সে চিৎকার দিয়ে উঠে তিনি তাকে বললেন, তুমিও তো আমার মতো মানুষ, আমার যেমন গরম লাগছে তোমারও তেমন লাগছে। তাই তুমি যেভাবে আমাকে বাতাস করছ তেমনিভাবে তোমাকে বাতাস করা আমি পছন্দ করলাম।
📄 কে সবচেয়ে বোকা
এক দুপুরে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) লোকদের নিয়ে দ্বীনি আলোচনা করছিলেন। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, বলো তো সবচেয়ে বোকা কে? তারা বলল, বোকা সে ব্যক্তি যে সামান্য দুনিয়ার বিনিময়ে পরকালকে বিক্রি করে দিয়েছে। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) গভীর চিন্তা করে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলব তার থেকেও বড় বোকা কে? তারা বলল, অবশ্যই। তিনি বললেন, যে লোক অন্যের দুনিয়ার জন্য নিজের আখিরাতকে বিক্রি করে দিয়েছে। অর্থাৎ আখিরাত নষ্ট করে দিয়েছে।
📄 কথা বল, তালাক কার্যকর হবে না
একদিন এক ব্যক্তি ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে এসে কাঁদতে কাঁদতে বলল, আমি নির্যাতিত, কিন্তু আমি তা কাউকে বলতে পারছি না। কেননা এক কর্মকর্তা আমাকে এ বলে শপথ করতে আদেশ দিয়েছে যে, আমি যদি তা কাউকে বলি বা কারো কাছে অভিযোগ করি তবে আমার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে, তখন আমি ভয়ে শপথ করে ফেলছি। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তখন তার কর্মচকারীকে বললেন, হে ওমর! তোমার ধর্ম ধ্বংস! তোমার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, বল, তোমার তালাক কার্যকর হবে না। তখন লোকটি এক অত্যাচারী গভর্নরের দিকে ইশারা করে বলল, এ আমার বাগান নিয়ে গেছে। অন্য বর্ণনায় বাগানের পরিবর্তে ঘরের কথা বলেছে। তখন তিনি খুব রেগে গিয়ে বললেন, তার বাগান তাকে ফিরিয়ে দাও। তিনি আরো বললেন, যদি ইসলামে নিষেধ না থাকত তবে আমি তোমার কপাল থেকে সেজদার চিহ্ন মুছে ফেলতাম। ওই গভর্নরের কপালে সেজদার দাগ ছিল।
📄 এক লোক এসে ওমর (রহ)-এর কাছে অভিযোগ করল
একদিন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) ঢিলেঢালা জামা পরে একটি খচ্চরের ওপর চড়ে বাইরে বের হলেন। তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। কিছুক্ষণ পর বাহনে চড়ে এক লোক তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হলো। বাহন থেকে নেমে লোকটি উপস্থিত লোকদের ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তারা তাকে বলল, তিনি এ মাত্র বের হয়েছেন, কিছুক্ষণ পরেই ফিরে আসবেন। কিছুক্ষণ পর ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) ফিরে আসলেন তাঁর সাথে অন্য এক লোকও আসল। তখন আগত লোকটিকে উপস্থিত লোকেরা বলল, ইনি ওমর বিন আব্দুল আযীয। লোকটি তাঁর কাছে গিয়ে হাদী বিন আরতার বিরুদ্ধের তার জমি দখলের অভিযোগ করল। তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) দখলকারীকে লোকটির জমি ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিলেন। তারপর তিনি লোকটিকে বললেন, আমার কাছে আসতে তোমার কত খরচ হয়েছে? লোকটি বলল, আমিরুল মুমিনীন, আপনি আমার জমি উদ্ধার করে দিলেন এটাই আমার কাছে লাখ দিনারের চেয়েও বেশি। অর্থাৎ আমার আসতে যে খরচ হয়েছে তা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি বললেন, আমি তো শুধু তোমার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি.......এবার তুমি বল তোমার কত খরচ হয়েছে? লোকটি বলল, ষাট দিরহাম। তখন তিনি তাকে বায়তুল মাল থেকে ষাট দিরহাম দিয়ে দিতে নির্দেশ দিলেন। যখন সে ফিরে যেতে লাগল তিনি তাকে ডাক দিলেন। লোকটি তাঁর কাছে আসলে তিনি বললেন, আমার অর্থ থেকে এ পঞ্চাশ দিরহাম নাও। বাড়িতে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত তুমি এর দ্বারা গোশত কিনে খেয়ো।